ঢাকা ০৮:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

চার মাস পর মিলল লঞ্চ, ভেতরে কঙ্কালসার লাশ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ওয়াপদা লঞ্চঘাটে প্রায় চার মাস আগে ডুবে যাওয়া তিনটি লঞ্চের মধ্যে একটি উদ্ধার করা হয়েছে। ওয়াপদা ও সাধুর বাজার ঘাটের মাঝামাঝি স্থান থেকে গত বৃহস্পতিবার লঞ্চটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় নড়িয়া ২ নামের লঞ্চের সুকানি সজল তালুকদারের লাশ কেবিন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

সজলের বাড়ি নড়িয়া উপজেলার বিঝারি গ্রামে। তাঁর ভাই ইমন তালুকদার বলেন, ‘ভাইয়া লঞ্চের যে কেবিনে ঘুমিয়ে ছিলেন, সেখান থেকেই তাঁর কঙ্কালের মতো লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কেবিনের জিনিসপত্র ও তাঁর ব্যবহারের জিনিসপত্র দেখে লাশটি ভাইয়ার বলেই আমরা নিশ্চিত হয়েছি।’

স্থানীয় প্রশাসন ও লঞ্চমালিকেরা জানান, গত ১১ সেপ্টেম্বর পদ্মা নদীর ভাঙনের কারণে ওয়াপদা লঞ্চঘাটের পন্টুন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন প্রচণ্ড স্রোতে নোঙর করা তিনটি লঞ্চ ডুবে যায়। এর মধ্যে মৌচাক লঞ্চটি ওই ঘাট থেকে ঢাকায়, নড়িয়া ২ ও মহানগর লঞ্চটি নারায়ণগঞ্জে চলাচল করত।

দুর্ঘটনার দিন থেকে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ডুবুরি, নৌবাহিনীর ডুবুরি দল এবং ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা, ফরিদপুর ও শরীয়তপুরের তিনটি দল। তবে নদীতে স্রোত থাকায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর মো. মোজাম্মেল হক উদ্ধারকাজ স্থগিত ঘোষণা করেন। এরপর লঞ্চমালিকেরা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় লঞ্চ উদ্ধারের ঘোষণা দেন। নদীর স্রোত কমলে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন মালিকেরা।

দুর্ঘটনার পর নৌ-পুলিশ ও নৌবাহিনীর সদস্যরা তিনটি লাশ উদ্ধার করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে একটি খুলনার এক ব্যক্তির ও একটি নড়িয়ার লোনসিং গ্রামের মোহাম্মদ আলী মাতবরের স্ত্রী পারভিন আক্তারের এবং আরেকজনের পরিচয় জানা যায়নি। এখনো ওই তিনটি লঞ্চের ১৮ যাত্রী ও কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন।

নড়িয়া ২ ও মহানগর লঞ্চের মালিক মিলন লস্কর বলেন, ‘বিআইডব্লিউটিএকে দিয়ে লঞ্চ উদ্ধার করলে অনেক টাকা খরচ হবে। তাই আমরা বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান দিয়ে উদ্ধারকাজ করছি। বাকি দুটি লঞ্চেরও উদ্ধারকাজ চলছে। শিগগিরই ওই লঞ্চ দুটি টেনে তীরে তোলা হবে।’

বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক (উদ্ধার) ফজলুর রহমান বলেন, লঞ্চমালিকেরা চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, তাঁরা বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে লঞ্চ উদ্ধার অভিযান চালাবেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

চার মাস পর মিলল লঞ্চ, ভেতরে কঙ্কালসার লাশ

আপডেট সময় ১২:৪১:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ওয়াপদা লঞ্চঘাটে প্রায় চার মাস আগে ডুবে যাওয়া তিনটি লঞ্চের মধ্যে একটি উদ্ধার করা হয়েছে। ওয়াপদা ও সাধুর বাজার ঘাটের মাঝামাঝি স্থান থেকে গত বৃহস্পতিবার লঞ্চটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় নড়িয়া ২ নামের লঞ্চের সুকানি সজল তালুকদারের লাশ কেবিন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

সজলের বাড়ি নড়িয়া উপজেলার বিঝারি গ্রামে। তাঁর ভাই ইমন তালুকদার বলেন, ‘ভাইয়া লঞ্চের যে কেবিনে ঘুমিয়ে ছিলেন, সেখান থেকেই তাঁর কঙ্কালের মতো লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কেবিনের জিনিসপত্র ও তাঁর ব্যবহারের জিনিসপত্র দেখে লাশটি ভাইয়ার বলেই আমরা নিশ্চিত হয়েছি।’

স্থানীয় প্রশাসন ও লঞ্চমালিকেরা জানান, গত ১১ সেপ্টেম্বর পদ্মা নদীর ভাঙনের কারণে ওয়াপদা লঞ্চঘাটের পন্টুন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন প্রচণ্ড স্রোতে নোঙর করা তিনটি লঞ্চ ডুবে যায়। এর মধ্যে মৌচাক লঞ্চটি ওই ঘাট থেকে ঢাকায়, নড়িয়া ২ ও মহানগর লঞ্চটি নারায়ণগঞ্জে চলাচল করত।

দুর্ঘটনার দিন থেকে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ডুবুরি, নৌবাহিনীর ডুবুরি দল এবং ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা, ফরিদপুর ও শরীয়তপুরের তিনটি দল। তবে নদীতে স্রোত থাকায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর মো. মোজাম্মেল হক উদ্ধারকাজ স্থগিত ঘোষণা করেন। এরপর লঞ্চমালিকেরা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় লঞ্চ উদ্ধারের ঘোষণা দেন। নদীর স্রোত কমলে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন মালিকেরা।

দুর্ঘটনার পর নৌ-পুলিশ ও নৌবাহিনীর সদস্যরা তিনটি লাশ উদ্ধার করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে একটি খুলনার এক ব্যক্তির ও একটি নড়িয়ার লোনসিং গ্রামের মোহাম্মদ আলী মাতবরের স্ত্রী পারভিন আক্তারের এবং আরেকজনের পরিচয় জানা যায়নি। এখনো ওই তিনটি লঞ্চের ১৮ যাত্রী ও কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন।

নড়িয়া ২ ও মহানগর লঞ্চের মালিক মিলন লস্কর বলেন, ‘বিআইডব্লিউটিএকে দিয়ে লঞ্চ উদ্ধার করলে অনেক টাকা খরচ হবে। তাই আমরা বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান দিয়ে উদ্ধারকাজ করছি। বাকি দুটি লঞ্চেরও উদ্ধারকাজ চলছে। শিগগিরই ওই লঞ্চ দুটি টেনে তীরে তোলা হবে।’

বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক (উদ্ধার) ফজলুর রহমান বলেন, লঞ্চমালিকেরা চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, তাঁরা বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে লঞ্চ উদ্ধার অভিযান চালাবেন।