অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ওয়াপদা লঞ্চঘাটে প্রায় চার মাস আগে ডুবে যাওয়া তিনটি লঞ্চের মধ্যে একটি উদ্ধার করা হয়েছে। ওয়াপদা ও সাধুর বাজার ঘাটের মাঝামাঝি স্থান থেকে গত বৃহস্পতিবার লঞ্চটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় নড়িয়া ২ নামের লঞ্চের সুকানি সজল তালুকদারের লাশ কেবিন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
সজলের বাড়ি নড়িয়া উপজেলার বিঝারি গ্রামে। তাঁর ভাই ইমন তালুকদার বলেন, ‘ভাইয়া লঞ্চের যে কেবিনে ঘুমিয়ে ছিলেন, সেখান থেকেই তাঁর কঙ্কালের মতো লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কেবিনের জিনিসপত্র ও তাঁর ব্যবহারের জিনিসপত্র দেখে লাশটি ভাইয়ার বলেই আমরা নিশ্চিত হয়েছি।’
স্থানীয় প্রশাসন ও লঞ্চমালিকেরা জানান, গত ১১ সেপ্টেম্বর পদ্মা নদীর ভাঙনের কারণে ওয়াপদা লঞ্চঘাটের পন্টুন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন প্রচণ্ড স্রোতে নোঙর করা তিনটি লঞ্চ ডুবে যায়। এর মধ্যে মৌচাক লঞ্চটি ওই ঘাট থেকে ঢাকায়, নড়িয়া ২ ও মহানগর লঞ্চটি নারায়ণগঞ্জে চলাচল করত।
দুর্ঘটনার দিন থেকে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ডুবুরি, নৌবাহিনীর ডুবুরি দল এবং ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা, ফরিদপুর ও শরীয়তপুরের তিনটি দল। তবে নদীতে স্রোত থাকায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর মো. মোজাম্মেল হক উদ্ধারকাজ স্থগিত ঘোষণা করেন। এরপর লঞ্চমালিকেরা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় লঞ্চ উদ্ধারের ঘোষণা দেন। নদীর স্রোত কমলে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন মালিকেরা।
দুর্ঘটনার পর নৌ-পুলিশ ও নৌবাহিনীর সদস্যরা তিনটি লাশ উদ্ধার করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে একটি খুলনার এক ব্যক্তির ও একটি নড়িয়ার লোনসিং গ্রামের মোহাম্মদ আলী মাতবরের স্ত্রী পারভিন আক্তারের এবং আরেকজনের পরিচয় জানা যায়নি। এখনো ওই তিনটি লঞ্চের ১৮ যাত্রী ও কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন।
নড়িয়া ২ ও মহানগর লঞ্চের মালিক মিলন লস্কর বলেন, ‘বিআইডব্লিউটিএকে দিয়ে লঞ্চ উদ্ধার করলে অনেক টাকা খরচ হবে। তাই আমরা বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান দিয়ে উদ্ধারকাজ করছি। বাকি দুটি লঞ্চেরও উদ্ধারকাজ চলছে। শিগগিরই ওই লঞ্চ দুটি টেনে তীরে তোলা হবে।’
বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক (উদ্ধার) ফজলুর রহমান বলেন, লঞ্চমালিকেরা চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, তাঁরা বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে লঞ্চ উদ্ধার অভিযান চালাবেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























