ঢাকা ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আপিল শুনানিতে কোনো ধরনের পক্ষপাত করিনি : সিইসি নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা ভাববে এনসিপি : আসিফ মাহমুদ প্রশাসন ধীরে ধীরে একটি রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে : আব্দুল্লাহ মো. তাহের একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটারদের ঢাকায় স্থানান্তর করে আনছে: ফখরুলের অভিযোগ নরসিংদীতে দুই ব্যবসায়ীর ঝগড়ায় একজনের মৃত্যু, অভিযুক্তর বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন ৭ কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশ চূড়ান্ত আমি এসেছি শুধু শুনতে, শিখতে এবং একসঙ্গে কাজ করার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে: জাইমা রহমান চাকরির ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়েছে কিনা তা দেখা উচিত : আমীর খসরু ওসমানী হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রেকেও খেসারত দিতে হবে, ফরাসি কৃষিমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

চিংড়িকে হারাম ঘোষণা করে ভারতে ফতোয়া

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতের হায়দরাবাদের একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে জারি করা ফতোয়া মুসলমানদেরকে চিংড়ি খেতে নিষেধ করা হয়েছে। তাদের দাবি, চিংড়ি হারাম খাদ্য, এটা ইসলাম ধর্মের অনুসারীরা খেতে পারে না। পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যম এবিপি আনন্দ এই খবর জানিয়েছে। এরই মধ্যে এই ফতোয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার হয়েছে এবং এ নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

খবরে বলা হয়, গত ১ জানুয়ারি ফতোয়াটি জারি করেছেন হায়দরাবাদের ইসলামীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিয়া নিজামিয়ার প্রধান মুফতি মহম্মদ আজিমুদ্দিন। প্রতিষ্ঠানটি ১৪২ বছরের পুরনো এবং নানা সময় ধর্মীয় বিষয়ে নানা ফতোয়া জারি করেছে তারা। তবে নানা সময় প্রতিষ্ঠানটির জারি করা ফতোয়া নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনা হয়েছে। এর আগে তারা ব্যাংক কর্মীকে বিয়ে এবং রঙিন বোরখা পরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি মুসলমানদেরকে ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দিতে নিষেধ করে সমালোচিত হয়েছিল।

নতুন ফতোয়ায় বলা হয়েছে, চিংড়ি আসলে পোকা, কোনওভাবেই মাছের পর্যায়ে পড়ে না সে। তাই চিংড়ি খাওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, মুসলমানরা তা খেতে পারবেন না। ইসলামীয় নিয়মে খাবার তিন রকম- হালাল, যা আইনিভাবে সিদ্ধ, হারাম,যা পুরোপুরি নিষিদ্ধ ও মাকরুহ, যা খাওয়া উচিত নয়।

তবে এই ফতোয়াকে গ্রহণ করছেন না ইসলামী চিন্তাবিদদেরই একটি অংশ। ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎদারে আনোয়ারুল ‍হুদা নামে একটি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি মেরাজউদ্দিন বলেছেন, ‘এক সময় দারুল উলুম দেওবন্দ এক সময় চিংড়িকে মাকরুহ বিবেচনা করত। পরে তারা একে হালাল ঘোষণা করেছে। তকে মুসলমানদের দুই মাজহাবের মধ্যে হানাফি মতে চিংড়ি খেতে উৎসাহ দেয়া হয় না। তবে সাফিই মতে এটা হালাল। তারপরও যদি হানাফি কেউ চিংড়ি খায় এটা কোনো অপরাধ হবে না। চিংড়ি কোনো মাছ না হলেও যারা এটা খায় তারা একে কোনো পোকা হিসেবে খায় না। ফলে এটা হারাম খাদ্য হতে পারে না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চিংড়িকে হারাম ঘোষণা করে ভারতে ফতোয়া

আপডেট সময় ১০:১৬:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতের হায়দরাবাদের একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে জারি করা ফতোয়া মুসলমানদেরকে চিংড়ি খেতে নিষেধ করা হয়েছে। তাদের দাবি, চিংড়ি হারাম খাদ্য, এটা ইসলাম ধর্মের অনুসারীরা খেতে পারে না। পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যম এবিপি আনন্দ এই খবর জানিয়েছে। এরই মধ্যে এই ফতোয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার হয়েছে এবং এ নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

খবরে বলা হয়, গত ১ জানুয়ারি ফতোয়াটি জারি করেছেন হায়দরাবাদের ইসলামীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিয়া নিজামিয়ার প্রধান মুফতি মহম্মদ আজিমুদ্দিন। প্রতিষ্ঠানটি ১৪২ বছরের পুরনো এবং নানা সময় ধর্মীয় বিষয়ে নানা ফতোয়া জারি করেছে তারা। তবে নানা সময় প্রতিষ্ঠানটির জারি করা ফতোয়া নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনা হয়েছে। এর আগে তারা ব্যাংক কর্মীকে বিয়ে এবং রঙিন বোরখা পরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি মুসলমানদেরকে ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দিতে নিষেধ করে সমালোচিত হয়েছিল।

নতুন ফতোয়ায় বলা হয়েছে, চিংড়ি আসলে পোকা, কোনওভাবেই মাছের পর্যায়ে পড়ে না সে। তাই চিংড়ি খাওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, মুসলমানরা তা খেতে পারবেন না। ইসলামীয় নিয়মে খাবার তিন রকম- হালাল, যা আইনিভাবে সিদ্ধ, হারাম,যা পুরোপুরি নিষিদ্ধ ও মাকরুহ, যা খাওয়া উচিত নয়।

তবে এই ফতোয়াকে গ্রহণ করছেন না ইসলামী চিন্তাবিদদেরই একটি অংশ। ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎদারে আনোয়ারুল ‍হুদা নামে একটি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি মেরাজউদ্দিন বলেছেন, ‘এক সময় দারুল উলুম দেওবন্দ এক সময় চিংড়িকে মাকরুহ বিবেচনা করত। পরে তারা একে হালাল ঘোষণা করেছে। তকে মুসলমানদের দুই মাজহাবের মধ্যে হানাফি মতে চিংড়ি খেতে উৎসাহ দেয়া হয় না। তবে সাফিই মতে এটা হালাল। তারপরও যদি হানাফি কেউ চিংড়ি খায় এটা কোনো অপরাধ হবে না। চিংড়ি কোনো মাছ না হলেও যারা এটা খায় তারা একে কোনো পোকা হিসেবে খায় না। ফলে এটা হারাম খাদ্য হতে পারে না।