ঢাকা ১২:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১৪-২ গোলে ইতিহাস গড়ে সাফ নারী ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ ‘স্যার’ না, ভাইয়া ডাকলে ভালো লাগবে: তারেক রহমান মৃদু ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ঠাকুরগাঁও তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বানাতে হবে, এটাই আমাদের স্বপ্ন: পার্থ নির্বাচন ব্যবস্থায় কোনো নিরপেক্ষতা দেখছি না: জি এম কাদের সংবিধানের দুর্বলতা দূর করতেই গণভোট: আলী রীয়াজ নির্বাচনে ‘অনিয়ম’ হলেই কেবল জামায়াত ক্ষমতায় আসতে পারবে: হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর এটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন: আসিফ নজরুল ওরা দেশকে ভালোবাসার নামে আমেরিকার সঙ্গে গোপন বৈঠক করে: চরমোনাই পীর বিশ্বকাপে বাংলাদেশে বাদকে দিয়ে স্কটল্যান্ডকে নিলো আইসিসি

ভোটে বিএনপির জয় হলেই নির্বাচন সুষ্ঠু হয়: কাদের

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ভোটে বিএনপির জয় হলেই নির্বাচন সুষ্ঠু হয় কি না, সে বিষয়ে জানতে চেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কারচুপির এবং ভোটকেন্দ্র দখল করে সিল মারার ভোট বলে বিএনপির এক নেতা অভিযোগ তোলায় এই প্রশ্ন তুলেছেন কাদের।

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার দুই ধরনের বক্তব্য দলটির ভেতর বিভেদ হিসেবেও দেখছেন কাদের। তিনি বলেছেন, বিএনপিতে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের পক্ষে তৈরি হওয়া দুটি বলয়ের কারণে এই নির্বাচন নিয়ে দুই নেতা দুই ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঢাকা উত্তর সিটির প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের স্মরণসভায় যোগ দিয়ে বেরিয়ে আসার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আওয়ামী লীগ নেতা।

বৃহস্পতিবার রংপুর সিটি নির্বাচনের ভোটে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন। ২০১২ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা সরফুদ্দিন আহমেদ ঝণ্টু ৩০ হাজার ভোটে জিতলেও এবার তিনি হেরেছেন প্রায় এক লাখ ভোটে। আওয়ামী লীগের এত বড় পরাজয়ের পরও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দল ও জাতীয় পার্টির সন্ত্রাসীরা ভোট কেন্দ্র দখল করে নিয়েছে। কিন্তু সাংবাদিকদের ঢুকতে না দেয়ায় তারা এসব দেখাতে পারেনি।

তবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মূল্যায়ন রিজভীর বিপরীত। তিনি বলেছেন, রংপুরে নির্বাচন সার্বিকভাবে সুষ্ঠু হয়েছে। বিএনপির দুই নেতার দুই ধরনের মূল্যায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘এটা ফখরুল সাহেব ও রিজভীকে জিজ্ঞাসা করেন।’

পরে কাদের আবার বলেন, ‘বাজারে গুঞ্জন আছে তাদের মধ্যে একজন তারেকের লোক, আরেক জন বেগম জিয়ার লোক। তাহলে কি তাদের দুজনের মধ্যে কোন পার্থক্য আছে মূল্যায়নের? তাহলে রিজভী এক কথা, ফখরুল আরেক কথা বলবে কেন? এক দলের দুই কথা কী করে হয়?’।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আসল বিষয়টা হচ্ছে নির্বাচনে বিএনপি জিতলে সুষ্ঠু নির্বাচন, আর না জিতলে সূক্ষ্ম কারচুপি। নারায়ণগঞ্জের মত রংপুরেও এখন পর্যন্ত একজন লোকও বলতে পারেনি নির্বাচন ফেয়ার হয়নি। কোনো পর্যবেক্ষক, কোন সমালোচক কোন কোন প্রকার বিরুপ সমালোচনা এই পর্যন্ত করতে পারেনি।’

মির্জা ফখরুল এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু বললেও অবশ্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা না থাকার অবস্থানেই অটল। তার মতে, রংপুরের ভোটে কমিশনের প্রতি আস্থা ফেরার কোনো কারণ নেই।

ওবায়দুল কাদের মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্যকেও দ্বিচারিতা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘একটা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে সক্ষম হয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনকে সবাই ধন্যবাদ জানিয়েছে। বিএনপি নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানাতে পারেনি। আজকে ফখরুল সাহেব বলেছেন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, আবার বলছেন কমিশন ব্যর্থ। তাহলে এটাও সেলফ কন্ট্রাডিক্টরি।’

রংপুরের ভোটের মাধ্যমে বিএনপিকে কোন টোপ দেয়া হলো কি না-এমন প্রশ্নে কাদের বলেন, ‘আমি টোপ ফেলা বলব না। বিএনপি জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগছে। তারা কাউকে ২৫ সিট দিচ্ছে, আমাদেরকে কখনও ৩০ সিট, কখনও ৪০ সিট দিচ্ছে। কিন্তু এই অহমিকাটা মনে হয় এখন ভাঙবে এবং জাতীয় নির্বাচনে তাদের জন্য একটা বার্তা।’

ভোটের ফলাফল আসা শুরু হওয়ার পরই ওবায়দুল কাদের বুঝে গিয়েছিলেন তারা হেরে যাচ্ছেন। আর ফলাফল ঘোষণার আগেই পরাজয় স্বীকার করে নেন তিনি। বলেন, ভোটে তাদের হার হলেও রাজনৈতিক জয় হয়েছে আওয়ামী লীগেরই।

এক লাখ ভোটে হারার পর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বিজয় কীভাবে হয়েছে-এমন প্রশ্নে কাদের বলেন, ‘এত ভালো একটা নির্বাচন হয়েছে, তারা (বিএনপি) বলেছে সরকার হস্তক্ষেপ করবে। কিন্তু সরকার কোন প্রকার হস্তক্ষেপ করেনি। এটা কি আমাদের রাজনৈতিক বিজয় নয়?’।

‘শেখ হাসিনা সরকার নির্বাচন কমিশনকে একটা সুষ্ঠু সুন্দর অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে স্বাধীন এবং কর্তৃত্বপূর্ণ নির্বাচনে সব রকমের সহযোগিতা করেছে। এখানে হস্তক্ষেপের কোনো অভিযোগ নেই। অভিযোগের কোনো কারণও নেই, এটা কি রাজনৈতিক বিজয় নয়?’।

রংপুরে আওয়ামী লীগের হারের কারণ জানতে চাইলে দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দেখুন এটা নিয়ে বিশ্লেষণ করা, এ নিয়ে আলাপ আলোচনা করার জন্য দলীয় ফোরাম আছে। দলীয় ফোরামে আলাপ আলোচনার আগে আমি এই ব্যাপারে কোন কথা বলতে পারি না।’

আগামী জাতীয় নির্বাচনে রংপুরে ভোটের কোনো প্রভাব পড়বে কি না জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীর একটা বিষয় আছে। আমরাও ভালো প্রার্থী দিয়েছিলাম। কিন্তু ভোটাররা জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে ভোট দিয়েছে।’

এর আগে নোয়াখালী জেলা সমিতি আয়োজিত স্মরণসভায় আনিসুল হকের প্রশংসা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক বহুদিনের। যখন তিনি মিডিয়া পারসনালিটি, তখন থেকেই তাকে চিনতাম। তার বাবা শরিফুল হক ছিলেন ঢাকায় আমার অভিভাবক, এলাকায়ও। আমার প্রত্যেকটি নির্বাচনে তিনি আমাকে সহযোগিতা করেছেন।’

আনিসুল পরিবারের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ রক্ষার কথা জানিয়ে কাদের বলেন, ‘তিনদিন আগে আমি দেখা করতে গেছি। নাভিদও ছিলো। অনেক কথা আছে, বলতে পারবো না।’ ঢাকা উত্তরের মেয়র পদে আনিসুলের মতোই কাউকে খুঁজছেন কাদের। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে তার স্থান পূরণের জন্য তার মত লোকের প্রয়োজন। কিন্তু আমি তার মত যোগ্য লোক দেখছি না।’

‘অনেক লোক আছেন, এর মধ্যেই আমাদের পছন্দ করে নিতে হবে। কিন্তু আনিস ভাই ওয়ান পিস। এত বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী মানুষ আমি জীবনে কম দেখেছি।’ নোয়াখালী সমিতির সভাপতি সাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জাসদ (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, সাধারণ সম্পাদক সামসুল হক, সহসভাপতি মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, আব্দুল হাই প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোটে বিএনপির জয় হলেই নির্বাচন সুষ্ঠু হয়: কাদের

আপডেট সময় ১১:৫৪:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ভোটে বিএনপির জয় হলেই নির্বাচন সুষ্ঠু হয় কি না, সে বিষয়ে জানতে চেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কারচুপির এবং ভোটকেন্দ্র দখল করে সিল মারার ভোট বলে বিএনপির এক নেতা অভিযোগ তোলায় এই প্রশ্ন তুলেছেন কাদের।

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার দুই ধরনের বক্তব্য দলটির ভেতর বিভেদ হিসেবেও দেখছেন কাদের। তিনি বলেছেন, বিএনপিতে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের পক্ষে তৈরি হওয়া দুটি বলয়ের কারণে এই নির্বাচন নিয়ে দুই নেতা দুই ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঢাকা উত্তর সিটির প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের স্মরণসভায় যোগ দিয়ে বেরিয়ে আসার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আওয়ামী লীগ নেতা।

বৃহস্পতিবার রংপুর সিটি নির্বাচনের ভোটে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন। ২০১২ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা সরফুদ্দিন আহমেদ ঝণ্টু ৩০ হাজার ভোটে জিতলেও এবার তিনি হেরেছেন প্রায় এক লাখ ভোটে। আওয়ামী লীগের এত বড় পরাজয়ের পরও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দল ও জাতীয় পার্টির সন্ত্রাসীরা ভোট কেন্দ্র দখল করে নিয়েছে। কিন্তু সাংবাদিকদের ঢুকতে না দেয়ায় তারা এসব দেখাতে পারেনি।

তবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মূল্যায়ন রিজভীর বিপরীত। তিনি বলেছেন, রংপুরে নির্বাচন সার্বিকভাবে সুষ্ঠু হয়েছে। বিএনপির দুই নেতার দুই ধরনের মূল্যায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘এটা ফখরুল সাহেব ও রিজভীকে জিজ্ঞাসা করেন।’

পরে কাদের আবার বলেন, ‘বাজারে গুঞ্জন আছে তাদের মধ্যে একজন তারেকের লোক, আরেক জন বেগম জিয়ার লোক। তাহলে কি তাদের দুজনের মধ্যে কোন পার্থক্য আছে মূল্যায়নের? তাহলে রিজভী এক কথা, ফখরুল আরেক কথা বলবে কেন? এক দলের দুই কথা কী করে হয়?’।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আসল বিষয়টা হচ্ছে নির্বাচনে বিএনপি জিতলে সুষ্ঠু নির্বাচন, আর না জিতলে সূক্ষ্ম কারচুপি। নারায়ণগঞ্জের মত রংপুরেও এখন পর্যন্ত একজন লোকও বলতে পারেনি নির্বাচন ফেয়ার হয়নি। কোনো পর্যবেক্ষক, কোন সমালোচক কোন কোন প্রকার বিরুপ সমালোচনা এই পর্যন্ত করতে পারেনি।’

মির্জা ফখরুল এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু বললেও অবশ্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা না থাকার অবস্থানেই অটল। তার মতে, রংপুরের ভোটে কমিশনের প্রতি আস্থা ফেরার কোনো কারণ নেই।

ওবায়দুল কাদের মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্যকেও দ্বিচারিতা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘একটা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে সক্ষম হয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনকে সবাই ধন্যবাদ জানিয়েছে। বিএনপি নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানাতে পারেনি। আজকে ফখরুল সাহেব বলেছেন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, আবার বলছেন কমিশন ব্যর্থ। তাহলে এটাও সেলফ কন্ট্রাডিক্টরি।’

রংপুরের ভোটের মাধ্যমে বিএনপিকে কোন টোপ দেয়া হলো কি না-এমন প্রশ্নে কাদের বলেন, ‘আমি টোপ ফেলা বলব না। বিএনপি জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগছে। তারা কাউকে ২৫ সিট দিচ্ছে, আমাদেরকে কখনও ৩০ সিট, কখনও ৪০ সিট দিচ্ছে। কিন্তু এই অহমিকাটা মনে হয় এখন ভাঙবে এবং জাতীয় নির্বাচনে তাদের জন্য একটা বার্তা।’

ভোটের ফলাফল আসা শুরু হওয়ার পরই ওবায়দুল কাদের বুঝে গিয়েছিলেন তারা হেরে যাচ্ছেন। আর ফলাফল ঘোষণার আগেই পরাজয় স্বীকার করে নেন তিনি। বলেন, ভোটে তাদের হার হলেও রাজনৈতিক জয় হয়েছে আওয়ামী লীগেরই।

এক লাখ ভোটে হারার পর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বিজয় কীভাবে হয়েছে-এমন প্রশ্নে কাদের বলেন, ‘এত ভালো একটা নির্বাচন হয়েছে, তারা (বিএনপি) বলেছে সরকার হস্তক্ষেপ করবে। কিন্তু সরকার কোন প্রকার হস্তক্ষেপ করেনি। এটা কি আমাদের রাজনৈতিক বিজয় নয়?’।

‘শেখ হাসিনা সরকার নির্বাচন কমিশনকে একটা সুষ্ঠু সুন্দর অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে স্বাধীন এবং কর্তৃত্বপূর্ণ নির্বাচনে সব রকমের সহযোগিতা করেছে। এখানে হস্তক্ষেপের কোনো অভিযোগ নেই। অভিযোগের কোনো কারণও নেই, এটা কি রাজনৈতিক বিজয় নয়?’।

রংপুরে আওয়ামী লীগের হারের কারণ জানতে চাইলে দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দেখুন এটা নিয়ে বিশ্লেষণ করা, এ নিয়ে আলাপ আলোচনা করার জন্য দলীয় ফোরাম আছে। দলীয় ফোরামে আলাপ আলোচনার আগে আমি এই ব্যাপারে কোন কথা বলতে পারি না।’

আগামী জাতীয় নির্বাচনে রংপুরে ভোটের কোনো প্রভাব পড়বে কি না জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীর একটা বিষয় আছে। আমরাও ভালো প্রার্থী দিয়েছিলাম। কিন্তু ভোটাররা জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে ভোট দিয়েছে।’

এর আগে নোয়াখালী জেলা সমিতি আয়োজিত স্মরণসভায় আনিসুল হকের প্রশংসা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক বহুদিনের। যখন তিনি মিডিয়া পারসনালিটি, তখন থেকেই তাকে চিনতাম। তার বাবা শরিফুল হক ছিলেন ঢাকায় আমার অভিভাবক, এলাকায়ও। আমার প্রত্যেকটি নির্বাচনে তিনি আমাকে সহযোগিতা করেছেন।’

আনিসুল পরিবারের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ রক্ষার কথা জানিয়ে কাদের বলেন, ‘তিনদিন আগে আমি দেখা করতে গেছি। নাভিদও ছিলো। অনেক কথা আছে, বলতে পারবো না।’ ঢাকা উত্তরের মেয়র পদে আনিসুলের মতোই কাউকে খুঁজছেন কাদের। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে তার স্থান পূরণের জন্য তার মত লোকের প্রয়োজন। কিন্তু আমি তার মত যোগ্য লোক দেখছি না।’

‘অনেক লোক আছেন, এর মধ্যেই আমাদের পছন্দ করে নিতে হবে। কিন্তু আনিস ভাই ওয়ান পিস। এত বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী মানুষ আমি জীবনে কম দেখেছি।’ নোয়াখালী সমিতির সভাপতি সাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জাসদ (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, সাধারণ সম্পাদক সামসুল হক, সহসভাপতি মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, আব্দুল হাই প্রমুখ।