অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আর যেন কোনো শিল্পীকে কষ্ট পেতে না হয়, অর্থাভাবে, চিকিৎসার অভাবে মারা যেতে না হয় সে ব্যবস্থা আমি করে যেতে চাই। এছাড়া নানা সময়েই নানা রকম খবর আসে শিল্পীরা চিকিৎসা করাতে পারছেন না, টাকা পয়সা নেই। যেখানে অনেক সন্তানই বাবা-মার খোঁজ খবর নেন না সেখানে একজন শিল্পীর কে খোঁজ নেবে। সোমবার বিকেলে এক জাকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উক্ত বক্তব্যের মাধ্যমে ২৫ ক্যাটাগরিতে ৩১ জন শিল্পী ও কলাকুশলীর মধ্যে এ পুরস্কার বিতরণ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আেরা বলেন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটা ফান্ড আছে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনেও একটি ফান্ড রয়েছে। সে ফান্ডকে আরো বড় পরিসরে করতে চাই। যাতে কোনো শিল্পীকে কারো কাছে হাত পাততে না হয়। এছাড়া আর যেন কোনো শিল্পীকে কষ্ট পেতে না হয়, অর্থাভাবে, চিকিৎসার অভাবে মারা যেতে না হয় সে ব্যবস্থা আমি করে যেতে চাই।
তিনি আরও বলেন, যারা চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন তারা আরও উন্নতমানের সিনেমা নির্মাণ করবেন, যা আমাদের ঐতিহ্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতি-কৃষ্টি সব কিছু ধারণ করতে পারে। দেশের মানুষ এবং আন্তর্জাতিকভাবে যেন আরও সুনাম অর্জন করতে পারে সেদিকে দৃষ্টি দেয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
এছাড়া অনুষ্ঠানে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার দেয়া হয়েছে চলচ্চিত্র অভিনেত্রী আফরোজা সুলতানা রত্না শাবানা এবং সঙ্গীত শিল্পী ফেরদৌসী রহমানকে। যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন রিয়াজুল মাওলা রিজু পরিচালিত ‘বাপজানের বায়েস্কোপ’ ও মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত ‘অনিল বাগচির একদিন’। শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চিত্রের পুরস্কার পেয়েছেন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতরের ‘একাত্তরের গণহত্যা ও বধ্যভূমি’। যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কার পেয়েছেন মো. রিয়াজুল মাওলা রিজু (বাপজানের বায়েস্কোপ) এবং মোরশেদুল ইসলাম (অনিল বাগচির একদিন)। প্রধান চরিত্রে যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন সাকিব খান (আরো ভালবাসবো তোমায়) এবং মাহফুজ আহমেদ (অনিল বাগচির একদিন)। শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন জয়া আহসান (জিরো ডিগ্রি)। পার্শ্ব চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন গাজী রাকায়েত (অনিল বাগচির একদিন)। একই চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন তমা মির্জা। খলনায়ক চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন ইরেশ যাকের (ছুঁয়ে দিল মন)। শ্রেষ্ঠ শিশু অভিনেতা যারা যারিব ও শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী হিসেবে বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে প্রমিয়া রহমান (প্রার্থনা)। এছাড়া আরো পুরস্কার পেয়েছেন- শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক সানী জুবায়ের (অনিল বাগচির একদিন), শ্রেষ্ঠ গায়ক শিল্পী সুবীর নন্দী (মহুয়া সুন্দরী) ও এস আই টুটুল (বাপজানের বায়েস্কোপ), শ্রেষ্ঠ গায়িকা (মহিলা) প্রিয়াংকা গোপ (অনিল বাগচির একদিন), শ্রেষ্ঠ গীতিকার আমিরুল ইসলাম (বাপজানের বায়েস্কোপ), শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার মাসুম রেজা (বাপজানের বায়েস্কোপ), যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার মাসুম রেজা ও মোঃ রিয়াজুল মওলা রিজু (বাপজানের বায়েস্কোপ), শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা হুমায়ুন আহমেদ (অনিল বাগচির একদিন), শ্রেষ্ঠ সম্পাদক মেহেদী রনি (বাপজানের বায়েস্কোপ), শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক সামুরাই মারুফ (জিরো ডিগ্রি), শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক মাহফুজুর রহমান খান (পদ্ম পাতার জল), শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক রতন কুমার পাল (জিরো ডিগ্রি), শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজ-সজ্জা মুসকান সুমাইয়া ও শ্রেষ্ঠ মেক-আপম্যান হিসেবে শফিক (জালালের গল্প)। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ফেরদৌসি রহমানের পক্ষে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার গ্রহণ করেন তার ছেলের বউ সৈয়দা সাদিয়া আমিন এবং হুমায়ুন আহমেদের পক্ষে শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতার পুরস্কার গ্রহণ করেন তার স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এ কে এম রহমত উল্লাহ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন তথ্য সচিব মর্তুজা আহমেদ। মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















