ঢাকা ০২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজোর হত্যাকারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সোনালী যুগের জনপ্রিয় অভিনেতা জাভেদ আর নেই শহীদ ওসমান হাদির বিচার নিয়ে স্ত্রীর আবেগঘন পোস্ট ফুটবল প্রতীক পেলেন তাসনিম জারা শত বছরের দিকনির্দেশনা দেবে গণভোট: আদিলুর রহমান খান ‘মন্ত্রী হলে পরে হব, নির্বাচন ছাড়ব না’ জিয়াউর রহমানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার মাধ্যমে বিএনপিকে ধ্বংসের চেষ্টা করা হয়েছিল: খন্দকার মোশাররফ ৮ জেলায় ডিজিটাল জামিননামা (ই-বেইলবন্ড) উদ্বোধন করলেন আইন উপদেষ্টা বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে আইসিসিকে নতুন বার্তা পিসিবির ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবুল কালাম আজাদ

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের রায় পড়া শেষ হচ্ছে না আজ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিডিআর বিদ্রোহে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর রায় পড়া শেষ হচ্ছে না আজ। রায় পড়া শেষ হতে আরও কয়েকদিন লাগবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

আজ রোববার (২৬ নভেম্বর) সকাল ১০টায় প্রথম দিনের মতো রায় পড়া শুরু করে বেল ১টার দিকে তা শেষ করেন হাইকোর্টের বিচারপতি মো. শওকত হোসেন। তার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চে এ রায় পড়া শুরু হয়। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার।

এ রিপোর্ট লেখার সময় মধ্যাহ্নবিরতি চলছে। দুপুর দুইটার পর থেকে আবার রায় পড়া শুরু হবে। আদালতে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত আছেন। এর আগে গত ৯ নভেম্বর প্রকাশিত হাইকোর্ট বেঞ্চটির কার্যতালিকায় ২৬ নভেম্বর রায় প্রদানের জন্য রাখা হয়।

২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত পিলখানা হত্যা মামলার রায়ে বিডিআরের তৎকালীন উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) তৌহিদুল আলমসহ ১৫২ জওয়ানকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। ওই রায় ছিল ফৌজদারি মামলার বিচারের রায়ে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া। এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলীসহ ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয় ২৫৬ জনকে। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পান ২৭৭ জন। ১৫২ জনকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের ওই রায় নিশ্চিতকরণে মামলাটি ডেথ রেফারেন্স আকারে হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তসহ বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিরা বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। পাশাপাশি নিম্ন আদালতে খালাস পাওয়া ৬৯ জওয়ানের মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এদিকে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আজ আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত: ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তর পিলখানায় জওয়ানরা অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও নির্মমভাবে উচ্চ পদস্থ সেনা কর্মকর্তাদেরকে গুলি করে হত্যা করে। হত্যার পর সেনা কর্মকর্তাদের অনেকের লাশ ম্যানহোলে ফেলে দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে লাশ উদ্ধারের দৃশ্য দেখে সেনা কর্মকর্তাদের স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। যাদের মধ্যে কেউ হারিয়েছেন পিতা, কেউ স্বামী বা সন্তান। স্বজনদের একটাই দাবি ছিল যেন নিষ্ঠুর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যারা জড়িত তাদের যেন দৃষ্টান্তমূলক সাজা দেওয়া হয়। এই হত্যার ঘটনায় ওই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা করা হয়। পরবর্তীকালে মামলা দুটি স্থানান্তর হয় নিউমার্কেট থানায়। হত্যা মামলার বিচার নিম্ন আদালতে শেষ হলেও বিস্ফোরক আইনের মামলাটি এখনো বিচারাধীন রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের রায় পড়া শেষ হচ্ছে না আজ

আপডেট সময় ০২:৫২:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিডিআর বিদ্রোহে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর রায় পড়া শেষ হচ্ছে না আজ। রায় পড়া শেষ হতে আরও কয়েকদিন লাগবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

আজ রোববার (২৬ নভেম্বর) সকাল ১০টায় প্রথম দিনের মতো রায় পড়া শুরু করে বেল ১টার দিকে তা শেষ করেন হাইকোর্টের বিচারপতি মো. শওকত হোসেন। তার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চে এ রায় পড়া শুরু হয়। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার।

এ রিপোর্ট লেখার সময় মধ্যাহ্নবিরতি চলছে। দুপুর দুইটার পর থেকে আবার রায় পড়া শুরু হবে। আদালতে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত আছেন। এর আগে গত ৯ নভেম্বর প্রকাশিত হাইকোর্ট বেঞ্চটির কার্যতালিকায় ২৬ নভেম্বর রায় প্রদানের জন্য রাখা হয়।

২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত পিলখানা হত্যা মামলার রায়ে বিডিআরের তৎকালীন উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) তৌহিদুল আলমসহ ১৫২ জওয়ানকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। ওই রায় ছিল ফৌজদারি মামলার বিচারের রায়ে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া। এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলীসহ ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয় ২৫৬ জনকে। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পান ২৭৭ জন। ১৫২ জনকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের ওই রায় নিশ্চিতকরণে মামলাটি ডেথ রেফারেন্স আকারে হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তসহ বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিরা বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। পাশাপাশি নিম্ন আদালতে খালাস পাওয়া ৬৯ জওয়ানের মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এদিকে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আজ আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত: ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তর পিলখানায় জওয়ানরা অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও নির্মমভাবে উচ্চ পদস্থ সেনা কর্মকর্তাদেরকে গুলি করে হত্যা করে। হত্যার পর সেনা কর্মকর্তাদের অনেকের লাশ ম্যানহোলে ফেলে দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে লাশ উদ্ধারের দৃশ্য দেখে সেনা কর্মকর্তাদের স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। যাদের মধ্যে কেউ হারিয়েছেন পিতা, কেউ স্বামী বা সন্তান। স্বজনদের একটাই দাবি ছিল যেন নিষ্ঠুর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যারা জড়িত তাদের যেন দৃষ্টান্তমূলক সাজা দেওয়া হয়। এই হত্যার ঘটনায় ওই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা করা হয়। পরবর্তীকালে মামলা দুটি স্থানান্তর হয় নিউমার্কেট থানায়। হত্যা মামলার বিচার নিম্ন আদালতে শেষ হলেও বিস্ফোরক আইনের মামলাটি এখনো বিচারাধীন রয়েছে।