ঢাকা ০২:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জান্নাতের টিকিট কারা বিক্রি করেছে তার ভিডিও আছে: জামায়াত আমির যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ফিফার কাছে নালিশ করবে ইরান এনসিপি তিনটি বিষয় নিয়ে কাজ করছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জাতি গঠনে শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্টদের মতো বিএনপি একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করছে: জামায়াত আমির ‘মাস্টারমাইন্ড তকমা’ মাহফুজ আলম বললেন এটি একটি বাজে শব্দ টাইগারদের হারিয়ে সিরিজ জিতল অস্ট্রেলিয়া দেশীয় অর্থায়নে দ্রুত বাস্তবায়ন হবে ‘তিস্তা মেগা প্রকল্প’: পানিসম্পদমন্ত্রী না ফেরার দেশে মৃত্তিকার কবি আল মুজাহিদী কোনো চাপেই পারমাণু নীতি পরিবর্তন করবে না উত্তর কোরিয়া, জি–৭-এর আহ্বান প্রত্যাখ্যান

তিন বছর পর খুলল রংপুরের নয়ন হত্যার জট

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

হত্যাকাণ্ডটি ২০১৪ সালের। মূলত প্রেমিকার ভাইয়ের হাতে খুন হয়েছিলেন রংপুরের পীরগাছার কলেজছাত্র আল আমিন নয়ন। কিন্তু শুরু থেকে ট্রেনে কাটা পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল। যে কারণে প্রথমে মামলাটি বোনারপাড়া রেলওয়ে পুলিশ, পরে সিআইডি এবং সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম তদন্ত করে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করে।

কিন্তু এতে আপত্তি জানায় মামলার বাদী। পরবর্তী সময়ে বাদীর নারাজির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি পিবিআই রংপুর জেলাকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশ পরিদর্শক হোসেন আলী তালিকাভুক্ত আসামি জুয়েলকে গ্রেপ্তার করে গত ২৩ নভেম্বর।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জুয়েল নিজেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত জানিয়ে অন্যদের নাম প্রকাশ করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্য আসামি তুষারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এভাবেই তিনি বছর এভাবেই নয়ন হত্যার মূল ঘটনা উম্মোচন করে পিবিআই। শনিবার দুপুরে পিবিআই রংপুর অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে নয়ন হত্যার মূল ঘটনা তুলে ধরেন পিবিআই রংপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার। নিহত নয়ন ওই উপজেলার সোনারায় গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে ও গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

শহিদুল্লাহ কাওছার বলেন, আল আমিন নয়নকে (২২) নৃশংসভাবে হত্যা করে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে রেললাইনে মরদেহ রেখে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচারণা চালানো হয়। এ ঘটনায় নিহত নয়নের বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০১৪ সালের ১৪ এপ্রিল ছয়জনকে আসামি করে বোনারপাড়া রেলওয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে বোনারপাড়া রেলওয়ে পুলিশ, পরে সিআইডি এবং সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম তদন্ত করে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করে। পরে পিবিআই দায়িত্ব নিয়ে হত্যার মূল রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয়।

মামলার তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, নিহত নয়নের সঙ্গে একই থানার তাম্বুলপুর ফকিরপাড়া গ্রামের জলিল ফকিরের মেয়ে রুনির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি রুনির পরিবার মেনে নিতে পারেনি। এ কারণে ঘটনার কিছু দিন আগে থেকে আসামিরা নয়নকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল।

২০১৪ সালের ৬ এপ্রিল নয়ন গাইবান্ধা সরকারি কলেজ থেকে ছুটিতে বাড়িতে আসেন। ওইদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রেমিকা রুনি মোবাইলে নয়নকে তার বাড়িতে আসতে বলেন। পরে নয়ন তার বন্ধু গ্রেপ্তার আসামি তুষারসহ প্রেমিকার বাড়িতে যান। সেখানে যাওয়ার পর জুয়েলসহ অন্য আসামিরা তাদের দুইজনকে একসঙ্গে দেখতে পেয়ে নয়নকে আটক করেন এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে রুনির বাড়ি থেকে বাইরে নিয়ে যান।

সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর নয়নকে গলাকেটে হত্যা করেন আসামিরা। পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মরদেহ রেললাইনে ফেলে রাখে এবং ট্রেনে কাটা নিশ্চিত করে সবাই বাড়ি চলে যায়। এসবের মূলে ছিল প্রেমিকার ভাই জুয়েল।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার জানান, মামলাটি তদন্তাধীন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। তদন্তের স্বার্থে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেননি তিনি। সংবাদ সম্মেলনে এস আই সালেহ ইমরান, এসআই শফিকুল ইসলাম, পুলিশ পরিদর্শক হোসেন আলীসহ পিবিআইয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জান্নাতের টিকিট কারা বিক্রি করেছে তার ভিডিও আছে: জামায়াত আমির

তিন বছর পর খুলল রংপুরের নয়ন হত্যার জট

আপডেট সময় ১০:৩৯:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

হত্যাকাণ্ডটি ২০১৪ সালের। মূলত প্রেমিকার ভাইয়ের হাতে খুন হয়েছিলেন রংপুরের পীরগাছার কলেজছাত্র আল আমিন নয়ন। কিন্তু শুরু থেকে ট্রেনে কাটা পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল। যে কারণে প্রথমে মামলাটি বোনারপাড়া রেলওয়ে পুলিশ, পরে সিআইডি এবং সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম তদন্ত করে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করে।

কিন্তু এতে আপত্তি জানায় মামলার বাদী। পরবর্তী সময়ে বাদীর নারাজির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি পিবিআই রংপুর জেলাকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশ পরিদর্শক হোসেন আলী তালিকাভুক্ত আসামি জুয়েলকে গ্রেপ্তার করে গত ২৩ নভেম্বর।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জুয়েল নিজেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত জানিয়ে অন্যদের নাম প্রকাশ করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্য আসামি তুষারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এভাবেই তিনি বছর এভাবেই নয়ন হত্যার মূল ঘটনা উম্মোচন করে পিবিআই। শনিবার দুপুরে পিবিআই রংপুর অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে নয়ন হত্যার মূল ঘটনা তুলে ধরেন পিবিআই রংপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার। নিহত নয়ন ওই উপজেলার সোনারায় গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে ও গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

শহিদুল্লাহ কাওছার বলেন, আল আমিন নয়নকে (২২) নৃশংসভাবে হত্যা করে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে রেললাইনে মরদেহ রেখে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচারণা চালানো হয়। এ ঘটনায় নিহত নয়নের বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০১৪ সালের ১৪ এপ্রিল ছয়জনকে আসামি করে বোনারপাড়া রেলওয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে বোনারপাড়া রেলওয়ে পুলিশ, পরে সিআইডি এবং সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম তদন্ত করে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করে। পরে পিবিআই দায়িত্ব নিয়ে হত্যার মূল রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয়।

মামলার তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, নিহত নয়নের সঙ্গে একই থানার তাম্বুলপুর ফকিরপাড়া গ্রামের জলিল ফকিরের মেয়ে রুনির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি রুনির পরিবার মেনে নিতে পারেনি। এ কারণে ঘটনার কিছু দিন আগে থেকে আসামিরা নয়নকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল।

২০১৪ সালের ৬ এপ্রিল নয়ন গাইবান্ধা সরকারি কলেজ থেকে ছুটিতে বাড়িতে আসেন। ওইদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রেমিকা রুনি মোবাইলে নয়নকে তার বাড়িতে আসতে বলেন। পরে নয়ন তার বন্ধু গ্রেপ্তার আসামি তুষারসহ প্রেমিকার বাড়িতে যান। সেখানে যাওয়ার পর জুয়েলসহ অন্য আসামিরা তাদের দুইজনকে একসঙ্গে দেখতে পেয়ে নয়নকে আটক করেন এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে রুনির বাড়ি থেকে বাইরে নিয়ে যান।

সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর নয়নকে গলাকেটে হত্যা করেন আসামিরা। পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মরদেহ রেললাইনে ফেলে রাখে এবং ট্রেনে কাটা নিশ্চিত করে সবাই বাড়ি চলে যায়। এসবের মূলে ছিল প্রেমিকার ভাই জুয়েল।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার জানান, মামলাটি তদন্তাধীন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। তদন্তের স্বার্থে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেননি তিনি। সংবাদ সম্মেলনে এস আই সালেহ ইমরান, এসআই শফিকুল ইসলাম, পুলিশ পরিদর্শক হোসেন আলীসহ পিবিআইয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।