ঢাকা ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

তিন বছর পর খুলল রংপুরের নয়ন হত্যার জট

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

হত্যাকাণ্ডটি ২০১৪ সালের। মূলত প্রেমিকার ভাইয়ের হাতে খুন হয়েছিলেন রংপুরের পীরগাছার কলেজছাত্র আল আমিন নয়ন। কিন্তু শুরু থেকে ট্রেনে কাটা পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল। যে কারণে প্রথমে মামলাটি বোনারপাড়া রেলওয়ে পুলিশ, পরে সিআইডি এবং সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম তদন্ত করে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করে।

কিন্তু এতে আপত্তি জানায় মামলার বাদী। পরবর্তী সময়ে বাদীর নারাজির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি পিবিআই রংপুর জেলাকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশ পরিদর্শক হোসেন আলী তালিকাভুক্ত আসামি জুয়েলকে গ্রেপ্তার করে গত ২৩ নভেম্বর।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জুয়েল নিজেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত জানিয়ে অন্যদের নাম প্রকাশ করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্য আসামি তুষারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এভাবেই তিনি বছর এভাবেই নয়ন হত্যার মূল ঘটনা উম্মোচন করে পিবিআই। শনিবার দুপুরে পিবিআই রংপুর অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে নয়ন হত্যার মূল ঘটনা তুলে ধরেন পিবিআই রংপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার। নিহত নয়ন ওই উপজেলার সোনারায় গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে ও গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

শহিদুল্লাহ কাওছার বলেন, আল আমিন নয়নকে (২২) নৃশংসভাবে হত্যা করে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে রেললাইনে মরদেহ রেখে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচারণা চালানো হয়। এ ঘটনায় নিহত নয়নের বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০১৪ সালের ১৪ এপ্রিল ছয়জনকে আসামি করে বোনারপাড়া রেলওয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে বোনারপাড়া রেলওয়ে পুলিশ, পরে সিআইডি এবং সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম তদন্ত করে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করে। পরে পিবিআই দায়িত্ব নিয়ে হত্যার মূল রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয়।

মামলার তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, নিহত নয়নের সঙ্গে একই থানার তাম্বুলপুর ফকিরপাড়া গ্রামের জলিল ফকিরের মেয়ে রুনির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি রুনির পরিবার মেনে নিতে পারেনি। এ কারণে ঘটনার কিছু দিন আগে থেকে আসামিরা নয়নকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল।

২০১৪ সালের ৬ এপ্রিল নয়ন গাইবান্ধা সরকারি কলেজ থেকে ছুটিতে বাড়িতে আসেন। ওইদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রেমিকা রুনি মোবাইলে নয়নকে তার বাড়িতে আসতে বলেন। পরে নয়ন তার বন্ধু গ্রেপ্তার আসামি তুষারসহ প্রেমিকার বাড়িতে যান। সেখানে যাওয়ার পর জুয়েলসহ অন্য আসামিরা তাদের দুইজনকে একসঙ্গে দেখতে পেয়ে নয়নকে আটক করেন এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে রুনির বাড়ি থেকে বাইরে নিয়ে যান।

সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর নয়নকে গলাকেটে হত্যা করেন আসামিরা। পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মরদেহ রেললাইনে ফেলে রাখে এবং ট্রেনে কাটা নিশ্চিত করে সবাই বাড়ি চলে যায়। এসবের মূলে ছিল প্রেমিকার ভাই জুয়েল।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার জানান, মামলাটি তদন্তাধীন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। তদন্তের স্বার্থে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেননি তিনি। সংবাদ সম্মেলনে এস আই সালেহ ইমরান, এসআই শফিকুল ইসলাম, পুলিশ পরিদর্শক হোসেন আলীসহ পিবিআইয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

তিন বছর পর খুলল রংপুরের নয়ন হত্যার জট

আপডেট সময় ১০:৩৯:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

হত্যাকাণ্ডটি ২০১৪ সালের। মূলত প্রেমিকার ভাইয়ের হাতে খুন হয়েছিলেন রংপুরের পীরগাছার কলেজছাত্র আল আমিন নয়ন। কিন্তু শুরু থেকে ট্রেনে কাটা পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল। যে কারণে প্রথমে মামলাটি বোনারপাড়া রেলওয়ে পুলিশ, পরে সিআইডি এবং সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম তদন্ত করে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করে।

কিন্তু এতে আপত্তি জানায় মামলার বাদী। পরবর্তী সময়ে বাদীর নারাজির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি পিবিআই রংপুর জেলাকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশ পরিদর্শক হোসেন আলী তালিকাভুক্ত আসামি জুয়েলকে গ্রেপ্তার করে গত ২৩ নভেম্বর।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জুয়েল নিজেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত জানিয়ে অন্যদের নাম প্রকাশ করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্য আসামি তুষারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এভাবেই তিনি বছর এভাবেই নয়ন হত্যার মূল ঘটনা উম্মোচন করে পিবিআই। শনিবার দুপুরে পিবিআই রংপুর অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে নয়ন হত্যার মূল ঘটনা তুলে ধরেন পিবিআই রংপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার। নিহত নয়ন ওই উপজেলার সোনারায় গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে ও গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

শহিদুল্লাহ কাওছার বলেন, আল আমিন নয়নকে (২২) নৃশংসভাবে হত্যা করে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে রেললাইনে মরদেহ রেখে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচারণা চালানো হয়। এ ঘটনায় নিহত নয়নের বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০১৪ সালের ১৪ এপ্রিল ছয়জনকে আসামি করে বোনারপাড়া রেলওয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে বোনারপাড়া রেলওয়ে পুলিশ, পরে সিআইডি এবং সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম তদন্ত করে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করে। পরে পিবিআই দায়িত্ব নিয়ে হত্যার মূল রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয়।

মামলার তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, নিহত নয়নের সঙ্গে একই থানার তাম্বুলপুর ফকিরপাড়া গ্রামের জলিল ফকিরের মেয়ে রুনির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি রুনির পরিবার মেনে নিতে পারেনি। এ কারণে ঘটনার কিছু দিন আগে থেকে আসামিরা নয়নকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল।

২০১৪ সালের ৬ এপ্রিল নয়ন গাইবান্ধা সরকারি কলেজ থেকে ছুটিতে বাড়িতে আসেন। ওইদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রেমিকা রুনি মোবাইলে নয়নকে তার বাড়িতে আসতে বলেন। পরে নয়ন তার বন্ধু গ্রেপ্তার আসামি তুষারসহ প্রেমিকার বাড়িতে যান। সেখানে যাওয়ার পর জুয়েলসহ অন্য আসামিরা তাদের দুইজনকে একসঙ্গে দেখতে পেয়ে নয়নকে আটক করেন এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে রুনির বাড়ি থেকে বাইরে নিয়ে যান।

সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর নয়নকে গলাকেটে হত্যা করেন আসামিরা। পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মরদেহ রেললাইনে ফেলে রাখে এবং ট্রেনে কাটা নিশ্চিত করে সবাই বাড়ি চলে যায়। এসবের মূলে ছিল প্রেমিকার ভাই জুয়েল।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার জানান, মামলাটি তদন্তাধীন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। তদন্তের স্বার্থে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেননি তিনি। সংবাদ সম্মেলনে এস আই সালেহ ইমরান, এসআই শফিকুল ইসলাম, পুলিশ পরিদর্শক হোসেন আলীসহ পিবিআইয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।