ঢাকা ০৭:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

কুখ্যাত স্বৈরশাসকদের পরিণতি মনে রাখুন: সৌদি যুবরাজকে ইরান

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

সৌদি আরবের তরুণ যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমানকে মধ্যপ্রাচ্যের কুখ্যাত ঘৃণ্য স্বৈরশাসকদের পরিণতি বিবেচনায় নেয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি শুক্রবার সৌদি রোমাঞ্চপ্রিয় যুবরাজকে উদ্দেশ করে বলেছেন, “এ অঞ্চলের কুখ্যাত স্বৈরশাসকদের অবশ্যম্ভাবী পরিণতির কথা মনে রাখা উচিত।” কাসেমি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি যুবরাজ যে সস্তা ও অপরিপক্ক মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার কোনো মূল্য নেই।

বাহরাম কাসেমি বলেন, বিশ্বের কেউ সৌদি অপরিণত যুবরাজের এসব সস্তা ও অর্বাচিন মন্তব্যের কোনো মূল্য দেন না। শুধু তাই নয়, লেবানন কেলেংকারিতে এই যুবরাজের ভুলের কারণে সৌদি আরবের ঐতিহ্যবাহী মিত্ররা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে। বাহরাম কাসেমি জোর দিয়ে বলেন, যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান যে পথ বেছে নিয়েছেন তা এ অঞ্চলের ঘৃণ্য ও কুখ্যাত স্বৈরশাসকদের পথ।

মার্কিন দৈনিক নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌদি যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান বলেছেন, “ইরানের সঙ্গে শান্ত থাকার পরিবর্তে সংঘাতের পথ বেছে নেবে সৌদি আরব।” এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বেড়ে চলাকে তিনি জার্মান নেতা হিটলারের কর্তৃত্ববাদী নীতির সঙ্গে তুলনা করেছেন। সৌদি যুবরাজ বলেছেন, “আমরা ইউরোপ থেকে শিক্ষা নিয়েছি যে, শান্ত থাকলে কাজ হয় না।”

সৌদি আরবের বর্তমান যুবরাজের কারণে এবং তারই একক সিদ্ধান্তে দারিদ্রপীড়িত ইয়েমেনে সামরিক আগ্রাসন শুরু করেছে রিয়াদ। এছাড়া, কাতার ও লেবাননের সঙ্গে তারই সিদ্ধান্তে সংকট তৈরি করা হয়েছে। সিরিয়া ও ইরাকে উগ্রবাদীদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক তিনি। শুধু তাই নয়, যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমানের সিদ্ধান্তে সৌদি আরব ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কথা ভাবছে এবং লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহকে সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যা দিয়ে দেশটির ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে।

এছাড়া, ২০১৫ সালে পবিত্র হজের সময় সৌদি আরবের মিনায় যে মানবসৃষ্ট দুর্ঘটনায় হাজার হাজার হাজির মর্মান্তিক মৃত্যু হয় তা এই যুবরাজের কারণে। এছাড়া, তিনিই হচ্ছেন সুন্নিপ্রধান মুসলিম দেশগুলো নিয়ে কথিত ইসলামি সামরিক জোট গঠনের প্রধান উদ্যোক্তা। অবশ্য, তার এ উদ্যোগ এখনো সফলতার মুখ দেখে নি। এরইমধ্যে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমানকে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যক্তি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

কুখ্যাত স্বৈরশাসকদের পরিণতি মনে রাখুন: সৌদি যুবরাজকে ইরান

আপডেট সময় ০২:৪৩:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

সৌদি আরবের তরুণ যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমানকে মধ্যপ্রাচ্যের কুখ্যাত ঘৃণ্য স্বৈরশাসকদের পরিণতি বিবেচনায় নেয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি শুক্রবার সৌদি রোমাঞ্চপ্রিয় যুবরাজকে উদ্দেশ করে বলেছেন, “এ অঞ্চলের কুখ্যাত স্বৈরশাসকদের অবশ্যম্ভাবী পরিণতির কথা মনে রাখা উচিত।” কাসেমি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি যুবরাজ যে সস্তা ও অপরিপক্ক মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার কোনো মূল্য নেই।

বাহরাম কাসেমি বলেন, বিশ্বের কেউ সৌদি অপরিণত যুবরাজের এসব সস্তা ও অর্বাচিন মন্তব্যের কোনো মূল্য দেন না। শুধু তাই নয়, লেবানন কেলেংকারিতে এই যুবরাজের ভুলের কারণে সৌদি আরবের ঐতিহ্যবাহী মিত্ররা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে। বাহরাম কাসেমি জোর দিয়ে বলেন, যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান যে পথ বেছে নিয়েছেন তা এ অঞ্চলের ঘৃণ্য ও কুখ্যাত স্বৈরশাসকদের পথ।

মার্কিন দৈনিক নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌদি যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান বলেছেন, “ইরানের সঙ্গে শান্ত থাকার পরিবর্তে সংঘাতের পথ বেছে নেবে সৌদি আরব।” এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বেড়ে চলাকে তিনি জার্মান নেতা হিটলারের কর্তৃত্ববাদী নীতির সঙ্গে তুলনা করেছেন। সৌদি যুবরাজ বলেছেন, “আমরা ইউরোপ থেকে শিক্ষা নিয়েছি যে, শান্ত থাকলে কাজ হয় না।”

সৌদি আরবের বর্তমান যুবরাজের কারণে এবং তারই একক সিদ্ধান্তে দারিদ্রপীড়িত ইয়েমেনে সামরিক আগ্রাসন শুরু করেছে রিয়াদ। এছাড়া, কাতার ও লেবাননের সঙ্গে তারই সিদ্ধান্তে সংকট তৈরি করা হয়েছে। সিরিয়া ও ইরাকে উগ্রবাদীদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক তিনি। শুধু তাই নয়, যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমানের সিদ্ধান্তে সৌদি আরব ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কথা ভাবছে এবং লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহকে সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যা দিয়ে দেশটির ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে।

এছাড়া, ২০১৫ সালে পবিত্র হজের সময় সৌদি আরবের মিনায় যে মানবসৃষ্ট দুর্ঘটনায় হাজার হাজার হাজির মর্মান্তিক মৃত্যু হয় তা এই যুবরাজের কারণে। এছাড়া, তিনিই হচ্ছেন সুন্নিপ্রধান মুসলিম দেশগুলো নিয়ে কথিত ইসলামি সামরিক জোট গঠনের প্রধান উদ্যোক্তা। অবশ্য, তার এ উদ্যোগ এখনো সফলতার মুখ দেখে নি। এরইমধ্যে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমানকে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যক্তি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।