ঢাকা ০৪:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

কোথাও কোথাও তারেক সমালোচিত হয়েছেন: গয়েশ্বর

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নিজের কারণে না হলেও কোথাও কোথাও তারেক রহমান সমালোচিত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। এ থেকে শিক্ষা নিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে ভাসানী ভবনে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা এসব কথা বলেন। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৩তম জন্মদিন উদযাপনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। অনুষ্ঠানে কেক কেটে বিএনপি নেতার জন্মদিন উদযাপন করা হয়।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান রাজনীতিতে আলোচিত হন ২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠনের পর তিনি দলীয় বা সরকারে কোনো পদ না নিলেও সে সময়ের সরকারে তার বলয়ের মানুষদের ব্যাপক প্রভাব ছিল বলে ধারণা করা হয়। আর তখনকার বিরোধী দল আওয়ামী লীগ তারেক রহমানকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে।

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ঘুষ গ্রহণের মামলায় গ্রেপ্তার হন তারেক রহমান। ওই সরকারের আমলেই তিনি প্যারোলে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান। পরে ওই সরকারের আমলে করা বিদেশে অর্থপাচারের একটি মামলায় গত জুলাইয়ে তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড ও ২০ কোটি টাকা জরিমানা করে উচ্চ আদালত। দুর্নীতির আরও একাধিক মামলা ছাড়াও রাষ্ট্রদ্রোহ এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলারও আসামি তারেক রহমান।

বিদেশে অবস্থানকারী তারেককেই বিএনপি দলের ভবিষ্যত কাণ্ডারি হিসেবে দেখে। তার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগগুলোতে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্রপ্রণোদিত বলছেন নেতারা। দলের নেতাকর্মীদের গয়েশ্বর বলেন, ‘তারেক রহমান কোথাও কোথাও সমালোচিত হয়েছেন। তবে নিজের কারণে নয়। তাই আমাদেরকে সংযত হতে হবে।’

গয়েশ্বর আরও বলেন, ‘তারেক রহমানের জন্মদিন উদযাপনে যতই বাধা দেয়া হচ্ছে আমাদের অনুভূতি আরও বেগবান হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে তাকে নির্বাসিত করার জন্য তার জীবন ও চরিত্র কলুষিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে সব চেষ্টা অপচেষ্টা ধুলিস্যাৎ হয়েছে। কারণ যে গাছে ফল হয় সে গাছেই মানুষ ঢিল মারে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে গয়েশ্বর বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমা করেছেন, আমরাও ক্ষমা করে দেব। কিন্তু জনগণ কি ক্ষমা করবে? জনগণের দাবি এক, শেখ হাসিনার পদত্যাগ।’

‘জনগণ এও বিশ্বাস করে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ সে নির্বাচনে অংশ নেবে না।’ তিনি বলেন, ‘যারা এখন ক্ষমতায় আছেন গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসুন। একটু ক্ষমা চান। এইদেশ সেইদেশ ঘুরতে হবে না। বাংলাদেশেই থাকতে পারবেন।’

অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, তারেক রহমান হঠাৎ করে রাজনীতিতে আসেননি। তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে আছেন, তারপরও তার উপর ‘মিথ্যা’ মামলা দেয়া হচ্ছে। প্রতিহিংসার যেন শেষ নেই।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সভাপতি আবদুল মালেক, মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি বজলুল বাসিত আঞ্জু প্রমুখ।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাসার অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

কোথাও কোথাও তারেক সমালোচিত হয়েছেন: গয়েশ্বর

আপডেট সময় ০৩:০৩:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নিজের কারণে না হলেও কোথাও কোথাও তারেক রহমান সমালোচিত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। এ থেকে শিক্ষা নিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে ভাসানী ভবনে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা এসব কথা বলেন। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৩তম জন্মদিন উদযাপনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। অনুষ্ঠানে কেক কেটে বিএনপি নেতার জন্মদিন উদযাপন করা হয়।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান রাজনীতিতে আলোচিত হন ২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠনের পর তিনি দলীয় বা সরকারে কোনো পদ না নিলেও সে সময়ের সরকারে তার বলয়ের মানুষদের ব্যাপক প্রভাব ছিল বলে ধারণা করা হয়। আর তখনকার বিরোধী দল আওয়ামী লীগ তারেক রহমানকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে।

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ঘুষ গ্রহণের মামলায় গ্রেপ্তার হন তারেক রহমান। ওই সরকারের আমলেই তিনি প্যারোলে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান। পরে ওই সরকারের আমলে করা বিদেশে অর্থপাচারের একটি মামলায় গত জুলাইয়ে তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড ও ২০ কোটি টাকা জরিমানা করে উচ্চ আদালত। দুর্নীতির আরও একাধিক মামলা ছাড়াও রাষ্ট্রদ্রোহ এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলারও আসামি তারেক রহমান।

বিদেশে অবস্থানকারী তারেককেই বিএনপি দলের ভবিষ্যত কাণ্ডারি হিসেবে দেখে। তার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগগুলোতে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্রপ্রণোদিত বলছেন নেতারা। দলের নেতাকর্মীদের গয়েশ্বর বলেন, ‘তারেক রহমান কোথাও কোথাও সমালোচিত হয়েছেন। তবে নিজের কারণে নয়। তাই আমাদেরকে সংযত হতে হবে।’

গয়েশ্বর আরও বলেন, ‘তারেক রহমানের জন্মদিন উদযাপনে যতই বাধা দেয়া হচ্ছে আমাদের অনুভূতি আরও বেগবান হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে তাকে নির্বাসিত করার জন্য তার জীবন ও চরিত্র কলুষিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে সব চেষ্টা অপচেষ্টা ধুলিস্যাৎ হয়েছে। কারণ যে গাছে ফল হয় সে গাছেই মানুষ ঢিল মারে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে গয়েশ্বর বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমা করেছেন, আমরাও ক্ষমা করে দেব। কিন্তু জনগণ কি ক্ষমা করবে? জনগণের দাবি এক, শেখ হাসিনার পদত্যাগ।’

‘জনগণ এও বিশ্বাস করে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ সে নির্বাচনে অংশ নেবে না।’ তিনি বলেন, ‘যারা এখন ক্ষমতায় আছেন গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসুন। একটু ক্ষমা চান। এইদেশ সেইদেশ ঘুরতে হবে না। বাংলাদেশেই থাকতে পারবেন।’

অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, তারেক রহমান হঠাৎ করে রাজনীতিতে আসেননি। তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে আছেন, তারপরও তার উপর ‘মিথ্যা’ মামলা দেয়া হচ্ছে। প্রতিহিংসার যেন শেষ নেই।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সভাপতি আবদুল মালেক, মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি বজলুল বাসিত আঞ্জু প্রমুখ।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাসার অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।