ঢাকা ০২:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কাজ দেওয়ার নামে রাশিয়ায় নিয়ে পাঠানো হয় যুদ্ধক্ষেত্রে বাংলাদেশের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র কোনও পক্ষ নেবে না : মার্কিন রাষ্ট্রদূত দীর্ঘ ১৪ বছর পর ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে হামলার শিকার কংগ্রেস সদস্য ইলহান শ্রমিক নেতা বাসু হত্যা: ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড নওগাঁয় বিএনপির প্রচারণা চালিয়ে চাকরি হারালেন মুয়াজ্জিন বিমান দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী নিহত বাকহীন বাকশক্তি পেয়ে জুলাই যোদ্ধাদের ভুলে গেছেন: হাসনাত আবদুল্লাহ নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া উচিত, এতেই সবার মঙ্গল: মান্না প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে নাসীরুদ্দীনের ক্রমাগত মিথ্যাচার ভাইরাল হওয়ার কৌশল: মাহদী আমিন

মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বার কাউন্সিলের সনদ প্রদান করা উচিত: আইনমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক আইনজীবীদের বৃহত্তর স্বার্থে আইন পেশার মান ও মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি বলেন, আইন পেশার মান সমৃদ্ধেও স্বার্থে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই বার কাউন্সিল সনদ প্রদান করা উচিত। মেধা ও যোগ্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কোন ধরণের শৈথিল্য কাম্য নয়- এ কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি কঠোরভাবে প্রতিপালন করতেই হবে। এ বিষয়ে তিনি সব ধরনের সহযোগিতা করতেও প্রস্তুত রয়েছেন।আইনমন্ত্রী শনিবার রাজধানীর অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত নবীন আইনজীবীদের সনদপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

প্রধান বিচারপতি (দায়িত্বরত) মো. আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল বাছেত মজুমদারের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, অ্যাটর্ণি জেনারেল ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মাহবুবে আলম, সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু, অ্যাডভোকেট স.ম. রেজাউল করিম প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য ছিলো শোষণ-বঞ্চনামুক্ত ন্যায়ভিত্তিক একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করা’। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে গণতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় এবং দেশে ন্যায় বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা বর্তমান সরকারেরও অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এটা জনগণেরও প্রত্যাশা। কারণ এটি তাদের সাংবিধানিক অধিকার।

তিনি বলেন, জনগণের এই প্রত্যাশা ও সাংবিধানিক অধিকার পূরণে আইনজীবী সমাজের ভূমিকা অপরিসীম। কারণ আইনজীবীগণ ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় চালিকা শক্তি হিসেবে অবদান রাখেন। সেজন্য আইন পেশার মান উন্নয়নে ও আইনজীবীদের কল্যাণার্থে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল গঠন করেন।

মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু তার সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে একটি শক্তিশালী ও আধুনিক বার কাউন্সিলের স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলকে আরো শক্তিশালীকরণে কাজ করছে,উদ্দেশ্য আইন পেশার মানন্নোয়ন ও মর্যাদা বৃদ্ধি। এ জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট চত্ত্বরে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত একটি ১৫-তলা বার কাউন্সিল ভবন নির্মাণের প্রাথমিক কাজ চলছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, প্রশিক্ষণ ছাড়া পেশাগত উৎকর্ষতা অর্জন করা কঠিন। তাই আইন পেশায় দক্ষতা অর্জনে নিয়মিত পড়াশোনা এবং প্রশিক্ষণ অত্যন্ত জরুরী। মানুষের আত্মবিকাশের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে প্রশিক্ষণ। তাই বার কাউন্সিলের নতুন ভবন নির্মিত হলে এ ভবনে আইনজীবীদের জন্য কন্টিনিউয়াস লিগ্যাল এডুকেশন কোর্স চালু রাখার মাধ্যমে সারা বছর আইনজীবীদের ট্রেনিং প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হবে।

আনিসুল হক বলেন, সমাজে মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে আইন পেশার আচরণবিধি সবসময় মেনে চলতে হবে। সমাজের সকলের কাছে সৎ, আদর্শবান ও বিজ্ঞ আইনজীবী হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা লাভে সচেষ্ট হতে হবে, আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রেখে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাজ দেওয়ার নামে রাশিয়ায় নিয়ে পাঠানো হয় যুদ্ধক্ষেত্রে

মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বার কাউন্সিলের সনদ প্রদান করা উচিত: আইনমন্ত্রী

আপডেট সময় ১০:৪৯:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক আইনজীবীদের বৃহত্তর স্বার্থে আইন পেশার মান ও মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি বলেন, আইন পেশার মান সমৃদ্ধেও স্বার্থে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই বার কাউন্সিল সনদ প্রদান করা উচিত। মেধা ও যোগ্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কোন ধরণের শৈথিল্য কাম্য নয়- এ কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি কঠোরভাবে প্রতিপালন করতেই হবে। এ বিষয়ে তিনি সব ধরনের সহযোগিতা করতেও প্রস্তুত রয়েছেন।আইনমন্ত্রী শনিবার রাজধানীর অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত নবীন আইনজীবীদের সনদপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

প্রধান বিচারপতি (দায়িত্বরত) মো. আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল বাছেত মজুমদারের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, অ্যাটর্ণি জেনারেল ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মাহবুবে আলম, সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু, অ্যাডভোকেট স.ম. রেজাউল করিম প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য ছিলো শোষণ-বঞ্চনামুক্ত ন্যায়ভিত্তিক একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করা’। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে গণতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় এবং দেশে ন্যায় বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা বর্তমান সরকারেরও অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এটা জনগণেরও প্রত্যাশা। কারণ এটি তাদের সাংবিধানিক অধিকার।

তিনি বলেন, জনগণের এই প্রত্যাশা ও সাংবিধানিক অধিকার পূরণে আইনজীবী সমাজের ভূমিকা অপরিসীম। কারণ আইনজীবীগণ ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় চালিকা শক্তি হিসেবে অবদান রাখেন। সেজন্য আইন পেশার মান উন্নয়নে ও আইনজীবীদের কল্যাণার্থে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল গঠন করেন।

মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু তার সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে একটি শক্তিশালী ও আধুনিক বার কাউন্সিলের স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলকে আরো শক্তিশালীকরণে কাজ করছে,উদ্দেশ্য আইন পেশার মানন্নোয়ন ও মর্যাদা বৃদ্ধি। এ জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট চত্ত্বরে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত একটি ১৫-তলা বার কাউন্সিল ভবন নির্মাণের প্রাথমিক কাজ চলছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, প্রশিক্ষণ ছাড়া পেশাগত উৎকর্ষতা অর্জন করা কঠিন। তাই আইন পেশায় দক্ষতা অর্জনে নিয়মিত পড়াশোনা এবং প্রশিক্ষণ অত্যন্ত জরুরী। মানুষের আত্মবিকাশের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে প্রশিক্ষণ। তাই বার কাউন্সিলের নতুন ভবন নির্মিত হলে এ ভবনে আইনজীবীদের জন্য কন্টিনিউয়াস লিগ্যাল এডুকেশন কোর্স চালু রাখার মাধ্যমে সারা বছর আইনজীবীদের ট্রেনিং প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হবে।

আনিসুল হক বলেন, সমাজে মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে আইন পেশার আচরণবিধি সবসময় মেনে চলতে হবে। সমাজের সকলের কাছে সৎ, আদর্শবান ও বিজ্ঞ আইনজীবী হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা লাভে সচেষ্ট হতে হবে, আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রেখে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।