ঢাকা ০১:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ ভোট চুরি ও কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে হাসিনার পরিণতি হবে, হুঁশিয়ারি হাসনাত আবদুল্লাহর পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে না অন্তর্বর্তী সরকার : জ্বালানি উপদেষ্টা বাড়ি এসে তো দেখবে ছেলে-বউয়ের কবর, এই জামিন দিয়ে কী হবে: সাদ্দামের মা কারাবন্দিদের নিরাপত্তার পাশাপাশি মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তারেক রহমানের জনসভাস্থলে নিরাপত্তা জোরদার ২০৫০ সালের মধ্যে তীব্র তাপদাহের শিকার হতে পারে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অর্ধেক মানুষ গ্রিসে বিস্কুট কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ৫ জনের মৃত্যু ক্ষমতায় গেলে যশোর শহরকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা হবে : জামায়াত আমির কেন্দ্র দখল করে ফলাফল আদায়ের কোনো সুযোগ নেই: ইসি সানাউল্লাহ

নৌবাহিনীতে যুক্ত হচ্ছে ২ যুদ্ধজাহাজ ও ২ টাগবোট

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে অত্যাধুনিক দুটি যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিনের জন্য নির্মিত দুটি টাগবোট যুক্ত হচ্ছে। প্রায় আটশ’ কোটি টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক এই জাহাজ ও টাগবোট নির্মাণ করেছে খুলনা শিপইয়ার্ড।

নদী ও সমুদ্রে পরীক্ষামূলক চলাচল শেষে দুর্গম ও নিশান নামের জাহাজ দুটি এবং টাগবোট কমিশনিং করতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আগামীকাল খুলনায় আসার কথা রয়েছে। খুলনার তিতুমীরস্থ নেভাল জেটিতে নবনির্মিত জাহাজ গুলি নৌবাহিনীতে কমিশনিং (সংযুক্ত) করবেন তিনি।

খুলনা নৌবাহিনী সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বেলা ১১টায় খালিশপুরস্থ তিতুমীর নেভালে অবস্থান করবেন। তিতুমীরস্থ নেভাল জেটিতে নবনির্মিত দুর্গম ও নিশান নামের যুদ্ধ জাহাজ দুটি এবং টাগবোট কমিশনিং করবেন। বেলা ১২টায় অনুষ্ঠানিকভাবে সংযুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিবেন রাষ্ট্রপতি। এ অনুষ্ঠানে সামরিক কর্মকর্তা ও সুধীজনদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

১৯৯৯ সালে ৩ নভেম্বর আওয়ামীলীগ সরকার খুলনা শিপইয়ার্ডকে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী কাছে হস্তন্তর করে। আর তখন থেকে আন্তর্জাতিক মানের জাহাজ নির্মাণ কারখানা হিসেবে গড়ে তোলে খুলনা শিপইয়ার্ডকে। ২০১১ সালের ৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনা শিপইয়ার্ডে সর্বপ্রথম দেশের মাটিতে ৫টি যুদ্ধ জাহাজ পেট্রোল ক্রাফট নির্মাণের কিল লেইং অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

২০১৩ সালের মধ্যে সেই পাঁচটি পেট্রোল ক্রাফট নির্মাণ করে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে এই প্রতিষ্ঠানটি। নৌবাহিনীর জন্য লার্জ পেট্রোল ক্রাফট নামের দুটি যুদ্ধ জাহাজ চীন থেকে আমদানি করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয় নৌবাহিনী কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে শিপইয়ার্ডের পক্ষ থেকে খুলনায় জাহাজ নির্মাণের প্রস্তাব দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ নৌবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সুপারিশে এলপিসি নির্মাণের দায়িত্ব দেয়া হয় দেশের জাহাজ তৈরীর কারখানা শিপইয়ার্ডকে। জাহাজ নির্মাণের জন্য ২০১৪ সালের ৩০ জুন নৌবাহিনীর সঙ্গে খুলনা শিপইয়ার্ডের চুক্তি হয় । প্রতিটি জাহাজের নির্মাণ জন্য ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। এই ধরনের দু’টি এলপিসি চীন থেকে তৈরি করে আনতে প্রায় এক হাজার কোটি।

খুলনা শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর আনিছুর রহমান মোল্লা জানান, ২০১৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করা হয় দেশে জাহাজ নির্মাণের সবচেয়ে বড় প্রকল্প। খুলনা শিপইয়ার্ডে-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের পর ২৪ মাস অক্লান্ত পরিশ্রমে নির্মাণ শেষ হয়েছে দেশে নির্মিত প্রথম এন্টি সাবমেরিন লার্জ প্যাট্রোল ক্রাফট দুটির। ইতোমধ্যেই দুর্গম ও নিশান নামের জাহাজ দুটি নদী ও সমুদ্রে পরীক্ষামূলক চলাচল শেষ হয়েছে।

খুলনা শিপইয়াড লিমিটেডের এলপিসি জাহাজ প্রকল্পের প্রধান কর্মকর্তা কমান্ডার এম আর রাশেদ বলেন, বড় আকারের অত্যাধুনিক লার্জ পেট্র্রোল ক্রাফট প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৬৪ দশমিক ২ মিটার এবং প্রস্থ ৯ মিটার। এর গভীরতা ৫ দশমিক ১০ মিটার। সমুদ্রপথে ঘণ্টায় ২৫ নটিক্যাল মাইল বেগে চলবে। জাহাজে ৭০ জন একসাথে থাকতে পারবেন। চীনের যুদ্ধজাহাজ বিশেষজ্ঞরা এতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিয়েছেন। লার্জ পেট্রোল ক্রাফট হলেও এগুলোতে অধিকাংশ সুবিধা থাকবে। থাকবে স্বয়ংক্রিয় মিসাইলসহ অত্যাধুনিক সব যুদ্ধাস্ত্র। আরও থাকবে একটি মাল্টি রোল গান, একটি সিঙ্গেল ব্যারেল গান, দুটি ট্রিপল টুবার টর্পেডো লঞ্চার, দু’টি নেভিগেশন রাডার, একটি এয়ার অ্যান্ড সারফেস সার্চ রাডার, একটি ট্র্যাকিং রাডার এবং একটি হাল মাউন্টেড সোনার থাকবে। এই এলপিসি শত্রুপক্ষের সাবমেরিন সনাক্ত এবং তার ওপর আক্রমণ করতে সক্ষম। এটি দিয়ে সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় টহলও দেয়া যাবে।

তিনি আরো জানান, দেশে তৈরি এই জাহাজ দুটি কমিশনিং-এর (সংযুক্তির) মাধ্যমে নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়বে। আধুনিক সমরাস্ত্র-সজ্জিত এই জাহাজ যুক্ত হয়ে নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ

নৌবাহিনীতে যুক্ত হচ্ছে ২ যুদ্ধজাহাজ ও ২ টাগবোট

আপডেট সময় ০৭:৩৩:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে অত্যাধুনিক দুটি যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিনের জন্য নির্মিত দুটি টাগবোট যুক্ত হচ্ছে। প্রায় আটশ’ কোটি টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক এই জাহাজ ও টাগবোট নির্মাণ করেছে খুলনা শিপইয়ার্ড।

নদী ও সমুদ্রে পরীক্ষামূলক চলাচল শেষে দুর্গম ও নিশান নামের জাহাজ দুটি এবং টাগবোট কমিশনিং করতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আগামীকাল খুলনায় আসার কথা রয়েছে। খুলনার তিতুমীরস্থ নেভাল জেটিতে নবনির্মিত জাহাজ গুলি নৌবাহিনীতে কমিশনিং (সংযুক্ত) করবেন তিনি।

খুলনা নৌবাহিনী সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বেলা ১১টায় খালিশপুরস্থ তিতুমীর নেভালে অবস্থান করবেন। তিতুমীরস্থ নেভাল জেটিতে নবনির্মিত দুর্গম ও নিশান নামের যুদ্ধ জাহাজ দুটি এবং টাগবোট কমিশনিং করবেন। বেলা ১২টায় অনুষ্ঠানিকভাবে সংযুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিবেন রাষ্ট্রপতি। এ অনুষ্ঠানে সামরিক কর্মকর্তা ও সুধীজনদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

১৯৯৯ সালে ৩ নভেম্বর আওয়ামীলীগ সরকার খুলনা শিপইয়ার্ডকে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী কাছে হস্তন্তর করে। আর তখন থেকে আন্তর্জাতিক মানের জাহাজ নির্মাণ কারখানা হিসেবে গড়ে তোলে খুলনা শিপইয়ার্ডকে। ২০১১ সালের ৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনা শিপইয়ার্ডে সর্বপ্রথম দেশের মাটিতে ৫টি যুদ্ধ জাহাজ পেট্রোল ক্রাফট নির্মাণের কিল লেইং অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

২০১৩ সালের মধ্যে সেই পাঁচটি পেট্রোল ক্রাফট নির্মাণ করে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে এই প্রতিষ্ঠানটি। নৌবাহিনীর জন্য লার্জ পেট্রোল ক্রাফট নামের দুটি যুদ্ধ জাহাজ চীন থেকে আমদানি করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয় নৌবাহিনী কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে শিপইয়ার্ডের পক্ষ থেকে খুলনায় জাহাজ নির্মাণের প্রস্তাব দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ নৌবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সুপারিশে এলপিসি নির্মাণের দায়িত্ব দেয়া হয় দেশের জাহাজ তৈরীর কারখানা শিপইয়ার্ডকে। জাহাজ নির্মাণের জন্য ২০১৪ সালের ৩০ জুন নৌবাহিনীর সঙ্গে খুলনা শিপইয়ার্ডের চুক্তি হয় । প্রতিটি জাহাজের নির্মাণ জন্য ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। এই ধরনের দু’টি এলপিসি চীন থেকে তৈরি করে আনতে প্রায় এক হাজার কোটি।

খুলনা শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর আনিছুর রহমান মোল্লা জানান, ২০১৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করা হয় দেশে জাহাজ নির্মাণের সবচেয়ে বড় প্রকল্প। খুলনা শিপইয়ার্ডে-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের পর ২৪ মাস অক্লান্ত পরিশ্রমে নির্মাণ শেষ হয়েছে দেশে নির্মিত প্রথম এন্টি সাবমেরিন লার্জ প্যাট্রোল ক্রাফট দুটির। ইতোমধ্যেই দুর্গম ও নিশান নামের জাহাজ দুটি নদী ও সমুদ্রে পরীক্ষামূলক চলাচল শেষ হয়েছে।

খুলনা শিপইয়াড লিমিটেডের এলপিসি জাহাজ প্রকল্পের প্রধান কর্মকর্তা কমান্ডার এম আর রাশেদ বলেন, বড় আকারের অত্যাধুনিক লার্জ পেট্র্রোল ক্রাফট প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৬৪ দশমিক ২ মিটার এবং প্রস্থ ৯ মিটার। এর গভীরতা ৫ দশমিক ১০ মিটার। সমুদ্রপথে ঘণ্টায় ২৫ নটিক্যাল মাইল বেগে চলবে। জাহাজে ৭০ জন একসাথে থাকতে পারবেন। চীনের যুদ্ধজাহাজ বিশেষজ্ঞরা এতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিয়েছেন। লার্জ পেট্রোল ক্রাফট হলেও এগুলোতে অধিকাংশ সুবিধা থাকবে। থাকবে স্বয়ংক্রিয় মিসাইলসহ অত্যাধুনিক সব যুদ্ধাস্ত্র। আরও থাকবে একটি মাল্টি রোল গান, একটি সিঙ্গেল ব্যারেল গান, দুটি ট্রিপল টুবার টর্পেডো লঞ্চার, দু’টি নেভিগেশন রাডার, একটি এয়ার অ্যান্ড সারফেস সার্চ রাডার, একটি ট্র্যাকিং রাডার এবং একটি হাল মাউন্টেড সোনার থাকবে। এই এলপিসি শত্রুপক্ষের সাবমেরিন সনাক্ত এবং তার ওপর আক্রমণ করতে সক্ষম। এটি দিয়ে সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় টহলও দেয়া যাবে।

তিনি আরো জানান, দেশে তৈরি এই জাহাজ দুটি কমিশনিং-এর (সংযুক্তির) মাধ্যমে নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়বে। আধুনিক সমরাস্ত্র-সজ্জিত এই জাহাজ যুক্ত হয়ে নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।