ঢাকা ০৫:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

থামছে না নদ-নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কোনো কিছুতেই থামছে না মাদারীপুরের বিভিন্ন নদ-নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জেল-জরিমানা করেও ঠেকাতে পারছে না প্রভাবশালীদের এই রমরমা ব্যবসা। বরং বালু উত্তোলনের ব্যবসা দিন দিন ফুলে ফেঁপে উঠছে। আর অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে বহু বাড়ি-ঘর ও স্থাপনা নদ-নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভিটে-মাটি হারিয়ে উদ্বাস্থ হয়ে পড়েছে অনেক পরিবার। অবৈধ বালু উত্তোলনে চার উপজেলার মধ্যে শিবচর শীর্ষে অবস্থান করছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সুত্রে জানা গেছে, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই জেলার শিবচরের সাবেক আড়িয়াল খাঁ নদের শাখা ও বন্দরখোলা কোল (উন্মুক্ত জলাশয়) প্রতিবছর সরকার থেকে ইজারা দেওয়া হয়। এই জলাশয়ে অবৈধ ভাবে ড্রেজার বসিয়ে প্রায় সারাবছরই বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে এক শ্রেণির অবৈধ বালু ব্যবসায়ী। এ জলাশয় থেকে অবৈধ ভাবে ড্রেজারের মাধ্যমে পাইপ দিয়ে সরাসরি বালু নিয়ে দূর-দূরান্তের বিভিন্ন পুকুর-খাল বা জলাশয় ভরাট করা হচ্ছে দেদারছে। এতে একদিকে নদী পাড়ের মাটি আলগা হয়ে বাড়ি-ঘর ভেঙে যাচ্ছে। অন্যদিকে পুকুর-খাল, ডোবা-জলাশয় ভরাট করার কারণে সামান্য বৃষ্টি নামলেই সৃষ্টি হচ্ছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। ফলে পরিবেশের বিপর্যয়ের আশংকা করছেন সচেতন মহল।

একই কারণে অনুমোদন বিহীন এসব ড্রেজার দ্বারা বালু উত্তোলন করায় সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। দীর্ঘ দিন ধরে উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের সাদীপুর থেকে পাঁচ্চর ইউনিয়নের ছোট বাহাদুরপুর হইয়া চাঁন মিয়ার বেড়িবাধঁসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর পর দু’টি অভিযান পরিচালিত হয়। সে সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জেল-জরিমানাসহ ড্রেজার পুড়িয়ে দেয়। এর কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার এ সব জলাশয় থেকে বালু উত্তোলন শুরু হয়।

বালু উত্তোলনের স্থান থেকে প্রায় ৪/৫ কিলোমিটার দূরে পাইপের মাধ্যমে বালু নেয়া হচ্ছে। এসব বালু দিয়ে ওই এলাকার আশে-পাশের খাল, ডোবা, নালা ও পুকুর ভরাট চলছে। গত তিন মাসে ঐ এলাকার আশে-পাশের শতাধিক ছোট-বড় পুকুর ভরাট করা হয়েছে। অবৈধ ড্রেজার দ্বারা বালু উত্তোলন করায় মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে গরীব ও অসহায় মানুষ। মানুষের ঘর-বাড়ি ও স্থাপনা নদীগর্ভে নিলীন হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না এ সব মানুষ।

একই অবস্থা চলছে সদর উপজেলার আড়িয়ালখাঁ নদের বিভিন্ন পয়েন্টে। রাজৈর উপজেলার নিন্মকুমার ও আড়িয়ালখাঁ নদের হরিদাসদি-মহেন্দ্রদি এলাকার একাধিক স্থানে। কালকিনি উপজেলার আড়িয়ালখাঁ ও পালরদী নদীর হোগলপাতিয়া, ফাসিয়াতলা, সাহেবরামপুর এলাকায়।

এ ব্যাপারে মাদারীপুর পরিবেশবাদী সংগঠন ফ্রেন্ডস অব নেচার‘এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক রাজন মাহমুদ দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘অপরিকল্পিতভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে পুকুর জলাশয় ভরাটের কারণে পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। রাস্তাঘাটে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এ সব বন্ধে সরকারের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী।’

এ ব্যাপারে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরান আহমেদ দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘আমরা এর আগেও অবৈধ ড্রেজার উচ্ছেদ করেছি। যেখানে অবৈধ ড্রেজার দ্বারা বালু উত্তোলন করা হবে আমরা দ্রুত তা বন্ধে ব্যবস্থা নেবো।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

থামছে না নদ-নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন

আপডেট সময় ০২:৫৭:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কোনো কিছুতেই থামছে না মাদারীপুরের বিভিন্ন নদ-নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জেল-জরিমানা করেও ঠেকাতে পারছে না প্রভাবশালীদের এই রমরমা ব্যবসা। বরং বালু উত্তোলনের ব্যবসা দিন দিন ফুলে ফেঁপে উঠছে। আর অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে বহু বাড়ি-ঘর ও স্থাপনা নদ-নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভিটে-মাটি হারিয়ে উদ্বাস্থ হয়ে পড়েছে অনেক পরিবার। অবৈধ বালু উত্তোলনে চার উপজেলার মধ্যে শিবচর শীর্ষে অবস্থান করছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সুত্রে জানা গেছে, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই জেলার শিবচরের সাবেক আড়িয়াল খাঁ নদের শাখা ও বন্দরখোলা কোল (উন্মুক্ত জলাশয়) প্রতিবছর সরকার থেকে ইজারা দেওয়া হয়। এই জলাশয়ে অবৈধ ভাবে ড্রেজার বসিয়ে প্রায় সারাবছরই বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে এক শ্রেণির অবৈধ বালু ব্যবসায়ী। এ জলাশয় থেকে অবৈধ ভাবে ড্রেজারের মাধ্যমে পাইপ দিয়ে সরাসরি বালু নিয়ে দূর-দূরান্তের বিভিন্ন পুকুর-খাল বা জলাশয় ভরাট করা হচ্ছে দেদারছে। এতে একদিকে নদী পাড়ের মাটি আলগা হয়ে বাড়ি-ঘর ভেঙে যাচ্ছে। অন্যদিকে পুকুর-খাল, ডোবা-জলাশয় ভরাট করার কারণে সামান্য বৃষ্টি নামলেই সৃষ্টি হচ্ছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। ফলে পরিবেশের বিপর্যয়ের আশংকা করছেন সচেতন মহল।

একই কারণে অনুমোদন বিহীন এসব ড্রেজার দ্বারা বালু উত্তোলন করায় সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। দীর্ঘ দিন ধরে উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের সাদীপুর থেকে পাঁচ্চর ইউনিয়নের ছোট বাহাদুরপুর হইয়া চাঁন মিয়ার বেড়িবাধঁসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর পর দু’টি অভিযান পরিচালিত হয়। সে সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জেল-জরিমানাসহ ড্রেজার পুড়িয়ে দেয়। এর কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার এ সব জলাশয় থেকে বালু উত্তোলন শুরু হয়।

বালু উত্তোলনের স্থান থেকে প্রায় ৪/৫ কিলোমিটার দূরে পাইপের মাধ্যমে বালু নেয়া হচ্ছে। এসব বালু দিয়ে ওই এলাকার আশে-পাশের খাল, ডোবা, নালা ও পুকুর ভরাট চলছে। গত তিন মাসে ঐ এলাকার আশে-পাশের শতাধিক ছোট-বড় পুকুর ভরাট করা হয়েছে। অবৈধ ড্রেজার দ্বারা বালু উত্তোলন করায় মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে গরীব ও অসহায় মানুষ। মানুষের ঘর-বাড়ি ও স্থাপনা নদীগর্ভে নিলীন হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না এ সব মানুষ।

একই অবস্থা চলছে সদর উপজেলার আড়িয়ালখাঁ নদের বিভিন্ন পয়েন্টে। রাজৈর উপজেলার নিন্মকুমার ও আড়িয়ালখাঁ নদের হরিদাসদি-মহেন্দ্রদি এলাকার একাধিক স্থানে। কালকিনি উপজেলার আড়িয়ালখাঁ ও পালরদী নদীর হোগলপাতিয়া, ফাসিয়াতলা, সাহেবরামপুর এলাকায়।

এ ব্যাপারে মাদারীপুর পরিবেশবাদী সংগঠন ফ্রেন্ডস অব নেচার‘এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক রাজন মাহমুদ দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘অপরিকল্পিতভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে পুকুর জলাশয় ভরাটের কারণে পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। রাস্তাঘাটে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এ সব বন্ধে সরকারের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী।’

এ ব্যাপারে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরান আহমেদ দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘আমরা এর আগেও অবৈধ ড্রেজার উচ্ছেদ করেছি। যেখানে অবৈধ ড্রেজার দ্বারা বালু উত্তোলন করা হবে আমরা দ্রুত তা বন্ধে ব্যবস্থা নেবো।’