ঢাকা ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

বংশের বাতি না আসায় মেয়েকে জঙ্গলে ফেলে দিলেন মা

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

এ বছর জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার মেয়ে হওয়ার পর থেকেই মন খারাপ মায়ের। তার ওপর অসুস্থ ছিল শিশুটি। পায়ে টিউমার, যা থেকে খারাপ কিছু হতে পারে, এমন আশঙ্কা ছিল চিকিৎসকদের।

এমন অবস্থায় গত ১০ জুলাই হাসপাতাল থেকে বন্ড দিয়ে শিশুটিকে ছাড়িয়ে নেন মা। পরে সুযোগ বুঝে রাতের অন্ধকারে জঙ্গলে ফেলে আসেন। এ কাজে সহযোগিতা করেন তাঁর নিজের মা, মানে শিশুটির নানি। শ্বশুরবাড়ি ফিরে এসে সবাইকে বলেন, মেয়ে মারা গেছে। মায়ের কথায় বিশ্বাস করে বাড়ির লোকজনও আর খোঁজখবর করেনি।

ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুরে। বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজ থেকে মেয়েকে নিয়েই ওন্দার আমড়াতলা শাল জঙ্গলে ফেলে আসেন মা। তবে কপালজোরে বেঁচে যায় সাত মাসের শিশুটি। জঙ্গলে ফেলে আসার দুদিন পর ভোরে তাকে উদ্ধার করেন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার কিছু নারী। জঙ্গলের জন্তুজানোয়ারেরা তাকে আঁচড় দিলেও সে বেঁচে ছিল। তাকে আবার নিয়ে আসা হয় বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজে। চিকিৎসক ও জেলার প্রশাসনের চেষ্টায় খুঁজে বের করা হয় তার বাবা-মাকে। শিশুটির বাবা দুর্গাপুরের বাসিন্দা এবং পেশায় দুধের ব্যবসায়ী।

জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটির মা বলেন, ‘ছেলে চেয়েছিলাম। কিন্তু আবার মেয়ে হয়। তার ওপরে অসুস্থ। সহ্য হচ্ছিল না। তাই ফেলে এসেছিলাম।’ বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ পার্থপ্রতিম প্রধান এবং অর্থোপেডিকস বিভাগীয় প্রধান রণদেব বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মা মন থেকে শিশুটিকে মেনে নিতে পারছেন না। তাকে দুধও খাওয়াচ্ছেন না। ওই মাকে কাউন্সেলিং করা হচ্ছে।

পরে ওই মা দাবি করেন, ‘আমার জায়েরও দুটি মেয়ে আছে। আমার বড় মেয়ের বয়স চার বছর। ভেবেছিলাম, বংশে বাতি দেওয়ার লোক আসবে। ছেলের মা হলে সংসারে আলাদা খাতির হবে। এখন বুঝতে পারছি, ভুল করেছিলাম। সবাই বকাবকি করছে। আসলে মাথার ঠিক ছিল না।’

মনোবিদ নীলাঞ্জনা সান্যাল বলছেন, ‘এ ক্ষেত্রে মাতৃত্বের থেকে বড় হয়ে উঠেছিল মাতৃত্বের মাধ্যমে নিজের প্রাধান্য, গুরুত্ব ও প্রতিপত্তি স্থাপন করা, যা তিনি ছেলের মা হয়ে করতে চেয়েছিলেন। বাকি সব তাঁর কাছে গৌণ ছিল।’ এদিকে এই টানাপোড়নে শিশুটি এখনো হাসপাতালে। এত কিছু বোঝার বয়স হয়নি তার। তার পায়ের টিউমারের টিস্যু পরীক্ষা করতে দেওয়া হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

বংশের বাতি না আসায় মেয়েকে জঙ্গলে ফেলে দিলেন মা

আপডেট সময় ০২:১৬:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

এ বছর জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার মেয়ে হওয়ার পর থেকেই মন খারাপ মায়ের। তার ওপর অসুস্থ ছিল শিশুটি। পায়ে টিউমার, যা থেকে খারাপ কিছু হতে পারে, এমন আশঙ্কা ছিল চিকিৎসকদের।

এমন অবস্থায় গত ১০ জুলাই হাসপাতাল থেকে বন্ড দিয়ে শিশুটিকে ছাড়িয়ে নেন মা। পরে সুযোগ বুঝে রাতের অন্ধকারে জঙ্গলে ফেলে আসেন। এ কাজে সহযোগিতা করেন তাঁর নিজের মা, মানে শিশুটির নানি। শ্বশুরবাড়ি ফিরে এসে সবাইকে বলেন, মেয়ে মারা গেছে। মায়ের কথায় বিশ্বাস করে বাড়ির লোকজনও আর খোঁজখবর করেনি।

ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুরে। বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজ থেকে মেয়েকে নিয়েই ওন্দার আমড়াতলা শাল জঙ্গলে ফেলে আসেন মা। তবে কপালজোরে বেঁচে যায় সাত মাসের শিশুটি। জঙ্গলে ফেলে আসার দুদিন পর ভোরে তাকে উদ্ধার করেন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার কিছু নারী। জঙ্গলের জন্তুজানোয়ারেরা তাকে আঁচড় দিলেও সে বেঁচে ছিল। তাকে আবার নিয়ে আসা হয় বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজে। চিকিৎসক ও জেলার প্রশাসনের চেষ্টায় খুঁজে বের করা হয় তার বাবা-মাকে। শিশুটির বাবা দুর্গাপুরের বাসিন্দা এবং পেশায় দুধের ব্যবসায়ী।

জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটির মা বলেন, ‘ছেলে চেয়েছিলাম। কিন্তু আবার মেয়ে হয়। তার ওপরে অসুস্থ। সহ্য হচ্ছিল না। তাই ফেলে এসেছিলাম।’ বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ পার্থপ্রতিম প্রধান এবং অর্থোপেডিকস বিভাগীয় প্রধান রণদেব বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মা মন থেকে শিশুটিকে মেনে নিতে পারছেন না। তাকে দুধও খাওয়াচ্ছেন না। ওই মাকে কাউন্সেলিং করা হচ্ছে।

পরে ওই মা দাবি করেন, ‘আমার জায়েরও দুটি মেয়ে আছে। আমার বড় মেয়ের বয়স চার বছর। ভেবেছিলাম, বংশে বাতি দেওয়ার লোক আসবে। ছেলের মা হলে সংসারে আলাদা খাতির হবে। এখন বুঝতে পারছি, ভুল করেছিলাম। সবাই বকাবকি করছে। আসলে মাথার ঠিক ছিল না।’

মনোবিদ নীলাঞ্জনা সান্যাল বলছেন, ‘এ ক্ষেত্রে মাতৃত্বের থেকে বড় হয়ে উঠেছিল মাতৃত্বের মাধ্যমে নিজের প্রাধান্য, গুরুত্ব ও প্রতিপত্তি স্থাপন করা, যা তিনি ছেলের মা হয়ে করতে চেয়েছিলেন। বাকি সব তাঁর কাছে গৌণ ছিল।’ এদিকে এই টানাপোড়নে শিশুটি এখনো হাসপাতালে। এত কিছু বোঝার বয়স হয়নি তার। তার পায়ের টিউমারের টিস্যু পরীক্ষা করতে দেওয়া হয়েছে।