ঢাকা ১২:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এ বাজেট বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন ও জনতুষ্টিমূলক: জিএম কাদের দলীয় প্রভাবমুক্ত ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের নির্দেশ অর্থমন্ত্রীর মানবিক রাষ্ট্র গঠনে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী অর্থনীতি স্থিতিশীল হয়ে গেলে আমরা সমৃদ্ধির পথে যাব: অর্থমন্ত্রী ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে পিরোজপুরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ রাজধানীর ৪ বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর দেশের জনগণ আধিপত্যবাদের কাছে মাথানত করেনি, করবে না: গোলাম পরওয়ার ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল পেতে পারে ইরান: জেডি ভ্যান্স গুগলে দেখলাম দুর্নীতিতে এক নম্বরে রাজনীতিবিদরা, দুই নম্বরে আমলারা: রুমিন ফারহানা স্থানীয় সরকার নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে: মির্জা ফখরুল

লন্ডনে এসিড হামলায় অন্ধত্বের পথে বাংলাদেশি

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

লন্ডনে এসিড হামলায় গুরুতর আহত একজন বাংলাদেশি দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারাতে চলেছেন বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনের ওয়ালথামস্টোর ওয়ালপোল সড়কে গাড়ি ছিনিয়ে নিতে আসা দুই কিশোরের এই হামলায় আহত ওই বাংলাদেশির নাম মুহাম্মদ নওশাদ কামাল।

লন্ডনভিত্তিক ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩২ বছর বয়সী কামাল আট বছর আগে ব্রিটেনে গিয়েছিলেন। ডেলিভারি ড্রাইভারের কাজ করেন তিনি। কামাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে একটি বাসায় পিজা পৌঁছে দিয়ে বেরোনোর তার পর কাছে স্কুটারের চাবি চায় দুই কিশোর।

তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার দিকে এসিড ছুড়ে মারা হয়। এ সময় কামাল দৌড়ে ওই বাড়িতে ঢুকতে চাইলে দরজা খোলেননি তার ক্রেতারা। হামলাকারীরা তখনও কামালের দিকে এসিড ছুড়ছিল।

এক পর্যায়ে পাশে গাড়িতে থাকা একজন নারী চিৎকার দিলে নিজেদের মোপেডে চড়ে সটকে পড়ে ওই দুই কিশোর। কিছুক্ষণের মধ্যে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে কামালকে উদ্ধার করে ক্ষতস্থানে পানি ঢালতে থাকেন।

কামাল হেলমেট পরা থাকলেও মুখের দিকটা খোলা থাকায় তার ঠোট, নাক-চোখে এসিড লাগে। লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কামালের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তিনি কোমায় আছেন বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ইমরান রুমেল নামে তার এক বন্ধু ডেইলি মেইলকে বলেছেন, “আমি হাসপাতালে ওকে দেখেছি। ওর অবস্থা শোচনীয়। আমি জানি না, ও আবার দেখতে পাবে কি না।” কামালের ওপর হামলার তদন্তে থাকা গোয়েন্দা বাহিনীর কর্মকর্তা গর্ডন হেন্ডারসন বলেছেন, “মনে হয় তিনি দুই চোখেরই দৃষ্টিশক্তি হারাচ্ছেন।”

এই হামলায় জড়িত সন্দেহে শুক্রবার ১৪ বছরের এক কিশোরকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। শনিবার রাতে ১৬ বছরের আরেক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার কামালের ওপর হামলার আধা ঘণ্টাখানেক পর উত্তর লন্ডনের টটেনহামে আরেক ডেলিভারি ড্রাইভারের ওপর এসিড হামলা হয়। এক্ষেত্রেও দুজন স্কুটারে এসে ৩২ বয়সী ওই ব্যক্তির কাছ থেকে মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ওই চালককে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে তার অবস্থা ততোটা গুরুতর নয়।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লন্ডনে এসিড হামলা বাড়ায় নতুন করে আতঙ্ক দেখা দেয়। গত ২৫ জুলাই পূর্ব লন্ডনে বাংলাদেশি অধ্যুষিত বেথনাল গ্রিন এলাকায় দুই বাঙালি তরুণের মুখে এসিড নিক্ষেপ করা হয়। গত ১৩ জুলাই রাতে উত্তর-পূর্ব লন্ডনে মাত্র ৯০ মিনিটের মধ্যে পাঁচ জায়গায় পাঁচজনের ওপর এসিড হামলা হয়। তার আগে এপ্রিলে পূর্ব লন্ডনে একটি ক্লাবে এসিড হামলায় আহত হন ২০ জন।

লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য মতে, আগের বছরের তুলনায় ২০১৬ সালে যুক্তরাজ্যের রাজধানীতে এসিড হামলা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এ বাজেট বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন ও জনতুষ্টিমূলক: জিএম কাদের

লন্ডনে এসিড হামলায় অন্ধত্বের পথে বাংলাদেশি

আপডেট সময় ১১:৫৪:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

লন্ডনে এসিড হামলায় গুরুতর আহত একজন বাংলাদেশি দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারাতে চলেছেন বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনের ওয়ালথামস্টোর ওয়ালপোল সড়কে গাড়ি ছিনিয়ে নিতে আসা দুই কিশোরের এই হামলায় আহত ওই বাংলাদেশির নাম মুহাম্মদ নওশাদ কামাল।

লন্ডনভিত্তিক ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩২ বছর বয়সী কামাল আট বছর আগে ব্রিটেনে গিয়েছিলেন। ডেলিভারি ড্রাইভারের কাজ করেন তিনি। কামাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে একটি বাসায় পিজা পৌঁছে দিয়ে বেরোনোর তার পর কাছে স্কুটারের চাবি চায় দুই কিশোর।

তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার দিকে এসিড ছুড়ে মারা হয়। এ সময় কামাল দৌড়ে ওই বাড়িতে ঢুকতে চাইলে দরজা খোলেননি তার ক্রেতারা। হামলাকারীরা তখনও কামালের দিকে এসিড ছুড়ছিল।

এক পর্যায়ে পাশে গাড়িতে থাকা একজন নারী চিৎকার দিলে নিজেদের মোপেডে চড়ে সটকে পড়ে ওই দুই কিশোর। কিছুক্ষণের মধ্যে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে কামালকে উদ্ধার করে ক্ষতস্থানে পানি ঢালতে থাকেন।

কামাল হেলমেট পরা থাকলেও মুখের দিকটা খোলা থাকায় তার ঠোট, নাক-চোখে এসিড লাগে। লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কামালের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তিনি কোমায় আছেন বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ইমরান রুমেল নামে তার এক বন্ধু ডেইলি মেইলকে বলেছেন, “আমি হাসপাতালে ওকে দেখেছি। ওর অবস্থা শোচনীয়। আমি জানি না, ও আবার দেখতে পাবে কি না।” কামালের ওপর হামলার তদন্তে থাকা গোয়েন্দা বাহিনীর কর্মকর্তা গর্ডন হেন্ডারসন বলেছেন, “মনে হয় তিনি দুই চোখেরই দৃষ্টিশক্তি হারাচ্ছেন।”

এই হামলায় জড়িত সন্দেহে শুক্রবার ১৪ বছরের এক কিশোরকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। শনিবার রাতে ১৬ বছরের আরেক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার কামালের ওপর হামলার আধা ঘণ্টাখানেক পর উত্তর লন্ডনের টটেনহামে আরেক ডেলিভারি ড্রাইভারের ওপর এসিড হামলা হয়। এক্ষেত্রেও দুজন স্কুটারে এসে ৩২ বয়সী ওই ব্যক্তির কাছ থেকে মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ওই চালককে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে তার অবস্থা ততোটা গুরুতর নয়।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লন্ডনে এসিড হামলা বাড়ায় নতুন করে আতঙ্ক দেখা দেয়। গত ২৫ জুলাই পূর্ব লন্ডনে বাংলাদেশি অধ্যুষিত বেথনাল গ্রিন এলাকায় দুই বাঙালি তরুণের মুখে এসিড নিক্ষেপ করা হয়। গত ১৩ জুলাই রাতে উত্তর-পূর্ব লন্ডনে মাত্র ৯০ মিনিটের মধ্যে পাঁচ জায়গায় পাঁচজনের ওপর এসিড হামলা হয়। তার আগে এপ্রিলে পূর্ব লন্ডনে একটি ক্লাবে এসিড হামলায় আহত হন ২০ জন।

লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য মতে, আগের বছরের তুলনায় ২০১৬ সালে যুক্তরাজ্যের রাজধানীতে এসিড হামলা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।