ঢাকা ১২:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ‘জনমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চিকিৎসকদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন’:মির্জা ফখরুল লন্ডনে প্রকাশ্যে ডাব খাওয়ার সময় তোপের মুখে সাবেক মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে: সার্জিও গর কু‌ড়িগ্রা‌মে এন‌সি‌পির মি‌ছি‌লে হামলা, আহত ১০ আলিফের চোখ ফেরত দিন, আমরা চুপ হয়ে যাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রামপুরায় চলন্ত বাসে উঠতে গিয়ে যাত্রীর মৃত্যু জামালপুরে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ফাঁসি দিয়ে দেন, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি- ট্রাইব্যুনালে বললেন লতিফ সিদ্দিকী ৬০ লাখ টাকায়ও মেলেনি মুক্তি, আরও ২৭ লাখ দিতে দেরি হওয়ায় হত্যা

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকার নতজানু ভূমিকা পালন করছে: ফখরুল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকার সম্পূর্ণভাবে নতজানু ভূমিকা পালন করছে। সরকার কোনোভাবেই একথা বলতে পারবে না যে তারা যে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ছিল তা তারা নিতে পারেনি।’ তিনি আরো বলেন, ‘রাশিয়া, চীন, ভারত এখনো মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান করছে।’

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘রুখো আগ্রাসন-হটাও দুঃশাসন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ লেবার পার্টির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ওই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল জানান, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোকে এখন পর্যন্ত সরকার মানাতে (কনভিনস) পারেনি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা জানি এত সহজে সব কিছু হওয়ার কথা নয়। সেই কাজটাকে ঠিক জায়গায় পৌঁছানোর জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠলে তাহলেই আমরা গণতন্ত্রের জন্য সফল হবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘২০১৪ সালের আগে সেই ঐক্যের দিকে প্রায় আমরা এগিয়ে গিয়েছিলাম। একেবারে সমস্ত দল, মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। রীতিমতো বিপ্লব হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমরা সফল হতে পারিনি, এই ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতন-নিপীড়ন যেটা ঢাকার মধ্যে হয়েছে। এ জন্য সফল হতে পারিনি। হতে পারিনি বলেই যে আমরা পারব না তা নয়।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক দল, বিএনপি সব সময় গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করেছে, আমাদের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একদলীয় গণতন্ত্র থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে নিয়ে এসেছিলেন। আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্র চালু করেছিলেন। শুধু তাই নয়, ৯৬-এ আওয়ামী লীগের যে আন্দোলন ছিল, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীকে একসাথে মিলে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিতে হবে সেই আন্দোলনের ফলে যে জনমত সৃষ্টি হয়েছিল, যে জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে বেগম খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়কের যে ব্যবস্থা তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। এ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি সব সময় চেষ্টা করেছে। নিজের অবস্থান থেকে প্রয়োজনে সরে গিয়েও গণতন্ত্রের জন্য কাজ করেছে। বিএনপির লক্ষ্য হচ্ছে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপির রক্ত গেছে, হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, বিএনপির নেতা গুম হয়ে গেছে, টিপাইমুখ বাঁধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে ইলিয়াস আলী গুম হয়েছে। সারা দেশে বহু যুবনেতা, ছাত্রনেতা গুম হয়েছে। ক্রসফায়ারে আমাদের বহু লোকের প্রাণ গেছে। লড়াই চলছে। এই লড়াইয়ে বিএনপি কিন্তু কখনো পিছনা হয়নি। এখনো কিন্তু বিএনপি পিছপা নয়। গণতন্ত্রকে সুযোগ দেওয়ার জন্য আমরা আমাদের মতামত দিয়েছি। আমরা ২০৩০ সালের ভিশন দিয়েছি, নির্বাচন কমিশন কীভাবে গঠন করা যায় তার কথা বলেছি। সর্বশেষ নির্বাচন কমিশনে গিয়ে আমাদের কথাগুলো পরিষ্কারভাবে বলে এসেছি।’

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকার নতজানু ভূমিকা পালন করছে: ফখরুল

আপডেট সময় ০৮:৩৭:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকার সম্পূর্ণভাবে নতজানু ভূমিকা পালন করছে। সরকার কোনোভাবেই একথা বলতে পারবে না যে তারা যে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ছিল তা তারা নিতে পারেনি।’ তিনি আরো বলেন, ‘রাশিয়া, চীন, ভারত এখনো মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান করছে।’

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘রুখো আগ্রাসন-হটাও দুঃশাসন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ লেবার পার্টির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ওই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল জানান, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোকে এখন পর্যন্ত সরকার মানাতে (কনভিনস) পারেনি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা জানি এত সহজে সব কিছু হওয়ার কথা নয়। সেই কাজটাকে ঠিক জায়গায় পৌঁছানোর জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠলে তাহলেই আমরা গণতন্ত্রের জন্য সফল হবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘২০১৪ সালের আগে সেই ঐক্যের দিকে প্রায় আমরা এগিয়ে গিয়েছিলাম। একেবারে সমস্ত দল, মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। রীতিমতো বিপ্লব হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমরা সফল হতে পারিনি, এই ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতন-নিপীড়ন যেটা ঢাকার মধ্যে হয়েছে। এ জন্য সফল হতে পারিনি। হতে পারিনি বলেই যে আমরা পারব না তা নয়।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক দল, বিএনপি সব সময় গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করেছে, আমাদের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একদলীয় গণতন্ত্র থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে নিয়ে এসেছিলেন। আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্র চালু করেছিলেন। শুধু তাই নয়, ৯৬-এ আওয়ামী লীগের যে আন্দোলন ছিল, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীকে একসাথে মিলে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিতে হবে সেই আন্দোলনের ফলে যে জনমত সৃষ্টি হয়েছিল, যে জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে বেগম খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়কের যে ব্যবস্থা তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। এ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি সব সময় চেষ্টা করেছে। নিজের অবস্থান থেকে প্রয়োজনে সরে গিয়েও গণতন্ত্রের জন্য কাজ করেছে। বিএনপির লক্ষ্য হচ্ছে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপির রক্ত গেছে, হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, বিএনপির নেতা গুম হয়ে গেছে, টিপাইমুখ বাঁধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে ইলিয়াস আলী গুম হয়েছে। সারা দেশে বহু যুবনেতা, ছাত্রনেতা গুম হয়েছে। ক্রসফায়ারে আমাদের বহু লোকের প্রাণ গেছে। লড়াই চলছে। এই লড়াইয়ে বিএনপি কিন্তু কখনো পিছনা হয়নি। এখনো কিন্তু বিএনপি পিছপা নয়। গণতন্ত্রকে সুযোগ দেওয়ার জন্য আমরা আমাদের মতামত দিয়েছি। আমরা ২০৩০ সালের ভিশন দিয়েছি, নির্বাচন কমিশন কীভাবে গঠন করা যায় তার কথা বলেছি। সর্বশেষ নির্বাচন কমিশনে গিয়ে আমাদের কথাগুলো পরিষ্কারভাবে বলে এসেছি।’

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান প্রমুখ।