ঢাকা ১২:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

বাড়াবাড়ি করে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে না: প্রধানমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে যোগদানকালে মিয়ানমারের প্রতিনিধি রোহিঙ্গা ইস্যুতে নানাভাবে উস্কানি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ আলোচনার সময় তিনি বলেন, বাড়াবাড়ি বা ঝগড়াঝাটি করে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। ধৈর্য ধরে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে।

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠকে নির্ধারিত আলোচনার সময় তিনি এ কথা জানান। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক মন্ত্রিপরিষদ সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ কথা জানিয়েছেন।

মন্ত্রিপরিষদের একজন সদস্য বলেন, ‘সভায় মিয়ানমার সফরে গিয়ে এক লাখ টন চাল কেনার বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদকে অবহিত করছিলেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম।’ এ সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে চাল আমদানি করা কি ঠিক হচ্ছে? কারণ তারা ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্যতম ও বর্বর ঘটনা ঘটিয়েছে।’

পরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমার বর্বর ঘটনা ঘটিয়েছে, সেটা ঠিক। কিন্তু বাড়াবাড়ি বা ঝগড়াঝাটি করে সমস্যার সমাধান করা যাবে না। কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আমরা বাড়াবাড়ি করলে বিশ্ব জনমত আমাদের পক্ষে থাকতো না। আমাদের লক্ষ্য রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো।’

উদাহরণ দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এখন ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্ক খুবই খারাপ। কিন্তু তারপরও এর মধ্যেই তাদের ব্যবসা বাণিজ্য চলছে। আমরা কারও উস্কানিতে পা দেবো না। আমি যখন জাতিসংঘে ছিলাম তখন মিয়ানমারের প্রতিনিধি নানাভাবে আমাকে উস্কানি দিয়েছে। আমরা বাড়াবাড়ি করিনি। আমরা বাড়াবাড়ি করলে সেখানে পরিস্থিতি অন্যরকম হতো।’

মন্ত্রিপরিষদের অন্য এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘‘সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মিয়ানমার সফর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছি মিয়ানমারের সঙ্গে কোনও উগ্র আচরণ নয়, সহনশীল ও ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে। তারা যদি উগ্র আচরণ করেও আমাদের সহনশীল হতে হবে, ধৈর্য সহকারে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে’।’’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

বাড়াবাড়ি করে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে না: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৫:০০:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে যোগদানকালে মিয়ানমারের প্রতিনিধি রোহিঙ্গা ইস্যুতে নানাভাবে উস্কানি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ আলোচনার সময় তিনি বলেন, বাড়াবাড়ি বা ঝগড়াঝাটি করে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। ধৈর্য ধরে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে।

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠকে নির্ধারিত আলোচনার সময় তিনি এ কথা জানান। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক মন্ত্রিপরিষদ সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ কথা জানিয়েছেন।

মন্ত্রিপরিষদের একজন সদস্য বলেন, ‘সভায় মিয়ানমার সফরে গিয়ে এক লাখ টন চাল কেনার বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদকে অবহিত করছিলেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম।’ এ সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে চাল আমদানি করা কি ঠিক হচ্ছে? কারণ তারা ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্যতম ও বর্বর ঘটনা ঘটিয়েছে।’

পরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমার বর্বর ঘটনা ঘটিয়েছে, সেটা ঠিক। কিন্তু বাড়াবাড়ি বা ঝগড়াঝাটি করে সমস্যার সমাধান করা যাবে না। কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আমরা বাড়াবাড়ি করলে বিশ্ব জনমত আমাদের পক্ষে থাকতো না। আমাদের লক্ষ্য রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো।’

উদাহরণ দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এখন ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্ক খুবই খারাপ। কিন্তু তারপরও এর মধ্যেই তাদের ব্যবসা বাণিজ্য চলছে। আমরা কারও উস্কানিতে পা দেবো না। আমি যখন জাতিসংঘে ছিলাম তখন মিয়ানমারের প্রতিনিধি নানাভাবে আমাকে উস্কানি দিয়েছে। আমরা বাড়াবাড়ি করিনি। আমরা বাড়াবাড়ি করলে সেখানে পরিস্থিতি অন্যরকম হতো।’

মন্ত্রিপরিষদের অন্য এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘‘সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মিয়ানমার সফর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছি মিয়ানমারের সঙ্গে কোনও উগ্র আচরণ নয়, সহনশীল ও ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে। তারা যদি উগ্র আচরণ করেও আমাদের সহনশীল হতে হবে, ধৈর্য সহকারে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে’।’’