আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বিএনপি সরকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে দমনে ন্যারেটিভ (বয়ান) তৈরিতে ব্যস্ত বলে অভিযোগ করে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়ার গোলাম পরোয়ার বলেছেন, দ্রব্যমূল্য, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই। বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। প্রকৃত ব্যবহার না হলেও বিদ্যুতের বিল বাড়ছে।
আজ সোমবার রাতে রাজধানীর মগবাজারে দলের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন তিনি। ‘দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতি’ তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে জামায়াত।
গোলাম পরওয়ার বলেন, টকশোতে বিরোধী দল ও জামায়াতের বিরুদ্ধে যত বেশি কথা, ততই পদোন্নতি হচ্ছে। অথচ জনদুর্ভোগের দিকে সরকারের নজর নেই। ক্ষমতায় আসার পাঁচ মাসের মধ্যেই জনদুর্ভোগ, লুটপাট, চাঁদাবাজি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। চাঁদাবাজি, দলীয়করণ, দুর্নীতির সিন্ডিকেট চেপে বসেছে জাতির ঘাড়ে।
জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, গ্যাসের সংকট, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও লোডশেডিং ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেছে। নারীরা রাজপথে হাড়ি-কড়াই নিয়ে বিক্ষোভ করছে। দৈনিক প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২১৫ কোটি ঘনফুট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ১৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি হচ্ছে। মানুষ রান্না করতে পারছে না, শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারছে না। নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান কিংবা উত্তোলনে সরকারের উদ্যোগ নেই। বরং এলপিজির দাম বাড়িয়ে মানুষকে চাপে ফেলা হয়েছে।
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের যান্ত্রিক ত্রুটি, আমদানি নির্ভরতা এবং দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রে বিনিয়োগের অভাব বর্তমান সংকটকে আরও তীব্র করেছে। তিতাস, বিবিয়ানা, হবিগঞ্জ ও রশিদপুরসহ প্রধান গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে উৎপাদন বাড়াতে জরুরি ভিত্তিতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, পোশাক কারখানা, সার কারখানা, ইস্পাত কারখানায় উৎপাদন কমে গেছে। সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের সংকটে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। চাল, ডাল, চিনি, কাঁচা মরিচ ও আলুর দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে মানুষ অতিষ্ঠ।
সরকার সংবিধান সংশোধন নিয়ে ব্যস্ত মন্তব্য করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ১১ দল, জামায়াতসহ যারা রক্তাক্ত জুলাই সনদের ভিত্তিতে গণভোটের রায় কার্যকর করে জনগণকে একটি বৈষম্যহীন মানবিক রাষ্ট্রের দাবিতে আন্দোলন করছে, তাদের বিরুদ্ধে ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন সরকারের মন্ত্রীরা। তাঁরা বিভ্রান্তিকর কাজে এবং বিরোধীদলকে দমনে ব্যস্ত। জনদুর্ভোগে নজর নেই। দলদাসদের নিয়োগ ও পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। সরকার যেন ফ্যাসিবাদের পথ না ধরে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















