ঢাকা ০৩:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

মিসরে প্রাচীন পিরামিড যুগেরও আগের সমাধি আবিষ্কার

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মিসরের প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় যুক্ত হয়েছে এক নতুন ঐতিহাসিক অধ্যায়। সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, পিরামিড যুগেরও আগে মিসরের স্থপতিরা স্থায়ী সমাধি নির্মাণে দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। আন্তর্জাতিক প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষকদের একটি দল প্রাচীন সমাধি এবং প্রাক্‌-রাজবংশীয় যুগের একটি সমাধিক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়ার পর এই ধারণা আরও জোরালো হয়েছে।

গবেষকদের মতে, হাজার বছর টিকে থাকার মতো স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে যে প্রাথমিক নকশা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা মিসরের স্থপতিরা শুরু করেছিলেন, এই আবিষ্কার তারই সুস্পষ্ট প্রমাণ। নতুন আবিষ্কৃত সমাধিগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো দেয়ালের গঠন—নিচের দিকে পুরু এবং ওপরের দিকে ধীরে ধীরে সরু। এমন নকশা কাঠামোগুলোকে অসাধারণ স্থায়িত্ব প্রদান করত। পাশাপাশি সেখানে প্রাচীন পাথর কাটার কৌশলেরও নিদর্শন মিলেছে।

গবেষণায় আরও জানা যায়, দেয়ালকে দৃঢ় রাখতে ব্যবহৃত হতো বিশাল আকারের কাঠ, যা অনেক ক্ষেত্রে পুরো দেয়ালের দৈর্ঘ্য জুড়ে বিস্তৃত ছিল। দক্ষিণাঞ্চলে আবিষ্কৃত দ্বিতীয় সমাধিটি সবচেয়ে ভালোভাবে সংরক্ষিত অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা প্রাচীন স্থাপত্যের মৌলিক নকশা বুঝতে গবেষকদের বিশেষভাবে সহায়তা করেছে।

এছাড়া, গবেষক দলটি মিসরের একীকরণের আগের সময়কার একটি প্রাচীন কবরস্থানও উন্মোচন করেছে। সেখানে পাওয়া কঙ্কালগুলোর ভঙ্গি থেকে ধারণা করা হয়, মৃতদের কোঁকড়ানো অবস্থায় সমাহিত করা হতো এবং তাদের শরীর বোনা উদ্ভিজ্জ ম্যাটে মোড়ানো থাকত।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, এসব কাঠামোর সঙ্গে রাজা ডেনের সমাধির উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, পিরামিড নির্মাণে ব্যবহৃত প্রকৌশল প্রযুক্তি প্রচলিত ধারণার তুলনায় অনেক আগেই মিসরের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত হয়েছিল।

মিসরের পর্যটন ও পুরাকীর্তি মন্ত্রী শরিফ ফাতহি বলেন, এই আবিষ্কার প্রাচীন মিসরের সমাধিসৌধ স্থাপত্যের বিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অন্যদিকে মিসরের সুপ্রিম কাউন্সিল অব অ্যান্টিকুইটিসের সেক্রেটারি জেনারেল হিশাম এল-লিথি বলেন, প্রথম সমাধিটি একটি অনন্য নকশার অসাধারণ নিদর্শন, আর দক্ষিণে পাওয়া দ্বিতীয় সমাধিটি একই ধরনের বিন্যাসে নির্মিত হলেও তা আরও ভালোভাবে সংরক্ষিত রয়েছে।

এই আবিষ্কার প্রমাণ করে, প্রাচীন মিসরের স্থাপত্যচর্চা পিরামিড নির্মাণের অনেক আগেই সুসংগঠিত ও উন্নত পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরাইলকে বার্ষিক ৪ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের

মিসরে প্রাচীন পিরামিড যুগেরও আগের সমাধি আবিষ্কার

আপডেট সময় ০৯:২০:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মিসরের প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় যুক্ত হয়েছে এক নতুন ঐতিহাসিক অধ্যায়। সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, পিরামিড যুগেরও আগে মিসরের স্থপতিরা স্থায়ী সমাধি নির্মাণে দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। আন্তর্জাতিক প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষকদের একটি দল প্রাচীন সমাধি এবং প্রাক্‌-রাজবংশীয় যুগের একটি সমাধিক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়ার পর এই ধারণা আরও জোরালো হয়েছে।

গবেষকদের মতে, হাজার বছর টিকে থাকার মতো স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে যে প্রাথমিক নকশা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা মিসরের স্থপতিরা শুরু করেছিলেন, এই আবিষ্কার তারই সুস্পষ্ট প্রমাণ। নতুন আবিষ্কৃত সমাধিগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো দেয়ালের গঠন—নিচের দিকে পুরু এবং ওপরের দিকে ধীরে ধীরে সরু। এমন নকশা কাঠামোগুলোকে অসাধারণ স্থায়িত্ব প্রদান করত। পাশাপাশি সেখানে প্রাচীন পাথর কাটার কৌশলেরও নিদর্শন মিলেছে।

গবেষণায় আরও জানা যায়, দেয়ালকে দৃঢ় রাখতে ব্যবহৃত হতো বিশাল আকারের কাঠ, যা অনেক ক্ষেত্রে পুরো দেয়ালের দৈর্ঘ্য জুড়ে বিস্তৃত ছিল। দক্ষিণাঞ্চলে আবিষ্কৃত দ্বিতীয় সমাধিটি সবচেয়ে ভালোভাবে সংরক্ষিত অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা প্রাচীন স্থাপত্যের মৌলিক নকশা বুঝতে গবেষকদের বিশেষভাবে সহায়তা করেছে।

এছাড়া, গবেষক দলটি মিসরের একীকরণের আগের সময়কার একটি প্রাচীন কবরস্থানও উন্মোচন করেছে। সেখানে পাওয়া কঙ্কালগুলোর ভঙ্গি থেকে ধারণা করা হয়, মৃতদের কোঁকড়ানো অবস্থায় সমাহিত করা হতো এবং তাদের শরীর বোনা উদ্ভিজ্জ ম্যাটে মোড়ানো থাকত।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, এসব কাঠামোর সঙ্গে রাজা ডেনের সমাধির উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, পিরামিড নির্মাণে ব্যবহৃত প্রকৌশল প্রযুক্তি প্রচলিত ধারণার তুলনায় অনেক আগেই মিসরের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত হয়েছিল।

মিসরের পর্যটন ও পুরাকীর্তি মন্ত্রী শরিফ ফাতহি বলেন, এই আবিষ্কার প্রাচীন মিসরের সমাধিসৌধ স্থাপত্যের বিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অন্যদিকে মিসরের সুপ্রিম কাউন্সিল অব অ্যান্টিকুইটিসের সেক্রেটারি জেনারেল হিশাম এল-লিথি বলেন, প্রথম সমাধিটি একটি অনন্য নকশার অসাধারণ নিদর্শন, আর দক্ষিণে পাওয়া দ্বিতীয় সমাধিটি একই ধরনের বিন্যাসে নির্মিত হলেও তা আরও ভালোভাবে সংরক্ষিত রয়েছে।

এই আবিষ্কার প্রমাণ করে, প্রাচীন মিসরের স্থাপত্যচর্চা পিরামিড নির্মাণের অনেক আগেই সুসংগঠিত ও উন্নত পর্যায়ে পৌঁছেছিল।