ঢাকা ১১:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মিসরে প্রাচীন পিরামিড যুগেরও আগের সমাধি আবিষ্কার

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মিসরের প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় যুক্ত হয়েছে এক নতুন ঐতিহাসিক অধ্যায়। সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, পিরামিড যুগেরও আগে মিসরের স্থপতিরা স্থায়ী সমাধি নির্মাণে দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। আন্তর্জাতিক প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষকদের একটি দল প্রাচীন সমাধি এবং প্রাক্‌-রাজবংশীয় যুগের একটি সমাধিক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়ার পর এই ধারণা আরও জোরালো হয়েছে।

গবেষকদের মতে, হাজার বছর টিকে থাকার মতো স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে যে প্রাথমিক নকশা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা মিসরের স্থপতিরা শুরু করেছিলেন, এই আবিষ্কার তারই সুস্পষ্ট প্রমাণ। নতুন আবিষ্কৃত সমাধিগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো দেয়ালের গঠন—নিচের দিকে পুরু এবং ওপরের দিকে ধীরে ধীরে সরু। এমন নকশা কাঠামোগুলোকে অসাধারণ স্থায়িত্ব প্রদান করত। পাশাপাশি সেখানে প্রাচীন পাথর কাটার কৌশলেরও নিদর্শন মিলেছে।

গবেষণায় আরও জানা যায়, দেয়ালকে দৃঢ় রাখতে ব্যবহৃত হতো বিশাল আকারের কাঠ, যা অনেক ক্ষেত্রে পুরো দেয়ালের দৈর্ঘ্য জুড়ে বিস্তৃত ছিল। দক্ষিণাঞ্চলে আবিষ্কৃত দ্বিতীয় সমাধিটি সবচেয়ে ভালোভাবে সংরক্ষিত অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা প্রাচীন স্থাপত্যের মৌলিক নকশা বুঝতে গবেষকদের বিশেষভাবে সহায়তা করেছে।

এছাড়া, গবেষক দলটি মিসরের একীকরণের আগের সময়কার একটি প্রাচীন কবরস্থানও উন্মোচন করেছে। সেখানে পাওয়া কঙ্কালগুলোর ভঙ্গি থেকে ধারণা করা হয়, মৃতদের কোঁকড়ানো অবস্থায় সমাহিত করা হতো এবং তাদের শরীর বোনা উদ্ভিজ্জ ম্যাটে মোড়ানো থাকত।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, এসব কাঠামোর সঙ্গে রাজা ডেনের সমাধির উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, পিরামিড নির্মাণে ব্যবহৃত প্রকৌশল প্রযুক্তি প্রচলিত ধারণার তুলনায় অনেক আগেই মিসরের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত হয়েছিল।

মিসরের পর্যটন ও পুরাকীর্তি মন্ত্রী শরিফ ফাতহি বলেন, এই আবিষ্কার প্রাচীন মিসরের সমাধিসৌধ স্থাপত্যের বিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অন্যদিকে মিসরের সুপ্রিম কাউন্সিল অব অ্যান্টিকুইটিসের সেক্রেটারি জেনারেল হিশাম এল-লিথি বলেন, প্রথম সমাধিটি একটি অনন্য নকশার অসাধারণ নিদর্শন, আর দক্ষিণে পাওয়া দ্বিতীয় সমাধিটি একই ধরনের বিন্যাসে নির্মিত হলেও তা আরও ভালোভাবে সংরক্ষিত রয়েছে।

এই আবিষ্কার প্রমাণ করে, প্রাচীন মিসরের স্থাপত্যচর্চা পিরামিড নির্মাণের অনেক আগেই সুসংগঠিত ও উন্নত পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

মিসরে প্রাচীন পিরামিড যুগেরও আগের সমাধি আবিষ্কার

আপডেট সময় ০৯:২০:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মিসরের প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় যুক্ত হয়েছে এক নতুন ঐতিহাসিক অধ্যায়। সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, পিরামিড যুগেরও আগে মিসরের স্থপতিরা স্থায়ী সমাধি নির্মাণে দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। আন্তর্জাতিক প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষকদের একটি দল প্রাচীন সমাধি এবং প্রাক্‌-রাজবংশীয় যুগের একটি সমাধিক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়ার পর এই ধারণা আরও জোরালো হয়েছে।

গবেষকদের মতে, হাজার বছর টিকে থাকার মতো স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে যে প্রাথমিক নকশা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা মিসরের স্থপতিরা শুরু করেছিলেন, এই আবিষ্কার তারই সুস্পষ্ট প্রমাণ। নতুন আবিষ্কৃত সমাধিগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো দেয়ালের গঠন—নিচের দিকে পুরু এবং ওপরের দিকে ধীরে ধীরে সরু। এমন নকশা কাঠামোগুলোকে অসাধারণ স্থায়িত্ব প্রদান করত। পাশাপাশি সেখানে প্রাচীন পাথর কাটার কৌশলেরও নিদর্শন মিলেছে।

গবেষণায় আরও জানা যায়, দেয়ালকে দৃঢ় রাখতে ব্যবহৃত হতো বিশাল আকারের কাঠ, যা অনেক ক্ষেত্রে পুরো দেয়ালের দৈর্ঘ্য জুড়ে বিস্তৃত ছিল। দক্ষিণাঞ্চলে আবিষ্কৃত দ্বিতীয় সমাধিটি সবচেয়ে ভালোভাবে সংরক্ষিত অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা প্রাচীন স্থাপত্যের মৌলিক নকশা বুঝতে গবেষকদের বিশেষভাবে সহায়তা করেছে।

এছাড়া, গবেষক দলটি মিসরের একীকরণের আগের সময়কার একটি প্রাচীন কবরস্থানও উন্মোচন করেছে। সেখানে পাওয়া কঙ্কালগুলোর ভঙ্গি থেকে ধারণা করা হয়, মৃতদের কোঁকড়ানো অবস্থায় সমাহিত করা হতো এবং তাদের শরীর বোনা উদ্ভিজ্জ ম্যাটে মোড়ানো থাকত।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, এসব কাঠামোর সঙ্গে রাজা ডেনের সমাধির উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, পিরামিড নির্মাণে ব্যবহৃত প্রকৌশল প্রযুক্তি প্রচলিত ধারণার তুলনায় অনেক আগেই মিসরের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত হয়েছিল।

মিসরের পর্যটন ও পুরাকীর্তি মন্ত্রী শরিফ ফাতহি বলেন, এই আবিষ্কার প্রাচীন মিসরের সমাধিসৌধ স্থাপত্যের বিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অন্যদিকে মিসরের সুপ্রিম কাউন্সিল অব অ্যান্টিকুইটিসের সেক্রেটারি জেনারেল হিশাম এল-লিথি বলেন, প্রথম সমাধিটি একটি অনন্য নকশার অসাধারণ নিদর্শন, আর দক্ষিণে পাওয়া দ্বিতীয় সমাধিটি একই ধরনের বিন্যাসে নির্মিত হলেও তা আরও ভালোভাবে সংরক্ষিত রয়েছে।

এই আবিষ্কার প্রমাণ করে, প্রাচীন মিসরের স্থাপত্যচর্চা পিরামিড নির্মাণের অনেক আগেই সুসংগঠিত ও উন্নত পর্যায়ে পৌঁছেছিল।