ঢাকা ১২:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

সম্পর্ক শেষ হতে পারে কিন্তু সম্মানবোধ শেষ হয়ে যায় না: জয়া

আকাশ বিনোদন ডেস্ক :

জয়া আহসান। অভিনেত্রী। তাঁর অভিনীত নতুন সিনেমা ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ এখনও পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাগৃহে চলছে। কৌশিক গাঙ্গুলি পরিচালিত এই সিনেমাটি ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অর্ধাঙ্গিনী’র সিকুয়েল। সম্প্রতি কলকাতা থেকে সিনেমার প্রচারণা শেষে দেশে ফিরেছেন জয়া। এই সিনেমা ও নানা প্রসঙ্গ নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন মীর সামী

‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমাটি নিয়ে দর্শকের প্রতিক্রিয়া কেমন পেলেন?
সত্যি বলতে, দর্শকদের কাছ থেকে অসাধারণ সাড়া পাচ্ছি। মেঘনা চরিত্রের প্রতি দর্শকদের এই ভালোবাসার শুরু হয়েছিল ‘অর্ধাঙ্গিনী’ দিয়ে। সিনেমাটি শুধু সাধারণ দর্শকই নয়, সমালোচকদের কাছেও ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছিল। সেখানে বিয়ে, সম্পর্ক, বিচ্ছেদ এবং মানুষের আবেগের জটিল দিকগুলো খুব সুন্দরভাবে উঠে এসেছিল। ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ সেই গল্পেরই পরবর্তী অধ্যায়। প্রথম ছবিতে শুভ্রা ও মেঘনার যে জায়গায় গল্প শেষ হয়েছিল, নতুন ছবি ঠিক সেখান থেকেই শুরু। সিনেমাটি মুক্তির পর থেকে এখন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে দারুণ দর্শক পাচ্ছে। প্রায় প্রতিটি জায়গায় এখনও হাউসফুল শো চলছে। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, পুনে, মহারাষ্ট্রসহ ভারতের আরও কয়েকটি শহরেও ছবিটি মুক্তি পেয়েছে এবং সেখানেও ভালো সাড়া মিলছে।

এবারের সিনেমার নামের সঙ্গে যুক্ত হওয়া ‘আজও’ শব্দটির বিশেষ তাৎপর্য কী?
(হাসি) এই প্রশ্নের পুরো উত্তর দিতে গেলে গল্পের অনেকটাই বলে ফেলতে হবে। তাই সেটা করতে চাই না। তবে এটুকু বলতে পারি, ঠিক এক বছর আগে বর্ষাকালে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’র দৃশ্যধারণ শেষ হয়েছিল। ‘অর্ধাঙ্গিনী’ দর্শকের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছিল, সেই ভালোবাসারই ধারাবাহিকতা এই ‘আজও’। শুধু নামেই নয়, গল্পের গভীরেও এই শব্দটির অর্থ আছে।

একই চরিত্রে আবার অভিনয় করতে হলে কি আলাদা চাপ তৈরি হয়?
আমার কাছে এটা চাপের চেয়ে আনন্দের। সাধারণত একটি চরিত্র শেষ হয়ে গেলে তাকে বিদায় জানাতে হয়। কিন্তু কোনো চরিত্রে আবার ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া একজন অভিনেতার জন্য ভীষণ আনন্দের। মেঘনাকে আবার খুঁজে পেতে হয়েছে স্মৃতির ভেতর দিয়ে। সে আগের মানুষটি থাকলেও সময় তাঁকে বদলে দিয়েছে, আরও পরিণত করেছে। সেই পরিবর্তনের সূক্ষ্ম দিকগুলো ফুটিয়ে তোলাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং আনন্দও।

আপনি কি মনে করেন, নারী সত্যিই ‘অর্ধাঙ্গিনী’?
আমি আসলে নারী-পুরুষের এমন বিভাজনের ধারণায় খুব একটা বিশ্বাস করি না। আমি বিশ্বাস করি মানুষে মানুষে সম্পর্কের ওপর, আত্মার সঙ্গে আত্মার সংযোগের ওপর। একজন মানুষের পরিচয় শুধু কোনো সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তবে ছবির গল্প ও প্রেক্ষাপটের প্রয়োজনেই এখানে ‘অর্ধাঙ্গিনী’ শব্দটি এসেছে।

ছবিতে স্বামীর বর্তমান ও প্রাক্তনের সম্পর্ককে খুব মানবিকভাবে দেখানো হয়েছে। বাস্তবেও কি এমন সম্ভব?
অবশ্যই সম্ভব। বাস্তব জীবনেও আমি এমন সম্পর্ক দেখেছি। দুজন মানুষ আলাদা হয়ে গেলেই তো তাদের একসঙ্গে কাটানো সময়, স্মৃতি বা অনুভূতিগুলো মুছে যায় না। সম্পর্ক শেষ হতে পারে, কিন্তু সম্মানবোধ শেষ হয়ে যায় না।

ছবিতে মেঘনার মাতৃত্বের যাত্রাও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে আছে। আপনার ভাবনা কী?
আমি মনে করি, মাতৃত্ব একজন নারীর জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। তবে এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তও বটে। এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যেক নারীর সাহসী, ধৈর্যশীল ও দূরদর্শী হওয়া প্রয়োজন। সমাজ বা অন্য কারও প্রত্যাশার চেয়ে নিজের বাস্তবতা, অনুভূতি এবং ভবিষ্যতের কথা ভেবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

কৌশিক গাঙ্গুলির সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা…
কৌশিকদার সঙ্গে কাজ করা সব সময়ই খুব সমৃদ্ধ একটি অভিজ্ঞতা। তিনি চরিত্র নিয়ে অনেক গভীরভাবে ভাবেন। অভিনেতাদেরও সেই ভাবনার ভেতরে ঢুকে কাজ করার সুযোগ করে দেন।

চূর্ণী গাঙ্গুলির সঙ্গে আপনার রসায়ন নিয়েও বেশ আলোচনা হচ্ছে। তাঁর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা?
কৌশিক গাঙ্গুলির ‘বিসর্জন’ সিনেমার সময় থেকেই চূর্ণী গাঙ্গুলির সঙ্গে পরিচয়। যা ধীরে ধীরে বন্ধুত্বে রূপ নেয়। আমার অভিনীত ‘পদ্মা’ চরিত্রটি গড়ে তুলতেও তাঁর অবদান ছিল। আমার লুক কেমন হবে, কী ধরনের শাড়ি পরব, চরিত্রের উপস্থাপন। এসব বিষয় তিনি দেখেছেন। এমনকি ছবির সম্পাদনার সময়ও তিনি যুক্ত ছিলেন। এরপর ‘অর্ধাঙ্গিনী’তে প্রথমবার আমরা একসঙ্গে অভিনয় করি। সেই অভিজ্ঞতা এতটাই সুন্দর ছিল যে, ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’তে কাজ করাও ভীষণ দারুণ উপভোগ্য হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

সম্পর্ক শেষ হতে পারে কিন্তু সম্মানবোধ শেষ হয়ে যায় না: জয়া

আপডেট সময় ০৩:৫০:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

আকাশ বিনোদন ডেস্ক :

জয়া আহসান। অভিনেত্রী। তাঁর অভিনীত নতুন সিনেমা ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ এখনও পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাগৃহে চলছে। কৌশিক গাঙ্গুলি পরিচালিত এই সিনেমাটি ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অর্ধাঙ্গিনী’র সিকুয়েল। সম্প্রতি কলকাতা থেকে সিনেমার প্রচারণা শেষে দেশে ফিরেছেন জয়া। এই সিনেমা ও নানা প্রসঙ্গ নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন মীর সামী

‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমাটি নিয়ে দর্শকের প্রতিক্রিয়া কেমন পেলেন?
সত্যি বলতে, দর্শকদের কাছ থেকে অসাধারণ সাড়া পাচ্ছি। মেঘনা চরিত্রের প্রতি দর্শকদের এই ভালোবাসার শুরু হয়েছিল ‘অর্ধাঙ্গিনী’ দিয়ে। সিনেমাটি শুধু সাধারণ দর্শকই নয়, সমালোচকদের কাছেও ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছিল। সেখানে বিয়ে, সম্পর্ক, বিচ্ছেদ এবং মানুষের আবেগের জটিল দিকগুলো খুব সুন্দরভাবে উঠে এসেছিল। ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ সেই গল্পেরই পরবর্তী অধ্যায়। প্রথম ছবিতে শুভ্রা ও মেঘনার যে জায়গায় গল্প শেষ হয়েছিল, নতুন ছবি ঠিক সেখান থেকেই শুরু। সিনেমাটি মুক্তির পর থেকে এখন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে দারুণ দর্শক পাচ্ছে। প্রায় প্রতিটি জায়গায় এখনও হাউসফুল শো চলছে। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, পুনে, মহারাষ্ট্রসহ ভারতের আরও কয়েকটি শহরেও ছবিটি মুক্তি পেয়েছে এবং সেখানেও ভালো সাড়া মিলছে।

এবারের সিনেমার নামের সঙ্গে যুক্ত হওয়া ‘আজও’ শব্দটির বিশেষ তাৎপর্য কী?
(হাসি) এই প্রশ্নের পুরো উত্তর দিতে গেলে গল্পের অনেকটাই বলে ফেলতে হবে। তাই সেটা করতে চাই না। তবে এটুকু বলতে পারি, ঠিক এক বছর আগে বর্ষাকালে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’র দৃশ্যধারণ শেষ হয়েছিল। ‘অর্ধাঙ্গিনী’ দর্শকের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছিল, সেই ভালোবাসারই ধারাবাহিকতা এই ‘আজও’। শুধু নামেই নয়, গল্পের গভীরেও এই শব্দটির অর্থ আছে।

একই চরিত্রে আবার অভিনয় করতে হলে কি আলাদা চাপ তৈরি হয়?
আমার কাছে এটা চাপের চেয়ে আনন্দের। সাধারণত একটি চরিত্র শেষ হয়ে গেলে তাকে বিদায় জানাতে হয়। কিন্তু কোনো চরিত্রে আবার ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া একজন অভিনেতার জন্য ভীষণ আনন্দের। মেঘনাকে আবার খুঁজে পেতে হয়েছে স্মৃতির ভেতর দিয়ে। সে আগের মানুষটি থাকলেও সময় তাঁকে বদলে দিয়েছে, আরও পরিণত করেছে। সেই পরিবর্তনের সূক্ষ্ম দিকগুলো ফুটিয়ে তোলাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং আনন্দও।

আপনি কি মনে করেন, নারী সত্যিই ‘অর্ধাঙ্গিনী’?
আমি আসলে নারী-পুরুষের এমন বিভাজনের ধারণায় খুব একটা বিশ্বাস করি না। আমি বিশ্বাস করি মানুষে মানুষে সম্পর্কের ওপর, আত্মার সঙ্গে আত্মার সংযোগের ওপর। একজন মানুষের পরিচয় শুধু কোনো সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তবে ছবির গল্প ও প্রেক্ষাপটের প্রয়োজনেই এখানে ‘অর্ধাঙ্গিনী’ শব্দটি এসেছে।

ছবিতে স্বামীর বর্তমান ও প্রাক্তনের সম্পর্ককে খুব মানবিকভাবে দেখানো হয়েছে। বাস্তবেও কি এমন সম্ভব?
অবশ্যই সম্ভব। বাস্তব জীবনেও আমি এমন সম্পর্ক দেখেছি। দুজন মানুষ আলাদা হয়ে গেলেই তো তাদের একসঙ্গে কাটানো সময়, স্মৃতি বা অনুভূতিগুলো মুছে যায় না। সম্পর্ক শেষ হতে পারে, কিন্তু সম্মানবোধ শেষ হয়ে যায় না।

ছবিতে মেঘনার মাতৃত্বের যাত্রাও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে আছে। আপনার ভাবনা কী?
আমি মনে করি, মাতৃত্ব একজন নারীর জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। তবে এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তও বটে। এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যেক নারীর সাহসী, ধৈর্যশীল ও দূরদর্শী হওয়া প্রয়োজন। সমাজ বা অন্য কারও প্রত্যাশার চেয়ে নিজের বাস্তবতা, অনুভূতি এবং ভবিষ্যতের কথা ভেবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

কৌশিক গাঙ্গুলির সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা…
কৌশিকদার সঙ্গে কাজ করা সব সময়ই খুব সমৃদ্ধ একটি অভিজ্ঞতা। তিনি চরিত্র নিয়ে অনেক গভীরভাবে ভাবেন। অভিনেতাদেরও সেই ভাবনার ভেতরে ঢুকে কাজ করার সুযোগ করে দেন।

চূর্ণী গাঙ্গুলির সঙ্গে আপনার রসায়ন নিয়েও বেশ আলোচনা হচ্ছে। তাঁর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা?
কৌশিক গাঙ্গুলির ‘বিসর্জন’ সিনেমার সময় থেকেই চূর্ণী গাঙ্গুলির সঙ্গে পরিচয়। যা ধীরে ধীরে বন্ধুত্বে রূপ নেয়। আমার অভিনীত ‘পদ্মা’ চরিত্রটি গড়ে তুলতেও তাঁর অবদান ছিল। আমার লুক কেমন হবে, কী ধরনের শাড়ি পরব, চরিত্রের উপস্থাপন। এসব বিষয় তিনি দেখেছেন। এমনকি ছবির সম্পাদনার সময়ও তিনি যুক্ত ছিলেন। এরপর ‘অর্ধাঙ্গিনী’তে প্রথমবার আমরা একসঙ্গে অভিনয় করি। সেই অভিজ্ঞতা এতটাই সুন্দর ছিল যে, ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’তে কাজ করাও ভীষণ দারুণ উপভোগ্য হয়েছে।