ঢাকা ০৫:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

আন্দোলনের মুখে বিলবোর্ড থেকে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের ছবি সরিয়ে দিল রাবি প্রশাসন

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিতদের ছবি সম্বলিত বিলবোর্ডটি সরিয়ে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে রোববার রাতে বিলবোর্ডটি থেকে যুদ্ধাপরাধীদের ছবি সরিয়ে দেওয়া হয়।

দু’দিন আগে শুক্রবার ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শিরোনামে বিলবোর্ডটি টানিয়ে দেন রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের সংগঠন ‘নভো কালচার’। এতে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মীর কাসেম আলী, আব্দুল কাদের মোল্লা, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবি প্রদর্শন করা হয়।

বিলবোর্ডটি অপসারণের দাবিতে কয়েকটি ছাত্র সংগঠন রোববার বিকেলে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। তাদের দাবিতে রাত সোয়া ১০টার দিকে বিলবোর্ডটি সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত জানায় প্রশাসন। পরে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন আন্দোলনরত ছাত্রনেতা ও শিক্ষার্থীরা।

বিলবোর্ড সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান। তিনি বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে বিলবোর্ডটি সরিয়ে নিতে বলা হয়েছিল। তিনি তাতে সম্মত হননি। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিলবোর্ডে থাকা আপত্তিকর ছবিগুলো সরিয়ে দেওয়া হয়।

বিলবোর্ডটি অপসারণের দাবিতে আন্দোলনকারী নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী সাদেক রহমান বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চিহ্নিত রাজাকারদের স্বাভাবিকীকরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা এর সুযোগ দেবেন না। প্রশাসন বিলবোর্ডটি সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় তারা রাতে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। এটি সরানো না হলে পরবর্তী কর্মসূচি দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কিংবা বাংলাদেশের কোথাও রাজাকারদের কোনো ধরনের স্বাভাবিকীকরণ তারা মেনে নেবেন না।

তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধের প্রশ্নটি বাংলাদেশের মৌলিক জাতীয় ইস্যু। ২০২৪ সালের আন্দোলন কিংবা শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থানকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে যুদ্ধাপরাধী মতাদর্শ বা তাদের পুনর্বাসনের কোনো সুযোগ নেই।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

আন্দোলনের মুখে বিলবোর্ড থেকে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের ছবি সরিয়ে দিল রাবি প্রশাসন

আপডেট সময় ০২:২০:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিতদের ছবি সম্বলিত বিলবোর্ডটি সরিয়ে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে রোববার রাতে বিলবোর্ডটি থেকে যুদ্ধাপরাধীদের ছবি সরিয়ে দেওয়া হয়।

দু’দিন আগে শুক্রবার ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শিরোনামে বিলবোর্ডটি টানিয়ে দেন রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের সংগঠন ‘নভো কালচার’। এতে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মীর কাসেম আলী, আব্দুল কাদের মোল্লা, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবি প্রদর্শন করা হয়।

বিলবোর্ডটি অপসারণের দাবিতে কয়েকটি ছাত্র সংগঠন রোববার বিকেলে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। তাদের দাবিতে রাত সোয়া ১০টার দিকে বিলবোর্ডটি সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত জানায় প্রশাসন। পরে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন আন্দোলনরত ছাত্রনেতা ও শিক্ষার্থীরা।

বিলবোর্ড সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান। তিনি বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে বিলবোর্ডটি সরিয়ে নিতে বলা হয়েছিল। তিনি তাতে সম্মত হননি। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিলবোর্ডে থাকা আপত্তিকর ছবিগুলো সরিয়ে দেওয়া হয়।

বিলবোর্ডটি অপসারণের দাবিতে আন্দোলনকারী নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী সাদেক রহমান বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চিহ্নিত রাজাকারদের স্বাভাবিকীকরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা এর সুযোগ দেবেন না। প্রশাসন বিলবোর্ডটি সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় তারা রাতে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। এটি সরানো না হলে পরবর্তী কর্মসূচি দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কিংবা বাংলাদেশের কোথাও রাজাকারদের কোনো ধরনের স্বাভাবিকীকরণ তারা মেনে নেবেন না।

তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধের প্রশ্নটি বাংলাদেশের মৌলিক জাতীয় ইস্যু। ২০২৪ সালের আন্দোলন কিংবা শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থানকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে যুদ্ধাপরাধী মতাদর্শ বা তাদের পুনর্বাসনের কোনো সুযোগ নেই।