ঢাকা ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

বিদেশি ঋণের সুদাসল পরিশোধে গেছে ৪৪৯ কোটি ডলার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল বাবদ ৪৪৯ কোটি ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। দেশের মুদ্রায় পরিশোধের এই পরিমাণ ৫৪ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা। যা আগের অর্থবছরে (২০২৪-২৫) ছিল ৪০৯ কোটি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিদেশি ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ৪০ কোটি ডলার।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) এ-সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই উপাত্ত জানা গেছে। গতকাল রোববার সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিদেশি ঋণের মোট পরিশোধের মধ্যে মূল ঋণ ছিল ২৯৫ কোটি ডলার। বাকি ১৫৪ কোটি ডলার ছিল ঋণের সুদ। আগের অর্থবছর মূল ঋণ পরিশোধ করা হয়েছিল ২৬০ কোটি ডলার। সুদ বাবদ পরিশোধ করা হয় ১৪৯ কোটি ডলার।

প্রতিবেদন বলছে, আগে নেওয়া ঋণের সুদাসল বাড়লেও নতুন ঋণের অর্থ ছাড় ও প্রতিশ্রুতি অনেক কমে গেছে। গত অর্থবছরে দেশে বৈদেশিক ঋণের অর্থ ছাড়ের পরিমাণ কমে ৮০৭ কোটি ডলারে নেমেছে। আগের অর্থবছরে বৈদেশিক অর্থ ছাড়ের পরিমাণ ছিল ৮৫৬ কোটি ডলার। অর্থাৎ, অর্থ ছাড় কমেছে ৪৯ কোটি ডলার। অন্যদিকে বৈদেশিক ঋণ প্রতিশ্রুতি কমে ৫২৪ কোটি ডলারে নেমেছে। আগের অর্থবছরে প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ৮৩২ কোটি ডলার। অর্থাৎ, বৈদেশিক ঋণ প্রতিশ্রুতি কমেছে ৩০৮ কোটি ডলার।

ঋণ পরিশোধ বেশি অথচ অর্থ ছাড় ও নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি কম আসার কারণ জানতে চাইলে ইআরডির সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, বিদেশি ঋণ ব্যবহার করা হয় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি–এডিপির বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে। গত অর্থবছর এডিপি বাস্তবায়ন পরিস্থিতি খুব খারাপ ছিল। সংগত কারণেই উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণ ছাড়ের পরিমাণও কমেছে। একই কারণে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি কম। ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছেন।

এডিপি বাস্তবায়নে পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল মাত্র ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশ। সংশোধিত এডিপির আকার ছিল দুই লাখ আট হাজার ৯৩৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। অথচ অর্থবছর শেষে মোট ব্যয় হয়েছে মাত্র এক লাখ ৪১ হাজার ৭২ কোটি টাকা। অর্থাৎ বরাদ্দের ৬৮ হাজার কোটি টাকাই অব্যবহৃত থেকে গেছে। পুরোনো উপাত্ত বলছে, গত দুই দশকের এডিপি বাস্তবায়ন এতটা বাজে হয়নি। ২০০৪-০৫ অর্থবছর থেকে ২০২৩-২৪ পর্যন্ত কোনো অর্থবছরেই এডিপি বাস্তবায়ন ৮০ শতাংশের কম ছিল না।

ইআরডির প্রতিবেদন বলছে, গত অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি ঋণ ছাড় করেছে বিশ্বব্যাংক। এ পরিমাণ প্রায় ২০৭ কোটি ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। পরিমাণে যা প্রায় ১৯১ কোটি ডলার। দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে রাশিয়া ১০৪ কোটি ডলার, জাপান ৭৯ কোটি ডলার। এ ছাড়া এশীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাংক–এআইআইবি ৬৯ কোটি ডলার, চীন ৫৩ কোটি ডলার, ভারত ২৭ কোটি ডলার ঋণ ছাড় করেছে।

অন্যদিকে গত অর্থবছর নতুন প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে দেখা যায়, এডিবির কাছ থেকে পাওয়া গেছে ২৬৮ কোটি ডলারের ঋণদানের প্রতিশ্রুতি। বিশ্বব্যাংক দিয়েছে ৮২ কোটি ডলার। অন্যদের মধ্যে ২৫ কোটি ডলার দিয়েছে এআইআইবি, ৩১ কোটি ডলার দিয়েছে জাপান আর ২৭ কোটি ডলার দিয়েছে চীন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

বিদেশি ঋণের সুদাসল পরিশোধে গেছে ৪৪৯ কোটি ডলার

আপডেট সময় ১২:২০:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল বাবদ ৪৪৯ কোটি ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। দেশের মুদ্রায় পরিশোধের এই পরিমাণ ৫৪ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা। যা আগের অর্থবছরে (২০২৪-২৫) ছিল ৪০৯ কোটি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিদেশি ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ৪০ কোটি ডলার।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) এ-সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই উপাত্ত জানা গেছে। গতকাল রোববার সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিদেশি ঋণের মোট পরিশোধের মধ্যে মূল ঋণ ছিল ২৯৫ কোটি ডলার। বাকি ১৫৪ কোটি ডলার ছিল ঋণের সুদ। আগের অর্থবছর মূল ঋণ পরিশোধ করা হয়েছিল ২৬০ কোটি ডলার। সুদ বাবদ পরিশোধ করা হয় ১৪৯ কোটি ডলার।

প্রতিবেদন বলছে, আগে নেওয়া ঋণের সুদাসল বাড়লেও নতুন ঋণের অর্থ ছাড় ও প্রতিশ্রুতি অনেক কমে গেছে। গত অর্থবছরে দেশে বৈদেশিক ঋণের অর্থ ছাড়ের পরিমাণ কমে ৮০৭ কোটি ডলারে নেমেছে। আগের অর্থবছরে বৈদেশিক অর্থ ছাড়ের পরিমাণ ছিল ৮৫৬ কোটি ডলার। অর্থাৎ, অর্থ ছাড় কমেছে ৪৯ কোটি ডলার। অন্যদিকে বৈদেশিক ঋণ প্রতিশ্রুতি কমে ৫২৪ কোটি ডলারে নেমেছে। আগের অর্থবছরে প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ৮৩২ কোটি ডলার। অর্থাৎ, বৈদেশিক ঋণ প্রতিশ্রুতি কমেছে ৩০৮ কোটি ডলার।

ঋণ পরিশোধ বেশি অথচ অর্থ ছাড় ও নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি কম আসার কারণ জানতে চাইলে ইআরডির সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, বিদেশি ঋণ ব্যবহার করা হয় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি–এডিপির বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে। গত অর্থবছর এডিপি বাস্তবায়ন পরিস্থিতি খুব খারাপ ছিল। সংগত কারণেই উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণ ছাড়ের পরিমাণও কমেছে। একই কারণে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি কম। ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছেন।

এডিপি বাস্তবায়নে পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল মাত্র ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশ। সংশোধিত এডিপির আকার ছিল দুই লাখ আট হাজার ৯৩৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। অথচ অর্থবছর শেষে মোট ব্যয় হয়েছে মাত্র এক লাখ ৪১ হাজার ৭২ কোটি টাকা। অর্থাৎ বরাদ্দের ৬৮ হাজার কোটি টাকাই অব্যবহৃত থেকে গেছে। পুরোনো উপাত্ত বলছে, গত দুই দশকের এডিপি বাস্তবায়ন এতটা বাজে হয়নি। ২০০৪-০৫ অর্থবছর থেকে ২০২৩-২৪ পর্যন্ত কোনো অর্থবছরেই এডিপি বাস্তবায়ন ৮০ শতাংশের কম ছিল না।

ইআরডির প্রতিবেদন বলছে, গত অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি ঋণ ছাড় করেছে বিশ্বব্যাংক। এ পরিমাণ প্রায় ২০৭ কোটি ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। পরিমাণে যা প্রায় ১৯১ কোটি ডলার। দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে রাশিয়া ১০৪ কোটি ডলার, জাপান ৭৯ কোটি ডলার। এ ছাড়া এশীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাংক–এআইআইবি ৬৯ কোটি ডলার, চীন ৫৩ কোটি ডলার, ভারত ২৭ কোটি ডলার ঋণ ছাড় করেছে।

অন্যদিকে গত অর্থবছর নতুন প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে দেখা যায়, এডিবির কাছ থেকে পাওয়া গেছে ২৬৮ কোটি ডলারের ঋণদানের প্রতিশ্রুতি। বিশ্বব্যাংক দিয়েছে ৮২ কোটি ডলার। অন্যদের মধ্যে ২৫ কোটি ডলার দিয়েছে এআইআইবি, ৩১ কোটি ডলার দিয়েছে জাপান আর ২৭ কোটি ডলার দিয়েছে চীন।