ঢাকা ০৪:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

কেরালায় ব্যতিক্রমী বিয়ে, বর-কনে-পুরোহিত থেকে সহযোগী সবাই যমজ

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

ভারতের কেরালা রাজ্যের কোট্টায়াম জেলার চঙ্গনাচেরির একটি গির্জায় অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমী বিয়ে। এই বিয়ের বিশেষত্ব ছিল, বিয়ের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন যমজ। যমজ বর, যমজ কনে, যমজ পুরোহিত এবং যমজ সহকারীদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হওয়া এই আয়োজন ইতোমধ্যেই সবার দৃষ্টি কেড়েছে।

চঙ্গনাচেরির মহানগর গির্জায় অনুষ্ঠিত এই বিয়েতে যমজ ভাই অখিল কে. থমাস বিয়ে করেন যমজ বোন ম্যাগি মেরি থমাসকে। একই মঞ্চে তার যমজ ভাই নিখিল কে. থমাস বিয়ে করেন ম্যাগির যমজ বোন মারিয়া মেরি থমাসকে। একসঙ্গে দুই যমজ ভাই ও দুই যমজ বোনের বিয়ের এই দৃশ্য উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে।

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা পরিচালনা করেন যমজ পুরোহিত আন্তো পেঝুমকাট্টিল ও আজো পেঝুমকাট্টিল। তাদের সহায়তা করেন যমজ সহকারী জেরন জেমস ও জোহন জেমস। ফলে বিয়ের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপেই ছিল যমজদের উপস্থিতি।

বর অখিল ও নিখিল চঙ্গনাচেরির ভেট্টুপারাম্বিল এলাকার কুঞ্জুমন থমাস ও জোমলের যমজ ছেলে। আর কনে ম্যাগি ও মারিয়া পাথানামথিট্টা জেলার কুলাথুর এলাকার টোমিচান ও মেরিকুট্টির যমজ মেয়ে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, এটি কেবল একটি বিয়ে নয়, বহু বছরের একটি স্বপ্ন পূরণের দিন। ছোটবেলা থেকেই দুই বোনের ইচ্ছা ছিল, তাদের বিয়ের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় যেন যমজ মানুষ থাকেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য তারা অনেক খোঁজাখুঁজির পর যমজ পুরোহিতের সন্ধান পান। আমন্ত্রণ জানালে পুরোহিতরাও আনন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সম্মতি দেন।

দুই বোন বলেন, ছোটবেলা থেকেই এমন একটি বিয়ের স্বপ্ন দেখতেন তারা। তাদের বাবা-মাও সেই ইচ্ছাকে সমর্থন করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় তারা অত্যন্ত আনন্দিত।

যমজ পুরোহিতরাও এই বিয়েকে জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা বলে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, যমজদের বিয়ে পড়ানোর সুযোগ খুবই বিরল। এমন অনুষ্ঠান মানুষের মনে আজীবন স্মৃতি হয়ে থাকে এবং পারিবারিক বন্ধন ও একসঙ্গে পথচলার সৌন্দর্যকে আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করায়।

পেশাগত জীবনেও চারজনের পথ ভিন্ন। দুই ভাই সমুদ্রগামী বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত, আর দুই বোন তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করেন। আলাদা কর্মজীবন থাকলেও জীবনের নতুন অধ্যায় তারা শুরু করলেন একই দিনে, একই মঞ্চে এবং এক অনন্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

কেরালায় ব্যতিক্রমী বিয়ে, বর-কনে-পুরোহিত থেকে সহযোগী সবাই যমজ

আপডেট সময় ০৯:২৫:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

ভারতের কেরালা রাজ্যের কোট্টায়াম জেলার চঙ্গনাচেরির একটি গির্জায় অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমী বিয়ে। এই বিয়ের বিশেষত্ব ছিল, বিয়ের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন যমজ। যমজ বর, যমজ কনে, যমজ পুরোহিত এবং যমজ সহকারীদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হওয়া এই আয়োজন ইতোমধ্যেই সবার দৃষ্টি কেড়েছে।

চঙ্গনাচেরির মহানগর গির্জায় অনুষ্ঠিত এই বিয়েতে যমজ ভাই অখিল কে. থমাস বিয়ে করেন যমজ বোন ম্যাগি মেরি থমাসকে। একই মঞ্চে তার যমজ ভাই নিখিল কে. থমাস বিয়ে করেন ম্যাগির যমজ বোন মারিয়া মেরি থমাসকে। একসঙ্গে দুই যমজ ভাই ও দুই যমজ বোনের বিয়ের এই দৃশ্য উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে।

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা পরিচালনা করেন যমজ পুরোহিত আন্তো পেঝুমকাট্টিল ও আজো পেঝুমকাট্টিল। তাদের সহায়তা করেন যমজ সহকারী জেরন জেমস ও জোহন জেমস। ফলে বিয়ের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপেই ছিল যমজদের উপস্থিতি।

বর অখিল ও নিখিল চঙ্গনাচেরির ভেট্টুপারাম্বিল এলাকার কুঞ্জুমন থমাস ও জোমলের যমজ ছেলে। আর কনে ম্যাগি ও মারিয়া পাথানামথিট্টা জেলার কুলাথুর এলাকার টোমিচান ও মেরিকুট্টির যমজ মেয়ে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, এটি কেবল একটি বিয়ে নয়, বহু বছরের একটি স্বপ্ন পূরণের দিন। ছোটবেলা থেকেই দুই বোনের ইচ্ছা ছিল, তাদের বিয়ের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় যেন যমজ মানুষ থাকেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য তারা অনেক খোঁজাখুঁজির পর যমজ পুরোহিতের সন্ধান পান। আমন্ত্রণ জানালে পুরোহিতরাও আনন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সম্মতি দেন।

দুই বোন বলেন, ছোটবেলা থেকেই এমন একটি বিয়ের স্বপ্ন দেখতেন তারা। তাদের বাবা-মাও সেই ইচ্ছাকে সমর্থন করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় তারা অত্যন্ত আনন্দিত।

যমজ পুরোহিতরাও এই বিয়েকে জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা বলে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, যমজদের বিয়ে পড়ানোর সুযোগ খুবই বিরল। এমন অনুষ্ঠান মানুষের মনে আজীবন স্মৃতি হয়ে থাকে এবং পারিবারিক বন্ধন ও একসঙ্গে পথচলার সৌন্দর্যকে আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করায়।

পেশাগত জীবনেও চারজনের পথ ভিন্ন। দুই ভাই সমুদ্রগামী বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত, আর দুই বোন তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করেন। আলাদা কর্মজীবন থাকলেও জীবনের নতুন অধ্যায় তারা শুরু করলেন একই দিনে, একই মঞ্চে এবং এক অনন্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে।