ঢাকা ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রশাসনে নিজেদের লোক নিয়োগ বহির্বিশ্বেও প্রচলিত: রিজভী শহীদুল্লাহ হলে ‘সমকামী কর্মকাণ্ডের’ তদন্তকে কেন্দ্র করে শিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষ পাকিস্তানে ‘শান্তি সমাবেশ’ চলাকালে বিস্ফোরণ, নিহত ১৩ ৭২-এর সংবিধান শুরু থেকেই দেশকে বিভাজিত করে রেখেছে: নাহিদ ইসলাম ‘জনগণকে মালিক মনে করে সরকার কাজ করছে’ ‘নিজস্ব মব না থাকলে মাইর একটাও মাটিতে পড়বে না’ মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানি করতে চায় বাংলাদেশ জামায়াতের পরামর্শে রাজনৈতিক পরিবেশ নষ্ট করছে এনসিপি : রাশেদ খান জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাবা-দাদার বয়সী নেতাদের প্রতারণা বুঝতে পারিনি: আসিফ মাহমুদ

কেরালায় ব্যতিক্রমী বিয়ে, বর-কনে-পুরোহিত থেকে সহযোগী সবাই যমজ

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

ভারতের কেরালা রাজ্যের কোট্টায়াম জেলার চঙ্গনাচেরির একটি গির্জায় অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমী বিয়ে। এই বিয়ের বিশেষত্ব ছিল, বিয়ের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন যমজ। যমজ বর, যমজ কনে, যমজ পুরোহিত এবং যমজ সহকারীদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হওয়া এই আয়োজন ইতোমধ্যেই সবার দৃষ্টি কেড়েছে।

চঙ্গনাচেরির মহানগর গির্জায় অনুষ্ঠিত এই বিয়েতে যমজ ভাই অখিল কে. থমাস বিয়ে করেন যমজ বোন ম্যাগি মেরি থমাসকে। একই মঞ্চে তার যমজ ভাই নিখিল কে. থমাস বিয়ে করেন ম্যাগির যমজ বোন মারিয়া মেরি থমাসকে। একসঙ্গে দুই যমজ ভাই ও দুই যমজ বোনের বিয়ের এই দৃশ্য উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে।

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা পরিচালনা করেন যমজ পুরোহিত আন্তো পেঝুমকাট্টিল ও আজো পেঝুমকাট্টিল। তাদের সহায়তা করেন যমজ সহকারী জেরন জেমস ও জোহন জেমস। ফলে বিয়ের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপেই ছিল যমজদের উপস্থিতি।

বর অখিল ও নিখিল চঙ্গনাচেরির ভেট্টুপারাম্বিল এলাকার কুঞ্জুমন থমাস ও জোমলের যমজ ছেলে। আর কনে ম্যাগি ও মারিয়া পাথানামথিট্টা জেলার কুলাথুর এলাকার টোমিচান ও মেরিকুট্টির যমজ মেয়ে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, এটি কেবল একটি বিয়ে নয়, বহু বছরের একটি স্বপ্ন পূরণের দিন। ছোটবেলা থেকেই দুই বোনের ইচ্ছা ছিল, তাদের বিয়ের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় যেন যমজ মানুষ থাকেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য তারা অনেক খোঁজাখুঁজির পর যমজ পুরোহিতের সন্ধান পান। আমন্ত্রণ জানালে পুরোহিতরাও আনন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সম্মতি দেন।

দুই বোন বলেন, ছোটবেলা থেকেই এমন একটি বিয়ের স্বপ্ন দেখতেন তারা। তাদের বাবা-মাও সেই ইচ্ছাকে সমর্থন করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় তারা অত্যন্ত আনন্দিত।

যমজ পুরোহিতরাও এই বিয়েকে জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা বলে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, যমজদের বিয়ে পড়ানোর সুযোগ খুবই বিরল। এমন অনুষ্ঠান মানুষের মনে আজীবন স্মৃতি হয়ে থাকে এবং পারিবারিক বন্ধন ও একসঙ্গে পথচলার সৌন্দর্যকে আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করায়।

পেশাগত জীবনেও চারজনের পথ ভিন্ন। দুই ভাই সমুদ্রগামী বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত, আর দুই বোন তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করেন। আলাদা কর্মজীবন থাকলেও জীবনের নতুন অধ্যায় তারা শুরু করলেন একই দিনে, একই মঞ্চে এবং এক অনন্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রশাসনে নিজেদের লোক নিয়োগ বহির্বিশ্বেও প্রচলিত: রিজভী

কেরালায় ব্যতিক্রমী বিয়ে, বর-কনে-পুরোহিত থেকে সহযোগী সবাই যমজ

আপডেট সময় ০৯:২৫:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

ভারতের কেরালা রাজ্যের কোট্টায়াম জেলার চঙ্গনাচেরির একটি গির্জায় অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমী বিয়ে। এই বিয়ের বিশেষত্ব ছিল, বিয়ের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন যমজ। যমজ বর, যমজ কনে, যমজ পুরোহিত এবং যমজ সহকারীদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হওয়া এই আয়োজন ইতোমধ্যেই সবার দৃষ্টি কেড়েছে।

চঙ্গনাচেরির মহানগর গির্জায় অনুষ্ঠিত এই বিয়েতে যমজ ভাই অখিল কে. থমাস বিয়ে করেন যমজ বোন ম্যাগি মেরি থমাসকে। একই মঞ্চে তার যমজ ভাই নিখিল কে. থমাস বিয়ে করেন ম্যাগির যমজ বোন মারিয়া মেরি থমাসকে। একসঙ্গে দুই যমজ ভাই ও দুই যমজ বোনের বিয়ের এই দৃশ্য উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে।

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা পরিচালনা করেন যমজ পুরোহিত আন্তো পেঝুমকাট্টিল ও আজো পেঝুমকাট্টিল। তাদের সহায়তা করেন যমজ সহকারী জেরন জেমস ও জোহন জেমস। ফলে বিয়ের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপেই ছিল যমজদের উপস্থিতি।

বর অখিল ও নিখিল চঙ্গনাচেরির ভেট্টুপারাম্বিল এলাকার কুঞ্জুমন থমাস ও জোমলের যমজ ছেলে। আর কনে ম্যাগি ও মারিয়া পাথানামথিট্টা জেলার কুলাথুর এলাকার টোমিচান ও মেরিকুট্টির যমজ মেয়ে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, এটি কেবল একটি বিয়ে নয়, বহু বছরের একটি স্বপ্ন পূরণের দিন। ছোটবেলা থেকেই দুই বোনের ইচ্ছা ছিল, তাদের বিয়ের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় যেন যমজ মানুষ থাকেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য তারা অনেক খোঁজাখুঁজির পর যমজ পুরোহিতের সন্ধান পান। আমন্ত্রণ জানালে পুরোহিতরাও আনন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সম্মতি দেন।

দুই বোন বলেন, ছোটবেলা থেকেই এমন একটি বিয়ের স্বপ্ন দেখতেন তারা। তাদের বাবা-মাও সেই ইচ্ছাকে সমর্থন করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় তারা অত্যন্ত আনন্দিত।

যমজ পুরোহিতরাও এই বিয়েকে জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা বলে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, যমজদের বিয়ে পড়ানোর সুযোগ খুবই বিরল। এমন অনুষ্ঠান মানুষের মনে আজীবন স্মৃতি হয়ে থাকে এবং পারিবারিক বন্ধন ও একসঙ্গে পথচলার সৌন্দর্যকে আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করায়।

পেশাগত জীবনেও চারজনের পথ ভিন্ন। দুই ভাই সমুদ্রগামী বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত, আর দুই বোন তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করেন। আলাদা কর্মজীবন থাকলেও জীবনের নতুন অধ্যায় তারা শুরু করলেন একই দিনে, একই মঞ্চে এবং এক অনন্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে।