ঢাকা ১০:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আ.লীগ নেতার ছেলের লাঠির আঘাতে বিএনপি নেতার মৃত্যু গালাগালি ও হামলা দুটোই অতীতমুখী রাজনীতি: মঞ্জু মধ্যস্থতার মাধ্যমে মামলাজট কমিয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব: আইনমন্ত্রী সমন্বিত প্রচেষ্টায় ৪-৫ বছরেই অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী মোবাইল নয়, শিশুদের ফিরতে হবে খেলার মাঠে : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী স্ত্রীর জন্য কবর খুঁড়তে গিয়ে পাওয়া গেল ২৪ বছর আগে স্বামীর অক্ষত লাশ জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি করলে বাংলাদেশ কাউকে ছাড় দেবে না: সাদিক কায়েম গণতন্ত্রের পরিবর্তে ফ্যাসিবাদের পথে এগিয়েছে আওয়ামী লীগ : ইশরাক হোসেন মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে পাওয়া বস্তু বোমা নয়: ডিএমপি গণভোটের রায় বাস্তবায়নে চলমান আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে: মামুনুল হক

মুমিনের যে তিন আমলে মহান আল্লাহ হাসেন

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

একজন মুমিনের জীবনের সর্বোচ্চ সফলতা কেবল দুনিয়ার প্রাচুর্যে নয়; বরং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মধ্যেই নিহিত। কারণ আল্লাহ যার প্রতি সন্তুষ্ট হন, তার জন্যই রয়েছে দুনিয়ার কল্যাণ, কবরের শান্তি এবং আখিরাতের চিরস্থায়ী সফলতা। তাই একজন সচেতন মুসলমান সবসময় এমন আমলের সন্ধান করেন, যা তাকে আল্লাহর নৈকট্য ও ভালোবাসার দিকে নিয়ে যায়।

কুরআন ও সহিহ সুন্নাহয় এমন বহু আমলের কথা এসেছে, যেগুলো আল্লাহর সন্তুষ্টির কারণ। আবার কয়েকটি সহিহ হাদিসে এমনও বর্ণিত হয়েছে যে, নির্দিষ্ট কিছু আমল দেখে মহান আল্লাহ তার শান ও মর্যাদার উপযোগীভাবে হাসেন। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা হলো— আল্লাহর যেসব গুণ কুরআন ও সহিহ হাদিসে এসেছে, সেগুলো আমরা বিনা বিকৃতিতে, বিনা অস্বীকারে এবং কোনো উপমা বা ধরন নির্ধারণ না করে বিশ্বাস করি। আল্লাহর হাসি তার সৃষ্টির হাসির মতো নয়; এর প্রকৃত ধরন একমাত্র তিনিই জানেন।

আসুন, সহিহ হাদিসে বর্ণিত এমন তিনটি সৌভাগ্যপূর্ণ আমল সম্পর্কে জেনে নিই, যেগুলো মহান আল্লাহর বিশেষ সন্তুষ্টি ও হাসির কারণ—

১. মেহমানকে নিজের চেয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া:

ইসলাম আত্মত্যাগ, উদারতা ও অতিথিপরায়ণতাকে অত্যন্ত মর্যাদা দিয়েছে। একজন ক্ষুধার্ত মানুষকে নিজের প্রয়োজনের ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় আমল।

একবার এক ক্ষুধার্ত ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এলে তিনি তাকে এক আনসারি সাহাবির ঘরে পাঠান। কিন্তু তাদের ঘরে খাবার ছিল খুবই সামান্য। তবুও স্বামী-স্ত্রী নিজেদের অংশটুকুও মেহমানের জন্য রেখে দেন। তারা বাতি নিভিয়ে এমনভাবে বসে থাকেন যেন সবাই একসঙ্গে খাচ্ছেন। অথচ তারা নিজেরা না খেয়েই রাত কাটান।

পরদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—

عَجِبَ اللّٰهُ أَوْ ضَحِكَ مِنْ صَنِيعِكُمَا بِضَيْفِكُمَا اللَّيْلَةَ

‘গত রাতে তোমরা তোমাদের মেহমানের সঙ্গে যে আচরণ করেছ, তা দেখে আল্লাহ বিস্মিত হয়েছেন (অথবা তার শান অনুযায়ী হেসেছেন)।’ (বুখারি ৩৭৯৮)

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই আল্লাহ তাআলা আনসারদের প্রশংসা করে বলেন—

وَيُؤْثِرُونَ عَلَىٰ أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ

‘তারা নিজেদের অভাব থাকা সত্ত্বেও অন্যদের নিজেদের ওপর অগ্রাধিকার দেয়।’ (সুরা আল-হাশর: আয়াত ৯)

এই ঘটনা আমাদের শেখায়, নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ ও অতিথির সম্মান আল্লাহর কাছে কতটা প্রিয়।

২. আরামের বিছানা ছেড়ে তাহাজ্জুদের ইবাদতে দাঁড়ানো:

রাতের গভীর নীরবতায় যখন অধিকাংশ মানুষ ঘুমে মগ্ন থাকে, তখন যে বান্দা নিজের আরাম ত্যাগ করে একান্তে আল্লাহর সামনে দাঁড়ায়, সে আল্লাহর বিশেষ প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

ثَلَاثَةٌ يَضْحَكُ اللّٰهُ إِلَيْهِمْ… وَرَجُلٌ قَامَ مِنْ فِرَاشِهِ وَمِنْ بَيْنِ أَهْلِهِ وَحِبِّهِ إِلَىٰ صَلَاتِهِ

‘তিন ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ হাসেন… তাদের একজন সেই ব্যক্তি, যে নিজের বিছানা, পরিবার ও প্রিয়জনের সান্নিধ্য ছেড়ে রাতের ইবাদতের জন্য দাঁড়িয়ে যায়।’ (মুসনাদে আহমাদ ১৬০৩২)

কুরআনেও তাহাজ্জুদ আদায়কারীদের প্রশংসা করে আল্লাহ বলেন—

تَتَجَافَىٰ جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا

‘তাদের পার্শ্ব শয্যা থেকে পৃথক থাকে। তারা ভয় ও আশা নিয়ে তাদের রবকে ডাকে।’ (সুরা আস-সাজদাহ: আয়াত ১৬)

এই ইবাদত মানুষের ঈমানকে দৃঢ় করে, অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে এবং আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ককে গভীর করে তোলে।

৩. কঠিন পরিস্থিতিতেও সত্যের পথে অটল থাকা:

ইসলাম সাহস, ধৈর্য এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসাকে অত্যন্ত মূল্যায়ন করেছে। বিশেষ করে সত্য ও ন্যায়ের পথে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েও যে ব্যক্তি পিছু হটে না, সে আল্লাহর নিকট বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

ثَلَاثَةٌ يَضْحَكُ اللّٰهُ إِلَيْهِمْ… وَرَجُلٌ لَقِيَ الْعَدُوَّ فَثَبَتَ حَتَّى قُتِلَ أَوْ فَتَحَ اللّٰهُ عَلَيْهِ

‘তিন ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ হাসেন… তাদের একজন সেই ব্যক্তি, যে শত্রুর মুখোমুখি হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে দৃঢ়ভাবে অটল থাকে; অবশেষে সে শহীদ হয় অথবা আল্লাহ তাকে বিজয় দান করেন।’ (ইবনে হিব্বান ২৫৫৯)

এই হাদিস কেবল যুদ্ধক্ষেত্রের শিক্ষা নয়; বরং জীবনের প্রতিটি পরীক্ষায় সত্য, ন্যায় ও ঈমানের ওপর অবিচল থাকারও অনুপ্রেরণা দেয়।

কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اصْبِرُوا وَصَابِرُوا وَرَابِطُوا وَاتَّقُوا اللّٰهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, ধৈর্যে অটল থাকো, প্রস্তুত থাকো এবং আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ২০০)

আমাদের করণীয়:

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ শুধু বড় বড় ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অনেক সময় একটি আন্তরিক আত্মত্যাগ, একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, গোপনে তাহাজ্জুদের কয়েক রাকাত নামাজ কিংবা সত্যের পথে অবিচল থাকার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি।

তাই আমাদের উচিত—

#অতিথি ও অভাবগ্রস্ত মানুষের প্রতি উদার হওয়া।
#নিয়মিত তাহাজ্জুদের অভ্যাস গড়ে তোলা।
#কঠিন পরিস্থিতিতেও সত্য ও ন্যায়ের ওপর অবিচল থাকা।
#সকল আমল একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করা।
একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো মহান আল্লাহর ভালোবাসা ও সন্তুষ্টি লাভ করা। কুরআন ও সহিহ সুন্নাহ আমাদের শেখায়, আত্মত্যাগ, গোপন ইবাদত এবং সত্যের পথে দৃঢ় থাকার মতো আমলগুলো আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়। এমনকি সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, এসব আমল দেখে মহান আল্লাহ তার মহিমা ও মর্যাদার উপযোগীভাবে হাসেন।

আজ আমরা দুনিয়ার মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করি; অথচ প্রকৃত সৌভাগ্য হলো এমন জীবন গড়ে তোলা, যার প্রতি আসমানের অধিপতি সন্তুষ্ট হন। তাই আসুন, আমরা আত্মপ্রচার নয়, আন্তরিকতা; লোকদেখানো নয়, একনিষ্ঠ ইবাদত; এবং স্বার্থপরতা নয়, আত্মত্যাগকে জীবনের অংশ করে নিই। আল্লাহর সন্তুষ্টিই হোক আমাদের প্রতিটি আমলের একমাত্র লক্ষ্য।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এমন আমল করার তৌফিক দান করুন, যা তার সন্তুষ্টি ও রহমতের কারণ হয় এবং যার মাধ্যমে আমরা তার নৈকট্য লাভ করতে পারি। আমিন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আ.লীগ নেতার ছেলের লাঠির আঘাতে বিএনপি নেতার মৃত্যু

মুমিনের যে তিন আমলে মহান আল্লাহ হাসেন

আপডেট সময় ০৭:২০:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

একজন মুমিনের জীবনের সর্বোচ্চ সফলতা কেবল দুনিয়ার প্রাচুর্যে নয়; বরং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মধ্যেই নিহিত। কারণ আল্লাহ যার প্রতি সন্তুষ্ট হন, তার জন্যই রয়েছে দুনিয়ার কল্যাণ, কবরের শান্তি এবং আখিরাতের চিরস্থায়ী সফলতা। তাই একজন সচেতন মুসলমান সবসময় এমন আমলের সন্ধান করেন, যা তাকে আল্লাহর নৈকট্য ও ভালোবাসার দিকে নিয়ে যায়।

কুরআন ও সহিহ সুন্নাহয় এমন বহু আমলের কথা এসেছে, যেগুলো আল্লাহর সন্তুষ্টির কারণ। আবার কয়েকটি সহিহ হাদিসে এমনও বর্ণিত হয়েছে যে, নির্দিষ্ট কিছু আমল দেখে মহান আল্লাহ তার শান ও মর্যাদার উপযোগীভাবে হাসেন। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা হলো— আল্লাহর যেসব গুণ কুরআন ও সহিহ হাদিসে এসেছে, সেগুলো আমরা বিনা বিকৃতিতে, বিনা অস্বীকারে এবং কোনো উপমা বা ধরন নির্ধারণ না করে বিশ্বাস করি। আল্লাহর হাসি তার সৃষ্টির হাসির মতো নয়; এর প্রকৃত ধরন একমাত্র তিনিই জানেন।

আসুন, সহিহ হাদিসে বর্ণিত এমন তিনটি সৌভাগ্যপূর্ণ আমল সম্পর্কে জেনে নিই, যেগুলো মহান আল্লাহর বিশেষ সন্তুষ্টি ও হাসির কারণ—

১. মেহমানকে নিজের চেয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া:

ইসলাম আত্মত্যাগ, উদারতা ও অতিথিপরায়ণতাকে অত্যন্ত মর্যাদা দিয়েছে। একজন ক্ষুধার্ত মানুষকে নিজের প্রয়োজনের ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় আমল।

একবার এক ক্ষুধার্ত ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এলে তিনি তাকে এক আনসারি সাহাবির ঘরে পাঠান। কিন্তু তাদের ঘরে খাবার ছিল খুবই সামান্য। তবুও স্বামী-স্ত্রী নিজেদের অংশটুকুও মেহমানের জন্য রেখে দেন। তারা বাতি নিভিয়ে এমনভাবে বসে থাকেন যেন সবাই একসঙ্গে খাচ্ছেন। অথচ তারা নিজেরা না খেয়েই রাত কাটান।

পরদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—

عَجِبَ اللّٰهُ أَوْ ضَحِكَ مِنْ صَنِيعِكُمَا بِضَيْفِكُمَا اللَّيْلَةَ

‘গত রাতে তোমরা তোমাদের মেহমানের সঙ্গে যে আচরণ করেছ, তা দেখে আল্লাহ বিস্মিত হয়েছেন (অথবা তার শান অনুযায়ী হেসেছেন)।’ (বুখারি ৩৭৯৮)

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই আল্লাহ তাআলা আনসারদের প্রশংসা করে বলেন—

وَيُؤْثِرُونَ عَلَىٰ أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ

‘তারা নিজেদের অভাব থাকা সত্ত্বেও অন্যদের নিজেদের ওপর অগ্রাধিকার দেয়।’ (সুরা আল-হাশর: আয়াত ৯)

এই ঘটনা আমাদের শেখায়, নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ ও অতিথির সম্মান আল্লাহর কাছে কতটা প্রিয়।

২. আরামের বিছানা ছেড়ে তাহাজ্জুদের ইবাদতে দাঁড়ানো:

রাতের গভীর নীরবতায় যখন অধিকাংশ মানুষ ঘুমে মগ্ন থাকে, তখন যে বান্দা নিজের আরাম ত্যাগ করে একান্তে আল্লাহর সামনে দাঁড়ায়, সে আল্লাহর বিশেষ প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

ثَلَاثَةٌ يَضْحَكُ اللّٰهُ إِلَيْهِمْ… وَرَجُلٌ قَامَ مِنْ فِرَاشِهِ وَمِنْ بَيْنِ أَهْلِهِ وَحِبِّهِ إِلَىٰ صَلَاتِهِ

‘তিন ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ হাসেন… তাদের একজন সেই ব্যক্তি, যে নিজের বিছানা, পরিবার ও প্রিয়জনের সান্নিধ্য ছেড়ে রাতের ইবাদতের জন্য দাঁড়িয়ে যায়।’ (মুসনাদে আহমাদ ১৬০৩২)

কুরআনেও তাহাজ্জুদ আদায়কারীদের প্রশংসা করে আল্লাহ বলেন—

تَتَجَافَىٰ جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا

‘তাদের পার্শ্ব শয্যা থেকে পৃথক থাকে। তারা ভয় ও আশা নিয়ে তাদের রবকে ডাকে।’ (সুরা আস-সাজদাহ: আয়াত ১৬)

এই ইবাদত মানুষের ঈমানকে দৃঢ় করে, অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে এবং আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ককে গভীর করে তোলে।

৩. কঠিন পরিস্থিতিতেও সত্যের পথে অটল থাকা:

ইসলাম সাহস, ধৈর্য এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসাকে অত্যন্ত মূল্যায়ন করেছে। বিশেষ করে সত্য ও ন্যায়ের পথে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েও যে ব্যক্তি পিছু হটে না, সে আল্লাহর নিকট বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

ثَلَاثَةٌ يَضْحَكُ اللّٰهُ إِلَيْهِمْ… وَرَجُلٌ لَقِيَ الْعَدُوَّ فَثَبَتَ حَتَّى قُتِلَ أَوْ فَتَحَ اللّٰهُ عَلَيْهِ

‘তিন ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ হাসেন… তাদের একজন সেই ব্যক্তি, যে শত্রুর মুখোমুখি হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে দৃঢ়ভাবে অটল থাকে; অবশেষে সে শহীদ হয় অথবা আল্লাহ তাকে বিজয় দান করেন।’ (ইবনে হিব্বান ২৫৫৯)

এই হাদিস কেবল যুদ্ধক্ষেত্রের শিক্ষা নয়; বরং জীবনের প্রতিটি পরীক্ষায় সত্য, ন্যায় ও ঈমানের ওপর অবিচল থাকারও অনুপ্রেরণা দেয়।

কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اصْبِرُوا وَصَابِرُوا وَرَابِطُوا وَاتَّقُوا اللّٰهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, ধৈর্যে অটল থাকো, প্রস্তুত থাকো এবং আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ২০০)

আমাদের করণীয়:

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ শুধু বড় বড় ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অনেক সময় একটি আন্তরিক আত্মত্যাগ, একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, গোপনে তাহাজ্জুদের কয়েক রাকাত নামাজ কিংবা সত্যের পথে অবিচল থাকার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি।

তাই আমাদের উচিত—

#অতিথি ও অভাবগ্রস্ত মানুষের প্রতি উদার হওয়া।
#নিয়মিত তাহাজ্জুদের অভ্যাস গড়ে তোলা।
#কঠিন পরিস্থিতিতেও সত্য ও ন্যায়ের ওপর অবিচল থাকা।
#সকল আমল একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করা।
একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো মহান আল্লাহর ভালোবাসা ও সন্তুষ্টি লাভ করা। কুরআন ও সহিহ সুন্নাহ আমাদের শেখায়, আত্মত্যাগ, গোপন ইবাদত এবং সত্যের পথে দৃঢ় থাকার মতো আমলগুলো আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়। এমনকি সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, এসব আমল দেখে মহান আল্লাহ তার মহিমা ও মর্যাদার উপযোগীভাবে হাসেন।

আজ আমরা দুনিয়ার মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করি; অথচ প্রকৃত সৌভাগ্য হলো এমন জীবন গড়ে তোলা, যার প্রতি আসমানের অধিপতি সন্তুষ্ট হন। তাই আসুন, আমরা আত্মপ্রচার নয়, আন্তরিকতা; লোকদেখানো নয়, একনিষ্ঠ ইবাদত; এবং স্বার্থপরতা নয়, আত্মত্যাগকে জীবনের অংশ করে নিই। আল্লাহর সন্তুষ্টিই হোক আমাদের প্রতিটি আমলের একমাত্র লক্ষ্য।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এমন আমল করার তৌফিক দান করুন, যা তার সন্তুষ্টি ও রহমতের কারণ হয় এবং যার মাধ্যমে আমরা তার নৈকট্য লাভ করতে পারি। আমিন।