ঢাকা ০৩:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টেকনাফে রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি, নিখোঁজ ১৩ নতুন দায়িত্ব পেলেন ফজলুর রহমান জুলাই সনদের আলোকে সংস্কারগুলো এগিয়ে নেব: আইনমন্ত্রী গণভোটের রায় অস্বীকার করা মানে জনগণকে অপমান করা: জামায়াত আমির কেশম দ্বীপে হামলার ‘মূল্য দিতে হবে’ যুক্তরাষ্ট্রকে:গালিবাফের হুঁশিয়ারি ভারতে বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারবেন না শেখ হাসিনা: সংসদীয় কমিটিকে মোদি সরকার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী-সারজিসের বিরুদ্ধে মামলার আবেদনে আইফোন চুরির অভিযোগ শিল্প বাঁচাতে চাই সুষ্ঠু জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নতুন দায়িত্বে ৫ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-এমপি নেপালে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও কারফিউ জারি, প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের শান্তির বার্তা

নগদ থেকে সাড়ে ১৮ কোটি টাকার রাজস্ব পেল ডাক বিভাগ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নগদ ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে রাজস্ব ভাগাভাগির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ডাক বিভাগকে ১৮ কোটি ৫৬ লাখ ৮৬ হাজার ১৭৮ টাকার চেক হস্তান্তর করেছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ অর্থের পরিমাণ ৫ কোটি টাকা বা ৩৪ শতাংশেরও বেশি।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ডাক ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের (এমপি) কাছে চেকটি হস্তান্তর করেন বাংলাদেশ ব্যাংকনিযুক্ত নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ।

অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মিজ্ বিলকিস জাহান রিমি, ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলামসহ ডাক অধিদপ্তর ও নগদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চেক গ্রহণের পর মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘নগদ না থাকলে বাজারে একচেটিয়া (মনোপলি) পরিস্থিতি তৈরি হবে। সেই সুযোগ দেওয়া হবে না। নগদকে প্রতিযোগিতামূলক বাজার ধরে রাখতে হবে এবং আরও লাভজনক করতে হবে।’ নগদ নিয়ে কোনো গুজবে কান না দেওয়ার জন্য উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ, শিক্ষার্থীসহ সবার উন্নয়নে ডিজিটাল লেনদেনের বিকল্প নেই। জনগণ জানে নগদ সরকারি প্রতিষ্ঠান, তাই প্রয়োজনীয় কর্মকাণ্ড ও সেবার মাধ্যমে নগদকে আরও এগিয়ে নিতে হবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মিজ্ বিলকিস জাহান রিমি বলেন, ‘আজকের দিনটি আমাদের জন্য আনন্দের। নগদের মাধ্যমে সরকার একটি ভালো অঙ্কের রাজস্ব পেয়েছে। নগদের সঙ্গে আরও কীভাবে ডাক বিভাগ কাজ করতে পারে, সেটি নিয়ে আমরা কাজ করব।’

চেক হস্তান্তরের পর নগদ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি প্রতিষ্ঠান লাভ করতে পারে না—এ ধারণাকে আমরা ভুল প্রমাণ করেছি। ডাক বিভাগের নগদের মাধ্যমে আমরা দেখিয়েছি, সরকারি সেবাও লাভজনক হতে পারে।’

নগদের যাত্রার পর থেকে সরকারের রাজস্ব আয়ে প্রতিষ্ঠানটির অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে নগদ সরকারকে ৯৪৬ কোটি টাকা কর দিয়েছে। এর মধ্যে ডাক বিভাগকে দিয়েছে ৪৭ কোটি টাকা। নগদের কার্যক্রম শুরুর পর থেকে সরকার প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছে, যা একটি বড় অর্জন। তিনি বলেন, প্রান্তিক মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা নিয়ে নগদ ভবিষ্যতেও এগিয়ে যেতে চায়।

নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় আনতে নগদের অবদান উল্লেখযোগ্য। নতুন উদ্ভাবন, বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং গ্রাহকস্বার্থ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিবছর সরকারের রাজস্ব আয়েও নগদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

২০১৯ সালের মার্চে যাত্রা শুরুর পর থেকেই সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে নগদ। ডাক বিভাগের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রযুক্তিসহ প্রয়োজনীয় সব বিনিয়োগ করে নগদ লিমিটেড। সেবা পরিচালনায় ডাক বিভাগের কোনো আর্থিক বিনিয়োগ থাকে না। তবে চুক্তি অনুযায়ী, সেবা থেকে অর্জিত আয়ের ৫১ শতাংশ পায় বাংলাদেশ ডাক বিভাগ এবং বাকি ৪৯ শতাংশ পায় নগদ লিমিটেড।

নগদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানটি যাত্রার পর বিভিন্ন সময়ে ডাক বিভাগকে প্রায় সাড়ে ২৮ কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েছে। ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের ১৮ কোটি ৫৬ লাখ ৮৬ হাজার ১৭৮ টাকা যোগ হওয়ায় এ পর্যন্ত আয়ের ভাগ হিসেবে ডাক বিভাগ মোট ৪৭ কোটি টাকা পেয়েছে।

এর মধ্যে ২০২৬ সালের মার্চে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ১৮ মাসের আয়ের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ডাক বিভাগকে ১৩ কোটি ৮২ লাখ ৩০ হাজার ৪৭০ টাকার চেক দেওয়া হয়। এর আগে একই সময়ের আরেক দফা হিসাবে ৫ কোটি ৫১ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫৮ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়েছিল। এছাড়া ২০২২ সালে ৪ কোটি ৫০ লাখ ৪৬ হাজার ৬৪৭ টাকা এবং তার আগের কয়েক বছরে আরও প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা রাজস্ব দেওয়া হয়।

এর বাইরে চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ভ্যাট ও অন্যান্য কর বাবদ সরকারকে ৩১৩ কোটি টাকা দিয়েছে নগদ।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে নগদের মাধ্যমে মোট ৪ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে লেনদেনের পরিমাণ ২৫ দশমিক ৫০ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে গ্রাহকসংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। জুন শেষে নগদের সক্রিয় (অ্যাক্টিভ) গ্রাহক সংখ্যা ৩ কোটি ছাড়িয়েছে এবং নগদের অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা সোয়া ২ কোটির বেশি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নগদ থেকে সাড়ে ১৮ কোটি টাকার রাজস্ব পেল ডাক বিভাগ

আপডেট সময় ০১:১০:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নগদ ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে রাজস্ব ভাগাভাগির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ডাক বিভাগকে ১৮ কোটি ৫৬ লাখ ৮৬ হাজার ১৭৮ টাকার চেক হস্তান্তর করেছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ অর্থের পরিমাণ ৫ কোটি টাকা বা ৩৪ শতাংশেরও বেশি।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ডাক ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের (এমপি) কাছে চেকটি হস্তান্তর করেন বাংলাদেশ ব্যাংকনিযুক্ত নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ।

অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মিজ্ বিলকিস জাহান রিমি, ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলামসহ ডাক অধিদপ্তর ও নগদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চেক গ্রহণের পর মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘নগদ না থাকলে বাজারে একচেটিয়া (মনোপলি) পরিস্থিতি তৈরি হবে। সেই সুযোগ দেওয়া হবে না। নগদকে প্রতিযোগিতামূলক বাজার ধরে রাখতে হবে এবং আরও লাভজনক করতে হবে।’ নগদ নিয়ে কোনো গুজবে কান না দেওয়ার জন্য উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ, শিক্ষার্থীসহ সবার উন্নয়নে ডিজিটাল লেনদেনের বিকল্প নেই। জনগণ জানে নগদ সরকারি প্রতিষ্ঠান, তাই প্রয়োজনীয় কর্মকাণ্ড ও সেবার মাধ্যমে নগদকে আরও এগিয়ে নিতে হবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মিজ্ বিলকিস জাহান রিমি বলেন, ‘আজকের দিনটি আমাদের জন্য আনন্দের। নগদের মাধ্যমে সরকার একটি ভালো অঙ্কের রাজস্ব পেয়েছে। নগদের সঙ্গে আরও কীভাবে ডাক বিভাগ কাজ করতে পারে, সেটি নিয়ে আমরা কাজ করব।’

চেক হস্তান্তরের পর নগদ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি প্রতিষ্ঠান লাভ করতে পারে না—এ ধারণাকে আমরা ভুল প্রমাণ করেছি। ডাক বিভাগের নগদের মাধ্যমে আমরা দেখিয়েছি, সরকারি সেবাও লাভজনক হতে পারে।’

নগদের যাত্রার পর থেকে সরকারের রাজস্ব আয়ে প্রতিষ্ঠানটির অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে নগদ সরকারকে ৯৪৬ কোটি টাকা কর দিয়েছে। এর মধ্যে ডাক বিভাগকে দিয়েছে ৪৭ কোটি টাকা। নগদের কার্যক্রম শুরুর পর থেকে সরকার প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছে, যা একটি বড় অর্জন। তিনি বলেন, প্রান্তিক মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা নিয়ে নগদ ভবিষ্যতেও এগিয়ে যেতে চায়।

নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় আনতে নগদের অবদান উল্লেখযোগ্য। নতুন উদ্ভাবন, বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং গ্রাহকস্বার্থ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিবছর সরকারের রাজস্ব আয়েও নগদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

২০১৯ সালের মার্চে যাত্রা শুরুর পর থেকেই সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে নগদ। ডাক বিভাগের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রযুক্তিসহ প্রয়োজনীয় সব বিনিয়োগ করে নগদ লিমিটেড। সেবা পরিচালনায় ডাক বিভাগের কোনো আর্থিক বিনিয়োগ থাকে না। তবে চুক্তি অনুযায়ী, সেবা থেকে অর্জিত আয়ের ৫১ শতাংশ পায় বাংলাদেশ ডাক বিভাগ এবং বাকি ৪৯ শতাংশ পায় নগদ লিমিটেড।

নগদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানটি যাত্রার পর বিভিন্ন সময়ে ডাক বিভাগকে প্রায় সাড়ে ২৮ কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েছে। ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের ১৮ কোটি ৫৬ লাখ ৮৬ হাজার ১৭৮ টাকা যোগ হওয়ায় এ পর্যন্ত আয়ের ভাগ হিসেবে ডাক বিভাগ মোট ৪৭ কোটি টাকা পেয়েছে।

এর মধ্যে ২০২৬ সালের মার্চে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ১৮ মাসের আয়ের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ডাক বিভাগকে ১৩ কোটি ৮২ লাখ ৩০ হাজার ৪৭০ টাকার চেক দেওয়া হয়। এর আগে একই সময়ের আরেক দফা হিসাবে ৫ কোটি ৫১ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫৮ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়েছিল। এছাড়া ২০২২ সালে ৪ কোটি ৫০ লাখ ৪৬ হাজার ৬৪৭ টাকা এবং তার আগের কয়েক বছরে আরও প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা রাজস্ব দেওয়া হয়।

এর বাইরে চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ভ্যাট ও অন্যান্য কর বাবদ সরকারকে ৩১৩ কোটি টাকা দিয়েছে নগদ।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে নগদের মাধ্যমে মোট ৪ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে লেনদেনের পরিমাণ ২৫ দশমিক ৫০ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে গ্রাহকসংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। জুন শেষে নগদের সক্রিয় (অ্যাক্টিভ) গ্রাহক সংখ্যা ৩ কোটি ছাড়িয়েছে এবং নগদের অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা সোয়া ২ কোটির বেশি।