ঢাকা ০৩:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টেকনাফে রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি, নিখোঁজ ১৩ নতুন দায়িত্ব পেলেন ফজলুর রহমান জুলাই সনদের আলোকে সংস্কারগুলো এগিয়ে নেব: আইনমন্ত্রী গণভোটের রায় অস্বীকার করা মানে জনগণকে অপমান করা: জামায়াত আমির কেশম দ্বীপে হামলার ‘মূল্য দিতে হবে’ যুক্তরাষ্ট্রকে:গালিবাফের হুঁশিয়ারি ভারতে বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারবেন না শেখ হাসিনা: সংসদীয় কমিটিকে মোদি সরকার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী-সারজিসের বিরুদ্ধে মামলার আবেদনে আইফোন চুরির অভিযোগ শিল্প বাঁচাতে চাই সুষ্ঠু জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নতুন দায়িত্বে ৫ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-এমপি নেপালে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও কারফিউ জারি, প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের শান্তির বার্তা

স্পেনকে অনুকরণ করবে না ব্রাজিল

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

তিনি কোচ হওয়ার পর ব্রাজিলিয়ানরা হেক্সা জয়ের স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিল। কিন্তু উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে কার্লো আনচেলত্তির দল পারেনি নিজেদের সেরাটা মেলে ধরতে। শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর ছুটিতে চলে যান আনচেলত্তি। ছুটি কাটিয়ে ব্রাজিলে ফিরেছেন। আগামী বছরগুলোতে ব্রাজিল দলকে কোন পথে নিয়ে যেতে চান, তার একটা রূপরেখা তুলে ধরেছেন। ইতালির কোচের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা আনচেলত্তি ২০৩০ পর্যন্ত ব্রাজিলের কোচ হিসেবে থাকছেন। রূপরেখায় উঠে এসেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের সঙ্গে ব্রাজিলের তুলনার বিষয়টি।

আনচেলত্তি স্বীকার করেছেন, স্পেনের একটি ব্যতিক্রমী মিডফিল্ডার প্রজন্ম থাকার কারণেই তারা আধিপত্য বিস্তার করতে পেরেছে। তবে তিনি স্পেন বা ফ্রান্সকে অনুকরণ করার বিষয়টি পুরোপুরি নাকচ করে দেন, ‘আমাদের কাউকে অনুকরণ করার দরকার নেই। আমাদের শুধু খুঁজে বের করতে হবে কোন কোন জায়গায় উন্নতি করা সম্ভব। রক্ষণ ও আক্রমণভাগের কয়েকটি পজিশনে আমাদের যথেষ্ট ভালো খেলোয়াড় রয়েছে। আমরা মূলত মিডফিল্ডারদের উন্নতি ও বিকাশের দিকে জোর দিচ্ছি। আর অলিম্পিক হতে পারে নতুন খেলোয়াড় খুঁজে বের করার জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।’

গত রোববার ব্রাজিলে ফিরে আসা আনচেলত্তি টোকিও অলিম্পিকের স্বর্ণপদক জয়ের ম্যাচটি নিয়ে অনেক কিছু শুনেছেন। পাঁচ বছর আগে স্পেনকে ২-১ গোলে হারিয়ে ব্রাজিল তাদের অলিম্পিক ট্রফি ধরে রেখেছিল। সেই ম্যাচে খেলা স্পেনের আটজন খেলোয়াড় কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের ২০২৬ বিশ্বকাপজয়ী দলের অংশ হয়েছেন। অথচ ব্রাজিলের সেই অলিম্পিক দলের কেবল মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারেস এবং স্ট্রাইকার মাথিউস কুনহা এই বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েছেন। ‘পরের বিশ্বকাপের জন্য তরুণরা যেন পুরোপুরি প্রস্তুত হতে পারে, সে জন্য আমরা অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৭ এবং অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি, যাতে নতুন প্রতিভা চিহ্নিত করে তাদের অগ্রগতির ট্র্যাক রাখা যায়। চার বছর আগে রায়ান অনূর্ধ্ব-১৭ দলে খেলেছিল। বয়সভিত্তিক উন্নয়নের দিকে এখন থেকেই মনোযোগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি, যাতে ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা তার মতো ধাপে ধাপে উঠে আসা আরও একটি নতুন প্রজন্ম পেয়ে যাই’– বলেন আনচেলত্তি।

ব্রাজিলের অনেক ভক্তের হয়তো এতটা ধৈর্য নাও থাকতে পারে; তারা সবসময়ই চান ক্লাবে যেমন তারকা খেলোয়াড়রা মুখ্য ভূমিকা রাখেন, জাতীয় দলেও যেন তাই করেন। তবে আনচেলত্তি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর পরিকল্পনা কিছুটা ভিন্ন, ‘আমাদের দলের সম্মিলিত শক্তি বা টিমের ধারণাকে আরও মজবুত করতে হবে। ব্রাজিলের এই মুহূর্তে কোনো একক পথপ্রদর্শক তারকার প্রয়োজন নেই এবং তেমন কেউ নেইও। আমাদের অনেক চমৎকার খেলোয়াড় রয়েছে। মূল লক্ষ্য হলো একটি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত দল গড়ে তোলা।’ আগামী সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি এবং অক্টোবরে ভারতের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের মাধ্যমে ব্রাজিলের ইতিহাসে প্রথম বিদেশি পূর্ণকালীন কোচের নতুন পথচলা শুরু হবে।

শারীরিক ফিটনেস নিয়ে নানা সংশয় থাকা সত্ত্বেও গত বিশ্বকাপে নেইমারকে স্কোয়াডে রেখেছিলেন আনচেলত্তি। তবে সামনের দিনগুলোতে এই তারকাকে নিয়ে এগোনোর কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই। ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা এই সপ্তাহের শুরুতেই আবার নিশ্চিত করেছেন, জাতীয় দলে তাঁর অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে।

‘নেইমারের মতো একজন দুর্দান্ত প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারের স্বাভাবিক পথচলা এমনই হয়। জাতীয় দলে দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ সময় কাটানো অন্য খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রেও যেমনটা ঘটে, এটাও তেমনই। আমরা একসঙ্গে অল্প সময় কাটিয়েছি, তবে তার সম্পর্কে আমার শুধু ইতিবাচক অভিজ্ঞতাই আছে। সে অত্যন্ত পেশাদার ও আন্তরিক ছিল এবং যেভাবে সম্ভব দলকে সাহায্য করেছে। আফসোস, চোটের কারণে প্রথম ম্যাচ থেকেই সে তার শতভাগ দিতে পারেনি’– বলেন ব্রাজিল কোচ।

১৯৯৪ বিশ্বকাপে ইতালির সহকারী কোচ হিসেবে ব্রাজিলের কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ হাতছাড়া হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে আনচেলত্তির। তবে তাঁর মতে, নরওয়ের কাছে এই হারটি আরও বেশি কষ্টের, ‘এই পরাজয় হজম করা খুবই কঠিন। ক্লাবে থাকতে দ্রুত হারের প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ থাকত, কিন্তু জাতীয় দলে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়। মাঝে মাঝে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশিই এই পরাজয়ের কথা মনে পড়ে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্পেনকে অনুকরণ করবে না ব্রাজিল

আপডেট সময় ০১:২০:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

তিনি কোচ হওয়ার পর ব্রাজিলিয়ানরা হেক্সা জয়ের স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিল। কিন্তু উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে কার্লো আনচেলত্তির দল পারেনি নিজেদের সেরাটা মেলে ধরতে। শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর ছুটিতে চলে যান আনচেলত্তি। ছুটি কাটিয়ে ব্রাজিলে ফিরেছেন। আগামী বছরগুলোতে ব্রাজিল দলকে কোন পথে নিয়ে যেতে চান, তার একটা রূপরেখা তুলে ধরেছেন। ইতালির কোচের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা আনচেলত্তি ২০৩০ পর্যন্ত ব্রাজিলের কোচ হিসেবে থাকছেন। রূপরেখায় উঠে এসেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের সঙ্গে ব্রাজিলের তুলনার বিষয়টি।

আনচেলত্তি স্বীকার করেছেন, স্পেনের একটি ব্যতিক্রমী মিডফিল্ডার প্রজন্ম থাকার কারণেই তারা আধিপত্য বিস্তার করতে পেরেছে। তবে তিনি স্পেন বা ফ্রান্সকে অনুকরণ করার বিষয়টি পুরোপুরি নাকচ করে দেন, ‘আমাদের কাউকে অনুকরণ করার দরকার নেই। আমাদের শুধু খুঁজে বের করতে হবে কোন কোন জায়গায় উন্নতি করা সম্ভব। রক্ষণ ও আক্রমণভাগের কয়েকটি পজিশনে আমাদের যথেষ্ট ভালো খেলোয়াড় রয়েছে। আমরা মূলত মিডফিল্ডারদের উন্নতি ও বিকাশের দিকে জোর দিচ্ছি। আর অলিম্পিক হতে পারে নতুন খেলোয়াড় খুঁজে বের করার জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।’

গত রোববার ব্রাজিলে ফিরে আসা আনচেলত্তি টোকিও অলিম্পিকের স্বর্ণপদক জয়ের ম্যাচটি নিয়ে অনেক কিছু শুনেছেন। পাঁচ বছর আগে স্পেনকে ২-১ গোলে হারিয়ে ব্রাজিল তাদের অলিম্পিক ট্রফি ধরে রেখেছিল। সেই ম্যাচে খেলা স্পেনের আটজন খেলোয়াড় কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের ২০২৬ বিশ্বকাপজয়ী দলের অংশ হয়েছেন। অথচ ব্রাজিলের সেই অলিম্পিক দলের কেবল মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারেস এবং স্ট্রাইকার মাথিউস কুনহা এই বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েছেন। ‘পরের বিশ্বকাপের জন্য তরুণরা যেন পুরোপুরি প্রস্তুত হতে পারে, সে জন্য আমরা অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৭ এবং অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি, যাতে নতুন প্রতিভা চিহ্নিত করে তাদের অগ্রগতির ট্র্যাক রাখা যায়। চার বছর আগে রায়ান অনূর্ধ্ব-১৭ দলে খেলেছিল। বয়সভিত্তিক উন্নয়নের দিকে এখন থেকেই মনোযোগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি, যাতে ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা তার মতো ধাপে ধাপে উঠে আসা আরও একটি নতুন প্রজন্ম পেয়ে যাই’– বলেন আনচেলত্তি।

ব্রাজিলের অনেক ভক্তের হয়তো এতটা ধৈর্য নাও থাকতে পারে; তারা সবসময়ই চান ক্লাবে যেমন তারকা খেলোয়াড়রা মুখ্য ভূমিকা রাখেন, জাতীয় দলেও যেন তাই করেন। তবে আনচেলত্তি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর পরিকল্পনা কিছুটা ভিন্ন, ‘আমাদের দলের সম্মিলিত শক্তি বা টিমের ধারণাকে আরও মজবুত করতে হবে। ব্রাজিলের এই মুহূর্তে কোনো একক পথপ্রদর্শক তারকার প্রয়োজন নেই এবং তেমন কেউ নেইও। আমাদের অনেক চমৎকার খেলোয়াড় রয়েছে। মূল লক্ষ্য হলো একটি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত দল গড়ে তোলা।’ আগামী সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি এবং অক্টোবরে ভারতের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের মাধ্যমে ব্রাজিলের ইতিহাসে প্রথম বিদেশি পূর্ণকালীন কোচের নতুন পথচলা শুরু হবে।

শারীরিক ফিটনেস নিয়ে নানা সংশয় থাকা সত্ত্বেও গত বিশ্বকাপে নেইমারকে স্কোয়াডে রেখেছিলেন আনচেলত্তি। তবে সামনের দিনগুলোতে এই তারকাকে নিয়ে এগোনোর কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই। ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা এই সপ্তাহের শুরুতেই আবার নিশ্চিত করেছেন, জাতীয় দলে তাঁর অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে।

‘নেইমারের মতো একজন দুর্দান্ত প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারের স্বাভাবিক পথচলা এমনই হয়। জাতীয় দলে দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ সময় কাটানো অন্য খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রেও যেমনটা ঘটে, এটাও তেমনই। আমরা একসঙ্গে অল্প সময় কাটিয়েছি, তবে তার সম্পর্কে আমার শুধু ইতিবাচক অভিজ্ঞতাই আছে। সে অত্যন্ত পেশাদার ও আন্তরিক ছিল এবং যেভাবে সম্ভব দলকে সাহায্য করেছে। আফসোস, চোটের কারণে প্রথম ম্যাচ থেকেই সে তার শতভাগ দিতে পারেনি’– বলেন ব্রাজিল কোচ।

১৯৯৪ বিশ্বকাপে ইতালির সহকারী কোচ হিসেবে ব্রাজিলের কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ হাতছাড়া হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে আনচেলত্তির। তবে তাঁর মতে, নরওয়ের কাছে এই হারটি আরও বেশি কষ্টের, ‘এই পরাজয় হজম করা খুবই কঠিন। ক্লাবে থাকতে দ্রুত হারের প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ থাকত, কিন্তু জাতীয় দলে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়। মাঝে মাঝে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশিই এই পরাজয়ের কথা মনে পড়ে।’