আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
গ্যাসের অভাবে দেশের শিল্পকারখানা বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। উৎপাদন চালিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় চাহিদার অর্ধেক গ্যাসও মিলছে না। এতে সক্ষমতার ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ কম উৎপাদন হচ্ছে কারখানায়। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে জাতীয় অর্থনীতিতে। এমন পরিস্থিতিতে শিল্প বাঁচাতে সঠিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
গতকাল বৃহস্পতিবার সমকাল আয়োজিত এক সংলাপে এমন পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে। ‘জ্বালানি খাতে সংকট: উত্তরণে করণীয়’ শিরোনামে এ সংলাপে আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শুরুতে গত ছয় মাসে জ্বালানি খাতে সরকারের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন। তিনি জানান, তেল-গ্যাস উৎপাদন ও অনুসন্ধানের জন্য সরকার দুটি রিগ কিনছে। আরও তিনটি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে নোয়াখালীর সেনবাগে নতুন একটি কূপ খনন শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।
বর্তমান গ্যাস সংকটের কারণ হিসেবে মহেশখালীতে ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটে (এফএসআরইউ) বা ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদেশি প্রকৌশলীরা সমাধানে কাজ করছেন। আগামীকাল শনিবার থেকে সমস্যা কিছুটা কাটবে। বাকি সমস্যা কাটবে আগামী ১০ আগস্ট।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, গ্যাস সংকট পুরোপুরি কেটে যাবে– সেই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি না। তবে সরকার এ বিষয়ে যথেষ্ট আন্তরিক।
মন্ত্রী জানান, আরও ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল করার জন্য চীনের কোম্পানিকে অনুমিত দেওয়া হয়েছে। কাজ শেষ করতে সাধারণত দুই বছর সময় লাগে। এর পর পরিস্থিতি আরও ভালো হবে।
এ ছাড়া দেশের খনির কয়লা উত্তোলন নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, সারা পৃথিবীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে। আমরাও জমির মালিকদের একটা ভালো প্যাকেজ দিয়ে উত্তোলনের পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছি।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের এ সময় মন্ত্রীর কাছে জানতে চান, কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহের চলমান সংকটের সমাধান পাওয়া যাবে।
মন্ত্রী বলেন, গত ১৫ বছরের সমস্যা বর্তমান সরকারের মাত্র ছয় মাসের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব নয়। দেশের অভ্যন্তরে গ্যাস উত্তোলনের চেষ্টা না করে এলএনজি আমদানিনির্ভর করে তোলা হয়েছে দেশকে। তবে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে। বাপেক্সকে শক্তিশালী করা হচ্ছে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জ্বালানি খাতের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। শিল্প খাতের সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
মন্ত্রী বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের বিল পরিশোধ উদারভাবে দেখার চেষ্টা হচ্ছে। ব্লক অ্যাকাউন্টে নিয়ে পরে কিস্তিতে পরিশোধ করতে পারেন– সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সমকাল কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংলাপটি সঞ্চালনা করেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সমকাল সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী।
গোলটেবিল বৈঠকে উদ্যোক্তা ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সরকারের কাছে বিভিন্ন সুপারিশ করেন। সংকটকালীন সব ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিকে একই হারে গ্যাস সরবরাহ কমানো বা রেশনিং করার প্রস্তাব দেন কেউ কেউ। তারা দীর্ঘ মেয়াদে সমস্যা সমাধানের জন্য দেশে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেন। এ ছাড়া যত দ্রুত সম্ভব প্রতিশ্রুত গ্রাহকদের গ্যাস সংযোগ প্রদান; শিল্পের জন্য স্বচ্ছ গ্যাস বরাদ্দনীতি; ভেলা-বরিশাল-আমিনবাজার গ্যাস সঞ্চালন লাইন এবং মহেশখালী-বাখরাবাদ লাইন অবিলম্বে স্থাপন ও বাস্তবায়ন; জ্বালানি খাতের সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে সংকট মোকাবিলাসহ অনেক সুপারিশ উঠে আসে।
সংলাপে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, ‘আমরা নতুন কিছু কূপ খনন বা ওয়ার্কওভার করছি ঠিকই, কিন্তু আমাদের দেশীয় গ্যাসের প্রধান উৎস বিবিয়ানার উৎপাদন যে হারে কমছে, তা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। বিবিয়ানা থেকে অতিরিক্ত গ্যাস তুলে ফেলছি, ফলে ২০ বছরের মধ্যেই শেষ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে।
তিনি বলেন, এখন আমাদের বড় আশা ‘তিতাস ডিপ ড্রিলিং’। ৬০০০ মিটার গভীরে যদি আমরা ভালো কোনো স্তর পাই, তবেই এটি জাতীয় গ্রিডে বড় সাপোর্ট দিতে পারবে। অন্যথায় শুধু ছোটখাটো কূপ খনন করে বিশাল ঘাটতি মেটানো সম্ভব নয়।
বিইআরসি চেয়ারম্যানের মতে, ভোলার গ্যাস নিয়ে পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। এর আগে খুলনা বা যশোরে পাইপলাইন নেওয়ার আলোচনা ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই গ্যাস দ্রুততম সময়ে ঢাকা এবং বরিশাল অঞ্চলে আনা জরুরি।
ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে আমরা দেশীয় খনি থেকে সম্পদ আহরণ না করার খেসারত এখন দিতে হচ্ছে। বর্তমানে একটি বিতর্ক চলছে– গ্যাস কি বিদ্যুৎকেন্দ্রে যাবে, শিল্পে যাবে, নাকি সার কারখানায়। সার উৎপাদন না করলে খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। আবার শিল্পে গ্যাস না দিলে অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়বে। অথচ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন কোনো শিল্পকারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে না।
আইসিসিবি সভাপতি আরও বলেন, শিল্প মালিকরা যদি জ্বালানি না পান, তবে তারা ব্যাংকের ঋণের কিস্তি শোধ করতে পারবেন না। ফলে দেশে খেলাপি ঋণের পাহাড় জমবে। এলএনজি আমদানির জন্য স্পট মার্কেট থেকে চড়া দামে গ্যাস কেনা সীমিত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে। সুশাসন নিশ্চিত না করে এবং স্টেকহোল্ডারদের পাশ কাটিয়ে কেবল আমলাতান্ত্রিক সিদ্ধান্তে এ সংকট কাটানো সম্ভব নয়। বিদ্যমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী পদক্ষেপ প্রয়োজন।
মাহবুবুর রহমান বলেন, সরকারের উচিত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত বসা এবং তাদের সমস্যা শোনা। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের আমন্ত্রণ জানানো এবং জিজ্ঞেস করা যে, শিল্প রক্ষায় কোথায় তাদের সহায়তা প্রয়োজন।
এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন জানান, তাদের কারখানায় গ্যাস সরবরাহ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। এতে উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকে নেমে এসেছে। তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আনার জন্য ঢাকঢোল পেটানো হচ্ছে, অথচ স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা গ্যাসসহ অবকাঠামো সুবিধা না পেয়ে বিপদে আছেন।
তিনি আরও বলেন, সার কারখানায় গ্যাস না দিয়ে তা যদি টেক্সটাইল বা অন্যান্য রপ্তানিমুখী শিল্পে দেওয়া যায়, তবে অর্থনীতির জন্য তা বেশি ফলপ্রসূ হতে পারে। এটি নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়।
বাংলাদেশ চেম্বারের সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা শুধু আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ না থেকে সরকার দ্রুত বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেবে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়লে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে উৎপাদন খরচ ও রপ্তানির ওপর। শিল্প ও অর্থনীতিকে বাঁচাতে হলে দ্রুত কার্যকর এবং টেকসই সমাধান এখন সময়ের দাবি।
তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকট কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত না নেওয়ার ফলাফল। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারকে বলেছিলাম, দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত এফএসআরইউ প্রয়োজন। কিন্তু তখন কর্ণপাত করা হয়নি। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য আমাদের অন্তত তিন থেকে চারটি এফএসআরইউ সচল রাখতে হবে, যাতে একটি বিকল হলেও সরবরাহ ব্যবস্থায় ধস না নামে। পাশাপাশি বিনিয়োগ ঝুঁকি কমাতে স্থলভিত্তিক টার্মিনালের দিকে যেতে।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, সরকার যখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির কথা বলছে, তখন ‘হুইলিং চার্জ’ বা সঞ্চালন মাশুল নিয়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে। ৩২ পয়সার চার্জকে দুই টাকা করার প্রস্তাব দিলে কোনো বিনিয়োগকারী এগিয়ে আসবে না। মার্চেন্ট পাওয়ার প্লান্টগুলোকে উৎসাহিত করতে হলে এই বাধা দূর করতে হবে। এ ছাড়া দেশে প্রায় ১২ লাখ সেচপাম্প রয়েছে, যা ডিজেলে চলে। এগুলোকে দ্রুত সৌরবিদ্যুতে রূপান্তর করতে পারলে সাশ্রয় হওয়া বিদ্যুৎ শিল্পকারখানায় দেওয়া সম্ভব হবে এবং ডিজেল আমদানির ওপর চাপ কমবে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হা-মীম গ্রুপের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের প্রধান তনুল চক্রবর্তী। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহের অভাবে অনেক কেন্দ্র তাদের সক্ষমতার মাত্র ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ ব্যবহার করতে পারছে। বিশেষ করে এফএসআরইউ বা এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি ও অব্যবস্থাপনা সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
উপস্থাপনায় আরও বলা হয়, সংকটের বড় প্রভাব পড়ছে রপ্তানিমুখী শিল্প খাতে। গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের কারখানাগুলো উৎপাদন সক্ষমতার ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ নিচে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। যথাসময়ে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে উদ্যোক্তারা আকাশপথে পণ্য পাঠাচ্ছেন, যা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করছে। গ্যাসের বিকল্প হিসেবে ডিজেল ব্যবহার করতে গিয়ে জ্বালানি খরচ বেড়ে গেছে প্রায় তিন গুণ। দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও শিল্পের সক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এখন বড় বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার চেয়ে জ্বালানির প্রাপ্যতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা বেশি জরুরি। জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় পেশাদারিত্ব আনা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে দ্রুত অবকাঠামো নির্মাণ এবং শিল্প খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে গ্যাস বণ্টনের সুপারিশ করেন তিনি।
সংলাপে সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান বলেন, ‘জ্বালানি খাতের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব। আমরা যদি ২০ বছরের সুদূরপ্রসারী চিন্তা না করি, তবে আগামী ৪৬ বছর ধরেও কেবল সমস্যা নিয়েই আলোচনা করতে হবে। সাত দিনের মাথায় সমাধান বা জরুরি ভিত্তিতে এফএসআরইউ স্থাপনের যে তোড়জোড় আমরা দেখি, তা টেকসই কোনো সমাধান নয়।’
তিনি বলেন, সুশাসনের অভাব আমাদের জ্বালানি খাতকে কুরে কুরে খাচ্ছে। যেখানে টেকনিক্যাল সিস্টেম লস ২ শতাংশের বেশি হওয়ার কথা নয়, সেখানে আমাদের গ্যাস সেক্টরে ১০ থেকে ১২ শতাংশ লস দেখানো হচ্ছে।
বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, ‘আমরা দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে চাইছি, কিন্তু বাস্তব চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় একটি বড় চীনা কোম্পানি ছয় বছর আগে জমির বরাদ্দ পেলেও আজ পর্যন্ত তাদের গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়নি। এভাবে চলতে থাকলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন।’
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গ্যাস সরবরাহ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় শিল্প খাতে এক ভয়াবহ মানবিক ও আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে। আগামী ১০ আগস্টের আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে প্রায় ২৫ দিন কারখানাগুলোর উৎপাদন কার্যত বন্ধ থাকবে। এতে আমরা নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি পণ্য পাঠাতে পারব না। ক্রেতাদের সন্তুষ্ট রাখতে আমাদের এখন বিশাল অঙ্কের খরচ দিয়ে এয়ার শিপমেন্ট করতে হবে, যা মোট রপ্তানি মূল্যের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ হতে পারে। অন্যথায় ক্রেতারা অন্তত ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ ডিসকাউন্ট বা ছাড় চাইবে।
বিকেএমইএ সভাপতি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো মাসের শুরুতে শ্রমিকদের বেতন দিতে হয়। উৎপাদন না থাকলে আমরা এ বেতন পরিশোধে ব্যর্থ হব, যা থেকে শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আছে। এ ছাড়া ব্যাংকের ঋণের কিস্তি দিতে না পারলে আমাদের খেলাপি ঘোষণা করা হবে। এই বিশেষ পরিস্থিতিতে শিল্প মালিকদের প্রতি সহনশীল হয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও সহজ কোনো সমাধান দেওয়া হোক।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, ৮০ সালের পর থেকেই জ্বালানি সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার খবর শুনে আসছি আমরা। কোনো পদক্ষেপ নিতে গেলে আমলারা ১৪ বার ভাবে তাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হবে কিনা। এভাবে সমাধান হয় না।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, বর্তমানে জ্বালানি খাত এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে কোনো সাময়িক মলম বা ব্যান্ড-এইড সলিউশন দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। শিল্প খাতের অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ। কারণ বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম এবং আমাদের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সক্ষমতা– উভয়ই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ভবিষ্যতে শিল্পায়নের পরিকল্পনা নতুন করে সাজাতে হবে। অধিক জ্বালানিনির্ভর শিল্প যেমন– টেক্সটাইল, সিমেন্ট বা স্টিল মিল কীভাবে টিকে থাকবে, তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় রয়েছে।
বিজিএপিএমইএ সভাপতি মো. শাহরিয়ার বলেন, ‘এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে গ্যাস পাচ্ছি না, কিন্তু বিল দিচ্ছি। আমরা গ্যাসের পরিবর্তে বাতাসেরই মূল্য দিচ্ছি। সেই বিলের ওপর আবার ভ্যাট ও করও পরিশোধ করছি। এটি শিল্পের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক বাস্তবতা।’
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















