ঢাকা ০৯:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

শিশুর কিডনি রোগের ঝুঁকি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

শিশুর কিডনি রোগ বা রেনাল সমস্যা বর্তমান সময়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং উদ্বেগের বিষয়। অনেক অভিভাবকই জানেন না, বড়দের মতো শিশুর কিডনি রোগ কেবল শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গের ক্ষতিই করে না; বরং এটি হৃদযন্ত্রের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

কিডনির রোগ থেকে হৃদরোগের সমস্যা তৈরি হওয়ার প্রবণতা অত্যন্ত বেশি। অ্যাকিউট গ্লোমেরুলো নেফ্রাইটিস, লুপাস নেফ্রাইটিস ও রেনাল আর্টারিয়াল স্টেনোসিসের মতো রোগ কেবল কিডনির কার্যকারিতা নষ্ট করে না; বরং শিশুর হার্টের মাংসপেশির রোগ বা কার্ডিওমায়োপ্যাথি, স্ট্রোক এবং হার্ট ফেইলিউরের মতো দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

অ্যাকিউট গ্লোমেরুলো নেফ্রাইটিস মূলত স্কুলগামী শিশুর মধ্যে বেশি দেখা যায়। এই রোগের প্রধান লক্ষণ হলো হুট করে শিশুটির চোখ-মুখ বা সারা শরীর ফুলে যাওয়া। এ ছাড়া প্রস্রাব একদম বন্ধ হয়ে যাওয়া বা খুব অল্প পরিমাণে প্রস্রাব হওয়া এবং প্রস্রাবের রং লালচে হয়ে যাওয়া এই রোগের অন্যতম ইঙ্গিত। অনেক সময় গলায় ব্যথা বা খোস-পাঁচড়ার মতো ত্বকের সংক্রমণের ১০ থেকে ২১ দিনের মাথায় এ রোগ দেখা দিতে পারে। শিশুর রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া এর অন্যতম জটিল দিক। এ সময় চিকিৎসার ক্ষেত্রে শিশুকে অবশ্যই দীর্ঘ সময় বিশ্রামে রাখতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ ও প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গেলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা প্রয়োজন। খাবার থেকে লবণ বাদ দিতে হবে এবং পটাশিয়ামযুক্ত খাবার, যেমন– ডাব, কলা ও ফলের জুস নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো যাবে না। জটিলতা বাড়লে, যেমন– শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি বা চোখে ঝাপসা দেখার মতো লক্ষণ দেখা দিলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাধ্যতামূলক।

লুপাস নেফ্রাইটিস সাধারণত কিশোরীদের ক্ষেত্রে অধিক দেখা যায়। এটি এক ধরনের জটিল অটোইমিউন বা ইমিউনজনিত সমস্যার বহিঃপ্রকাশ। এতে শুধু কিডনি আক্রান্ত হয় না; বরং শরীরের রক্তকোষের ওপর প্রভাব ফেলে রক্তশূন্যতা ও বাতের ব্যথার মতো উপসর্গ তৈরি হয়। যথাসময়ে চিকিৎসা না নিলে এটি ধীরে ধীরে কিডনি অকেজো হওয়ার পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া রেনাল আর্টারিয়াল স্টেনোসিস নামক সমস্যার কারণে অনেক শিশু কম বয়সেই তীব্র উচ্চ রক্তচাপে ভোগে। অনেক ওষুধ প্রয়োগের পরও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলে এনজিওগ্রামের মাধ্যমে কিডনির রক্তনালির সমস্যা ধরা পড়ে। এই নালি সংকীর্ণ হয়ে গেলে এনজিওপ্লাস্টির মাধ্যমে রিং পরানোর প্রয়োজন হতে পারে। শিশুর কিডনি রোগের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ই চিকিৎসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই অবহেলা না করে সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

শিশুর কিডনি রোগের ঝুঁকি

আপডেট সময় ১১:১৫:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

শিশুর কিডনি রোগ বা রেনাল সমস্যা বর্তমান সময়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং উদ্বেগের বিষয়। অনেক অভিভাবকই জানেন না, বড়দের মতো শিশুর কিডনি রোগ কেবল শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গের ক্ষতিই করে না; বরং এটি হৃদযন্ত্রের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

কিডনির রোগ থেকে হৃদরোগের সমস্যা তৈরি হওয়ার প্রবণতা অত্যন্ত বেশি। অ্যাকিউট গ্লোমেরুলো নেফ্রাইটিস, লুপাস নেফ্রাইটিস ও রেনাল আর্টারিয়াল স্টেনোসিসের মতো রোগ কেবল কিডনির কার্যকারিতা নষ্ট করে না; বরং শিশুর হার্টের মাংসপেশির রোগ বা কার্ডিওমায়োপ্যাথি, স্ট্রোক এবং হার্ট ফেইলিউরের মতো দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

অ্যাকিউট গ্লোমেরুলো নেফ্রাইটিস মূলত স্কুলগামী শিশুর মধ্যে বেশি দেখা যায়। এই রোগের প্রধান লক্ষণ হলো হুট করে শিশুটির চোখ-মুখ বা সারা শরীর ফুলে যাওয়া। এ ছাড়া প্রস্রাব একদম বন্ধ হয়ে যাওয়া বা খুব অল্প পরিমাণে প্রস্রাব হওয়া এবং প্রস্রাবের রং লালচে হয়ে যাওয়া এই রোগের অন্যতম ইঙ্গিত। অনেক সময় গলায় ব্যথা বা খোস-পাঁচড়ার মতো ত্বকের সংক্রমণের ১০ থেকে ২১ দিনের মাথায় এ রোগ দেখা দিতে পারে। শিশুর রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া এর অন্যতম জটিল দিক। এ সময় চিকিৎসার ক্ষেত্রে শিশুকে অবশ্যই দীর্ঘ সময় বিশ্রামে রাখতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ ও প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গেলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা প্রয়োজন। খাবার থেকে লবণ বাদ দিতে হবে এবং পটাশিয়ামযুক্ত খাবার, যেমন– ডাব, কলা ও ফলের জুস নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো যাবে না। জটিলতা বাড়লে, যেমন– শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি বা চোখে ঝাপসা দেখার মতো লক্ষণ দেখা দিলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাধ্যতামূলক।

লুপাস নেফ্রাইটিস সাধারণত কিশোরীদের ক্ষেত্রে অধিক দেখা যায়। এটি এক ধরনের জটিল অটোইমিউন বা ইমিউনজনিত সমস্যার বহিঃপ্রকাশ। এতে শুধু কিডনি আক্রান্ত হয় না; বরং শরীরের রক্তকোষের ওপর প্রভাব ফেলে রক্তশূন্যতা ও বাতের ব্যথার মতো উপসর্গ তৈরি হয়। যথাসময়ে চিকিৎসা না নিলে এটি ধীরে ধীরে কিডনি অকেজো হওয়ার পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া রেনাল আর্টারিয়াল স্টেনোসিস নামক সমস্যার কারণে অনেক শিশু কম বয়সেই তীব্র উচ্চ রক্তচাপে ভোগে। অনেক ওষুধ প্রয়োগের পরও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলে এনজিওগ্রামের মাধ্যমে কিডনির রক্তনালির সমস্যা ধরা পড়ে। এই নালি সংকীর্ণ হয়ে গেলে এনজিওপ্লাস্টির মাধ্যমে রিং পরানোর প্রয়োজন হতে পারে। শিশুর কিডনি রোগের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ই চিকিৎসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই অবহেলা না করে সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।