ঢাকা ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘মৌলিক জ্ঞান না থাকলে কোচিংয়ে আসা উচিত নয়’:তামিম ইকবাল আপসকামিতা নয়, স্বৈরাচারকে প্রতিহত করার ইতিহাস বিএনপির: জাহিদ হোসেন পটিয়া থানার ২শ গজ সামনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল হবিগঞ্জে হামলার ঘটনায় ১১ জনের নামে এনসিপির মামলা বর্তমান সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় মদদে কোনো দুর্নীতি গুম খুন হয়নি হবিগঞ্জে গিয়ে মামলা না করে আমরা ফিরব না: এমপি হাসনাত যুব জামায়াত নেতার কাণ্ড; বিধবা নারীকে ধর্ষণের পর গর্ভপাতের অভিযোগ:দল থেকে সদস্যপদ স্থগিত মানবতার মুক্তিতে ইসলামের আদর্শের বিজয়ের বিকল্প নেই: চরমোনাই পীর সব প্রকল্পের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য:জহির উদ্দিন স্বপন হঠাৎ ৬ মুসলিম দেশের যৌথ সামরিক মহড়া, কী বার্তা দিচ্ছে

ফেসবুকে প্রেম, নেত্রকোনায় এসে তরুণীকে বিয়ে করলেন চীনা যুবক

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নেত্রকোনার তরুণী নাজমিন আক্তার লিজা (২০) ও চীনের যুবক ওয়্যাং সুলিন (৩০)। দুই মাস আগে দুজনের পরিচয় হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। এরপর কথাবার্তা চলে। ভার্চুয়াল জগতে কথাবার্তার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সেই প্রেম থেকে পরিণয় গত ২১ জুলাই।

প্রেমের টানে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসে মুসলিম রীতিতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এই চীনা যুবক। বিয়ের পর ধর্মান্তরিত হয়ে নতুন নাম ধারণ করেছেন ‘মো. নুর উদ্দিন’।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পৌর শহরের দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় ফার্নিবার ব্যবসায়ী মো. নাজিম উদ্দিনের মেয়ে লিজা। তিনি মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজে স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। নাজিম উদ্দিনের বাড়ি পাশ্ববর্তী সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলা ভাটগাঁও গ্রামে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মোহনগঞ্জ পৌরশহরের দৌলতপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।

অপরদিকে চীনের লুবেই প্রদেশের লুরাং শহরের বাসিন্দা ওয়্যাং সুলিন পেশায় একজন রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী। তিনি এবং তার ভাই মিলে চীনে রেস্তোরাঁর ব্যবসা পরিচালনা করেন।

ঘটনার শুরু মাস দুয়েক আগে। ফেসবুকে পরিচয়ের পর লিজা ও ওয়্যাং সুলিনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে দুজনই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি নিজ নিজ পরিবারকে জানালে উভয় পরিবার ইতিবাচক সাড়া দেয়। প্রেমের আহ্বানে সাড়া দিয়ে গত ১৮ জুলাই চীন থেকে বাংলাদেশে আসেন ওয়্যাং সুলিন। ঢাকা বিমানবন্দরে লিজার পরিবারের সদস্যরা তাকে অভ্যর্থনা জানিয়ে মোহনগঞ্জে নিয়ে যান।

পরে ২১ জুলাই ওয়্যাং সুলিন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং লিজার সঙ্গে আইনজীবীর মাধ্যমে এফিডেভিট করে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়েকে পূর্ণতা দিতে আগামী শুক্রবার (৩১ জুলাই) মোহনগঞ্জে ধুমধাম করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে কনের পরিবার। বর্তমানে ভাড়া বাসার সামনে মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে এবং স্বজনদের মাঝে দাওয়াতপত্র বিতরণ করছেন কনের বাবা।

সম্প্রতি চীনে বিদেশি কনে নিয়ে প্রতারণার বেশ কিছু খবর প্রকাশ পাওয়ায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেছে কনের পরিবার।

লিজার বাবা মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, ছেলের বাবা-মা ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার পর আমরা চীনা দূতাবাসে গিয়েও যাবতীয় খোঁজখবর নিয়েছি। সব তথ্য সঠিক পাওয়ার পর আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিই। বিষয়টি আমাদের স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরকেও জানিয়েছি। তিনি খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর ছেলে-মেয়েকে তার কাছে নিয়ে দেখা করিয়েছি। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে জামাই চীনে গিয়ে ভিসা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে লিজাকে নিয়ে যাবে।

এদিকে বিদেশি জামাইয়ের আগমনকে কেন্দ্র করে মোহনগঞ্জের দৌলতপুরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। চীনা যুবককে এক নজর দেখতে এবং তার সঙ্গে ছবি তুলেতে স্থানীয় উৎসুক জনতা প্রতিনিয়ত কনের বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, পত্রপত্রিকায় আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের খবর দেখে প্রথমে কিছুটা চিন্তিত ছিলাম। তবে যেহেতু মেয়ের বাবা চীনা দূতাবাস ও ছেলের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে শতভাগ নিশ্চিত হয়ে বিয়ে দিয়েছেন, তাই সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। আমরা নবদম্পতির সুখী জীবনের জন্য দোয়া করি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেসবুকে প্রেম, নেত্রকোনায় এসে তরুণীকে বিয়ে করলেন চীনা যুবক

আপডেট সময় ১০:৫৫:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নেত্রকোনার তরুণী নাজমিন আক্তার লিজা (২০) ও চীনের যুবক ওয়্যাং সুলিন (৩০)। দুই মাস আগে দুজনের পরিচয় হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। এরপর কথাবার্তা চলে। ভার্চুয়াল জগতে কথাবার্তার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সেই প্রেম থেকে পরিণয় গত ২১ জুলাই।

প্রেমের টানে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসে মুসলিম রীতিতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এই চীনা যুবক। বিয়ের পর ধর্মান্তরিত হয়ে নতুন নাম ধারণ করেছেন ‘মো. নুর উদ্দিন’।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পৌর শহরের দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় ফার্নিবার ব্যবসায়ী মো. নাজিম উদ্দিনের মেয়ে লিজা। তিনি মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজে স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। নাজিম উদ্দিনের বাড়ি পাশ্ববর্তী সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলা ভাটগাঁও গ্রামে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মোহনগঞ্জ পৌরশহরের দৌলতপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।

অপরদিকে চীনের লুবেই প্রদেশের লুরাং শহরের বাসিন্দা ওয়্যাং সুলিন পেশায় একজন রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী। তিনি এবং তার ভাই মিলে চীনে রেস্তোরাঁর ব্যবসা পরিচালনা করেন।

ঘটনার শুরু মাস দুয়েক আগে। ফেসবুকে পরিচয়ের পর লিজা ও ওয়্যাং সুলিনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে দুজনই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি নিজ নিজ পরিবারকে জানালে উভয় পরিবার ইতিবাচক সাড়া দেয়। প্রেমের আহ্বানে সাড়া দিয়ে গত ১৮ জুলাই চীন থেকে বাংলাদেশে আসেন ওয়্যাং সুলিন। ঢাকা বিমানবন্দরে লিজার পরিবারের সদস্যরা তাকে অভ্যর্থনা জানিয়ে মোহনগঞ্জে নিয়ে যান।

পরে ২১ জুলাই ওয়্যাং সুলিন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং লিজার সঙ্গে আইনজীবীর মাধ্যমে এফিডেভিট করে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়েকে পূর্ণতা দিতে আগামী শুক্রবার (৩১ জুলাই) মোহনগঞ্জে ধুমধাম করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে কনের পরিবার। বর্তমানে ভাড়া বাসার সামনে মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে এবং স্বজনদের মাঝে দাওয়াতপত্র বিতরণ করছেন কনের বাবা।

সম্প্রতি চীনে বিদেশি কনে নিয়ে প্রতারণার বেশ কিছু খবর প্রকাশ পাওয়ায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেছে কনের পরিবার।

লিজার বাবা মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, ছেলের বাবা-মা ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার পর আমরা চীনা দূতাবাসে গিয়েও যাবতীয় খোঁজখবর নিয়েছি। সব তথ্য সঠিক পাওয়ার পর আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিই। বিষয়টি আমাদের স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরকেও জানিয়েছি। তিনি খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর ছেলে-মেয়েকে তার কাছে নিয়ে দেখা করিয়েছি। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে জামাই চীনে গিয়ে ভিসা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে লিজাকে নিয়ে যাবে।

এদিকে বিদেশি জামাইয়ের আগমনকে কেন্দ্র করে মোহনগঞ্জের দৌলতপুরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। চীনা যুবককে এক নজর দেখতে এবং তার সঙ্গে ছবি তুলেতে স্থানীয় উৎসুক জনতা প্রতিনিয়ত কনের বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, পত্রপত্রিকায় আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের খবর দেখে প্রথমে কিছুটা চিন্তিত ছিলাম। তবে যেহেতু মেয়ের বাবা চীনা দূতাবাস ও ছেলের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে শতভাগ নিশ্চিত হয়ে বিয়ে দিয়েছেন, তাই সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। আমরা নবদম্পতির সুখী জীবনের জন্য দোয়া করি।