ঢাকা ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘মৌলিক জ্ঞান না থাকলে কোচিংয়ে আসা উচিত নয়’:তামিম ইকবাল আপসকামিতা নয়, স্বৈরাচারকে প্রতিহত করার ইতিহাস বিএনপির: জাহিদ হোসেন পটিয়া থানার ২শ গজ সামনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল হবিগঞ্জে হামলার ঘটনায় ১১ জনের নামে এনসিপির মামলা বর্তমান সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় মদদে কোনো দুর্নীতি গুম খুন হয়নি হবিগঞ্জে গিয়ে মামলা না করে আমরা ফিরব না: এমপি হাসনাত যুব জামায়াত নেতার কাণ্ড; বিধবা নারীকে ধর্ষণের পর গর্ভপাতের অভিযোগ:দল থেকে সদস্যপদ স্থগিত মানবতার মুক্তিতে ইসলামের আদর্শের বিজয়ের বিকল্প নেই: চরমোনাই পীর সব প্রকল্পের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য:জহির উদ্দিন স্বপন হঠাৎ ৬ মুসলিম দেশের যৌথ সামরিক মহড়া, কী বার্তা দিচ্ছে

হবিগঞ্জে হামলার ঘটনায় ১১ জনের নামে এনসিপির মামলা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

অবশেষে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ১০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার রাত ৯টার দিকে এনসিপির ছাত্র সংগঠন জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের রুবেল বাদী হয়ে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া ফাঁড়িতে মামলাটি দায়ের করেন।

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ তাদের কাছ থেকে মামলাটি গ্রহণ করেন।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন- এনসিপির আহ্বায়ক সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহেদুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, তবে এখনো আমি এজাহারের কপি হাতে পাইনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এনসিপির আহ্বায়ক সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতুসহ কয়েকজন বুধবার বিকালে মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন। প্রথম দফায় শ্রীমঙ্গলের মুছাই এলাকায় পৌঁছলে পুলিশ তাদের গাড়িবহর আটকে দেয়। পরে দীর্ঘক্ষণ ধস্তাধস্তি ও বাগবিতণ্ডার পর তারা সেখান থেকে অতিক্রম করেন। এরপরই তাদের বাহুবল উপজেলার রশিদপুর এলাকায় আবারও আটকে দেওয়া হয়। তখন ফের তাদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি ও বাগবিতণ্ডা হয়।

এ সময় একটি ভিডিওতে দেখা যায়, উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাদের মৌলভীবাজারে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন; কিন্তু এনসিপি নেতারা তাতে কোনোভাবেই সায় দিচ্ছেন না। তারা হবিগঞ্জে পৌঁছার দাবিতে অনড় রয়েছেন।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার হবিগঞ্জ শহরের সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে জুলাই পদযাত্রার সভা শেষ করে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা গাড়িবহর নিয়ে সার্কিট হাউসে যাওয়ার পথে সবুজবাগ এলাকায় পৌঁছলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলমের ওপর হামলা চালায় একদল যুবক। এ সময় তাদের বহনকারী গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। একপর্যায়ে তারা সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখার ভেতরে গিয়ে আশ্রয় নেন। তখন দুইপক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে সারজিস আলমসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।

পরে পুলিশ গিয়ে রাত ৮টার দিকে তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়। রাত ১১টায় সারজিস আলম মৌলভীবাজারের উদ্দেশে রওনা হন। এর আগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং এনসিপি পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সকালে জেলা প্রশাসন হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। এছাড়া ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জে হামলার ঘটনায় ১১ জনের নামে এনসিপির মামলা

আপডেট সময় ১০:৫০:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

অবশেষে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ১০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার রাত ৯টার দিকে এনসিপির ছাত্র সংগঠন জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের রুবেল বাদী হয়ে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া ফাঁড়িতে মামলাটি দায়ের করেন।

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ তাদের কাছ থেকে মামলাটি গ্রহণ করেন।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন- এনসিপির আহ্বায়ক সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহেদুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, তবে এখনো আমি এজাহারের কপি হাতে পাইনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এনসিপির আহ্বায়ক সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতুসহ কয়েকজন বুধবার বিকালে মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন। প্রথম দফায় শ্রীমঙ্গলের মুছাই এলাকায় পৌঁছলে পুলিশ তাদের গাড়িবহর আটকে দেয়। পরে দীর্ঘক্ষণ ধস্তাধস্তি ও বাগবিতণ্ডার পর তারা সেখান থেকে অতিক্রম করেন। এরপরই তাদের বাহুবল উপজেলার রশিদপুর এলাকায় আবারও আটকে দেওয়া হয়। তখন ফের তাদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি ও বাগবিতণ্ডা হয়।

এ সময় একটি ভিডিওতে দেখা যায়, উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাদের মৌলভীবাজারে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন; কিন্তু এনসিপি নেতারা তাতে কোনোভাবেই সায় দিচ্ছেন না। তারা হবিগঞ্জে পৌঁছার দাবিতে অনড় রয়েছেন।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার হবিগঞ্জ শহরের সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে জুলাই পদযাত্রার সভা শেষ করে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা গাড়িবহর নিয়ে সার্কিট হাউসে যাওয়ার পথে সবুজবাগ এলাকায় পৌঁছলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলমের ওপর হামলা চালায় একদল যুবক। এ সময় তাদের বহনকারী গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। একপর্যায়ে তারা সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখার ভেতরে গিয়ে আশ্রয় নেন। তখন দুইপক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে সারজিস আলমসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।

পরে পুলিশ গিয়ে রাত ৮টার দিকে তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়। রাত ১১টায় সারজিস আলম মৌলভীবাজারের উদ্দেশে রওনা হন। এর আগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং এনসিপি পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সকালে জেলা প্রশাসন হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। এছাড়া ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।