ঢাকা ০৮:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় নতুন দাবানল নিয়ে শঙ্কায় ফ্রান্স

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

প্রচণ্ড খরা আর ভয়াবহ দাবদাহের কবলে পড়ে ফ্রান্সে দাবানল পরিস্থিতির আবারও চরম অবনতি ঘটেছে। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জিরোন্দ বিভাগে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে দিনরাত লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন হাজার হাজার অগ্নিনির্বাপক কর্মী। এরই মধ্যে ওই অঞ্চলে চলতি গ্রীষ্মের চতুর্থ তাপদাহ শুরু হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর, যা তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।

ফরাসি ফায়ার ফাইটার্স ফেডারেশনের মুখপাত্র ব্রোকার্দি এই অসম লড়াইকে ‘ডেভিড বনাম গোলিয়াথ’-এর সংগ্রামের সাথে তুলনা করেছেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহে দেশজুড়ে আগুন নেভাতে গিয়ে তাদের চারজন সহকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। বর্তমানে শুধুমাত্র জিরোন্দ এলাকাতেই প্রায় দুই হাজার অগ্নিনির্বাপক সদস্য মোতায়েন রয়েছে। আঞ্চলিক প্রিফেক্ট সোফি ব্রোকাস জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবারই পূর্বের ১৪টি স্থানে নতুন করে আগুন জ্বলে উঠেছে। এখন পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন এলাকা থেকে দুই লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ধ্বংস হয়েছে অন্তত ২৪০টি বাড়িঘর।

পার্শ্ববর্তী স্প্যানিশ এবং পর্তুগিজ সীমান্ত এলাকাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে দাবানলের শিখা। তবে সবচেয়ে বেশি আঘাত এসেছে ফ্রান্সের বোর্দো অঞ্চলের আশপাশে। ঐতিহাসিক ওয়াইন উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত এই নগরের প্রায় ১৫ কিলোমিটার কাছে চলে এসেছিল আগুনের শিখা। বোর্দো শহরটি সরাসরি আগুনে পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে না থাকলেও সমগ্র নগরী ছেয়ে গেছে ঘন ছাই আর বিষাক্ত ধোঁয়ায়। বাসিন্দারা মাস্ক পরে বাইরে বের হচ্ছেন এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। ধোঁয়ার কারণে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়ায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে স্থানীয় রেস্তোরাঁ ও ওয়াইন শিল্প।

ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্তে নেমে গত ৬ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত ১৮৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বার অঞ্চলে আগুন লাগানোর অভিযোগে ২৩ বছর বয়সী এক তরুণকে আটক করা হয়েছে, যার ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। স্বাস্থ্য বিভাগ জনসাধারণকে ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। ভয়াবহ দাবদাহ এবং শুকনো বাতাসের কারণে পরিস্থিতি আরও কতদূর গড়ায়, তা নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে পুরো ইউরোপ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় নতুন দাবানল নিয়ে শঙ্কায় ফ্রান্স

আপডেট সময় ০২:১৫:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

প্রচণ্ড খরা আর ভয়াবহ দাবদাহের কবলে পড়ে ফ্রান্সে দাবানল পরিস্থিতির আবারও চরম অবনতি ঘটেছে। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জিরোন্দ বিভাগে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে দিনরাত লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন হাজার হাজার অগ্নিনির্বাপক কর্মী। এরই মধ্যে ওই অঞ্চলে চলতি গ্রীষ্মের চতুর্থ তাপদাহ শুরু হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর, যা তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।

ফরাসি ফায়ার ফাইটার্স ফেডারেশনের মুখপাত্র ব্রোকার্দি এই অসম লড়াইকে ‘ডেভিড বনাম গোলিয়াথ’-এর সংগ্রামের সাথে তুলনা করেছেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহে দেশজুড়ে আগুন নেভাতে গিয়ে তাদের চারজন সহকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। বর্তমানে শুধুমাত্র জিরোন্দ এলাকাতেই প্রায় দুই হাজার অগ্নিনির্বাপক সদস্য মোতায়েন রয়েছে। আঞ্চলিক প্রিফেক্ট সোফি ব্রোকাস জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবারই পূর্বের ১৪টি স্থানে নতুন করে আগুন জ্বলে উঠেছে। এখন পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন এলাকা থেকে দুই লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ধ্বংস হয়েছে অন্তত ২৪০টি বাড়িঘর।

পার্শ্ববর্তী স্প্যানিশ এবং পর্তুগিজ সীমান্ত এলাকাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে দাবানলের শিখা। তবে সবচেয়ে বেশি আঘাত এসেছে ফ্রান্সের বোর্দো অঞ্চলের আশপাশে। ঐতিহাসিক ওয়াইন উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত এই নগরের প্রায় ১৫ কিলোমিটার কাছে চলে এসেছিল আগুনের শিখা। বোর্দো শহরটি সরাসরি আগুনে পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে না থাকলেও সমগ্র নগরী ছেয়ে গেছে ঘন ছাই আর বিষাক্ত ধোঁয়ায়। বাসিন্দারা মাস্ক পরে বাইরে বের হচ্ছেন এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। ধোঁয়ার কারণে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়ায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে স্থানীয় রেস্তোরাঁ ও ওয়াইন শিল্প।

ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্তে নেমে গত ৬ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত ১৮৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বার অঞ্চলে আগুন লাগানোর অভিযোগে ২৩ বছর বয়সী এক তরুণকে আটক করা হয়েছে, যার ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। স্বাস্থ্য বিভাগ জনসাধারণকে ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। ভয়াবহ দাবদাহ এবং শুকনো বাতাসের কারণে পরিস্থিতি আরও কতদূর গড়ায়, তা নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে পুরো ইউরোপ।