ঢাকা ০১:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘মৌলিক জ্ঞান না থাকলে কোচিংয়ে আসা উচিত নয়’:তামিম ইকবাল আপসকামিতা নয়, স্বৈরাচারকে প্রতিহত করার ইতিহাস বিএনপির: জাহিদ হোসেন পটিয়া থানার ২শ গজ সামনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল হবিগঞ্জে হামলার ঘটনায় ১১ জনের নামে এনসিপির মামলা বর্তমান সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় মদদে কোনো দুর্নীতি গুম খুন হয়নি হবিগঞ্জে গিয়ে মামলা না করে আমরা ফিরব না: এমপি হাসনাত যুব জামায়াত নেতার কাণ্ড; বিধবা নারীকে ধর্ষণের পর গর্ভপাতের অভিযোগ:দল থেকে সদস্যপদ স্থগিত মানবতার মুক্তিতে ইসলামের আদর্শের বিজয়ের বিকল্প নেই: চরমোনাই পীর সব প্রকল্পের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য:জহির উদ্দিন স্বপন হঠাৎ ৬ মুসলিম দেশের যৌথ সামরিক মহড়া, কী বার্তা দিচ্ছে

৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় নতুন দাবানল নিয়ে শঙ্কায় ফ্রান্স

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

প্রচণ্ড খরা আর ভয়াবহ দাবদাহের কবলে পড়ে ফ্রান্সে দাবানল পরিস্থিতির আবারও চরম অবনতি ঘটেছে। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জিরোন্দ বিভাগে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে দিনরাত লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন হাজার হাজার অগ্নিনির্বাপক কর্মী। এরই মধ্যে ওই অঞ্চলে চলতি গ্রীষ্মের চতুর্থ তাপদাহ শুরু হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর, যা তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।

ফরাসি ফায়ার ফাইটার্স ফেডারেশনের মুখপাত্র ব্রোকার্দি এই অসম লড়াইকে ‘ডেভিড বনাম গোলিয়াথ’-এর সংগ্রামের সাথে তুলনা করেছেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহে দেশজুড়ে আগুন নেভাতে গিয়ে তাদের চারজন সহকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। বর্তমানে শুধুমাত্র জিরোন্দ এলাকাতেই প্রায় দুই হাজার অগ্নিনির্বাপক সদস্য মোতায়েন রয়েছে। আঞ্চলিক প্রিফেক্ট সোফি ব্রোকাস জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবারই পূর্বের ১৪টি স্থানে নতুন করে আগুন জ্বলে উঠেছে। এখন পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন এলাকা থেকে দুই লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ধ্বংস হয়েছে অন্তত ২৪০টি বাড়িঘর।

পার্শ্ববর্তী স্প্যানিশ এবং পর্তুগিজ সীমান্ত এলাকাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে দাবানলের শিখা। তবে সবচেয়ে বেশি আঘাত এসেছে ফ্রান্সের বোর্দো অঞ্চলের আশপাশে। ঐতিহাসিক ওয়াইন উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত এই নগরের প্রায় ১৫ কিলোমিটার কাছে চলে এসেছিল আগুনের শিখা। বোর্দো শহরটি সরাসরি আগুনে পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে না থাকলেও সমগ্র নগরী ছেয়ে গেছে ঘন ছাই আর বিষাক্ত ধোঁয়ায়। বাসিন্দারা মাস্ক পরে বাইরে বের হচ্ছেন এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। ধোঁয়ার কারণে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়ায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে স্থানীয় রেস্তোরাঁ ও ওয়াইন শিল্প।

ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্তে নেমে গত ৬ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত ১৮৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বার অঞ্চলে আগুন লাগানোর অভিযোগে ২৩ বছর বয়সী এক তরুণকে আটক করা হয়েছে, যার ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। স্বাস্থ্য বিভাগ জনসাধারণকে ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। ভয়াবহ দাবদাহ এবং শুকনো বাতাসের কারণে পরিস্থিতি আরও কতদূর গড়ায়, তা নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে পুরো ইউরোপ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় নতুন দাবানল নিয়ে শঙ্কায় ফ্রান্স

আপডেট সময় ০২:১৫:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

প্রচণ্ড খরা আর ভয়াবহ দাবদাহের কবলে পড়ে ফ্রান্সে দাবানল পরিস্থিতির আবারও চরম অবনতি ঘটেছে। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জিরোন্দ বিভাগে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে দিনরাত লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন হাজার হাজার অগ্নিনির্বাপক কর্মী। এরই মধ্যে ওই অঞ্চলে চলতি গ্রীষ্মের চতুর্থ তাপদাহ শুরু হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর, যা তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।

ফরাসি ফায়ার ফাইটার্স ফেডারেশনের মুখপাত্র ব্রোকার্দি এই অসম লড়াইকে ‘ডেভিড বনাম গোলিয়াথ’-এর সংগ্রামের সাথে তুলনা করেছেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহে দেশজুড়ে আগুন নেভাতে গিয়ে তাদের চারজন সহকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। বর্তমানে শুধুমাত্র জিরোন্দ এলাকাতেই প্রায় দুই হাজার অগ্নিনির্বাপক সদস্য মোতায়েন রয়েছে। আঞ্চলিক প্রিফেক্ট সোফি ব্রোকাস জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবারই পূর্বের ১৪টি স্থানে নতুন করে আগুন জ্বলে উঠেছে। এখন পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন এলাকা থেকে দুই লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ধ্বংস হয়েছে অন্তত ২৪০টি বাড়িঘর।

পার্শ্ববর্তী স্প্যানিশ এবং পর্তুগিজ সীমান্ত এলাকাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে দাবানলের শিখা। তবে সবচেয়ে বেশি আঘাত এসেছে ফ্রান্সের বোর্দো অঞ্চলের আশপাশে। ঐতিহাসিক ওয়াইন উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত এই নগরের প্রায় ১৫ কিলোমিটার কাছে চলে এসেছিল আগুনের শিখা। বোর্দো শহরটি সরাসরি আগুনে পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে না থাকলেও সমগ্র নগরী ছেয়ে গেছে ঘন ছাই আর বিষাক্ত ধোঁয়ায়। বাসিন্দারা মাস্ক পরে বাইরে বের হচ্ছেন এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। ধোঁয়ার কারণে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়ায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে স্থানীয় রেস্তোরাঁ ও ওয়াইন শিল্প।

ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্তে নেমে গত ৬ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত ১৮৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বার অঞ্চলে আগুন লাগানোর অভিযোগে ২৩ বছর বয়সী এক তরুণকে আটক করা হয়েছে, যার ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। স্বাস্থ্য বিভাগ জনসাধারণকে ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। ভয়াবহ দাবদাহ এবং শুকনো বাতাসের কারণে পরিস্থিতি আরও কতদূর গড়ায়, তা নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে পুরো ইউরোপ।