ঢাকা ০৮:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জুলাইয়ের ২৮ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৬২ কোটি ডলার আরও দুই মামলায় জামিন পেলেন ব্যারিস্টার সুমন ওয়ানডেতে নেতৃত্ব হারালেন মিরাজ, নতুন অধিনায়ক লিটন সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার মিয়ানমার ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে: আনোয়ার ইব্রাহিম একজনের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করে অন্যের সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ভূমিকম্প বিষয়ক প্রস্তুতি সভা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরের অপেক্ষায় ভারত: দীনেশ ত্রিবেদী সব দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি এনসিপির ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন সিটি’ বাস্তবায়নে দুই সিটিকে গতি বাড়ানোর নির্দেশ

‘ভারতীয় শত্রুদের মতোই শত্রু কাশ্মীরের বিক্ষোভকারীরা’:পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) চলমান বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অভিযানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আবারও বিতর্কে জড়িয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তিনি বলেছেন, আজাদ কাশ্মীরের বিক্ষোভকারীদের তিনি ‘ভারতের মতোই শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করেন। খবর এনডিটিভির।

সামাজিক মাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে খাজা আসিফকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি আজাদ কাশ্মীরের বিক্ষোভকারীদের ভারত যেমন শত্রু, তেমনি শত্রু হিসেবেই দেখি।’

মন্তব্যটি এমন সময় এলো, যখন পিওকের রাওয়ালাকোট এলাকায় নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, গত দুদিনে পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৩২ কাশ্মীরি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৫ জুন থেকে শুরু হওয়া অস্থিরতায় এখন পর্যন্ত ৯০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এ সময় সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে মিরপুর শহরে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বেসামরিক মানুষের ওপর গুলি চালাতে এবং পরে নিহতদের লাশ গাড়িতে তুলে নিতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।

নিহতদের অধিকাংশই যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) সংশ্লিষ্ট কর্মী বলে জানানো হয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আন্দোলন করায় ইসলামাবাদ এ সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। নিহতদের মধ্যে জেএএসির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য উমর নাজিরের ছোট ভাই উসমান নাজিরও রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

জেএএসি ও অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, গুলির মুখে প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি করছেন সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন স্থানে সড়কে লাশ ও মোটরসাইকেল পড়ে থাকতে দেখা যায় বলেও পোস্টগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংগঠনটির দাবি, মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা রাস্তায় নেমেছিলেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেএএসি জানায়, মিরপুরে আরও পাঁচজন নিহত হয়েছেন এবং চুরহোইসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষ বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন।

আরেক পোস্টে সংগঠনটি অভিযোগ করে, রাওয়ালাকোটে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর পাকিস্তানি বাহিনী গোলাবর্ষণ ও গুলি চালিয়েছে। পাশাপাশি মিরপুর আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির তরুণ সদস্যদের লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনারও অভিযোগ তোলা হয়েছে।

জেএএসি আরও দাবি করেছে, ‘আমরা লাশ সংগ্রহ করছি, কিন্তু আজ যে ঘৃণার বীজ বপন করা হচ্ছে, তার পরিণতি কেউ সহ্য করতে পারবে না।’

এ ছাড়া পাকিস্তানের গণমাধ্যমের সমালোচনা করে সংগঠনটি বলেছে, তারা জোরপূর্বক রাওয়ালাকোটে প্রবেশ করেনি। বরং এটি তাদের নিজস্ব এলাকা, যা অবৈধভাবে দখল করে রাখা হয়েছে বলে তাদের দাবি। জেএএসি অভিযোগ করেছে, শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষের ওপর গোলাবর্ষণ ও গুলি চালিয়ে বহু মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাইয়ের ২৮ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৬২ কোটি ডলার

‘ভারতীয় শত্রুদের মতোই শত্রু কাশ্মীরের বিক্ষোভকারীরা’:পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

আপডেট সময় ১২:৩০:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) চলমান বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অভিযানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আবারও বিতর্কে জড়িয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তিনি বলেছেন, আজাদ কাশ্মীরের বিক্ষোভকারীদের তিনি ‘ভারতের মতোই শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করেন। খবর এনডিটিভির।

সামাজিক মাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে খাজা আসিফকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি আজাদ কাশ্মীরের বিক্ষোভকারীদের ভারত যেমন শত্রু, তেমনি শত্রু হিসেবেই দেখি।’

মন্তব্যটি এমন সময় এলো, যখন পিওকের রাওয়ালাকোট এলাকায় নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, গত দুদিনে পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৩২ কাশ্মীরি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৫ জুন থেকে শুরু হওয়া অস্থিরতায় এখন পর্যন্ত ৯০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এ সময় সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে মিরপুর শহরে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বেসামরিক মানুষের ওপর গুলি চালাতে এবং পরে নিহতদের লাশ গাড়িতে তুলে নিতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।

নিহতদের অধিকাংশই যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) সংশ্লিষ্ট কর্মী বলে জানানো হয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আন্দোলন করায় ইসলামাবাদ এ সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। নিহতদের মধ্যে জেএএসির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য উমর নাজিরের ছোট ভাই উসমান নাজিরও রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

জেএএসি ও অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, গুলির মুখে প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি করছেন সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন স্থানে সড়কে লাশ ও মোটরসাইকেল পড়ে থাকতে দেখা যায় বলেও পোস্টগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংগঠনটির দাবি, মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা রাস্তায় নেমেছিলেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেএএসি জানায়, মিরপুরে আরও পাঁচজন নিহত হয়েছেন এবং চুরহোইসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষ বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন।

আরেক পোস্টে সংগঠনটি অভিযোগ করে, রাওয়ালাকোটে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর পাকিস্তানি বাহিনী গোলাবর্ষণ ও গুলি চালিয়েছে। পাশাপাশি মিরপুর আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির তরুণ সদস্যদের লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনারও অভিযোগ তোলা হয়েছে।

জেএএসি আরও দাবি করেছে, ‘আমরা লাশ সংগ্রহ করছি, কিন্তু আজ যে ঘৃণার বীজ বপন করা হচ্ছে, তার পরিণতি কেউ সহ্য করতে পারবে না।’

এ ছাড়া পাকিস্তানের গণমাধ্যমের সমালোচনা করে সংগঠনটি বলেছে, তারা জোরপূর্বক রাওয়ালাকোটে প্রবেশ করেনি। বরং এটি তাদের নিজস্ব এলাকা, যা অবৈধভাবে দখল করে রাখা হয়েছে বলে তাদের দাবি। জেএএসি অভিযোগ করেছে, শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষের ওপর গোলাবর্ষণ ও গুলি চালিয়ে বহু মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।