ঢাকা ০৩:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রুমায় দুর্গম পাড়ায় হামের উপসর্গে ১৫ দিনে ৮ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪১ মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী সারের ঘাটতি নেই, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা: কৃষিমন্ত্রী ছাত্রলীগের প্রতি মায়াকান্না দেখানো সাংবাদিকদের জড়ো করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ পক্ষপাতদুষ্ট নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে: গোলাম পরওয়ার বাংলাদেশকে ‘কম দামে’ ইউরিয়া সার দিতে চায় রাশিয়া প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে : ডিএনসিসি প্রশাসক নতুন আরেকটি সিটি করপোরেশন হচ্ছে ধর্ষকদের রক্ষাকারীকে শিক্ষামন্ত্রী বানিয়েছে মোদি সরকার: রাহুল গান্ধী

মৃত্যুর চার দিন পর ঘর থেকে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার, স্ত্রী আইসিইউতে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জীবনের দীর্ঘ সময় প্রবাসে কাটিয়েছেন। কঠোর পরিশ্রমে তিন ছেলেকে বিদেশে প্রতিষ্ঠিতও করেছেন। শেষ বয়সে নিজের জন্মভিটায় ফিরেছিলেন হয়তো শান্তিতে কাটবে বাকি জীবন। কিন্তু সেই জীবন শেষ হলো একাকিত্বের নির্মম পরিণতিতে। মৃত্যুর পর চার দিন ধরে ঘরে পড়ে ছিল তার মরদেহ। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিবেশীদের সন্দেহ হলে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে অর্ধগলিত লাশ।

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের নগরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। মৃত আবদুর রহমান (৬৫) ওই এলাকার মৃত কালা মিয়া সওদাগরের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আবদুর রহমানের তিন ছেলে দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে বসবাস করছেন। স্ত্রীও বর্তমানে বিদেশের একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। প্রায় এক বছর আগে আবদুর রহমান দেশে ফিরে নিজ বাড়িতে একাই বসবাস শুরু করেন। রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন সব কাজ নিজেই করতেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গত শুক্রবার সর্বশেষ তাকে এলাকায় দেখা যায়। এরপর আর তার কোনো খোঁজ মেলেনি। ঘরের দরজা বন্ধ থাকলেও বিষয়টি প্রথমে কেউ গুরুত্ব দেননি। কয়েক দিন পর ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে গ্রাম পুলিশকে জানানো হলে বিষয়টি থানায় পৌঁছায়।

সোমবার রাতে চন্দনাইশ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দরজা খুলে আবদুর রহমানের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। উদ্ধারকাজে গাউসিয়া কমিটির চন্দনাইশ মানবিক টিমও সহযোগিতা করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

গাউসিয়া কমিটির চন্দনাইশ মানবিক টিমের প্রধান ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা সোলাইন ফারুকী বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশের অনুমতি নিয়ে মানবিক টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধারে সহায়তা করে।’

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর রহমান বলেন, ‘ব্যক্তিগত ও সামাজিক নানা কারণে আবদুর রহমান অনেকটা নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করতেন। কয়েক দিন তাকে না দেখলেও কেউ তার খোঁজ নিতে যাননি। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি সামনে আসে।’

চন্দনাইশ থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. লিটন মিয়া জানান, গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। মঙ্গলবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আত্মীয়দের দাবি, গত বৃহস্পতিবার ছেলেদের সঙ্গে তার সর্বশেষ কথা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার রাতে স্ট্রোক বা অন্য কোনো কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রুমায় দুর্গম পাড়ায় হামের উপসর্গে ১৫ দিনে ৮ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪১

মৃত্যুর চার দিন পর ঘর থেকে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার, স্ত্রী আইসিইউতে

আপডেট সময় ০৮:১০:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জীবনের দীর্ঘ সময় প্রবাসে কাটিয়েছেন। কঠোর পরিশ্রমে তিন ছেলেকে বিদেশে প্রতিষ্ঠিতও করেছেন। শেষ বয়সে নিজের জন্মভিটায় ফিরেছিলেন হয়তো শান্তিতে কাটবে বাকি জীবন। কিন্তু সেই জীবন শেষ হলো একাকিত্বের নির্মম পরিণতিতে। মৃত্যুর পর চার দিন ধরে ঘরে পড়ে ছিল তার মরদেহ। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিবেশীদের সন্দেহ হলে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে অর্ধগলিত লাশ।

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের নগরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। মৃত আবদুর রহমান (৬৫) ওই এলাকার মৃত কালা মিয়া সওদাগরের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আবদুর রহমানের তিন ছেলে দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে বসবাস করছেন। স্ত্রীও বর্তমানে বিদেশের একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। প্রায় এক বছর আগে আবদুর রহমান দেশে ফিরে নিজ বাড়িতে একাই বসবাস শুরু করেন। রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন সব কাজ নিজেই করতেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গত শুক্রবার সর্বশেষ তাকে এলাকায় দেখা যায়। এরপর আর তার কোনো খোঁজ মেলেনি। ঘরের দরজা বন্ধ থাকলেও বিষয়টি প্রথমে কেউ গুরুত্ব দেননি। কয়েক দিন পর ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে গ্রাম পুলিশকে জানানো হলে বিষয়টি থানায় পৌঁছায়।

সোমবার রাতে চন্দনাইশ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দরজা খুলে আবদুর রহমানের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। উদ্ধারকাজে গাউসিয়া কমিটির চন্দনাইশ মানবিক টিমও সহযোগিতা করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

গাউসিয়া কমিটির চন্দনাইশ মানবিক টিমের প্রধান ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা সোলাইন ফারুকী বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশের অনুমতি নিয়ে মানবিক টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধারে সহায়তা করে।’

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর রহমান বলেন, ‘ব্যক্তিগত ও সামাজিক নানা কারণে আবদুর রহমান অনেকটা নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করতেন। কয়েক দিন তাকে না দেখলেও কেউ তার খোঁজ নিতে যাননি। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি সামনে আসে।’

চন্দনাইশ থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. লিটন মিয়া জানান, গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। মঙ্গলবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আত্মীয়দের দাবি, গত বৃহস্পতিবার ছেলেদের সঙ্গে তার সর্বশেষ কথা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার রাতে স্ট্রোক বা অন্য কোনো কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।