ঢাকা ০৪:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চা শিল্পের বিকাশে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন না হলে এমপিগিরি ছেড়ে দেব: ফজলুর রহমান পরের বিশ্বকাপে বিজ্ঞাপন থেকেই আয় করতে চায় সরকার: তথ্যমন্ত্রী বঙ্গভবন ছাড়লেন মো. সাহাবুদ্দিন রাশিয়াকে আরও ৩০ হাজার সেনা দিচ্ছে উত্তর কোরিয়া, দাবি জেলেনস্কির রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল : স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চাইবে ইসি নেত্রকোনায় নিজ ঘর থেকে যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার প্রয়োজন হলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেব: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বনিবনা না হলে কবে আবার তিনিও জামায়াত থেকে বের হয়ে যান: রাশেদ খাঁন একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক পুলিশ কর্মকর্তার, বিচার দাবি স্ত্রীর

প্রেস ডিনারে ট্রাম্পের তীব্র আক্রমণাত্মক ভাষণ, অস্বস্তিতে সাংবাদিকরা

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সমিতির বার্ষিক নৈশভোজের পুনরায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিক ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের উদ্দেশে একের পর এক তীব্র ব্যক্তিগত আক্রমণ ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ছুড়ে দেন। প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময়ের এই ভাষণে করতালির চেয়ে বেশি ছিল স্তব্ধ নীরবতা—যা উপস্থিতদের অস্বস্তিই প্রকাশ করে।

এর আগে প্রথমবারের আয়োজনে বন্দুকধারীর হামলার চেষ্টায় অনুষ্ঠানটি ভণ্ডুল হয়ে যায়। সেই ঘটনার পর গত শুক্রবার নতুন করে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ট্রাম্প আবারও সাংবাদিকদের সামনে হাজির হন। তবে তিনি প্রশাসনের তথ্য ফাঁস রোধে সাংবাদিকদেরই চাপের মুখে রাখার পক্ষে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, মঞ্চের সামনের সারিতে বসেছিলেন এমন সাংবাদিকরা, যারা দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্প প্রশাসনকে সমালোচনামূলকভাবে কভার করে আসছেন—যাদের সামনে সাধারণত ট্রাম্প খুব কমই বক্তব্য দেন। ফলে পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে তারা পেশাগত নিরপেক্ষতা বজায় রেখে নিরাবেগভাবে তার বক্তব্য শোনেন।

হালকা রসিকতা থেকে তীব্র আক্রমণ:

শুরুর দিকে কয়েকটি হালকা রসিকতা উপস্থিতদের মধ্যে সামান্য হাসির রেশ তৈরি করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই ভাষণের সুর বদলে যায়। এরপর তিনি ধারাবাহিকভাবে সাংবাদিক, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও পরিচিত ব্যক্তিদের নিয়ে কটাক্ষ শুরু করেন—যা তার নির্বাচনী সমাবেশের ভাষণের চেয়েও বেশি আক্রমণাত্মক বলে মনে হয়।

সিএনএনের সাংবাদিক ক্যাটলান কলিন্সকে নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, একসময় তাকে ট্রান্সজেন্ডার সোশ্যাল মিডিয়া তারকা ডিলান মুলভেনির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেছিলেন। এরপর কলিন্সের চেহারা নিয়েও মন্তব্য করেন। এ ছাড়া তিনি কৌতুকের ছলে হোয়াইট হাউসে লড়াই আয়োজনের কথা বলেন এবং সাবেক গভর্নর ক্রিস ক্রিস্টি ও কংগ্রেসম্যান জেরি ন্যাডলারকে নিয়ে ব্যঙ্গ করেন—যার পর পুরো হলরুমে নেমে আসে অস্বস্তিকর নীরবতা।

ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর অ্যাডাম শিফকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প তাকে ‘মিথ্যাবাদী’ আখ্যা দিয়ে অবমাননাকর উপাধি ব্যবহার করেন। এসব মন্তব্যে উপস্থিতদের অনেকেই অস্বস্তি প্রকাশ করলেও খুব কম মানুষই প্রতিক্রিয়া জানান।

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান:

অনুষ্ঠানটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয়, যখন জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ জোরদার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ডিনারের কয়েক ঘণ্টা আগে ওভাল অফিসে ট্রাম্প বলেন, তথ্য ফাঁসকারীদের ধরতে সাংবাদিকদের ব্যবহার করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তার ভাষায়, সাংবাদিকদেরও বুঝতে হবে—এ ধরনের তথ্য প্রকাশ করা উচিত নয়।

তিনি আরও জানান, নিউইয়র্ক টাইমস-এর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সমন প্রত্যাহার করা হলেও বিষয়টি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি এবং তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হবে।

প্রচলিত রীতির বাইরে এক ডিনার:

ঐতিহ্যগতভাবে এই নৈশভোজে প্রেসিডেন্টরা নিজেদের নিয়েও রসিকতা করেন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে হালকা পরিবেশে কথা বলেন। কিন্তু এদিন ট্রাম্প নিজের প্রশাসনের চেয়ে বেশি সময় ব্যয় করেন সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সমালোচনায়। তিনি সরাসরি বলেন, এখানে ‘ট্রাম্পবিরোধী মানুষের সবচেয়ে বড় সমাবেশ’ হয়েছে এবং তিনি সমালোচনা করতে দ্বিধা করবেন না।

ওবামার প্রসঙ্গ ও পুরোনো স্মৃতি:

ভাষণের এক পর্যায়ে ট্রাম্প সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে ওবামা তার নাগরিকত্ব নিয়ে ট্রাম্পের দাবিকে ঘিরে কৌতুক করেছিলেন। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, ওই ঘটনাই ট্রাম্পকে নির্বাচনী রাজনীতিতে নামতে প্রভাবিত করেছিল। তবে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি বরং ওই অনুষ্ঠানের প্রচারই উপভোগ করেছিলেন।

সাংবাদিক সংগঠনের সমালোচনা:

অনুষ্ঠানের আগে সোসাইটি অব প্রফেশনাল জার্নালিস্টস (এসপিজে) এক খোলা চিঠিতে হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সমিতিকে ট্রাম্প প্রশাসনের সাংবাদিকবিরোধী অবস্থানের সমালোচনা করার আহ্বান জানায়। তাদের বক্তব্য, যে ব্যক্তি ধারাবাহিকভাবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হানছেন, তার উপস্থিতিতে সেই স্বাধীনতার উদযাপন ভণ্ডামির সামিল।

নিরাপত্তা ও হামলার স্মৃতি:

গত ২৫ এপ্রিল ওয়াশিংটনের ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলে অনুষ্ঠানের আগে বন্দুকধারীর হামলার চেষ্টার ঘটনায় নৈশভোজ বন্ধ হয়ে যায়। ওই ঘটনায় ৩১ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্টকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে এবারের অনুষ্ঠান ওয়ালডর্ফ অ্যাস্টোরিয়া হোটেলে সীমিত পরিসরে আয়োজিত হয়, যেখানে অতিথির সংখ্যা ৭০০-এর কম রাখা হয়।

ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বুলেটপ্রুফ ভেস্ট পরা নিয়ে রসিকতাও করেন, যা মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।

নতুন বিতর্কের জন্ম:

এপ্রিলের হামলার পর অল্প সময়ের জন্য ট্রাম্পের ভাষায় কিছুটা সংযম দেখা গেলেও খুব দ্রুতই তিনি আবার আগের অবস্থানে ফিরে যান। সম্প্রতি নির্বাচনী অখণ্ডতা নিয়ে তার ভাষণ সম্প্রচার না করায় কয়েকটি টেলিভিশন নেটওয়ার্কের লাইসেন্স বাতিলের আহ্বান এবং সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের উদ্যোগ নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।

সব মিলিয়ে, সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌহার্দ্যের প্রতীক এই ঐতিহ্যবাহী নৈশভোজ এ বছর পরিণত হয়েছে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক ভাষাশৈলী এবং ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে নতুন বিতর্কের কেন্দ্রে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তাসকিনের বদলি হিসেবে এলপিএলে হৃদয়

প্রেস ডিনারে ট্রাম্পের তীব্র আক্রমণাত্মক ভাষণ, অস্বস্তিতে সাংবাদিকরা

আপডেট সময় ১১:১০:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সমিতির বার্ষিক নৈশভোজের পুনরায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিক ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের উদ্দেশে একের পর এক তীব্র ব্যক্তিগত আক্রমণ ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ছুড়ে দেন। প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময়ের এই ভাষণে করতালির চেয়ে বেশি ছিল স্তব্ধ নীরবতা—যা উপস্থিতদের অস্বস্তিই প্রকাশ করে।

এর আগে প্রথমবারের আয়োজনে বন্দুকধারীর হামলার চেষ্টায় অনুষ্ঠানটি ভণ্ডুল হয়ে যায়। সেই ঘটনার পর গত শুক্রবার নতুন করে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ট্রাম্প আবারও সাংবাদিকদের সামনে হাজির হন। তবে তিনি প্রশাসনের তথ্য ফাঁস রোধে সাংবাদিকদেরই চাপের মুখে রাখার পক্ষে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, মঞ্চের সামনের সারিতে বসেছিলেন এমন সাংবাদিকরা, যারা দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্প প্রশাসনকে সমালোচনামূলকভাবে কভার করে আসছেন—যাদের সামনে সাধারণত ট্রাম্প খুব কমই বক্তব্য দেন। ফলে পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে তারা পেশাগত নিরপেক্ষতা বজায় রেখে নিরাবেগভাবে তার বক্তব্য শোনেন।

হালকা রসিকতা থেকে তীব্র আক্রমণ:

শুরুর দিকে কয়েকটি হালকা রসিকতা উপস্থিতদের মধ্যে সামান্য হাসির রেশ তৈরি করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই ভাষণের সুর বদলে যায়। এরপর তিনি ধারাবাহিকভাবে সাংবাদিক, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও পরিচিত ব্যক্তিদের নিয়ে কটাক্ষ শুরু করেন—যা তার নির্বাচনী সমাবেশের ভাষণের চেয়েও বেশি আক্রমণাত্মক বলে মনে হয়।

সিএনএনের সাংবাদিক ক্যাটলান কলিন্সকে নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, একসময় তাকে ট্রান্সজেন্ডার সোশ্যাল মিডিয়া তারকা ডিলান মুলভেনির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেছিলেন। এরপর কলিন্সের চেহারা নিয়েও মন্তব্য করেন। এ ছাড়া তিনি কৌতুকের ছলে হোয়াইট হাউসে লড়াই আয়োজনের কথা বলেন এবং সাবেক গভর্নর ক্রিস ক্রিস্টি ও কংগ্রেসম্যান জেরি ন্যাডলারকে নিয়ে ব্যঙ্গ করেন—যার পর পুরো হলরুমে নেমে আসে অস্বস্তিকর নীরবতা।

ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর অ্যাডাম শিফকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প তাকে ‘মিথ্যাবাদী’ আখ্যা দিয়ে অবমাননাকর উপাধি ব্যবহার করেন। এসব মন্তব্যে উপস্থিতদের অনেকেই অস্বস্তি প্রকাশ করলেও খুব কম মানুষই প্রতিক্রিয়া জানান।

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান:

অনুষ্ঠানটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয়, যখন জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ জোরদার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ডিনারের কয়েক ঘণ্টা আগে ওভাল অফিসে ট্রাম্প বলেন, তথ্য ফাঁসকারীদের ধরতে সাংবাদিকদের ব্যবহার করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তার ভাষায়, সাংবাদিকদেরও বুঝতে হবে—এ ধরনের তথ্য প্রকাশ করা উচিত নয়।

তিনি আরও জানান, নিউইয়র্ক টাইমস-এর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সমন প্রত্যাহার করা হলেও বিষয়টি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি এবং তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হবে।

প্রচলিত রীতির বাইরে এক ডিনার:

ঐতিহ্যগতভাবে এই নৈশভোজে প্রেসিডেন্টরা নিজেদের নিয়েও রসিকতা করেন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে হালকা পরিবেশে কথা বলেন। কিন্তু এদিন ট্রাম্প নিজের প্রশাসনের চেয়ে বেশি সময় ব্যয় করেন সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সমালোচনায়। তিনি সরাসরি বলেন, এখানে ‘ট্রাম্পবিরোধী মানুষের সবচেয়ে বড় সমাবেশ’ হয়েছে এবং তিনি সমালোচনা করতে দ্বিধা করবেন না।

ওবামার প্রসঙ্গ ও পুরোনো স্মৃতি:

ভাষণের এক পর্যায়ে ট্রাম্প সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে ওবামা তার নাগরিকত্ব নিয়ে ট্রাম্পের দাবিকে ঘিরে কৌতুক করেছিলেন। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, ওই ঘটনাই ট্রাম্পকে নির্বাচনী রাজনীতিতে নামতে প্রভাবিত করেছিল। তবে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি বরং ওই অনুষ্ঠানের প্রচারই উপভোগ করেছিলেন।

সাংবাদিক সংগঠনের সমালোচনা:

অনুষ্ঠানের আগে সোসাইটি অব প্রফেশনাল জার্নালিস্টস (এসপিজে) এক খোলা চিঠিতে হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সমিতিকে ট্রাম্প প্রশাসনের সাংবাদিকবিরোধী অবস্থানের সমালোচনা করার আহ্বান জানায়। তাদের বক্তব্য, যে ব্যক্তি ধারাবাহিকভাবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হানছেন, তার উপস্থিতিতে সেই স্বাধীনতার উদযাপন ভণ্ডামির সামিল।

নিরাপত্তা ও হামলার স্মৃতি:

গত ২৫ এপ্রিল ওয়াশিংটনের ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলে অনুষ্ঠানের আগে বন্দুকধারীর হামলার চেষ্টার ঘটনায় নৈশভোজ বন্ধ হয়ে যায়। ওই ঘটনায় ৩১ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্টকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে এবারের অনুষ্ঠান ওয়ালডর্ফ অ্যাস্টোরিয়া হোটেলে সীমিত পরিসরে আয়োজিত হয়, যেখানে অতিথির সংখ্যা ৭০০-এর কম রাখা হয়।

ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বুলেটপ্রুফ ভেস্ট পরা নিয়ে রসিকতাও করেন, যা মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।

নতুন বিতর্কের জন্ম:

এপ্রিলের হামলার পর অল্প সময়ের জন্য ট্রাম্পের ভাষায় কিছুটা সংযম দেখা গেলেও খুব দ্রুতই তিনি আবার আগের অবস্থানে ফিরে যান। সম্প্রতি নির্বাচনী অখণ্ডতা নিয়ে তার ভাষণ সম্প্রচার না করায় কয়েকটি টেলিভিশন নেটওয়ার্কের লাইসেন্স বাতিলের আহ্বান এবং সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের উদ্যোগ নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।

সব মিলিয়ে, সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌহার্দ্যের প্রতীক এই ঐতিহ্যবাহী নৈশভোজ এ বছর পরিণত হয়েছে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক ভাষাশৈলী এবং ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে নতুন বিতর্কের কেন্দ্রে।