ঢাকা ১০:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

পানিতে ঝাঁপ দিয়ে মেয়েকে বাঁচালেন, তবে ফিরলেন না বাবা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শুক্রবারটা ছিল আনন্দের। ঢাকার ব্যস্ততা ছেড়ে তিন মেয়েকে নিয়ে জন্মভূমি কিশোরগঞ্জে এসেছিলেন বাছির উদ্দিন মিলন। পরিকল্পনা ছিল হাওরের অপরূপ সৌন্দর্য দেখবেন, মেয়েদের নিয়ে কাটাবেন কিছু নির্ভার সময়। কিন্তু সেই বেড়ানোই শেষ পর্যন্ত পরিণত হলো এক হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডিতে।

হাওরের স্বচ্ছ পানিতে যখন বাবা-মেয়েরা নেমেছিলেন গোসল করতে, তখন হয়তো কেউ ভাবতেও পারেননি কয়েক মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু বদলে যাবে। হঠাৎই পানির নিচে থাকা পাকা সড়কের ঢালে পা পিছলে প্রবল স্রোতের টানে তলিয়ে যেতে শুরু করে মেজো মেয়ে শামন্তী। এক মুহূর্তও দেরি করেননি বাবা। নিজের জীবনের কথা না ভেবে ঝাঁপিয়ে পড়েন পানিতে। শুরু হয় স্রোতের সঙ্গে লড়াই। দীর্ঘ সময় প্রাণপণ চেষ্টা করে শেষ পর্যন্ত মেয়েকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন তিনি। কিন্তু ততক্ষণে নিঃশেষ হয়ে গেছে তার নিজের শক্তি। প্রবল স্রোতের সঙ্গে আর পেরে ওঠেননি বাছির উদ্দিন মিলন। ক্লান্ত, অবসন্ন শরীরটি ধীরে ধীরে ভেসে যায় গভীর পানির দিকে। যে বাবা কয়েক মুহূর্ত আগে নিজের সন্তানের জীবন বাঁচিয়েছিলেন, তিনিই হারিয়ে যান হাওরের পানিতে।

পরে মেয়েদের আর্তচিৎকারে ছুটে আসেন আশপাশের মানুষ। সবাই মিলে তাকে খুঁজতে শুরু করেন। দীর্ঘ চেষ্টার পর উদ্ধার করা গেলেও তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। মেয়ের প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়া মানুষটি আর নিজের জীবনে ফিরতে পারেননি।

নিহত বাছির উদ্দিন মিলন (৪২) কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল এলাকার বাসিন্দা। তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানায়, ব্যস্ত কর্মজীবনের ফাঁকে মেয়েদের নিয়ে কিছুটা সময় কাটাতেই তিনি কিশোরগঞ্জে এসেছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও কিশোরগঞ্জ ক্লিনিকের মালিক শাহাদাত কবীর মুকুল জানান, শুক্রবার মিলন পরিবার নিয়ে করিমগঞ্জের বালিখলা ঘাট হয়ে গভীর হাওরে যান। পরে মিঠামইন সীমান্তের হাসানপুর সেতু এলাকায় ঘুরতে গিয়ে সবাই পানিতে নামেন। সেখানেই ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান বলেন, মেয়েকে উদ্ধার করতে গিয়েই বাছির উদ্দিন মিলনের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার রাতেই জানাজা শেষে গাইটাল এলাকার পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পানিতে ঝাঁপ দিয়ে মেয়েকে বাঁচালেন, তবে ফিরলেন না বাবা

আপডেট সময় ০৮:২০:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শুক্রবারটা ছিল আনন্দের। ঢাকার ব্যস্ততা ছেড়ে তিন মেয়েকে নিয়ে জন্মভূমি কিশোরগঞ্জে এসেছিলেন বাছির উদ্দিন মিলন। পরিকল্পনা ছিল হাওরের অপরূপ সৌন্দর্য দেখবেন, মেয়েদের নিয়ে কাটাবেন কিছু নির্ভার সময়। কিন্তু সেই বেড়ানোই শেষ পর্যন্ত পরিণত হলো এক হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডিতে।

হাওরের স্বচ্ছ পানিতে যখন বাবা-মেয়েরা নেমেছিলেন গোসল করতে, তখন হয়তো কেউ ভাবতেও পারেননি কয়েক মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু বদলে যাবে। হঠাৎই পানির নিচে থাকা পাকা সড়কের ঢালে পা পিছলে প্রবল স্রোতের টানে তলিয়ে যেতে শুরু করে মেজো মেয়ে শামন্তী। এক মুহূর্তও দেরি করেননি বাবা। নিজের জীবনের কথা না ভেবে ঝাঁপিয়ে পড়েন পানিতে। শুরু হয় স্রোতের সঙ্গে লড়াই। দীর্ঘ সময় প্রাণপণ চেষ্টা করে শেষ পর্যন্ত মেয়েকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন তিনি। কিন্তু ততক্ষণে নিঃশেষ হয়ে গেছে তার নিজের শক্তি। প্রবল স্রোতের সঙ্গে আর পেরে ওঠেননি বাছির উদ্দিন মিলন। ক্লান্ত, অবসন্ন শরীরটি ধীরে ধীরে ভেসে যায় গভীর পানির দিকে। যে বাবা কয়েক মুহূর্ত আগে নিজের সন্তানের জীবন বাঁচিয়েছিলেন, তিনিই হারিয়ে যান হাওরের পানিতে।

পরে মেয়েদের আর্তচিৎকারে ছুটে আসেন আশপাশের মানুষ। সবাই মিলে তাকে খুঁজতে শুরু করেন। দীর্ঘ চেষ্টার পর উদ্ধার করা গেলেও তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। মেয়ের প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়া মানুষটি আর নিজের জীবনে ফিরতে পারেননি।

নিহত বাছির উদ্দিন মিলন (৪২) কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল এলাকার বাসিন্দা। তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানায়, ব্যস্ত কর্মজীবনের ফাঁকে মেয়েদের নিয়ে কিছুটা সময় কাটাতেই তিনি কিশোরগঞ্জে এসেছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও কিশোরগঞ্জ ক্লিনিকের মালিক শাহাদাত কবীর মুকুল জানান, শুক্রবার মিলন পরিবার নিয়ে করিমগঞ্জের বালিখলা ঘাট হয়ে গভীর হাওরে যান। পরে মিঠামইন সীমান্তের হাসানপুর সেতু এলাকায় ঘুরতে গিয়ে সবাই পানিতে নামেন। সেখানেই ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান বলেন, মেয়েকে উদ্ধার করতে গিয়েই বাছির উদ্দিন মিলনের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার রাতেই জানাজা শেষে গাইটাল এলাকার পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।