ঢাকা ০৮:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডেঙ্গুতে আরও তিনজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৪৫৮ নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে কাজ করছে সরকার : ভারপ্রাপ্ত স্পিকার চলতি অর্থবছরে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা, পণ্য বৈচিত্র্য, উদ্ভাবন ও গবেষণায় সরকারের প্রাধান্য: মাহ্দী আমিন অর্থনৈতিক কূটনীতিতে জোর দিচ্ছে সরকার : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জুলাইয়ের ২৫ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২২৯ কোটি ৯৪ লাখ ডলার ১৬ বছরে দেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে: আইনমন্ত্রী পশ্চিম তীরে আরও ব্যাপক হামলার হুঁশিয়ারি নেতানিয়াহুর বদির মেটিকুলাস ডিজাইনেই একরাম হত্যা : চিফ প্রসিকিউটর হরমুজে তেলের ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়াই কেন অনশন ভাঙলেন, জানালেন সোনম ওয়াংচুক

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া সত্ত্বেও ২৬ দিনের অনশন কেন প্রত্যাহার করলেন, সে বিষয়ে মুখ খুলেছেন পরিবেশ আন্দোলনকর্মী ও বিজ্ঞানী সোনম ওয়াংচুক। তিনি জানিয়েছেন, তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি পদক্ষেপ ঠেকানো।

শুক্রবার রাতে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ওয়াংচুক বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি আন্দোলনের অংশ হিসেবে বহাল থাকলেও অনশন চালিয়ে যাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা যদি আরও ঝুঁকিতে পড়ে, তবে সেটি তিনি চাননি। তাই সরকারের কাছ থেকে লিখিত আশ্বাস পাওয়ার পরই তিনি অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন।

গত ২৮ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অনশনে ছিলেন ৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের তদন্ত, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তিনি আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তিনি অনশন প্রত্যাহার করেন। এর আগে কেন্দ্রীয় সরকার লিখিতভাবে জানায়, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হবে না। একইসঙ্গে পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি সংসদে আলোচনার আশ্বাসও দেওয়া হয়। এছাড়া প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিবেচনার কথা জানানো হয়।

অনশন ভাঙার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা সমালোচনার মুখে পড়েন ওয়াংচুক। অনেকেই অভিযোগ তোলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নিশ্চিত না করেই তিনি আন্দোলন থেকে সরে এসেছেন।

এ বিষয়ে ওয়াংচুক বলেন, “কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করা আমার ব্যক্তিগত দায়িত্ব নয়। আমি চেয়েছি, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের যেন হয়রানির শিকার হতে না হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো এফআইআর দায়ের না করা হয়।”

তিনি আরও জানান, সরকারের সঙ্গে আলোচনার সময় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে সরকার আরও সময় চেয়েছে।

ওয়াংচুকের দাবি, জনগণের চাপ অব্যাহত থাকলে সরকার একসময় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে। তাই তিনি আন্দোলনের অন্যান্য দাবিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

সরকারের সঙ্গে গোপন সমঝোতার অভিযোগও নাকচ করেছেন তিনি। ওয়াংচুক বলেন, “যদি সমঝোতাই করতে হতো, তাহলে ২৬ দিন না খেয়ে অনশনে থাকার প্রয়োজন ছিল না। সহজ পথ বেছে নেওয়ার সুযোগ আমার সামনে ছিল।”

তিনি জানান, অনশন ভাঙার আগে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার বিস্তারিত আলোচনা হয়। তবে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা না করার লিখিত নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি।

এদিকে, অনশন ভাঙার সময় আন্দোলনের সহযোদ্ধা, শিক্ষার্থী ও সমর্থকদের অনেকেই তার পাশে থাকতে পারেননি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন ওয়াংচুক। তার ভাষায়, অনশন চলাকালে যারা তাকে সমর্থন দিয়েছেন, তাদের অনুপস্থিতিই ছিল তার সবচেয়ে বড় কষ্ট।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি এখনো শেষ হয়ে যায়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ওয়াংচুকের মতে, এ দাবি আন্দোলনের মধ্য দিয়েই সামনে এগিয়ে যাবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গুতে আরও তিনজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৪৫৮

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়াই কেন অনশন ভাঙলেন, জানালেন সোনম ওয়াংচুক

আপডেট সময় ০১:০৫:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া সত্ত্বেও ২৬ দিনের অনশন কেন প্রত্যাহার করলেন, সে বিষয়ে মুখ খুলেছেন পরিবেশ আন্দোলনকর্মী ও বিজ্ঞানী সোনম ওয়াংচুক। তিনি জানিয়েছেন, তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি পদক্ষেপ ঠেকানো।

শুক্রবার রাতে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ওয়াংচুক বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি আন্দোলনের অংশ হিসেবে বহাল থাকলেও অনশন চালিয়ে যাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা যদি আরও ঝুঁকিতে পড়ে, তবে সেটি তিনি চাননি। তাই সরকারের কাছ থেকে লিখিত আশ্বাস পাওয়ার পরই তিনি অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন।

গত ২৮ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অনশনে ছিলেন ৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের তদন্ত, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তিনি আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তিনি অনশন প্রত্যাহার করেন। এর আগে কেন্দ্রীয় সরকার লিখিতভাবে জানায়, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হবে না। একইসঙ্গে পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি সংসদে আলোচনার আশ্বাসও দেওয়া হয়। এছাড়া প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিবেচনার কথা জানানো হয়।

অনশন ভাঙার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা সমালোচনার মুখে পড়েন ওয়াংচুক। অনেকেই অভিযোগ তোলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নিশ্চিত না করেই তিনি আন্দোলন থেকে সরে এসেছেন।

এ বিষয়ে ওয়াংচুক বলেন, “কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করা আমার ব্যক্তিগত দায়িত্ব নয়। আমি চেয়েছি, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের যেন হয়রানির শিকার হতে না হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো এফআইআর দায়ের না করা হয়।”

তিনি আরও জানান, সরকারের সঙ্গে আলোচনার সময় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে সরকার আরও সময় চেয়েছে।

ওয়াংচুকের দাবি, জনগণের চাপ অব্যাহত থাকলে সরকার একসময় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে। তাই তিনি আন্দোলনের অন্যান্য দাবিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

সরকারের সঙ্গে গোপন সমঝোতার অভিযোগও নাকচ করেছেন তিনি। ওয়াংচুক বলেন, “যদি সমঝোতাই করতে হতো, তাহলে ২৬ দিন না খেয়ে অনশনে থাকার প্রয়োজন ছিল না। সহজ পথ বেছে নেওয়ার সুযোগ আমার সামনে ছিল।”

তিনি জানান, অনশন ভাঙার আগে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার বিস্তারিত আলোচনা হয়। তবে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা না করার লিখিত নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি।

এদিকে, অনশন ভাঙার সময় আন্দোলনের সহযোদ্ধা, শিক্ষার্থী ও সমর্থকদের অনেকেই তার পাশে থাকতে পারেননি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন ওয়াংচুক। তার ভাষায়, অনশন চলাকালে যারা তাকে সমর্থন দিয়েছেন, তাদের অনুপস্থিতিই ছিল তার সবচেয়ে বড় কষ্ট।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি এখনো শেষ হয়ে যায়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ওয়াংচুকের মতে, এ দাবি আন্দোলনের মধ্য দিয়েই সামনে এগিয়ে যাবে।