ঢাকা ০৯:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইন ও আচরণ বিধিমালার সংশোধনী চূড়ান্ত করতে বৈঠকে ইসি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আইন ও আচরণ বিধিমালার সংশোধনী চূড়ান্ত করতে কমিশন সভায় বসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে এই সভা শুরু হয়েছে। এটি ইসির ১২তম কমিশন সভা।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।

আজকের কমিশন সভায় সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ আইনে সংশোধনী আনতে সরকারকে অনুরোধ জানানোর প্রস্তাব চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। একইভাবে ইউনিয়ন পরিষদ আচরণ বিধিমালার সংশোধনীও চূড়ান্ত হতে পারে।

সভার আলোচ্যসূচির বিষয়ে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনে আইন ও আচরণ বিধিমালা সংশোধনের বিষয়টি কমিশন সভায় উত্থাপন করা হবে। এক্ষেত্রে কমিশন যেটা আলোচনা করতে চাইবে, সেটা আলোচনা করবে।

স্থানীয় সরকারের নির্বাচন আইন সংশোধনে যেসব সুপারিশ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ইসি, তার মধ্যে রয়েছে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা; সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে সেনাবাহিনী যুক্ত করা; দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়া; আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত ব্যক্তিদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা; ঋণখেলাপি, বিলখেলাপি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার ও পরিচালকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়া; নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠন; আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন করলে সাজা বাড়ানো প্রভৃতি।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত হলে সংশ্লিষ্ট আইনগুলো সংশোধনের জন্য সুপারিশ আকারে সরকারের কাছে পাঠানো হবে। আর আইন পরিবর্তন করতে হলে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন শেষে সংসদে পাস হতে হবে। সংসদ অধিবেশন না থাকলে সরকার চাইলে অধ্যাদেশ জারি করতে পারে। তবে পরবর্তী সময়ে ওই অধ্যাদেশকে সংসদের অনুমোদন নিয়ে সংশোধিত আইন হিসেবে পাস করতে হবে।

ইসি সূত্রে জানা যায়, কমিশন সভায় আইন পর্যালোচনার পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আচরণ বিধিমালা পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আর সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা নির্বাচনের আচরণ বিধিমালার বিষয়ে আরেকটি সভার প্রয়োজন হতে পারে।

আসন্ন স্থানীয় সরকারের সব পর্যায়ের নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে হবে। সেজন্য নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা পরিবর্তন করতে হবে। সেখানে নির্বাচনের প্রচারে পোস্টার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, বিলবোর্ড এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে প্রচার চালানোসহ বেশকিছু সংশোধনী আনা হচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আইন ও আচরণ বিধিমালার সংশোধনী চূড়ান্ত করতে বৈঠকে ইসি

আপডেট সময় ০১:১০:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আইন ও আচরণ বিধিমালার সংশোধনী চূড়ান্ত করতে কমিশন সভায় বসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে এই সভা শুরু হয়েছে। এটি ইসির ১২তম কমিশন সভা।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।

আজকের কমিশন সভায় সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ আইনে সংশোধনী আনতে সরকারকে অনুরোধ জানানোর প্রস্তাব চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। একইভাবে ইউনিয়ন পরিষদ আচরণ বিধিমালার সংশোধনীও চূড়ান্ত হতে পারে।

সভার আলোচ্যসূচির বিষয়ে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনে আইন ও আচরণ বিধিমালা সংশোধনের বিষয়টি কমিশন সভায় উত্থাপন করা হবে। এক্ষেত্রে কমিশন যেটা আলোচনা করতে চাইবে, সেটা আলোচনা করবে।

স্থানীয় সরকারের নির্বাচন আইন সংশোধনে যেসব সুপারিশ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ইসি, তার মধ্যে রয়েছে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা; সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে সেনাবাহিনী যুক্ত করা; দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়া; আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত ব্যক্তিদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা; ঋণখেলাপি, বিলখেলাপি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার ও পরিচালকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়া; নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠন; আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন করলে সাজা বাড়ানো প্রভৃতি।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত হলে সংশ্লিষ্ট আইনগুলো সংশোধনের জন্য সুপারিশ আকারে সরকারের কাছে পাঠানো হবে। আর আইন পরিবর্তন করতে হলে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন শেষে সংসদে পাস হতে হবে। সংসদ অধিবেশন না থাকলে সরকার চাইলে অধ্যাদেশ জারি করতে পারে। তবে পরবর্তী সময়ে ওই অধ্যাদেশকে সংসদের অনুমোদন নিয়ে সংশোধিত আইন হিসেবে পাস করতে হবে।

ইসি সূত্রে জানা যায়, কমিশন সভায় আইন পর্যালোচনার পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আচরণ বিধিমালা পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আর সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা নির্বাচনের আচরণ বিধিমালার বিষয়ে আরেকটি সভার প্রয়োজন হতে পারে।

আসন্ন স্থানীয় সরকারের সব পর্যায়ের নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে হবে। সেজন্য নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা পরিবর্তন করতে হবে। সেখানে নির্বাচনের প্রচারে পোস্টার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, বিলবোর্ড এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে প্রচার চালানোসহ বেশকিছু সংশোধনী আনা হচ্ছে।