আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
রাজধানীর মধ্য বাড্ডা এলাকায় প্রায় ৯ বছর আগে স্ত্রীকে গলাকেটে হত্যার দায়ে স্বামী মনির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. সাদেকীন হাবীব বাপ্পী এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি মনির আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকের আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আবুল কাশেম। তিনি জানান, মনির জামিনে ছিলেন। গত ১৪ জুলাই যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত আজ রায়ের দিন ধার্য করে দেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালে মনির হোসেনের সঙ্গে শাকির খাতুন সোমার বিয়ে হয়। তাদের একটি মেয়ে হয়। এক পর্যায়ে মনির ও তার পরিবারের সদস্যরা সোমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে শুরু করেন। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সোমা তা মেনে নেন। মনির ব্যবসার কথা বলে সোমাকে টাকার জন্য চাপ দিতেন। সোমার পরিবার বিভিন্ন সময় তাকে ১১ লাখ টাকা দেন। কিন্তু আরও টাকার জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন মনির।
২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি মারধর করে স্ত্রীকে বাসা থেকে বের করে দেন। সোমা তার মায়ের বাসা বাড্ডায় চলে যান। আর কখনো এমন করবেন না-এমন অঙ্গীকার দিয়ে সোমাকে কয়েকদিন পর নিয়ে আসেন মনির। তারপরও নির্যাতন কমেনি। ওই বছরের ৬ অক্টোবর দুপুরে টাকা-পয়সা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া বাধে। একপর্যায়ে সোমার গলায় ধারালো অস্ত্র চালান মনির। সোমার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় সোমার মা মোসা. আক্তার বানু ওইদিনই বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মনিরকে গ্রেপ্তার পুলিশ। পরে তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্ত শেষে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। ২০১৮ সালের ১৭ মে অভিযোগ গঠন করে মনিরের বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। বিচার চলাকালে আদালত ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের জবানবন্দি শোনেন। আসামির আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন বিচারক।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















