ঢাকা ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়: প্রধানমন্ত্রী ‘যুগপৎ আন্দোলনের সময় ঘোষিত ৩১ দফা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে’:মির্জা ফখরুল পুষ্টি ও সুস্বাস্থ্যেই গড়ে উঠবে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ: আমিনুল হক বাধ্যতামূলক অবসরে অতিরিক্ত ডিআইজি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে রাশেদ খাঁনের শ্রদ্ধা নিবেদন মার্কিন সেনা হত্যার জন্য ইরানকে বহুগুণ বেশি মূল্য চোকাতে হবে: ট্রাম্প প্রতিটি কর্মঘণ্টা ও করের প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে:জনপ্রশাসন উপদেষ্টা জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন ‘জেন্টলম্যান ফর এক্সেলেন্স’: প্রধান বিচারপতি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিমসটেকের সক্রিয় ভূমিকা চায় ঢাকা কাপ্তাই হৃদে নিখোঁজ বিএনপি নেতার লাশ উদ্ধার

মঙ্গলে ৩৯০ কোটি বছরের পুরোনো শিলার সন্ধান

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

লাল গ্রহ মঙ্গলের প্রাচীন ইতিহাস সম্পর্কে নতুন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচন করেছে নাসার ‘পারসিভারেন্স রোভার’। জেজেরো খাদের প্রান্তে ২৪৫ ফুট পুরু এক বিশাল শিলাস্তরের সন্ধান পেয়েছে এই রোভার। নাসার মতে, মূলত বারবার গ্রহাণুর আঘাতেই তৈরি হয়েছে এই স্তর।

রোভারের বিজ্ঞানীদের দল এই শিলাস্তরের নাম দিয়েছেন ‘ব্রুম পয়েন্ট মেম্বার’। ধারণা করা হচ্ছে, এটি প্রায় ৩৯০ কোটি বছরের পুরোনো। মঙ্গলে এখন পর্যন্ত পরীক্ষিত সবচেয়ে প্রাচীন ভূখণ্ডের মধ্যে এটি অন্যতম।

বুধবার ‘জার্নাল অব জিওফিজিক্যাল রিসার্চ: প্ল্যানেটস’-এ প্রকাশিত এই গবেষণার তথ্য সৌরজগতের ইতিহাসের সবচেয়ে সংঘাতময় একটি সময়ের ধারণা দেয়।

এই আবিষ্কারের বিষয়ে পারসিভারেন্স প্রকল্পের বিজ্ঞানী কেন ফার্লে জানান, পৃথিবীর প্রাচীন ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস টেকটোনিক প্লেটের কারণে মুছে গেছে। তবে মঙ্গলে টেকটোনিক প্লেট না থাকায় সেই রেকর্ড এখনও অক্ষত রয়েছে। ফলে বিজ্ঞানীরা এমন এক ভূতাত্ত্বিক সময়ের দেখা পাচ্ছেন, যা পৃথিবীতে আর অবশিষ্ট নেই।

২০২৪ সালের শেষের দিকে রোভারটি এই অঞ্চলে গবেষণা শুরু করে। সেখানে সংগৃহীত তথ্যে ছয় ধরনের শিলার উপস্থিতি পাওয়া যায়।

গবেষকরা জানান, শিলাগুলোতে প্রচুর পরিমাণে কাচের মতো দেখতে ছোট ছোট গুটিকা বা বিড রয়েছে। এগুলো মূলত শক্তিশালী গ্রহাণুর আঘাতের ফলেই তৈরি হয়। এখানকার কিছু গুটিকা পৃথিবীতে ডাইনোসর বিলুপ্তকারী ‘চিকসুলুব’ গ্রহাণুর আঘাতে সৃষ্ট গুটিকাগুলোর মতোই বড়।

গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক অ্যালেক্স জোনস জানান, বিভিন্ন দূরত্বে ঘটা নানা আকারের গ্রহাণুর আঘাতের ফলেই এই পুরু শিলাস্তরগুলো জমা হয়েছে। এছাড়া, স্তরগুলো তৈরির পেছনে পানি বা বরফেরও সম্পর্ক থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা। পৃথিবীতে গলিত শিলা পানি বা বরফের সংস্পর্শে এলে যেমন দ্রুতগতির প্রবাহ তৈরি হয়, মঙ্গলের এই স্তরগুলোর ক্ষেত্রেও হয়তো তেমনটিই ঘটেছিল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়: প্রধানমন্ত্রী

মঙ্গলে ৩৯০ কোটি বছরের পুরোনো শিলার সন্ধান

আপডেট সময় ০৯:২০:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

লাল গ্রহ মঙ্গলের প্রাচীন ইতিহাস সম্পর্কে নতুন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচন করেছে নাসার ‘পারসিভারেন্স রোভার’। জেজেরো খাদের প্রান্তে ২৪৫ ফুট পুরু এক বিশাল শিলাস্তরের সন্ধান পেয়েছে এই রোভার। নাসার মতে, মূলত বারবার গ্রহাণুর আঘাতেই তৈরি হয়েছে এই স্তর।

রোভারের বিজ্ঞানীদের দল এই শিলাস্তরের নাম দিয়েছেন ‘ব্রুম পয়েন্ট মেম্বার’। ধারণা করা হচ্ছে, এটি প্রায় ৩৯০ কোটি বছরের পুরোনো। মঙ্গলে এখন পর্যন্ত পরীক্ষিত সবচেয়ে প্রাচীন ভূখণ্ডের মধ্যে এটি অন্যতম।

বুধবার ‘জার্নাল অব জিওফিজিক্যাল রিসার্চ: প্ল্যানেটস’-এ প্রকাশিত এই গবেষণার তথ্য সৌরজগতের ইতিহাসের সবচেয়ে সংঘাতময় একটি সময়ের ধারণা দেয়।

এই আবিষ্কারের বিষয়ে পারসিভারেন্স প্রকল্পের বিজ্ঞানী কেন ফার্লে জানান, পৃথিবীর প্রাচীন ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস টেকটোনিক প্লেটের কারণে মুছে গেছে। তবে মঙ্গলে টেকটোনিক প্লেট না থাকায় সেই রেকর্ড এখনও অক্ষত রয়েছে। ফলে বিজ্ঞানীরা এমন এক ভূতাত্ত্বিক সময়ের দেখা পাচ্ছেন, যা পৃথিবীতে আর অবশিষ্ট নেই।

২০২৪ সালের শেষের দিকে রোভারটি এই অঞ্চলে গবেষণা শুরু করে। সেখানে সংগৃহীত তথ্যে ছয় ধরনের শিলার উপস্থিতি পাওয়া যায়।

গবেষকরা জানান, শিলাগুলোতে প্রচুর পরিমাণে কাচের মতো দেখতে ছোট ছোট গুটিকা বা বিড রয়েছে। এগুলো মূলত শক্তিশালী গ্রহাণুর আঘাতের ফলেই তৈরি হয়। এখানকার কিছু গুটিকা পৃথিবীতে ডাইনোসর বিলুপ্তকারী ‘চিকসুলুব’ গ্রহাণুর আঘাতে সৃষ্ট গুটিকাগুলোর মতোই বড়।

গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক অ্যালেক্স জোনস জানান, বিভিন্ন দূরত্বে ঘটা নানা আকারের গ্রহাণুর আঘাতের ফলেই এই পুরু শিলাস্তরগুলো জমা হয়েছে। এছাড়া, স্তরগুলো তৈরির পেছনে পানি বা বরফেরও সম্পর্ক থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা। পৃথিবীতে গলিত শিলা পানি বা বরফের সংস্পর্শে এলে যেমন দ্রুতগতির প্রবাহ তৈরি হয়, মঙ্গলের এই স্তরগুলোর ক্ষেত্রেও হয়তো তেমনটিই ঘটেছিল।