ঢাকা ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মঙ্গলে ৩৯০ কোটি বছরের পুরোনো শিলার সন্ধান

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

লাল গ্রহ মঙ্গলের প্রাচীন ইতিহাস সম্পর্কে নতুন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচন করেছে নাসার ‘পারসিভারেন্স রোভার’। জেজেরো খাদের প্রান্তে ২৪৫ ফুট পুরু এক বিশাল শিলাস্তরের সন্ধান পেয়েছে এই রোভার। নাসার মতে, মূলত বারবার গ্রহাণুর আঘাতেই তৈরি হয়েছে এই স্তর।

রোভারের বিজ্ঞানীদের দল এই শিলাস্তরের নাম দিয়েছেন ‘ব্রুম পয়েন্ট মেম্বার’। ধারণা করা হচ্ছে, এটি প্রায় ৩৯০ কোটি বছরের পুরোনো। মঙ্গলে এখন পর্যন্ত পরীক্ষিত সবচেয়ে প্রাচীন ভূখণ্ডের মধ্যে এটি অন্যতম।

বুধবার ‘জার্নাল অব জিওফিজিক্যাল রিসার্চ: প্ল্যানেটস’-এ প্রকাশিত এই গবেষণার তথ্য সৌরজগতের ইতিহাসের সবচেয়ে সংঘাতময় একটি সময়ের ধারণা দেয়।

এই আবিষ্কারের বিষয়ে পারসিভারেন্স প্রকল্পের বিজ্ঞানী কেন ফার্লে জানান, পৃথিবীর প্রাচীন ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস টেকটোনিক প্লেটের কারণে মুছে গেছে। তবে মঙ্গলে টেকটোনিক প্লেট না থাকায় সেই রেকর্ড এখনও অক্ষত রয়েছে। ফলে বিজ্ঞানীরা এমন এক ভূতাত্ত্বিক সময়ের দেখা পাচ্ছেন, যা পৃথিবীতে আর অবশিষ্ট নেই।

২০২৪ সালের শেষের দিকে রোভারটি এই অঞ্চলে গবেষণা শুরু করে। সেখানে সংগৃহীত তথ্যে ছয় ধরনের শিলার উপস্থিতি পাওয়া যায়।

গবেষকরা জানান, শিলাগুলোতে প্রচুর পরিমাণে কাচের মতো দেখতে ছোট ছোট গুটিকা বা বিড রয়েছে। এগুলো মূলত শক্তিশালী গ্রহাণুর আঘাতের ফলেই তৈরি হয়। এখানকার কিছু গুটিকা পৃথিবীতে ডাইনোসর বিলুপ্তকারী ‘চিকসুলুব’ গ্রহাণুর আঘাতে সৃষ্ট গুটিকাগুলোর মতোই বড়।

গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক অ্যালেক্স জোনস জানান, বিভিন্ন দূরত্বে ঘটা নানা আকারের গ্রহাণুর আঘাতের ফলেই এই পুরু শিলাস্তরগুলো জমা হয়েছে। এছাড়া, স্তরগুলো তৈরির পেছনে পানি বা বরফেরও সম্পর্ক থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা। পৃথিবীতে গলিত শিলা পানি বা বরফের সংস্পর্শে এলে যেমন দ্রুতগতির প্রবাহ তৈরি হয়, মঙ্গলের এই স্তরগুলোর ক্ষেত্রেও হয়তো তেমনটিই ঘটেছিল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

মঙ্গলে ৩৯০ কোটি বছরের পুরোনো শিলার সন্ধান

আপডেট সময় ০৯:২০:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

লাল গ্রহ মঙ্গলের প্রাচীন ইতিহাস সম্পর্কে নতুন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচন করেছে নাসার ‘পারসিভারেন্স রোভার’। জেজেরো খাদের প্রান্তে ২৪৫ ফুট পুরু এক বিশাল শিলাস্তরের সন্ধান পেয়েছে এই রোভার। নাসার মতে, মূলত বারবার গ্রহাণুর আঘাতেই তৈরি হয়েছে এই স্তর।

রোভারের বিজ্ঞানীদের দল এই শিলাস্তরের নাম দিয়েছেন ‘ব্রুম পয়েন্ট মেম্বার’। ধারণা করা হচ্ছে, এটি প্রায় ৩৯০ কোটি বছরের পুরোনো। মঙ্গলে এখন পর্যন্ত পরীক্ষিত সবচেয়ে প্রাচীন ভূখণ্ডের মধ্যে এটি অন্যতম।

বুধবার ‘জার্নাল অব জিওফিজিক্যাল রিসার্চ: প্ল্যানেটস’-এ প্রকাশিত এই গবেষণার তথ্য সৌরজগতের ইতিহাসের সবচেয়ে সংঘাতময় একটি সময়ের ধারণা দেয়।

এই আবিষ্কারের বিষয়ে পারসিভারেন্স প্রকল্পের বিজ্ঞানী কেন ফার্লে জানান, পৃথিবীর প্রাচীন ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস টেকটোনিক প্লেটের কারণে মুছে গেছে। তবে মঙ্গলে টেকটোনিক প্লেট না থাকায় সেই রেকর্ড এখনও অক্ষত রয়েছে। ফলে বিজ্ঞানীরা এমন এক ভূতাত্ত্বিক সময়ের দেখা পাচ্ছেন, যা পৃথিবীতে আর অবশিষ্ট নেই।

২০২৪ সালের শেষের দিকে রোভারটি এই অঞ্চলে গবেষণা শুরু করে। সেখানে সংগৃহীত তথ্যে ছয় ধরনের শিলার উপস্থিতি পাওয়া যায়।

গবেষকরা জানান, শিলাগুলোতে প্রচুর পরিমাণে কাচের মতো দেখতে ছোট ছোট গুটিকা বা বিড রয়েছে। এগুলো মূলত শক্তিশালী গ্রহাণুর আঘাতের ফলেই তৈরি হয়। এখানকার কিছু গুটিকা পৃথিবীতে ডাইনোসর বিলুপ্তকারী ‘চিকসুলুব’ গ্রহাণুর আঘাতে সৃষ্ট গুটিকাগুলোর মতোই বড়।

গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক অ্যালেক্স জোনস জানান, বিভিন্ন দূরত্বে ঘটা নানা আকারের গ্রহাণুর আঘাতের ফলেই এই পুরু শিলাস্তরগুলো জমা হয়েছে। এছাড়া, স্তরগুলো তৈরির পেছনে পানি বা বরফেরও সম্পর্ক থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা। পৃথিবীতে গলিত শিলা পানি বা বরফের সংস্পর্শে এলে যেমন দ্রুতগতির প্রবাহ তৈরি হয়, মঙ্গলের এই স্তরগুলোর ক্ষেত্রেও হয়তো তেমনটিই ঘটেছিল।