ঢাকা ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়: প্রধানমন্ত্রী ‘যুগপৎ আন্দোলনের সময় ঘোষিত ৩১ দফা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে’:মির্জা ফখরুল পুষ্টি ও সুস্বাস্থ্যেই গড়ে উঠবে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ: আমিনুল হক বাধ্যতামূলক অবসরে অতিরিক্ত ডিআইজি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে রাশেদ খাঁনের শ্রদ্ধা নিবেদন মার্কিন সেনা হত্যার জন্য ইরানকে বহুগুণ বেশি মূল্য চোকাতে হবে: ট্রাম্প প্রতিটি কর্মঘণ্টা ও করের প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে:জনপ্রশাসন উপদেষ্টা জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন ‘জেন্টলম্যান ফর এক্সেলেন্স’: প্রধান বিচারপতি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিমসটেকের সক্রিয় ভূমিকা চায় ঢাকা কাপ্তাই হৃদে নিখোঁজ বিএনপি নেতার লাশ উদ্ধার

সালিশে জুতাপেটা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার গৌরিগ্রাম ইউনিয়নের হাঁড়িয়াকাহন গ্রামে স্থানীয় এক সালিশ বৈঠকে প্রকাশ্য ২০টি জুতার আঘাত করার অভিযোগে গৌরিগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান, বর্তমান ও সাবেক ইউপি সদস্যসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে মামলা হয়েছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান।

ভুক্তভোগী মো. মহব্বৎ আলী খাঁর স্ত্রী মোছা. রোজিনা খাতুন বাদী হয়ে সাঁথিয়া থানায় এই মামলাটি করেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী মো. এরশাদ আলীর প্রতিবন্ধী বোনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে গত ১২ জুলাই সন্ধ্যায় হাঁড়িয়াকাহন গ্রামে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

বাদীর অভিযোগ, সালিশে উপস্থিত সবার সামনে তার স্বামী মহব্বৎ আলী খাঁকে ২০টি জুতার আঘাত করার এক তরফা সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। মহব্বৎ আলী খাঁ উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেও সালিশকারীরা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেনি। এক পর্যায়ে তিনি সালিশস্থল ত্যাগ করতে চাইলে তাকে বাধা দেওয়া হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরবর্তীতে সালিশকারীদের নির্দেশে প্রকাশ্যে তাকে ২০টি জুতার আঘাত করা হয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরে তিনি স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেন।

এ মামলায় গৌরিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব মাস্টার, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক, বর্তমান ইউপি সদস্য আরশেদ আলীসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীর ভাই মো. এরশাদ আলী বাদী হয়ে অভিযুক্ত মহব্বৎ আলী খাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে পৃথক একটি পাল্টা মামলা দায়ের করেছেন। সেই এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ১২ জুলাই দুপুরে অভিযুক্ত মহব্বত খাঁ কাঁঠাল কাটার অজুহাতে ওই বাড়ি থেকে একটি কাচি নিয়ে যান। পরে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে বাড়িতে একা পেয়ে তিনি ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এই ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে সালিশ ডেকে তাকে জুতাপেটা করা হয়।

গৌরীগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব প্রামানিক সালিশের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমাকে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। ওরাই বিচার করে ২০টি জুতাপেটার রায় দেয়। আমার পরিষদের গ্রাম পুলিশ দিয়ে সেই রায় কার্যকর করা হয়েছে। এখন এই মামলায় আমাকে আসামি করা হয়েছে।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান জানান, উভয় পক্ষ থেকেই অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়: প্রধানমন্ত্রী

সালিশে জুতাপেটা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় ০৯:৪০:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার গৌরিগ্রাম ইউনিয়নের হাঁড়িয়াকাহন গ্রামে স্থানীয় এক সালিশ বৈঠকে প্রকাশ্য ২০টি জুতার আঘাত করার অভিযোগে গৌরিগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান, বর্তমান ও সাবেক ইউপি সদস্যসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে মামলা হয়েছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান।

ভুক্তভোগী মো. মহব্বৎ আলী খাঁর স্ত্রী মোছা. রোজিনা খাতুন বাদী হয়ে সাঁথিয়া থানায় এই মামলাটি করেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী মো. এরশাদ আলীর প্রতিবন্ধী বোনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে গত ১২ জুলাই সন্ধ্যায় হাঁড়িয়াকাহন গ্রামে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

বাদীর অভিযোগ, সালিশে উপস্থিত সবার সামনে তার স্বামী মহব্বৎ আলী খাঁকে ২০টি জুতার আঘাত করার এক তরফা সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। মহব্বৎ আলী খাঁ উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেও সালিশকারীরা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেনি। এক পর্যায়ে তিনি সালিশস্থল ত্যাগ করতে চাইলে তাকে বাধা দেওয়া হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরবর্তীতে সালিশকারীদের নির্দেশে প্রকাশ্যে তাকে ২০টি জুতার আঘাত করা হয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরে তিনি স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেন।

এ মামলায় গৌরিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব মাস্টার, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক, বর্তমান ইউপি সদস্য আরশেদ আলীসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীর ভাই মো. এরশাদ আলী বাদী হয়ে অভিযুক্ত মহব্বৎ আলী খাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে পৃথক একটি পাল্টা মামলা দায়ের করেছেন। সেই এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ১২ জুলাই দুপুরে অভিযুক্ত মহব্বত খাঁ কাঁঠাল কাটার অজুহাতে ওই বাড়ি থেকে একটি কাচি নিয়ে যান। পরে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে বাড়িতে একা পেয়ে তিনি ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এই ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে সালিশ ডেকে তাকে জুতাপেটা করা হয়।

গৌরীগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব প্রামানিক সালিশের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমাকে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। ওরাই বিচার করে ২০টি জুতাপেটার রায় দেয়। আমার পরিষদের গ্রাম পুলিশ দিয়ে সেই রায় কার্যকর করা হয়েছে। এখন এই মামলায় আমাকে আসামি করা হয়েছে।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান জানান, উভয় পক্ষ থেকেই অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।