ঢাকা ০২:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মিয়ানমার উপকূলে শরণার্থীবোঝাই দুটি নৌকাডুবি, ৫ শতাধিক মৃত্যুর আশঙ্কা

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মিয়ানমার উপকূলে শরণার্থীবোঝাই দুটি নৌকাডুবির ঘটনায় পাঁচ শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। আজ বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এক যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমার থেকে সমুদ্রপথে বিপজ্জনক যাত্রায় বের হওয়া এই শরণার্থীদের মধ্যে দেশটির নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি বাংলাদেশের শরণার্থীশিবিরের বাসিন্দারাও ছিলেন বলে প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘের সংস্থাগুলো জানিয়েছে, গত জুনের শেষের দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নৌকা দুটি যাত্রা শুরু করেছিল। এর মধ্যে প্রায় ২৫০ জন আরোহী নিয়ে প্রথম নৌকাটি রওনা হওয়ার কিছুদিন পরই নিখোঁজ হয়। অন্যদিকে, প্রায় ২৮০ জন আরোহী নিয়ে দ্বিতীয় নৌকাটি গত ৮ জুলাই মিয়ানমারের ইরাবতী উপকূলে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাধারণত বছরের যে সময়ে সমুদ্র অত্যন্ত উত্তাল ও বিপজ্জনক থাকে, সেই প্রতিকূল মৌসুমেই নৌকা দুটি মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া বা থাইল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। তবে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির এই সংখ্যাটি আনুষ্ঠানিকভাবে পুরোপুরি নিশ্চিত করতে না পারলেও এমন ভয়াবহ বিপর্যয় ও প্রাণহানিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বর অভিযানের মুখে জীবন বাঁচাতে রাখাইন রাজ্য থেকে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর রাখাইনে জান্তা সেনা ও আরাকান আর্মির মধ্যকার চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে বর্তমান পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হয়ে উঠেছে। ফলে বাধ্য হয়েই প্রতি বছর হাজার হাজার রোহিঙ্গা ও কিছু বাংলাদেশি নাগরিক সমুদ্রপথে জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছেন।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, গত বছরও আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৯০০ শরণার্থী নিখোঁজ বা মারা গেছেন, যা এই অঞ্চলটিকে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে পরিণত করেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

মিয়ানমার উপকূলে শরণার্থীবোঝাই দুটি নৌকাডুবি, ৫ শতাধিক মৃত্যুর আশঙ্কা

আপডেট সময় ০৩:৩০:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মিয়ানমার উপকূলে শরণার্থীবোঝাই দুটি নৌকাডুবির ঘটনায় পাঁচ শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। আজ বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এক যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমার থেকে সমুদ্রপথে বিপজ্জনক যাত্রায় বের হওয়া এই শরণার্থীদের মধ্যে দেশটির নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি বাংলাদেশের শরণার্থীশিবিরের বাসিন্দারাও ছিলেন বলে প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘের সংস্থাগুলো জানিয়েছে, গত জুনের শেষের দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নৌকা দুটি যাত্রা শুরু করেছিল। এর মধ্যে প্রায় ২৫০ জন আরোহী নিয়ে প্রথম নৌকাটি রওনা হওয়ার কিছুদিন পরই নিখোঁজ হয়। অন্যদিকে, প্রায় ২৮০ জন আরোহী নিয়ে দ্বিতীয় নৌকাটি গত ৮ জুলাই মিয়ানমারের ইরাবতী উপকূলে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাধারণত বছরের যে সময়ে সমুদ্র অত্যন্ত উত্তাল ও বিপজ্জনক থাকে, সেই প্রতিকূল মৌসুমেই নৌকা দুটি মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া বা থাইল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। তবে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির এই সংখ্যাটি আনুষ্ঠানিকভাবে পুরোপুরি নিশ্চিত করতে না পারলেও এমন ভয়াবহ বিপর্যয় ও প্রাণহানিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বর অভিযানের মুখে জীবন বাঁচাতে রাখাইন রাজ্য থেকে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর রাখাইনে জান্তা সেনা ও আরাকান আর্মির মধ্যকার চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে বর্তমান পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হয়ে উঠেছে। ফলে বাধ্য হয়েই প্রতি বছর হাজার হাজার রোহিঙ্গা ও কিছু বাংলাদেশি নাগরিক সমুদ্রপথে জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছেন।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, গত বছরও আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৯০০ শরণার্থী নিখোঁজ বা মারা গেছেন, যা এই অঞ্চলটিকে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে পরিণত করেছে।