ঢাকা ০৭:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপি ধর্ম-বর্ণের বিভেদে বিশ্বাস করে না: শামা ওবায়েদ সরকার নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর: মাহদী আমিন বন্যা-জলাবদ্ধতায় আ.লীগ, ইন্টেরিম ও বিএনপি সরকারের আচরণ একই: এবি পার্টি ইউক্রেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী সেরহি কোরেৎসকি জুলাই আন্দোলন নিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করলে ব্যবস্থা: ডিএমপি উন্নয়নের ধারা এগিয়ে নিতে সব ধর্মের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে চলতে হবে: মির্জা ফখরুল জুলাই গণঅভ্যুত্থান গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও দেশকে সমৃদ্ধ করার চেতনা হিসেবে কাজ করবে জীবন দেব, তবু ‘চব্বিশকে’ হারিয়ে যেতে দেব না: জামায়াত আমির আপনি কি মুসলিম, উত্তর দিতেই ভারতীয়কে ১৫ বার ছুরিকাঘাত যুক্তরাষ্ট্রে মিয়ানমার উপকূলে শরণার্থীবোঝাই দুটি নৌকাডুবি, ৫ শতাধিক মৃত্যুর আশঙ্কা

মিয়ানমার উপকূলে শরণার্থীবোঝাই দুটি নৌকাডুবি, ৫ শতাধিক মৃত্যুর আশঙ্কা

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মিয়ানমার উপকূলে শরণার্থীবোঝাই দুটি নৌকাডুবির ঘটনায় পাঁচ শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। আজ বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এক যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমার থেকে সমুদ্রপথে বিপজ্জনক যাত্রায় বের হওয়া এই শরণার্থীদের মধ্যে দেশটির নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি বাংলাদেশের শরণার্থীশিবিরের বাসিন্দারাও ছিলেন বলে প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘের সংস্থাগুলো জানিয়েছে, গত জুনের শেষের দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নৌকা দুটি যাত্রা শুরু করেছিল। এর মধ্যে প্রায় ২৫০ জন আরোহী নিয়ে প্রথম নৌকাটি রওনা হওয়ার কিছুদিন পরই নিখোঁজ হয়। অন্যদিকে, প্রায় ২৮০ জন আরোহী নিয়ে দ্বিতীয় নৌকাটি গত ৮ জুলাই মিয়ানমারের ইরাবতী উপকূলে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাধারণত বছরের যে সময়ে সমুদ্র অত্যন্ত উত্তাল ও বিপজ্জনক থাকে, সেই প্রতিকূল মৌসুমেই নৌকা দুটি মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া বা থাইল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। তবে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির এই সংখ্যাটি আনুষ্ঠানিকভাবে পুরোপুরি নিশ্চিত করতে না পারলেও এমন ভয়াবহ বিপর্যয় ও প্রাণহানিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বর অভিযানের মুখে জীবন বাঁচাতে রাখাইন রাজ্য থেকে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর রাখাইনে জান্তা সেনা ও আরাকান আর্মির মধ্যকার চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে বর্তমান পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হয়ে উঠেছে। ফলে বাধ্য হয়েই প্রতি বছর হাজার হাজার রোহিঙ্গা ও কিছু বাংলাদেশি নাগরিক সমুদ্রপথে জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছেন।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, গত বছরও আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৯০০ শরণার্থী নিখোঁজ বা মারা গেছেন, যা এই অঞ্চলটিকে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে পরিণত করেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপি ধর্ম-বর্ণের বিভেদে বিশ্বাস করে না: শামা ওবায়েদ

মিয়ানমার উপকূলে শরণার্থীবোঝাই দুটি নৌকাডুবি, ৫ শতাধিক মৃত্যুর আশঙ্কা

আপডেট সময় ০৩:৩০:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মিয়ানমার উপকূলে শরণার্থীবোঝাই দুটি নৌকাডুবির ঘটনায় পাঁচ শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। আজ বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এক যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমার থেকে সমুদ্রপথে বিপজ্জনক যাত্রায় বের হওয়া এই শরণার্থীদের মধ্যে দেশটির নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি বাংলাদেশের শরণার্থীশিবিরের বাসিন্দারাও ছিলেন বলে প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘের সংস্থাগুলো জানিয়েছে, গত জুনের শেষের দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নৌকা দুটি যাত্রা শুরু করেছিল। এর মধ্যে প্রায় ২৫০ জন আরোহী নিয়ে প্রথম নৌকাটি রওনা হওয়ার কিছুদিন পরই নিখোঁজ হয়। অন্যদিকে, প্রায় ২৮০ জন আরোহী নিয়ে দ্বিতীয় নৌকাটি গত ৮ জুলাই মিয়ানমারের ইরাবতী উপকূলে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাধারণত বছরের যে সময়ে সমুদ্র অত্যন্ত উত্তাল ও বিপজ্জনক থাকে, সেই প্রতিকূল মৌসুমেই নৌকা দুটি মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া বা থাইল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। তবে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির এই সংখ্যাটি আনুষ্ঠানিকভাবে পুরোপুরি নিশ্চিত করতে না পারলেও এমন ভয়াবহ বিপর্যয় ও প্রাণহানিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বর অভিযানের মুখে জীবন বাঁচাতে রাখাইন রাজ্য থেকে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর রাখাইনে জান্তা সেনা ও আরাকান আর্মির মধ্যকার চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে বর্তমান পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হয়ে উঠেছে। ফলে বাধ্য হয়েই প্রতি বছর হাজার হাজার রোহিঙ্গা ও কিছু বাংলাদেশি নাগরিক সমুদ্রপথে জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছেন।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, গত বছরও আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৯০০ শরণার্থী নিখোঁজ বা মারা গেছেন, যা এই অঞ্চলটিকে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে পরিণত করেছে।