ঢাকা ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় পদক্ষেপ, ইউরেনিয়াম চুক্তিতে সই করল ভারত-অস্ট্রেলিয়া

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অস্ট্রেলিয়া সফরে ইউরেনিয়াম রপ্তানিসহ জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ একটি চুক্তি সই করেছে দুই দেশ।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) স্বাক্ষরিত এ চুক্তির আওতায় অস্ট্রেলিয়া ভারতের বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচির জন্য ইউরেনিয়াম রপ্তানি করবে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং সবুজ হাইড্রোজেন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানেস মেলবোর্নে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত শুধু ঘনিষ্ঠ অংশীদারই নয়, বরং একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতের জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করবে অস্ট্রেলীয় ইউরেনিয়াম। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার খনিজসম্পদ খাতের জন্যও এটি নতুন বাজার সৃষ্টি করবে।

ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সেই লক্ষ্য পূরণে দীর্ঘদিন ধরেই অস্ট্রেলিয়ার বিশাল ইউরেনিয়াম মজুদের দিকে নজর ছিল নয়াদিল্লির। অন্যদিকে, বাণিজ্যে চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন বাজার খুঁজছে ক্যানবেরা।

যদিও ২০১৪ সালে দুই দেশ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি করেছিল, তবুও ইউরেনিয়াম রপ্তানি সীমিত ছিল। কারণ, সরবরাহ করা জ্বালানি যেন কেবল শান্তিপূর্ণ কাজে, বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়—সেই নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতে সতর্ক অবস্থানে ছিল অস্ট্রেলিয়া।

নরেন্দ্র মোদি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার প্রযুক্তি, পুঁজি ও প্রাকৃতিক সম্পদ ভারতের জ্বালানি রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি অস্ট্রেলীয় ব্যবসায়ীদের ভারতের সড়ক, বন্দর, রেল ও নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম পেনশন তহবিল ‘অস্ট্রেলিয়ান সুপার’ ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ডে অতিরিক্ত ৫০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।

বর্তমানে ভারত অস্ট্রেলিয়ার পঞ্চম বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। দেশটিতে প্রায় ১০ লাখ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস রয়েছে। সফরের অংশ হিসেবে মেলবোর্নে প্রবাসী ভারতীয়দের এক সমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী মোদির। তার এই সফরকে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় পদক্ষেপ, ইউরেনিয়াম চুক্তিতে সই করল ভারত-অস্ট্রেলিয়া

আপডেট সময় ০২:১৫:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অস্ট্রেলিয়া সফরে ইউরেনিয়াম রপ্তানিসহ জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ একটি চুক্তি সই করেছে দুই দেশ।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) স্বাক্ষরিত এ চুক্তির আওতায় অস্ট্রেলিয়া ভারতের বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচির জন্য ইউরেনিয়াম রপ্তানি করবে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং সবুজ হাইড্রোজেন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানেস মেলবোর্নে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত শুধু ঘনিষ্ঠ অংশীদারই নয়, বরং একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতের জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করবে অস্ট্রেলীয় ইউরেনিয়াম। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার খনিজসম্পদ খাতের জন্যও এটি নতুন বাজার সৃষ্টি করবে।

ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সেই লক্ষ্য পূরণে দীর্ঘদিন ধরেই অস্ট্রেলিয়ার বিশাল ইউরেনিয়াম মজুদের দিকে নজর ছিল নয়াদিল্লির। অন্যদিকে, বাণিজ্যে চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন বাজার খুঁজছে ক্যানবেরা।

যদিও ২০১৪ সালে দুই দেশ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি করেছিল, তবুও ইউরেনিয়াম রপ্তানি সীমিত ছিল। কারণ, সরবরাহ করা জ্বালানি যেন কেবল শান্তিপূর্ণ কাজে, বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়—সেই নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতে সতর্ক অবস্থানে ছিল অস্ট্রেলিয়া।

নরেন্দ্র মোদি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার প্রযুক্তি, পুঁজি ও প্রাকৃতিক সম্পদ ভারতের জ্বালানি রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি অস্ট্রেলীয় ব্যবসায়ীদের ভারতের সড়ক, বন্দর, রেল ও নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম পেনশন তহবিল ‘অস্ট্রেলিয়ান সুপার’ ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ডে অতিরিক্ত ৫০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।

বর্তমানে ভারত অস্ট্রেলিয়ার পঞ্চম বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। দেশটিতে প্রায় ১০ লাখ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস রয়েছে। সফরের অংশ হিসেবে মেলবোর্নে প্রবাসী ভারতীয়দের এক সমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী মোদির। তার এই সফরকে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।