ঢাকা ১০:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশ একদিন বিশ্বকাপে খেলবে: আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দেশবাসীকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের শুভেচ্ছা টাঙ্গাইলে ‘জনতার সংযোগ’ কার্যক্রমের উদ্বোধন বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে সরকার: আমান উল্লাহ আমান স্বামীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা নির্যাতনের শিকারদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনে সংসদীয় বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী মালদ্বীপে বাংলাদেশি যুবকের আত্মহত্যা এবার ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্প

নির্যাতনের শিকারদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনে সংসদীয় বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং মানসিক সহায়তা প্রদান রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

শুক্রবার ‘নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে মায়ের ডাক আয়োজিত ‘ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের অধিকার বিষয়ক জাতীয় সংলাপ’-এ সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়াতে সরকার, বিচার বিভাগ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এখন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার সময় এসেছে। রাষ্ট্রকে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারকে যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে। এ লক্ষ্যে একটি সংসদীয় বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানানো হয়।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, সংবিধান ও আইনের শাসনের মূল লক্ষ্য নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা করা। কোনো ব্যক্তি নির্যাতনের শিকার হলে শুধু অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; ভুক্তভোগীর শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে ভুক্তভোগীদের জন্য কার্যকর সহায়তা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্যাতনের কারণে অনেক ব্যক্তি ও পরিবার দীর্ঘমেয়াদি মানসিক আঘাত, সামাজিক বঞ্চনা এবং অর্থনৈতিক সংকটে পড়েন। তাই ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনকে কেবল আইনি প্রতিকার হিসেবে নয়, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার একটি অপরিহার্য উপাদান হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তিনি ভুক্তভোগীদের জন্য আইনি সহায়তা, কাউন্সেলিং, চিকিৎসাসেবা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা, শিশু নির্যাতন, মানবপাচার, হেফাজতে নির্যাতন এবং অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনসমূহকে এ বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। মানবিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করার মাধ্যমে নির্যাতনমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

কায়সার কালাম আরও বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুসরণ করে নির্যাতন প্রতিরোধ এবং ভুক্তভোগীদের অধিকার সুরক্ষায় বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা গ্রহণ করেছে। এসব আইনের কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি সহজতর করতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি পর্যায়ে পুনর্বাসন কর্মসূচির পরিধি আরো সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যারা গুম-খুনের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদের প্রত্যেকের প্রকাশ্যে বিচার হওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, গুমের তদন্ত অব্যাহত রাখতে বাজেট বরাদ্দও অব্যাহত রাখা হবে। বর্তমান সরকার গুমের বিচারের লড়াইয়ে ভুক্তভোগীদের পাশে রয়েছে এবং থাকবে। পাশাপাশি তিনি ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদানের আশ্বাস দেন।

সংলাপে আনিছুর রহমান এমপি, মীর আহমাদ বিন কাসেম এমপি, আমিনুল ইসলাম এমপি, আবদুল্লাহ আল আমিন এমপি, তাহসিনা রুশদীর এমপি, সানজিদা ইসলাম তুলি এমপি, গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং মায়ের ডাকের সভাপতি নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের জন্য একটি কার্যকর ক্ষতিপূরণ কাঠামো প্রণয়ন, পুনর্বাসন তহবিল গঠন, আইনি সহায়তা সম্প্রসারণ এবং ভুক্তভোগীবান্ধব বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করার ওপর জোর দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে ইউএনডিপির প্রতিনিধি, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, বিচারক, শিক্ষাবিদ, উন্নয়নকর্মী, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, গণমাধ্যমের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ একদিন বিশ্বকাপে খেলবে: আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত

নির্যাতনের শিকারদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনে সংসদীয় বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান

আপডেট সময় ০৮:২০:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং মানসিক সহায়তা প্রদান রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

শুক্রবার ‘নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে মায়ের ডাক আয়োজিত ‘ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের অধিকার বিষয়ক জাতীয় সংলাপ’-এ সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়াতে সরকার, বিচার বিভাগ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এখন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার সময় এসেছে। রাষ্ট্রকে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারকে যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে। এ লক্ষ্যে একটি সংসদীয় বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানানো হয়।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, সংবিধান ও আইনের শাসনের মূল লক্ষ্য নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা করা। কোনো ব্যক্তি নির্যাতনের শিকার হলে শুধু অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; ভুক্তভোগীর শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে ভুক্তভোগীদের জন্য কার্যকর সহায়তা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্যাতনের কারণে অনেক ব্যক্তি ও পরিবার দীর্ঘমেয়াদি মানসিক আঘাত, সামাজিক বঞ্চনা এবং অর্থনৈতিক সংকটে পড়েন। তাই ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনকে কেবল আইনি প্রতিকার হিসেবে নয়, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার একটি অপরিহার্য উপাদান হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তিনি ভুক্তভোগীদের জন্য আইনি সহায়তা, কাউন্সেলিং, চিকিৎসাসেবা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা, শিশু নির্যাতন, মানবপাচার, হেফাজতে নির্যাতন এবং অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনসমূহকে এ বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। মানবিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করার মাধ্যমে নির্যাতনমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

কায়সার কালাম আরও বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুসরণ করে নির্যাতন প্রতিরোধ এবং ভুক্তভোগীদের অধিকার সুরক্ষায় বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা গ্রহণ করেছে। এসব আইনের কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি সহজতর করতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি পর্যায়ে পুনর্বাসন কর্মসূচির পরিধি আরো সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যারা গুম-খুনের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদের প্রত্যেকের প্রকাশ্যে বিচার হওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, গুমের তদন্ত অব্যাহত রাখতে বাজেট বরাদ্দও অব্যাহত রাখা হবে। বর্তমান সরকার গুমের বিচারের লড়াইয়ে ভুক্তভোগীদের পাশে রয়েছে এবং থাকবে। পাশাপাশি তিনি ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদানের আশ্বাস দেন।

সংলাপে আনিছুর রহমান এমপি, মীর আহমাদ বিন কাসেম এমপি, আমিনুল ইসলাম এমপি, আবদুল্লাহ আল আমিন এমপি, তাহসিনা রুশদীর এমপি, সানজিদা ইসলাম তুলি এমপি, গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং মায়ের ডাকের সভাপতি নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের জন্য একটি কার্যকর ক্ষতিপূরণ কাঠামো প্রণয়ন, পুনর্বাসন তহবিল গঠন, আইনি সহায়তা সম্প্রসারণ এবং ভুক্তভোগীবান্ধব বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করার ওপর জোর দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে ইউএনডিপির প্রতিনিধি, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, বিচারক, শিক্ষাবিদ, উন্নয়নকর্মী, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, গণমাধ্যমের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।