ঢাকা ০৯:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ছয় মাসের মধ্যে কাঁচপুর বাস টার্মিনালের কাজ শেষ হবে: প্রতিমন্ত্রী খাবারের লোভ দেখিয়ে শিশুকে ধর্ষণ, অভিযুক্তকে গণধোলাই তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার নিয়ম না মানলে কারখানা বন্ধের হুঁশিয়ারি পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া ১৪ দিনে নামিয়ে আনার লক্ষ্য সরকারের : বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যাংক খাতের সংস্কারে ৪৫ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক হরমুজ প্রণালিতে টোল নিচ্ছে না ইরান, জানালেন ট্রাম্প ২০২৭ থেকে মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের পরীক্ষাও অভিন্ন প্রশ্নপত্রে: শিক্ষামন্ত্রী মুদি দোকান-বিউটি পার্লারসহ ১৬ ব্যবসায় কর বসাচ্ছে সরকার ১০ হাজার টনের যুদ্ধজাহাজ তৈরির ঘোষণা দিলেন কিম জং উন

ফাঁকতালে বহু লোক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন: স্পিকার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, গণমাধ্যমের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ আরও মহিমান্বিত হবে। সংসদের প্রতি দেশের জনগণের আস্থা আরও বেড়ে যাবে, এটাই আমি কামনা করি। বাংলাদেশের জনগণ দীর্ঘদিন এ ধরনের সংসদের অপেক্ষায় ছিল। ১৭ বছর আমরা এ ধরনের কার্যকর সংসদ পায়নি।

স্পিকার বলেন, ‘১৭ বছর আমরা এ ধরনের কার্যকর সংসদ পাইনি। আমি বেশ কয়েকটি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলাম। বিশেষ করে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলের সংসদের সদস্য ছিলাম, তা বলতেই লজ্জা পাই। অনেক সময় টেলিভিশনে দেখেছি, রেডিওতে শুনেছি এ এলাকা থেকে একজন নির্বাচিত হয়েছেন, দুই দিন পরে দেখি অন্য লোক। সংসদে এসে দেখি অন্য লোক। ফাঁকতালে বহু লোক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে গিয়েছিলেন।’

বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদের সাংবাদিক লাউঞ্জে বাংলাদেশ পার্লামেন্ট জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজেএ) আয়োজিত ‘ফল উৎসব-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এতদিন এ ধরনের আবোল-তাবোল সংসদের পর এবার সত্যিকারের সংসদ পেয়েছি। ১৯৯১ সালে একটি ভালো সংসদ দেখেছিলাম, আর এবারকার সংসদ। এবার অত্যন্ত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। এখানে অনেকেই নিজগুণে নির্বাচিত হয়েছেন, যাদের তেমন রাজনৈতিক পরিচিতি ছিল না।’

স্পিকার আরও বলেন, ‘ভোটিং প্যাটার্ন দেখে মনে হয়েছে সাধারণ মানুষ পরিবর্তন দেখতে চায়। অতীতে আমরা যে ধরনের সংসদ দেখেছি এবং এমপিরা যেসব কর্মকাণ্ড করেছেন, মানুষ তাতে সন্তুষ্ট ছিল না। মানুষ প্রকৃত সংসদ চায়। এ সংসদের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে আমাদের দায়িত্ব আগের চেয়ে অনেক বেশি। আমাদের জনগণকে সেবা করতে হবে।’

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘যে ফল উৎসব আমরা সবাই উপভোগ করছি, তা যেন সাধারণ মানুষও উপভোগ করতে পারে এবং তাদের মন-মানসিকতাও সে রকম হয়।’

অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, দেশের সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে সংসদকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে এবং এক্ষেত্রে বিপিজেএ’র সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্রকে প্রকৃত অর্থে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। মানুষের কল্যাণে সংসদ যাতে কাজ করতে পারে, সে জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের আয়োজন সাংবাদিকদের সঙ্গে সংসদ সদস্যদের একটি মেলবন্ধন তৈরি করে। গণতন্ত্রকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন কায়সার কামাল।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ফল উৎসবের মাধ্যমে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সুসম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের কলম আরও শক্তিশালী হোক— এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

চিফ হুইপ বলেন, ‘সংসদকে জনগণের আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে সাংবাদিকদের সব প্রয়োজনীয় উদ্যোগে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

ফল উৎসবে উপস্থিত ছিলেন- সরকারদলীয় হুইপ জি কে গউছ, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, আখতারুজ্জামান মিয়া, এবিএম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বিএনপির সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, জামায়াতের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, সালাহ উদ্দিন, জাতীয় সংসদের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া, সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, এম আব্দুল্লাহ, মোস্তফা কামাল মজুমদার, বাছির জামাল, আশিষ সৈকত, জাহেদ চৌধুরী, আমিরুল ইসলাম কাগজী, আলফাজ আনাম, সুলতান মাহমুদ, ইলিয়াস হোসেন, কামরান রেজা চৌধুরী, রিয়াজ আহমেদ, নাফিজা দৌলা, নিখিল ভদ্র প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিপিজেএ’র সভাপতি হারুন জামিল। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী খান লিথো। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ ভূঁইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, অর্থ সম্পাদক মো. শাহজাহান মোল্লা, দপ্তর সম্পাদক নাজমুল ইসলাম (তানিম আহমেদ), কার্যনির্বাহী সদস্য মশিউর রহমান, মনিরুল ইসলাম।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ছয় মাসের মধ্যে কাঁচপুর বাস টার্মিনালের কাজ শেষ হবে: প্রতিমন্ত্রী

ফাঁকতালে বহু লোক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন: স্পিকার

আপডেট সময় ০৫:৩০:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, গণমাধ্যমের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ আরও মহিমান্বিত হবে। সংসদের প্রতি দেশের জনগণের আস্থা আরও বেড়ে যাবে, এটাই আমি কামনা করি। বাংলাদেশের জনগণ দীর্ঘদিন এ ধরনের সংসদের অপেক্ষায় ছিল। ১৭ বছর আমরা এ ধরনের কার্যকর সংসদ পায়নি।

স্পিকার বলেন, ‘১৭ বছর আমরা এ ধরনের কার্যকর সংসদ পাইনি। আমি বেশ কয়েকটি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলাম। বিশেষ করে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলের সংসদের সদস্য ছিলাম, তা বলতেই লজ্জা পাই। অনেক সময় টেলিভিশনে দেখেছি, রেডিওতে শুনেছি এ এলাকা থেকে একজন নির্বাচিত হয়েছেন, দুই দিন পরে দেখি অন্য লোক। সংসদে এসে দেখি অন্য লোক। ফাঁকতালে বহু লোক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে গিয়েছিলেন।’

বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদের সাংবাদিক লাউঞ্জে বাংলাদেশ পার্লামেন্ট জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজেএ) আয়োজিত ‘ফল উৎসব-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এতদিন এ ধরনের আবোল-তাবোল সংসদের পর এবার সত্যিকারের সংসদ পেয়েছি। ১৯৯১ সালে একটি ভালো সংসদ দেখেছিলাম, আর এবারকার সংসদ। এবার অত্যন্ত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। এখানে অনেকেই নিজগুণে নির্বাচিত হয়েছেন, যাদের তেমন রাজনৈতিক পরিচিতি ছিল না।’

স্পিকার আরও বলেন, ‘ভোটিং প্যাটার্ন দেখে মনে হয়েছে সাধারণ মানুষ পরিবর্তন দেখতে চায়। অতীতে আমরা যে ধরনের সংসদ দেখেছি এবং এমপিরা যেসব কর্মকাণ্ড করেছেন, মানুষ তাতে সন্তুষ্ট ছিল না। মানুষ প্রকৃত সংসদ চায়। এ সংসদের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে আমাদের দায়িত্ব আগের চেয়ে অনেক বেশি। আমাদের জনগণকে সেবা করতে হবে।’

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘যে ফল উৎসব আমরা সবাই উপভোগ করছি, তা যেন সাধারণ মানুষও উপভোগ করতে পারে এবং তাদের মন-মানসিকতাও সে রকম হয়।’

অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, দেশের সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে সংসদকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে এবং এক্ষেত্রে বিপিজেএ’র সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্রকে প্রকৃত অর্থে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। মানুষের কল্যাণে সংসদ যাতে কাজ করতে পারে, সে জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের আয়োজন সাংবাদিকদের সঙ্গে সংসদ সদস্যদের একটি মেলবন্ধন তৈরি করে। গণতন্ত্রকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন কায়সার কামাল।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ফল উৎসবের মাধ্যমে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সুসম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের কলম আরও শক্তিশালী হোক— এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

চিফ হুইপ বলেন, ‘সংসদকে জনগণের আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে সাংবাদিকদের সব প্রয়োজনীয় উদ্যোগে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

ফল উৎসবে উপস্থিত ছিলেন- সরকারদলীয় হুইপ জি কে গউছ, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, আখতারুজ্জামান মিয়া, এবিএম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বিএনপির সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, জামায়াতের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, সালাহ উদ্দিন, জাতীয় সংসদের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া, সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, এম আব্দুল্লাহ, মোস্তফা কামাল মজুমদার, বাছির জামাল, আশিষ সৈকত, জাহেদ চৌধুরী, আমিরুল ইসলাম কাগজী, আলফাজ আনাম, সুলতান মাহমুদ, ইলিয়াস হোসেন, কামরান রেজা চৌধুরী, রিয়াজ আহমেদ, নাফিজা দৌলা, নিখিল ভদ্র প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিপিজেএ’র সভাপতি হারুন জামিল। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী খান লিথো। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ ভূঁইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, অর্থ সম্পাদক মো. শাহজাহান মোল্লা, দপ্তর সম্পাদক নাজমুল ইসলাম (তানিম আহমেদ), কার্যনির্বাহী সদস্য মশিউর রহমান, মনিরুল ইসলাম।