ঢাকা ০৮:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্বামী-স্ত্রীর ডিভোর্স হতে পারে, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে নয়:সংসদে জিএম সিরাজ ভারতে কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ আগুন, নিহত ১৪ আমরা চাই না শিক্ষার মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকুক: শিক্ষামন্ত্রী দেশে বর্তমানে ৬৪টি জিআই পণ্য নিবন্ধিত রয়েছে : শিল্পমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সাড়ে ৩ মাসে বিপিসির লোকসান ১৭ হাজার কোটি টাকা : জ্বালানিমন্ত্রী অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ৩৫ মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ দুই মামলায় সাবেক এমপি মমতাজের জামিন স্থগিত ১৬ দিনে ৪ দফা ‘পুশ-ইন’ চেষ্টা: ৬৪ জনকে ফেরত পাঠাল বিজিবি শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে আগ্রহী সিঙ্গাপুরের এসএটিএস ক্যালকুলেটরে হিসাব কষে ১৫ শতাংশ ঘুষ নিলেন পিআইও, ভিডিও ভাইরাল

পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (২২ জুন) তিনি পদত্যাগ করেন। এর ফলে গত এক দশকে দেশটি সপ্তম প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব পেতে যাচ্ছে। খবর দ্য ডনের।

পদত্যাগের পর লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিট-এর সামনে সাংবাদিকদের স্টারমার জানান, তিনি দলের সিদ্ধান্তকে ‘সৌজন্যের সঙ্গে’ মেনে নেবেন এবং তার উত্তরসূরিকে পূর্ণ ও নিঃশর্ত সমর্থন দেবেন।

বিপুল ভোটে নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে ব্রিটেনের অস্থির রাজনীতির অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়ার দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে স্টারমারের এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটল।

একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি গত সপ্তাহে নেতৃত্বের লড়াইয়ে অংশ নেবেন নাকি সরে দাঁড়াবেন—তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করছিলেন।

সূত্রটি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, ‘স্টারমার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়গুলো নিয়ে অনেক ভাবতে পছন্দ করেন।’

স্টারমারের ওপর চাপ কয়েক মাস ধরেই বাড়ছিল। তবে শুক্রবার (১৯ জুন) পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, যখন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম একটি পার্লামেন্টারি উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়ে আবারও ওয়েস্টমিনস্টারে ফেরার সুযোগ পান।

তিনি নাইজেল ফারাজ-এর দল রিফর্ম ইউকে সমর্থিত প্রার্থীকে পরাজিত করেন। দলটি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছে।

বার্নহ্যামের এই জয় লেবার পার্টির আইনপ্রণেতাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তাদের ধারণা, দক্ষ যোগাযোগ ক্ষমতার জন্য পরিচিত বার্নহ্যাম দলের হারানো জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে আনতে পারেন। স্টারমারের জনপ্রিয়তা ইতোমধ্যে ব্রিটেনের যেকোনো বর্তমান বা সাম্প্রতিক নেতার তুলনায় সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে।

নতুন নেতৃত্বের সামনেও বড় চ্যালেঞ্জ:

তবে নেতৃত্ব পরিবর্তন ঝুঁকিমুক্ত নয়। বার্নহ্যাম এখন পর্যন্ত জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং দেশের মৌলিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করেননি।

বিশ্লেষকদের মতে, স্টারমারের মতো তিনিও সীমিত সুযোগের মুখোমুখি হতে পারেন। একদিকে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণে অনাগ্রহী বন্ড বাজারের বিনিয়োগকারীরা, অন্যদিকে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে অসন্তুষ্ট ভোটাররা—উভয় দিক থেকেই চাপ থাকবে।

বর্তমানে উচ্চ ঋণ, সুদ পরিশোধের ব্যয়, দীর্ঘদিনের ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় কমানোর চ্যালেঞ্জ এবং প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কারণে জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে ব্রিটেনের ঋণ গ্রহণের খরচ সবচেয়ে বেশি।

অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ:

বার্নহ্যাম গত বছরের সেপ্টেম্বরে বলেছিলেন, ব্রিটেনকে ‘বন্ড বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার মানসিকতা’ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। যদিও পরে তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মতভেদ দেখা গেছে—বার্নহ্যাম বাজারকে আশ্বস্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখবেন কি না, তা নিয়ে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ চাইলেন বিএনপির সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল

পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

আপডেট সময় ০২:৪৪:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (২২ জুন) তিনি পদত্যাগ করেন। এর ফলে গত এক দশকে দেশটি সপ্তম প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব পেতে যাচ্ছে। খবর দ্য ডনের।

পদত্যাগের পর লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিট-এর সামনে সাংবাদিকদের স্টারমার জানান, তিনি দলের সিদ্ধান্তকে ‘সৌজন্যের সঙ্গে’ মেনে নেবেন এবং তার উত্তরসূরিকে পূর্ণ ও নিঃশর্ত সমর্থন দেবেন।

বিপুল ভোটে নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে ব্রিটেনের অস্থির রাজনীতির অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়ার দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে স্টারমারের এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটল।

একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি গত সপ্তাহে নেতৃত্বের লড়াইয়ে অংশ নেবেন নাকি সরে দাঁড়াবেন—তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করছিলেন।

সূত্রটি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, ‘স্টারমার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়গুলো নিয়ে অনেক ভাবতে পছন্দ করেন।’

স্টারমারের ওপর চাপ কয়েক মাস ধরেই বাড়ছিল। তবে শুক্রবার (১৯ জুন) পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, যখন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম একটি পার্লামেন্টারি উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়ে আবারও ওয়েস্টমিনস্টারে ফেরার সুযোগ পান।

তিনি নাইজেল ফারাজ-এর দল রিফর্ম ইউকে সমর্থিত প্রার্থীকে পরাজিত করেন। দলটি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছে।

বার্নহ্যামের এই জয় লেবার পার্টির আইনপ্রণেতাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তাদের ধারণা, দক্ষ যোগাযোগ ক্ষমতার জন্য পরিচিত বার্নহ্যাম দলের হারানো জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে আনতে পারেন। স্টারমারের জনপ্রিয়তা ইতোমধ্যে ব্রিটেনের যেকোনো বর্তমান বা সাম্প্রতিক নেতার তুলনায় সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে।

নতুন নেতৃত্বের সামনেও বড় চ্যালেঞ্জ:

তবে নেতৃত্ব পরিবর্তন ঝুঁকিমুক্ত নয়। বার্নহ্যাম এখন পর্যন্ত জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং দেশের মৌলিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করেননি।

বিশ্লেষকদের মতে, স্টারমারের মতো তিনিও সীমিত সুযোগের মুখোমুখি হতে পারেন। একদিকে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণে অনাগ্রহী বন্ড বাজারের বিনিয়োগকারীরা, অন্যদিকে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে অসন্তুষ্ট ভোটাররা—উভয় দিক থেকেই চাপ থাকবে।

বর্তমানে উচ্চ ঋণ, সুদ পরিশোধের ব্যয়, দীর্ঘদিনের ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় কমানোর চ্যালেঞ্জ এবং প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কারণে জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে ব্রিটেনের ঋণ গ্রহণের খরচ সবচেয়ে বেশি।

অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ:

বার্নহ্যাম গত বছরের সেপ্টেম্বরে বলেছিলেন, ব্রিটেনকে ‘বন্ড বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার মানসিকতা’ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। যদিও পরে তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মতভেদ দেখা গেছে—বার্নহ্যাম বাজারকে আশ্বস্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখবেন কি না, তা নিয়ে।