ঢাকা ১২:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুটবল অর্থনীতি শক্তিশালী করার প্রয়াস: ফিফা সভাপতি

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :

আইনজীবী থেকে ফুটবল প্রশাসক জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশনের (ফিফা) সভাপতি। বিশ্বকাপকে ফুটবল অর্থনীতির শক্তিশালী মানদন্ডে পরিণত করার সংকল্প তার।

মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ‘পণ্য’ হিসেবে ফুটবলের ব্যাপক চাহিদার কথা চিন্তা করে; ৩২ থেকে ৪৮ দলের বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে ফিফা।

দল সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ম্যাচের সংখ্যা বাড়ায় এবার ফিফা প্রাইজমানির অঙ্কেও বড় ধরনের লাফ দিয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে মোট প্রাইজমানি ও আর্থিক প্যাকেজের পরিমাণ রেকর্ড ৮৭১ মিলিয়ন ডলার! এর মধ্যে মূল পারফরম্যান্স-ভিত্তিক প্রাইজমানি হিসেবে দলগুলোর মাঝে ভাগ করে দেয়া হবে ৬৫৫ মিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশি টাকায় যা ৮ হাজার কোটি টাকার ওপরে! কি মাথা ঘুরছে?

কাতারে ২০২২ বিশ্বকাপের মোট প্রাইজমানি পুল ছিল ৪৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের, ২০২৬ বিশ্বকাপের মোট আর্থিক প্যাকেজ ৮৭১ মিলিয়ন ডলার; ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে! গত বিশ্বকাপে অবশ্য ম্যাচ ছিল মাত্র ৬৪, এবার তা ১০৪টি; ম্যাচ বেড়েছে ৪০টি।

২০২২ সালের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা পেয়েছে ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৫১৫ কোটি টাকার ওপরে। এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া দল পাবে

৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। শুধু চ্যাম্পিয়ন বা রানার্সআপ নয়, বাকি দুই সেমিফাইনালিস্টের প্রাইজমানিও বাড়ছে এবার। রানার্সআপ ৩৩ মিলিয়ন, তৃতীয় ২৯ মিলিয়ন, আর চতুর্থস্থান পাওয়া দলটি পাবে ২৭ মিলিয়ন ডলার। তবে গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়া দলের প্রাইজমানি বাড়েনি।

২০২২ বিশ্বকাপের মত এবারও অংশগ্রহণকারী দল প্রথম পর্বে বাদ পড়লে পাচ্ছে ৯ মিলিয়ন ডলার। সেরা ৩২ এর দলগুলো পাবে ১১ মিলিয়ন, শেষ ১৬তে উঠলে ১৫ মিলিয়ন, আর কোয়ার্টার ফাইনালের দলগুলো পাবে ১৯ মিলিয়ন ডলার করে। এছাড়াও, প্রতিটি দল কোয়ালিফিকেশন ও প্রস্তুতি ফান্ড হিসেবে অতিরিক্ত ১২.৫ মিলিয়ন ডলার নিশ্চিতভাবে পাচ্ছে, যার ফলে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলোরও নূন্যতম আয় হচ্ছে ২১.৫ মিলিয়ন ডলার।

২০২৩ সাল থেকে ২০২৬- এই যে বাণিজ্যিক চক্র সেখানে ১৩ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য ছিল ফিফার! এরমধ্যে শুধু বিশ্বকাপের চলতি মূল আয়োজন থেকেই লক্ষ্য ৯ বিলিয়ন ডলার আয় করার, বাকি চার বিলিয়ন ডলার দীর্ঘ বাছাই প্রক্রিয়ার সময় বিভিন্ন খাত থেকে। এখন দেখেন আয় ১৩ বিলিয়ন ডলারের কম-বেশি যাই হোক না কেন প্রাইজমানি কিন্তু এক বিলিয়ন ডলারও নয়!

সম্প্রচার স্বত্ব, বৈশ্বিক স্পনসরশিপ, টিকিট বিক্রি এবং বাণিজ্যিক খাত থেকে রেকর্ড পরিমাণ আয় হচ্ছে; টাকশাল স্ফীত হচ্ছে- যেই তৃপ্তিতে ব্যক্তিগত বিমান নিয়ে মহাসুখে বিশ্বকাপের এক ভেন্যু থেকে আরেক ভেন্যুতে ছুটে যাচ্ছেন ইনফান্তিনো। তিন দেশে হচ্ছে বিশ্বকাপ, তিনটি দেশই আয়তনে বিশাল।

ফুটবলার ও ফেডারেশনগুলোর বাড়তি ভ্রমণ খরচ এবং বর্ধিত ম্যাচ সূচির ধকল সামলানোর পুরস্কার হিসেবেই ফিফা এবার এই বিশাল আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফুটবল অর্থনীতি শক্তিশালী করার প্রয়াস: ফিফা সভাপতি

আপডেট সময় ০৮:৫০:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :

আইনজীবী থেকে ফুটবল প্রশাসক জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশনের (ফিফা) সভাপতি। বিশ্বকাপকে ফুটবল অর্থনীতির শক্তিশালী মানদন্ডে পরিণত করার সংকল্প তার।

মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ‘পণ্য’ হিসেবে ফুটবলের ব্যাপক চাহিদার কথা চিন্তা করে; ৩২ থেকে ৪৮ দলের বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে ফিফা।

দল সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ম্যাচের সংখ্যা বাড়ায় এবার ফিফা প্রাইজমানির অঙ্কেও বড় ধরনের লাফ দিয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে মোট প্রাইজমানি ও আর্থিক প্যাকেজের পরিমাণ রেকর্ড ৮৭১ মিলিয়ন ডলার! এর মধ্যে মূল পারফরম্যান্স-ভিত্তিক প্রাইজমানি হিসেবে দলগুলোর মাঝে ভাগ করে দেয়া হবে ৬৫৫ মিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশি টাকায় যা ৮ হাজার কোটি টাকার ওপরে! কি মাথা ঘুরছে?

কাতারে ২০২২ বিশ্বকাপের মোট প্রাইজমানি পুল ছিল ৪৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের, ২০২৬ বিশ্বকাপের মোট আর্থিক প্যাকেজ ৮৭১ মিলিয়ন ডলার; ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে! গত বিশ্বকাপে অবশ্য ম্যাচ ছিল মাত্র ৬৪, এবার তা ১০৪টি; ম্যাচ বেড়েছে ৪০টি।

২০২২ সালের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা পেয়েছে ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৫১৫ কোটি টাকার ওপরে। এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া দল পাবে

৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। শুধু চ্যাম্পিয়ন বা রানার্সআপ নয়, বাকি দুই সেমিফাইনালিস্টের প্রাইজমানিও বাড়ছে এবার। রানার্সআপ ৩৩ মিলিয়ন, তৃতীয় ২৯ মিলিয়ন, আর চতুর্থস্থান পাওয়া দলটি পাবে ২৭ মিলিয়ন ডলার। তবে গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়া দলের প্রাইজমানি বাড়েনি।

২০২২ বিশ্বকাপের মত এবারও অংশগ্রহণকারী দল প্রথম পর্বে বাদ পড়লে পাচ্ছে ৯ মিলিয়ন ডলার। সেরা ৩২ এর দলগুলো পাবে ১১ মিলিয়ন, শেষ ১৬তে উঠলে ১৫ মিলিয়ন, আর কোয়ার্টার ফাইনালের দলগুলো পাবে ১৯ মিলিয়ন ডলার করে। এছাড়াও, প্রতিটি দল কোয়ালিফিকেশন ও প্রস্তুতি ফান্ড হিসেবে অতিরিক্ত ১২.৫ মিলিয়ন ডলার নিশ্চিতভাবে পাচ্ছে, যার ফলে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলোরও নূন্যতম আয় হচ্ছে ২১.৫ মিলিয়ন ডলার।

২০২৩ সাল থেকে ২০২৬- এই যে বাণিজ্যিক চক্র সেখানে ১৩ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য ছিল ফিফার! এরমধ্যে শুধু বিশ্বকাপের চলতি মূল আয়োজন থেকেই লক্ষ্য ৯ বিলিয়ন ডলার আয় করার, বাকি চার বিলিয়ন ডলার দীর্ঘ বাছাই প্রক্রিয়ার সময় বিভিন্ন খাত থেকে। এখন দেখেন আয় ১৩ বিলিয়ন ডলারের কম-বেশি যাই হোক না কেন প্রাইজমানি কিন্তু এক বিলিয়ন ডলারও নয়!

সম্প্রচার স্বত্ব, বৈশ্বিক স্পনসরশিপ, টিকিট বিক্রি এবং বাণিজ্যিক খাত থেকে রেকর্ড পরিমাণ আয় হচ্ছে; টাকশাল স্ফীত হচ্ছে- যেই তৃপ্তিতে ব্যক্তিগত বিমান নিয়ে মহাসুখে বিশ্বকাপের এক ভেন্যু থেকে আরেক ভেন্যুতে ছুটে যাচ্ছেন ইনফান্তিনো। তিন দেশে হচ্ছে বিশ্বকাপ, তিনটি দেশই আয়তনে বিশাল।

ফুটবলার ও ফেডারেশনগুলোর বাড়তি ভ্রমণ খরচ এবং বর্ধিত ম্যাচ সূচির ধকল সামলানোর পুরস্কার হিসেবেই ফিফা এবার এই বিশাল আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।