ঢাকা ১০:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

অডিও বার্তার কয়েক ঘণ্টা পর নারী গার্মেন্ট কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

জমি বিক্রি ও ধার দেওয়া টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে পারভীন বেগম (৩০) নামের এক নারী গার্মেন্টস কর্মীকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

নিহতের স্বজনদের দাবি, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে পারভীন নিজেই একটি অডিও বার্তায় তার এই পরিণতির জন্য ভাতিজিকে দায়ী করে গেছেন।

গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় এ হত্যার ঘটনা ঘটে।

মৃত পারভীন বেগম ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের উত্তর শিবাগ্রামের বাসিন্দা ফয়জুল হক পাটোয়ারীর মেয়ে। তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জে থেকে গার্মেন্টসে চাকরি করতেন।

মৃতের বড় বোন জোছনা বেগম রোববার (২১ জুন) সংবাদকর্মীদের জানান, পারভীন বেগম তার কঠোর পরিশ্রমের উপার্জিত অর্থ দিয়ে গ্রামের বাড়িতে ৬ শতাংশ জমি কেনেন; যা দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন তার সঙ্গে একই বাসায় থাকা ভাতিজি লতা। এছাড়া বিয়ে ও গর্ভাবস্থার খরচের জন্য বিভিন্ন সময়ে পারভীনের কাছ থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা ধার নেয় লতা।

তিনি বলেন, সম্প্রতি পারভীন বেগম ওই জমি বিক্রির এবং ধারের টাকা ফেরত চাইলে ভাতিজি লতা ও তার স্বামী মনিরের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। টাকা আত্মসাৎ করতেই পারভীনের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির‌্যাতন চালানো হয় এবং একপর‌্যায়ে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়।

এক চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করে জোছনা বেগম বলেন, মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে পারভীন একটি অডিও বার্তা পাঠিয়েছিল। সেখানে সে স্পষ্ট করে বলে গেছে, ‘লতা তাকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির‌্যাতন করছে এবং তার মৃত্যুর জন্য লতাই দায়ী।’

এদিকে স্বজনদের দাবি, পারভীনের মৃত্যুর পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তাকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে নাটক সাজানো হয়। পরে ঢাকায় অবস্থানরত অন্য কোনো স্বজনদের না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে রাতেই লাশ অ্যাম্বুলেন্সে করে ভোলার উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সকালে লাশ ভোলার চরফ্যাশনের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছলে পরিবারের সদস্যদের মাঝে কান্নার রোল পড়ে। হত্যার অভিযোগ তুলে তারা দাফন স্থগিত করেন এবং চরফ্যাশন থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার রাতেই পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

চরফ্যাশন থানার ওসি মো. মাহামুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া জানান, পারভীন বেগমের মৃত্যু হত্যা নাকি স্বাভাবিক, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। যেহেতু মূল ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আওতাধীন এলাকায় ঘটেছে, তাই পরবর্তী মূল আইনগত ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট থানা গ্রহণ করবে। আমরা তাদের সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করছি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হান্নান মাসউদের বক্তব্য ঘিরে সংসদে উত্তেজনা

অডিও বার্তার কয়েক ঘণ্টা পর নারী গার্মেন্ট কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা

আপডেট সময় ০৬:২০:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

জমি বিক্রি ও ধার দেওয়া টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে পারভীন বেগম (৩০) নামের এক নারী গার্মেন্টস কর্মীকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

নিহতের স্বজনদের দাবি, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে পারভীন নিজেই একটি অডিও বার্তায় তার এই পরিণতির জন্য ভাতিজিকে দায়ী করে গেছেন।

গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় এ হত্যার ঘটনা ঘটে।

মৃত পারভীন বেগম ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের উত্তর শিবাগ্রামের বাসিন্দা ফয়জুল হক পাটোয়ারীর মেয়ে। তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জে থেকে গার্মেন্টসে চাকরি করতেন।

মৃতের বড় বোন জোছনা বেগম রোববার (২১ জুন) সংবাদকর্মীদের জানান, পারভীন বেগম তার কঠোর পরিশ্রমের উপার্জিত অর্থ দিয়ে গ্রামের বাড়িতে ৬ শতাংশ জমি কেনেন; যা দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন তার সঙ্গে একই বাসায় থাকা ভাতিজি লতা। এছাড়া বিয়ে ও গর্ভাবস্থার খরচের জন্য বিভিন্ন সময়ে পারভীনের কাছ থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা ধার নেয় লতা।

তিনি বলেন, সম্প্রতি পারভীন বেগম ওই জমি বিক্রির এবং ধারের টাকা ফেরত চাইলে ভাতিজি লতা ও তার স্বামী মনিরের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। টাকা আত্মসাৎ করতেই পারভীনের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির‌্যাতন চালানো হয় এবং একপর‌্যায়ে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়।

এক চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করে জোছনা বেগম বলেন, মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে পারভীন একটি অডিও বার্তা পাঠিয়েছিল। সেখানে সে স্পষ্ট করে বলে গেছে, ‘লতা তাকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির‌্যাতন করছে এবং তার মৃত্যুর জন্য লতাই দায়ী।’

এদিকে স্বজনদের দাবি, পারভীনের মৃত্যুর পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তাকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে নাটক সাজানো হয়। পরে ঢাকায় অবস্থানরত অন্য কোনো স্বজনদের না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে রাতেই লাশ অ্যাম্বুলেন্সে করে ভোলার উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সকালে লাশ ভোলার চরফ্যাশনের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছলে পরিবারের সদস্যদের মাঝে কান্নার রোল পড়ে। হত্যার অভিযোগ তুলে তারা দাফন স্থগিত করেন এবং চরফ্যাশন থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার রাতেই পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

চরফ্যাশন থানার ওসি মো. মাহামুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া জানান, পারভীন বেগমের মৃত্যু হত্যা নাকি স্বাভাবিক, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। যেহেতু মূল ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আওতাধীন এলাকায় ঘটেছে, তাই পরবর্তী মূল আইনগত ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট থানা গ্রহণ করবে। আমরা তাদের সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করছি।