ঢাকা ০৮:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিশুকে অপহরণের পর হত্যা, ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড আ.লীগকে প্রতিহত করার ঘোষণা ছাত্রদল সহ সভাপতির ‘শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য একসঙ্গে কাজ করবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র’ কাতারে নিহত ৫ প্রবাসীর লাশ দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে: প্রতিমন্ত্রী মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাশেদ খাঁনকে চিড়িয়াখানায় সেই মহিষের পাশে দেখতে চান হানজালা এটা শাহবাগ চত্বর নয়, জাতীয় সংসদ : হান্নান মাসুদকে স্পিকার ভারত ও বাংলাদেশজুড়ে ছিল জিয়াউলের কিলিং নেটওয়ার্ক: চিফ প্রসিকিউটর গুলি করতে করতে হেঁটে যাচ্ছেন যুবক, ভিডিও ভাইরাল দেশের ক্রীড়া যেন বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে সেই লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী

হরমুজে ইরান নয়, প্রয়োজনে টোল নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের জন্য ইরান কোনো ধরনের শুল্ক বা টোল আদায় করতে পারবে না।

তবে ট্রাম্প তার নিজের দেশ তথা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই প্রণালিতে শুল্ক আরোপের একটি ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন। শনিবার (২০ জুন) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্পের এই মন্তব্য সাম্প্রতিক চুক্তিটি ভেস্তে যাওয়ার একটি বড় লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সমঝোতা স্মারকের শর্ত অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা হরমুজ প্রণালিটি আগামী ৬০ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতির সময়ে পুনরায় উন্মুক্ত থাকবে। এই সময়ে ইরান কোনো জাহাজের ওপর শুল্ক আরোপ করতে পারবে না। কিন্তু ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চলাকালীন এবং এর পরেও হরমুজ প্রণালিতে কোনো শুল্ক থাকবে না, যদি না সেটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে আরোপ করা হয়।

ট্রাম্পের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘গার্ডিয়ান অ্যান্জেল’ বা অভিভাবক হিসেবে কাজ করার ঐতিহাসিক ও ভবিষ্যৎ খরচের ক্ষতিপূরণ হিসেবে এই শুল্ক আদায় করা যেতে পারে।

এদিকে, এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাত্র কয়েকদিনের মাথায় নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শনিবার ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড দাবি করেছে, চুক্তির শর্ত ভঙ্গের কারণে তারা হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধ করে দিয়েছে। ইরান অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলায় বহু মানুষ নিহত হয়েছে, যা এই চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থা ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের এই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, প্রণালিটি দিয়ে এখনো স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচল করছে।

উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক সার বাণিজ্যের ৩০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই জলপথ বন্ধ হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম ও কৃষি খাতে চরম বিপর্যয় নেমে আসে। এর আগে যুদ্ধের সময় ইরান এই পথটি বন্ধ করলে ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ জারি করেছিলেন, যা গত বুধবারের (১৭ জুন) চুক্তির পর প্রত্যাহার করা হয়।

এই সংকট সমাধানের লক্ষ্যে এবং চুক্তির পরবর্তী ধাপের আলোচনার জন্য পাকিস্তান ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইরানের পক্ষ থেকে দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে সেখানে পৌঁছেছেন।

অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই আলোচনায় অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। তবে ট্রাম্পের এই শুল্ক আরোপের নতুন নীতি এবং লেবাননে ইসরাইলি হামলা চলমান আলোচনার ভবিষ্যৎকে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিশুকে অপহরণের পর হত্যা, ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড

হরমুজে ইরান নয়, প্রয়োজনে টোল নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

আপডেট সময় ০৪:৪০:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের জন্য ইরান কোনো ধরনের শুল্ক বা টোল আদায় করতে পারবে না।

তবে ট্রাম্প তার নিজের দেশ তথা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই প্রণালিতে শুল্ক আরোপের একটি ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন। শনিবার (২০ জুন) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্পের এই মন্তব্য সাম্প্রতিক চুক্তিটি ভেস্তে যাওয়ার একটি বড় লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সমঝোতা স্মারকের শর্ত অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা হরমুজ প্রণালিটি আগামী ৬০ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতির সময়ে পুনরায় উন্মুক্ত থাকবে। এই সময়ে ইরান কোনো জাহাজের ওপর শুল্ক আরোপ করতে পারবে না। কিন্তু ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চলাকালীন এবং এর পরেও হরমুজ প্রণালিতে কোনো শুল্ক থাকবে না, যদি না সেটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে আরোপ করা হয়।

ট্রাম্পের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘গার্ডিয়ান অ্যান্জেল’ বা অভিভাবক হিসেবে কাজ করার ঐতিহাসিক ও ভবিষ্যৎ খরচের ক্ষতিপূরণ হিসেবে এই শুল্ক আদায় করা যেতে পারে।

এদিকে, এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাত্র কয়েকদিনের মাথায় নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শনিবার ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড দাবি করেছে, চুক্তির শর্ত ভঙ্গের কারণে তারা হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধ করে দিয়েছে। ইরান অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলায় বহু মানুষ নিহত হয়েছে, যা এই চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থা ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের এই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, প্রণালিটি দিয়ে এখনো স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচল করছে।

উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক সার বাণিজ্যের ৩০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই জলপথ বন্ধ হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম ও কৃষি খাতে চরম বিপর্যয় নেমে আসে। এর আগে যুদ্ধের সময় ইরান এই পথটি বন্ধ করলে ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ জারি করেছিলেন, যা গত বুধবারের (১৭ জুন) চুক্তির পর প্রত্যাহার করা হয়।

এই সংকট সমাধানের লক্ষ্যে এবং চুক্তির পরবর্তী ধাপের আলোচনার জন্য পাকিস্তান ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইরানের পক্ষ থেকে দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে সেখানে পৌঁছেছেন।

অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই আলোচনায় অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। তবে ট্রাম্পের এই শুল্ক আরোপের নতুন নীতি এবং লেবাননে ইসরাইলি হামলা চলমান আলোচনার ভবিষ্যৎকে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।