ঢাকা ০৬:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

‘সংসদে একজন রাজনৈতিক নেতার অন্ধকার জীবন নিয়ে আলোচনা হোক, আমি চাই না’:স্পিকার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হককে নিয়ে জাতীয় সংসদে দেওয়া একটি বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেছেন, একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনের ‘অন্ধকার অংশ’ সংসদে আলোচিত হোক, তা তিনি চান না।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক ২০২১ সালে মামুনুল হককে ঘিরে আলোচিত একটি ঘটনার প্রসঙ্গ তোলেন।

সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক তার বক্তব্যে বলেন, মাওলানা মামুনুল হক অনেক বড় বড় কথা বলছেন। বাজেট নিয়ে সরকারের পতন ঘটাবেন, অনেক কিছু ঘটাবেন। কিন্তু তিনি যে গাজীপুরে একটি নারীসহ ধরা পড়লেন, মুতা বিয়ের নামে, সেটা আসলে কী ছিল?

আবু আশফাকের এই বক্তব্যের পরপরই স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাকে অপ্রাসঙ্গিক বিষয় সংসদে না আনার পরামর্শ দেন। স্পিকার বলেন, একজন রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে মন্তব্য করা হয়েছে। সাধারণত যার এই সংসদে এসে সরাসরি জবাব দেওয়ার সুযোগ নেই, তার সম্পর্কে অভিযোগ তোলা সমীচীন নয়।

মুতা বিয়ে প্রসঙ্গে স্পিকার কিছুটা রসিকতা করে বলেন, মুতা বিয়ে সম্পর্কে আমার কাছে কেন জানতে চাইলেন? আমাকে কি এসবের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মনে হয়? এগুলো নিয়ে সংসদে আলাপ-আলোচনা না হওয়াই ভালো।

এরপর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তীব্র আপত্তি জানান বিরোধী দলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর সদস্য সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি দাবি করেন, মামুনুল হক সম্পর্কে দেওয়া তথ্যটি ‘একেবারেই ভুল’।

সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, উনি মুতা বিয়ে করেন নাই। গাজীপুরে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে নাই। তাকে হেনস্তা করা হয়েছিল নারায়ণগঞ্জে। উনি বিয়ে করেছিলেন, এটা প্রতিষ্ঠিত।

ভুল তথ্য সম্বলিত এই বক্তব্যটি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার জন্য তিনি স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানান।

আলোচনায় অংশ নিয়ে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিও বলেন, যা অসংসদীয় এবং সমীচীন নয়, তা কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করা হোক। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান মুতা বিয়ের ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, একসময় মুতা বিয়ে করা যেত। এটা এখন হারাম হয়ে গেছে, নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। এখন আর তা করা যাবে না।

সব পক্ষের বক্তব্য ও যুক্তি শোনার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানান। তিনি বলেন, মাওলানা মামুনুল হকের এ বিষয়টি সংসদের কার্যবিবরণীতে আসার প্রয়োজন নেই। একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনের অন্ধকার অংশ এখানে আলোচিত হোক, সেটা আমি চাই না। এরপর তিনি সংশ্লিষ্ট বক্তব্যটি সংসদের রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে একটি রিসোর্টে মামুনুল হককে এক নারীসহ অবরুদ্ধ করেন স্থানীয় ছাত্রলীগ-যুবলীগসহ তৎকালীন সরকারদলীয় কর্মী-সমর্থকেরা। মামুনুল হক তখন দাবি করেন, ওই নারী তার বিবাহিত স্ত্রী। পরে পুলিশ গিয়ে মামুনুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করে। একপর্যায়ে হেফাজতের কর্মী-সমর্থক ও মাদ্রাসার ছাত্ররা ওই রিসোর্টে হামলা চালিয়ে তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

‘সংসদে একজন রাজনৈতিক নেতার অন্ধকার জীবন নিয়ে আলোচনা হোক, আমি চাই না’:স্পিকার

আপডেট সময় ০৯:৪৫:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হককে নিয়ে জাতীয় সংসদে দেওয়া একটি বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেছেন, একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনের ‘অন্ধকার অংশ’ সংসদে আলোচিত হোক, তা তিনি চান না।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক ২০২১ সালে মামুনুল হককে ঘিরে আলোচিত একটি ঘটনার প্রসঙ্গ তোলেন।

সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক তার বক্তব্যে বলেন, মাওলানা মামুনুল হক অনেক বড় বড় কথা বলছেন। বাজেট নিয়ে সরকারের পতন ঘটাবেন, অনেক কিছু ঘটাবেন। কিন্তু তিনি যে গাজীপুরে একটি নারীসহ ধরা পড়লেন, মুতা বিয়ের নামে, সেটা আসলে কী ছিল?

আবু আশফাকের এই বক্তব্যের পরপরই স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাকে অপ্রাসঙ্গিক বিষয় সংসদে না আনার পরামর্শ দেন। স্পিকার বলেন, একজন রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে মন্তব্য করা হয়েছে। সাধারণত যার এই সংসদে এসে সরাসরি জবাব দেওয়ার সুযোগ নেই, তার সম্পর্কে অভিযোগ তোলা সমীচীন নয়।

মুতা বিয়ে প্রসঙ্গে স্পিকার কিছুটা রসিকতা করে বলেন, মুতা বিয়ে সম্পর্কে আমার কাছে কেন জানতে চাইলেন? আমাকে কি এসবের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মনে হয়? এগুলো নিয়ে সংসদে আলাপ-আলোচনা না হওয়াই ভালো।

এরপর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তীব্র আপত্তি জানান বিরোধী দলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর সদস্য সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি দাবি করেন, মামুনুল হক সম্পর্কে দেওয়া তথ্যটি ‘একেবারেই ভুল’।

সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, উনি মুতা বিয়ে করেন নাই। গাজীপুরে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে নাই। তাকে হেনস্তা করা হয়েছিল নারায়ণগঞ্জে। উনি বিয়ে করেছিলেন, এটা প্রতিষ্ঠিত।

ভুল তথ্য সম্বলিত এই বক্তব্যটি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার জন্য তিনি স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানান।

আলোচনায় অংশ নিয়ে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিও বলেন, যা অসংসদীয় এবং সমীচীন নয়, তা কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করা হোক। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান মুতা বিয়ের ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, একসময় মুতা বিয়ে করা যেত। এটা এখন হারাম হয়ে গেছে, নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। এখন আর তা করা যাবে না।

সব পক্ষের বক্তব্য ও যুক্তি শোনার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানান। তিনি বলেন, মাওলানা মামুনুল হকের এ বিষয়টি সংসদের কার্যবিবরণীতে আসার প্রয়োজন নেই। একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনের অন্ধকার অংশ এখানে আলোচিত হোক, সেটা আমি চাই না। এরপর তিনি সংশ্লিষ্ট বক্তব্যটি সংসদের রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে একটি রিসোর্টে মামুনুল হককে এক নারীসহ অবরুদ্ধ করেন স্থানীয় ছাত্রলীগ-যুবলীগসহ তৎকালীন সরকারদলীয় কর্মী-সমর্থকেরা। মামুনুল হক তখন দাবি করেন, ওই নারী তার বিবাহিত স্ত্রী। পরে পুলিশ গিয়ে মামুনুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করে। একপর্যায়ে হেফাজতের কর্মী-সমর্থক ও মাদ্রাসার ছাত্ররা ওই রিসোর্টে হামলা চালিয়ে তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেন।