আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
কাঁঠাল দিয়ে সিঙ্গারা, সমুচা, কাবাবসহ নানা ধরনের খাদ্যপণ্য তৈরি করা হচ্ছে এবং এসব পণ্যের পুষ্টিগুণও অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে কাঁঠালভিত্তিক খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বিপণন নিয়ে আলোচনা করছে। স্থানীয় পর্যায়েও এসব পণ্যের উন্নয়ন ও বাণিজ্যিকীকরণে কাজ চলছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) প্রাঙ্গণে জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ উদ্বোধনের পর বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে ফল উৎপাদনে এক ধরনের বিপ্লব ঘটেছে। একসময় যেসব ফল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো, এখন সেগুলোর অনেকগুলোই দেশে উৎপাদিত হচ্ছে। ফলে আমদানিনির্ভরতা কমছে এবং ভবিষ্যতে অনেক ফল আমদানির প্রয়োজনও থাকবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী বলেন, জাতীয় ফল মেলায় দেশীয় বিভিন্ন ফলের পাশাপাশি এমন অনেক অপ্রচলিত ফলও প্রদর্শিত হচ্ছে, যা সাধারণত বাজারে খুব বেশি দেখা যায় না। বিদেশি ফলের দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ড্রাগন ফলের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, দুই-তিন বছর আগেও বাংলাদেশে ড্রাগন ফল আমদানি করতে হতো। এখন দেশ থেকেই এ ফল রপ্তানির স্বপ্ন দেখা হচ্ছে। যদিও এটি বিদেশি ফল, তবে বাংলাদেশের আবহাওয়ায় উৎপাদিত ড্রাগন ফল অত্যন্ত সুস্বাদু। বিদেশে উৎপাদিত ফলের তুলনায় দেশের ড্রাগন ফল বেশি মিষ্টি এবং স্বাদে উন্নত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফলের বহুমুখী ব্যবহার ও মূল্য সংযোজনের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে যুক্ত হচ্ছেন। এরই মধ্যে আম, আনারস ও কাঁঠাল রপ্তানি শুরু হয়েছে। চলতি বছর কাঁঠাল রপ্তানি আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। কাঁঠাল রপ্তানি সম্প্রসারণে চীনের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, আগামী দিনে ফল বাংলাদেশের অন্যতম শক্তিশালী রপ্তানি পণ্যে পরিণত হবে বলে আমরা আশা করছি।
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কৃষি খাতে বরাদ্দ কমানো হয়েছে—এমন সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী বলেন, কৃষির বরাদ্দ কমেনি; বরং আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর বাইরে প্রণোদনা ও উন্নয়ন বাজেটও রয়েছে।
তিনি বলেন, যারা বলছেন কৃষির বরাদ্দ কমেছে, তারা হয়তো সঠিক হিসাব করেননি। তুলনা করলে দেখা যাবে, এবারের বাজেটে কৃষিখাতের বরাদ্দ অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। কৃষিকে কেন্দ্র করেই আমাদের মূল পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় ফল মেলা-২০২৬-এ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উৎপাদিত মৌসুমি ও অপ্রচলিত ফলের পাশাপাশি ফলভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে। মেলায় কৃষক, উদ্যোক্তা এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ দেখা গেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















