ঢাকা ০৪:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মায়ের হাত থেকে ছিটকে ড্রেনে পড়ে শিশুর মৃত্যু তরুণদের মাদকমুক্ত রাখতে আইনের পাশাপাশি বিজ্ঞানভিত্তিক ও সমন্বিত প্রতিরোধের আহ্বান সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর ঝিনাইদহে শিশুকে ধর্ষণ-হত্যায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড আনোয়ার ইব্রাহিমের দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিলেন তারেক রহমান উপকূলীয় দেশ হিসেবে সমুদ্র খাতে আরও মনোযোগী হতে হবে: নৌমন্ত্রী পানি সংকটে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা, যুদ্ধের ইঙ্গিত খাজা আসিফের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলো এমপিপুত্রকে ফিলিপাইনে স্কুলে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ৩, আহত ৫ শেষ হলো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান প্রথম ধাপের আলোচনা, গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি

মেসির ফাউলে কি লাল কার্ড পাওয়ার কথা ছিল? ফিফার নিয়ম কী বলছে

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :

বিশ্বকাপের ‘জে’ গ্রুপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিক যতটা প্রশংসা কুড়িয়েছে, ম্যাচের একটি বিতর্কিত মুহূর্ত ততটাই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ম্যাচের ৩২তম মিনিটে আলজেরিয়ার ডিফেন্ডার আইসা মান্দির সঙ্গে মেসির সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

বল দখলের লড়াইয়ে মান্দিকে ট্যাকল করেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। এতে আলজেরিয়ান ডিফেন্ডার মাটিতে পড়ে গেলেও ম্যাচ পরিচালনায় থাকা পোলিশ রেফারি সাইমন মার্চিনিয়াক কোনো কার্ড দেখাননি। তিনি মৌখিকভাবে সতর্ক করে খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হয় আলোচনা।

ফুটবলের আইনপ্রণেতা সংস্থা আইএফএবির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ট্যাকল যদি অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ, বেপরোয়া আচরণ বা প্রতিপক্ষের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে, তাহলে সেটি সরাসরি লাল কার্ডের অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। সামনে, পাশ থেকে কিংবা পেছন থেকে করা বিপজ্জনক ট্যাকল, যা গুরুতর চোটের কারণ হতে পারে, সেগুলোকে ‘সিরিয়াস ফাউল প্লে’ হিসেবে দেখা হয়।

এ ছাড়া বলের সঙ্গে সম্পর্কহীন কোনো সহিংস আচরণ বা ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ঘটনাও সরাসরি লাল কার্ডের আওতায় পড়ে। এ ধরনের পরিস্থিতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে রেফারিরা সাধারণত অসাবধানতা, বেপরোয়া মনোভাব এবং অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ—এই তিনটি বিষয় বিবেচনায় নেন।

ম্যাচের ওই ঘটনায় রেফারির মূল্যায়ন ছিল ভিন্ন। তার দৃষ্টিতে, মেসি বলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টাই করেছিলেন। তবে মান্দি আগে বলের নাগাল পাওয়ায় অনিচ্ছাকৃত সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এ কারণেই ঘটনাটিকে গুরুতর ফাউল বা সহিংস আচরণ হিসেবে দেখেননি তিনি।

ম্যাচ শেষে বিষয়টি নিয়ে ফুটবল বিশ্লেষক ও সাবেক খেলোয়াড়দের মধ্যেও মতভেদ দেখা যায়। একাংশের মতে, রেফারির সিদ্ধান্ত যথাযথ ছিল। তাদের ভাষ্য, প্রতিটি শারীরিক সংঘর্ষকে লাল কার্ড হিসেবে দেখা ঠিক নয়; বরং খেলোয়াড়ের উদ্দেশ্য এবং ম্যাচ পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্রান্সের সাবেক তারকা থিয়েরি অঁরিও একই মত প্রকাশ করেছেন। তার মতে, রিপ্লে বিশ্লেষণে বোঝা যায় মেসির মনোযোগ ছিল বলের দিকেই। ফলে ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত নয় বলেই মনে হয়েছে তার কাছে।

সব মিলিয়ে মেসির ট্যাকলকে ঘিরে বিতর্ক এখনো থামেনি। আইএফএবির নিয়মের কঠোর ব্যাখ্যা এবং মাঠের বাস্তব পরিস্থিতিতে রেফারির সিদ্ধান্ত—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য নিয়েই এখন চলছে আলোচনা। ঘটনাটি ফুটবলের আইন প্রয়োগ ও তার ব্যাখ্যা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

মেসির ফাউলে কি লাল কার্ড পাওয়ার কথা ছিল? ফিফার নিয়ম কী বলছে

আপডেট সময় ০১:৩৫:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :

বিশ্বকাপের ‘জে’ গ্রুপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিক যতটা প্রশংসা কুড়িয়েছে, ম্যাচের একটি বিতর্কিত মুহূর্ত ততটাই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ম্যাচের ৩২তম মিনিটে আলজেরিয়ার ডিফেন্ডার আইসা মান্দির সঙ্গে মেসির সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

বল দখলের লড়াইয়ে মান্দিকে ট্যাকল করেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। এতে আলজেরিয়ান ডিফেন্ডার মাটিতে পড়ে গেলেও ম্যাচ পরিচালনায় থাকা পোলিশ রেফারি সাইমন মার্চিনিয়াক কোনো কার্ড দেখাননি। তিনি মৌখিকভাবে সতর্ক করে খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হয় আলোচনা।

ফুটবলের আইনপ্রণেতা সংস্থা আইএফএবির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ট্যাকল যদি অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ, বেপরোয়া আচরণ বা প্রতিপক্ষের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে, তাহলে সেটি সরাসরি লাল কার্ডের অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। সামনে, পাশ থেকে কিংবা পেছন থেকে করা বিপজ্জনক ট্যাকল, যা গুরুতর চোটের কারণ হতে পারে, সেগুলোকে ‘সিরিয়াস ফাউল প্লে’ হিসেবে দেখা হয়।

এ ছাড়া বলের সঙ্গে সম্পর্কহীন কোনো সহিংস আচরণ বা ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ঘটনাও সরাসরি লাল কার্ডের আওতায় পড়ে। এ ধরনের পরিস্থিতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে রেফারিরা সাধারণত অসাবধানতা, বেপরোয়া মনোভাব এবং অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ—এই তিনটি বিষয় বিবেচনায় নেন।

ম্যাচের ওই ঘটনায় রেফারির মূল্যায়ন ছিল ভিন্ন। তার দৃষ্টিতে, মেসি বলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টাই করেছিলেন। তবে মান্দি আগে বলের নাগাল পাওয়ায় অনিচ্ছাকৃত সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এ কারণেই ঘটনাটিকে গুরুতর ফাউল বা সহিংস আচরণ হিসেবে দেখেননি তিনি।

ম্যাচ শেষে বিষয়টি নিয়ে ফুটবল বিশ্লেষক ও সাবেক খেলোয়াড়দের মধ্যেও মতভেদ দেখা যায়। একাংশের মতে, রেফারির সিদ্ধান্ত যথাযথ ছিল। তাদের ভাষ্য, প্রতিটি শারীরিক সংঘর্ষকে লাল কার্ড হিসেবে দেখা ঠিক নয়; বরং খেলোয়াড়ের উদ্দেশ্য এবং ম্যাচ পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্রান্সের সাবেক তারকা থিয়েরি অঁরিও একই মত প্রকাশ করেছেন। তার মতে, রিপ্লে বিশ্লেষণে বোঝা যায় মেসির মনোযোগ ছিল বলের দিকেই। ফলে ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত নয় বলেই মনে হয়েছে তার কাছে।

সব মিলিয়ে মেসির ট্যাকলকে ঘিরে বিতর্ক এখনো থামেনি। আইএফএবির নিয়মের কঠোর ব্যাখ্যা এবং মাঠের বাস্তব পরিস্থিতিতে রেফারির সিদ্ধান্ত—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য নিয়েই এখন চলছে আলোচনা। ঘটনাটি ফুটবলের আইন প্রয়োগ ও তার ব্যাখ্যা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।