আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে নতুন উদ্যোগের কথা উঠে এসেছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসার সৌজন্য সাক্ষাতে দুই দেশের সাংস্কৃতিক সহযোগিতা, সাহিত্য বিনিময়, ফুটবল কূটনীতি এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির নানা বিষয় আলোচিত হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলি নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, আর্জেন্টিনার ডেপুটি হেড অব মিশন প্যাট্রিসিও উরুয়েনিয়া প্যালাসিও, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ আমেরিকা অনুবিভাগের পরিচালক কাজী আনারকলী এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
আলোচনায় দুই দেশের ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও আর্জেন্টিনার প্রখ্যাত সাহিত্যিক ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করা হয়। রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা বলেন, আর্জেন্টিনার মানুষ মূলত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে চেনে। তবে বাংলাদেশের অন্যান্য লেখক ও সাহিত্যকর্ম সম্পর্কেও জানার আগ্রহ রয়েছে। তিনি বাংলা সাহিত্যের নির্বাচিত রচনাগুলো স্প্যানিশ ভাষায় অনুবাদের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং বুয়েনস আইরেস আন্তর্জাতিক বইমেলায় বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করেন।
রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক সাধক লালন শাহের গানের প্রশংসা করে লালনগীতি স্প্যানিশ ভাষায় অনুবাদের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, এ উদ্যোগ বিশ্বপরিসরে বাংলাদেশের লোকঐতিহ্যকে আরও পরিচিত করে তুলবে।
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় আর্জেন্টিনার সমর্থন এবং স্বাধীনতার পর দ্রুত স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের মানুষ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে।
তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে এখনো আনুষ্ঠানিক সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তি না থাকলেও বাংলাদেশ ইতোমধ্যে একটি খসড়া চুক্তি পাঠিয়েছে, যা দ্রুত চূড়ান্ত হওয়া প্রয়োজন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের বাউল ঐতিহ্য এবং আর্জেন্টিনার ট্যাঙ্গো ও চ্যামামে নৃত্যের মধ্যে সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন তৈরি হবে।
বৈঠকে চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম ও সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিময় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসে বাংলাদেশের নামে একটি সড়কের নামকরণের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের দেশীয় উদ্ভিদ আর্জেন্টিনায় রোপণের সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে।
দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে রাষ্ট্রদূত জানান, চলমান ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে আর্জেন্টিনা থেকে চারজন জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যমভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাতা বাংলাদেশ সফরে আসবেন। তারা বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা-সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ও ফুটবল সংস্কৃতি নিয়ে বিশেষ ভ্লগ তৈরি করবেন, যা আর্জেন্টিনায় প্রচার করা হবে।
সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলি নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম দুই দেশের খ্যাতিমান শিল্পীদের অংশগ্রহণে একটি যৌথ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজনের প্রস্তাব দেন।
বৈঠকের শেষে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের মানুষের আতিথেয়তা ও ফুটবলপ্রেমের প্রশংসা করে সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও অন্যান্য সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি প্রস্তাবিত সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















